নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
গোল্ড মেডেল এবং ক্রেস্ট হাতে হিয়াম হাফিজউদ্দিন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির গুরগাঁও ওয়েস্টিন হোটেলের আলোঝলমল বলরুমে ভারতীয় ‘প্রভোক মিডিয়া’ (চৎড়াড়শব গবফরধ)’র উদ্যোগে ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাগণের মধ্যেকার এক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ক্যাটাগরিতে ‘সাবরে’ (সুপিরিয়র অ্যাচিভমেন্ট ইন ব্র্যান্ডিং, রিপ্যুটেশন অ্যান্ড এনগেজমেন্ট) গোল্ড মেডেল (ঝঅইজঊ এড়ষফ অধিৎফ) জিতেছেন হিয়াম হাফিজউদ্দিন। শিকাগোভিত্তিক ‘মিস বাংলাদেশ ইউএস’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট হিয়াম এ এওয়ার্ড পেয়েছেন বিশ্বব্যাপী বাঙালি নারীদের ক্ষমতায়ন ও জীবন-যাপনে সমৃদ্ধি এনে দেয়ার অভিপ্রায়ে দীর্ঘ এক দশকেরও অধিক সময় যাবত অত্যন্ত নিরবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করার জন্যে। আর এ পুরস্কারের নামও হচ্ছে ‘এ্যামপাওয়ারিং উইমেন, ইভোলভিং লাইভস’ এওয়ার্ড। প্রভোক মিডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং নিউইয়র্কস্থ কর্মকর্তারা ৩০ জুলাই এ সংবাদদাতাকে আরো জানান, শতশত ব্যবসায়ী-উদ্যাক্তা এবং মানবতার সামগ্রিক কল্যাণে নিরন্তরভাবে কর্মরত বিশিষ্টজনদের বিপুল করতালির মধ্যে হিয়ামের মত ভারতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিবেদিত আমনীল ফার্মাসিউটিক্যালস’, নেপালের সিওপিপি ডায়াগনসিস, শ্রীলংকার শ্রীলংকা এয়ারলাইন্স, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘আদিত্য বিড়লা গ্রুপ’ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ‘আদিত্য বিড়লা গ্রুপ’ গোল্ড মেডেল গ্রহণ করেছে। মেডেল হস্তান্তর করেন প্রভোক মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পোল হোল্মস।
জানা গেছে, হিয়াম হাফিজউদ্দিন আন্তর্জাতিক বিভাগে আরো দুটি গোল্ড মেডেল লাভ করেন। ইনটু ইনোভেশন সাবরে পুরস্কারে (ওঘ২ ওহহড়াধঃরড়হ ঝঅইজঊ অধিৎফ ভড়ৎ ঙহিবফ গবফরধ ) নিজস্ব মাধ্যম তথা ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন বিভাগে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন বাঙালি এই তরুনী। তিনি নিজেই ‘মিস বাংলাদেশ ইউএস’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও নির্মাণ করেন, যেখানে সংগঠনের ১০ বছরের উত্তরাধিকার, সামাজিক প্রভাব, এবং বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশি নারীদের গল্প ও অর্জন তুলে ধরা হয়েছে।
গোল্ড মেডেলসহ ক্রেস্ট নিচ্ছেন হিয়াম হাফিজউদ্দিন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
সাবরে পুরস্কার বিশ্বব্যাপী জনসংযোগ, বিপণন এবং যোগাযোগ শিল্পের অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন স্বীকৃতি। হিয়াম হাফিজউদ্দিন দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো যেমন আদানি গ্রুপ, আদিত্য বিড়লা এবং রিলায়েন্স-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন, যেখানে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা থেকে মোট ৮৫০টি সংস্থা অংশগ্রহণ করেছিল।
হিয়ামের প্রচারণার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের নারীদের বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনায় উৎসাহ প্রদান, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গঠন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান। গত এক দশকে তার কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারী কর্পোরেট, স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতি, বিনোদন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহে নিজেদের পেশাগত অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও সুযোগ লাভ করেছেন। এই প্রচারণায় ভার্চুয়াল কর্মশালা, মেন্টরশিপ এবং কনটেন্টভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হয়েছে।
সমাবেশে এওয়ার্ডপ্রাপ্তরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
দক্ষিণ এশিয়ান দেশসমূহের শক্তিশালী কর্পোরেশনসমূহের মধ্যেকার এই প্রতিযোগিতায় অনন্য পুরস্কার অর্জনের ব্যাপারটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বলে প্রবাসীরা মনে করছেন। এর আগে কখনো কোনো স্বাধীন নারী কৌশলবিদের নেতৃত্বাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশী মালিকানাধীন কোন সংস্থা এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক সংস্থা বিজয়ী হয়েছে, শ্রেষ্ঠত্ব সনদ পেয়েছে এবং সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে হিয়াম ছিলেন একমাত্র স্বাধীন কৌশলবিদ যিনি বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকার সন্তান নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়া আবু হাফিজউদ্দিন এবং নিলুফার হাফিজউদ্দিন দম্পতির একমাত্র সন্তান হিয়াম আমানি হাফিজউদ্দিন (২৯) শিকাগোস্থ ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আর্বানা-শ্যাম্পেইন থেকে ব্যবসা-প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের জন্যে অধ্যয়নরত অবস্থায় অর্থাৎ মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘মিস বাংলাদেশ ইউএস’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরের বছর এশিয়ার প্রাচিনতম এবং বৃহত্তম সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক হয়েছিলেন। বর্তমানে হিয়াম যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানীর জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, আতিথেয়তা এবং সরকারী খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে ডিজিটাল-কনসালট্যান্সি, ব্র্যান্ডিং এবং লিডারশিপে কাজ করছেন হিয়াম। আর এমন একটি দায়িত্বে থেকেই হিয়াম বাঙালি আর বাংলাদেশের উদ্যমী তরুনী-নারীদেরকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকেই সমৃদ্ধির পথে ধাবিত করতে নিরন্তরভাবে কাজ করছেন। হিয়াম এ সংবাদদাতাকে বললেন, আমার কিছুই চাওয়ার নেই, পাওয়ারও নেই, আমি শুধু বাংলাদেশটিকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে চাই। আর এটি সম্ভব হবে যদি উদ্যমী সকল নারীকে কর্মযজ্ঞে উৎসাহিত করা যায়।
Posted ৯:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর