কামাল হোসেন মিঠু
প্রিন্ট
শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
প্রিয় নেত্রী,
কেমন আছেন এই প্রশ্ন করবো না। যে দেশটাকে নিজের হাতে পরম মমতায় একটু একটু করে সমৃদ্ধ করলেন সেই দেশটাকে চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখে জানি আপনি ভালো নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে দেশটা আজ আবার পরাধীন। জঙ্গীবাদের নির্লজ্জ আস্ফালনে তটস্থ বাংলাদেশ। দেশ সংস্কারের নামে চলছে লুটেরার নগ্ন উৎসব। এসব দেখে চোখ জ্বলে যায়। হাত নিশপিশ করে। কিছু করতে না পারার অসহায়ত্ব কুড়ে কুড়ে খায়। ঠিক এমন হতাশ সময়ে মনে হয় – ভয় কি!! সব তো শেষ হয়ে যায়নি। আছেন তো আমার নেত্রী!! পরম করুনাময়ের অসীম কৃপায় তিনি বেঁচে আছেন। সুস্থ আছেন। লড়াই করার সংকল্পে আবার আমি উঠে দাঁড়াই।
জানি লড়াইটা কঠিন হবে। বিপথগামি হাওয়া উপড়ে নিতে চাইবে। তবু লড়াই থামাবো না। যার যার অবস্থান থেকে লড়াই করে যাবো। এই লড়াই হবে কলমের লড়াই, কন্ঠের লড়াই। এই লড়াই হবে মুখোমুখি লড়াই। এই লড়াই চলবে রাজপথে, অফিসে, আদালতে, প্রতিটি ঘরে ঘরে, অলিতে গলিতে। এই লড়াই ছড়িয়ে যাবে গ্রাম থেকে শহরে। এই কঠিন লড়াইয়ে রক্তপাত হবে প্রানহানী হবে। কিন্তু শেষমেষ এই লড়াইয়ে জয় হবে মানুষের। জিতে যাবে বায়ান্ন, জিতবে ৭১। জিতে যাবে দেশ, জিতবে জয় বাংলা। আগুনের ধ্বংসস্তুপ থেকে আবার জেগে উঠবো আমরা। সুসময় আবার কড়া নাড়বে দরজায়। অসাম্প্রদায়িকতার পাখি ফের গেয়ে উঠবে গান। জীবন হবে সুস্থির।
“শেখের বেটি”-
আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা আপনাকে এই নামেই সম্বোধন করতেন। আপনার প্রতি ছিলো তার অবিচল বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস তিনি আমার ভেতরে প্রোথিত করেছেন। আমি যখন কিশোর তখন থেকে আপনাকে নেতা মেনেছি।আমি যখন যুবক আপনার নেতৃত্বে জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। প্রিয় বন্ধুর মৃতদেহ পরে থাকতে দেখেছি ম্যানহোলে, পাড়ার মোড়ে। প্রিয় সতীর্থের মৃত মুখে ভন ভন মাছি উড়তে দেখেছি। ভয় পাই নাই। পিছু হটি নাই। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, ৭১ এর পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে। বুকে ছিলো জয় বাংলার অদম্য সাহস। সামনে ছিলো বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথ আর সাথে ছিলো আপনার বুদ্ধিদীপ্ত দিকনির্দেশনা।
নেত্রী আমার,
তারুণ্যের সেইসব লড়াকু সময়ের এক দিনে মুখোমুখি বসে আপনি বলেছিলেন- পরিবারকে বলে দিও জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে মরে গেলে বা আহত হলে ওরা যেন আফসোস না করে। বলেছিলেন- আমার ছেলেরা নির্ভীক। আমার ছেলেরা হাতে চুড়ি পরে অসুরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে না।
প্রিয় নেত্রী,
আজ আমি পঞ্চাশোর্ধ। সেই কৈশোর থেকে আমরন আপনি আমার নেতা।আমাদের উপরে ভরসা রাখেন। দলের সুসময়ে ক্রিম খাওয়া ধ্বজভঙ্গ নেতার দল গর্তে লুকিয়ে থাক। আমরা আছি। আপনার ছেলেরা চুড়ি পরে বসে নাই। প্রতিটি ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ আমরা নিবো। প্রতিটি বোনের অপমানের বদলা আমরা নিবো।
৩২ গুড়িয়ে দিয়েছে যারা
বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করেছে যারা
মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে যারা
মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিত করেছে যারা
দেশটাকে রক্তাক্ত করছে যারা
আপনাকে অপমান করেছে যারা
তাদের কারো রেহাই নাই।
আপনি আছেন। দ্যাটস ইট। আর কিচ্ছু লাগবে না। ওরা বুঝবে নদীর পাড়ে দাঁড়ায়ে সুসময়ের অপেক্ষা আমরা করি না। লড়াই করে সুসময় ছিনিয়ে আনি। আমরা বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শিক সন্তান। চুড়ি পরে বসে থাকা লাল্লু পাঞ্চুর দল না।
সবাইকে বসন্ত এবং ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু শেখ হাসিনা।
Posted ৭:০১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর