নিরাপত্তার স্বার্থে নয়াবিধি

মার্কিন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেতে সোস্যাল মিডিয়া, ই-মেল সহ স্বজনের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেতে সোস্যাল মিডিয়া, ই-মেল সহ স্বজনের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বাধ্যতামূলক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রে আসতে ট্যুরিস্ট তথা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রার্থীগণকে গত ৫ বছরের সোস্যাল মিডিয়া এবং ১০ বছরের ই-মেল ব্যবহারের তথ্য অবহিত করতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক এবং তাকে বিধি হিসেবে পরিণত করার পূর্বশর্ত হিসেবে ১০ ডিসেম্বর বুধবার ফেডারেল রেজিস্টারে তা নোটিশ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে জনমত যাচাইয়ের কাজটি সম্পন্ন হবার ভিত্তিতে তা আইনে পরিণত হবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রস্তাবিত বিধিটি আইনে পরিণত হলে তার আওতায় যুক্তরাজ্য, জার্মানী, জাপান, সাউথ কোরিয়াসহ ইউরোপের যে ২৯টি দেশের নাগরিকের ভিসা লাগে না, তাদেরকেও দু’বছরের জন্যে ৪০ ডলার ফি দিয়ে ‘ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম ফর ট্র্যাভেল অথরাইজেশন’ (ইএসটিএ) সংগ্রহ করতে হবে অনলাইনে। কাস্টমস এ্যান্ড বর্ডার পেট্রলের (সিবিপি) কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন যে, সোস্যাল মিডিয়ার গত ৫ বছরের কর্মকান্ড অবাধে অবলোকন করা যায় এমন পন্থা অবলম্বন করতে হবে ভিসা প্রার্থীগণকে। এটা বাধ্যতামূলক সকল ট্যুরিস্ট/নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রার্থীর জন্যে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং সে আলোকে ইতিমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রস্তাবিত এই বিধি অনুযায়ী ভিসাপ্রার্থীগণের পরিবারের সকল সদস্যের নাম, জন্ম তারিখ, বসবাসের ঠিকানাও দিতে হবে। সাথে থাকতে হবে গত ১০ বছর ব্যবহারের সকল ই-মেল, আইপি এ্যাড্রেসসহ ডিজিটালে ব্যবহৃত সকল তথ্য। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এইচ-১বি ভিসা প্রার্থীগণকে তাদের ওপর নির্ভরশীল সকলের সোস্যাল মিডিয়ার তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অবলম্বনের কথা জানানো হয়েছে। আরো উল্লেখ্য, ট্যুরিস্ট/বিজনেস/নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ির ঘটনায় অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময়েও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। এমনকি ভিসা বাতিল করে বেশ কিছু বিদেশীকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির পরিপন্থি মতামত/মন্তব্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত কোন রাষ্ট্র বা গোষ্ঠি অথবা রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন কাউকে ভিসা দিতে চায় না আমেরিকা।

এদিকে, ৯ ডিসেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান যে, এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আমেরিকার সামাজিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা এবং জননিরাপত্তার মান বজায় রাখার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

এক প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে ৮৫০০০ ভিসা বাতিল করেছি, এর মধ্যে ৮০০০ এর বেশি শিক্ষার্থী ভিসাও রয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।” এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “ভিসা বাতিল হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হামলা ও চুরির মতো অপরাধ। এই অপরাধগুলোর কারণে গত বছর প্রায় অর্ধেক ভিসা বাতিল হয়েছে। “এসব মানুষ সরাসরি আমাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা তাদেরকে দেশে রাখতে চাই না।” তিনি জানান, ভিসা যাচাইয়ের পদ্ধতি কঠোর রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের আবেদনকারীদের জন্য।

আফগানিস্তান প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, “আমি মনে করি (মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর) এই প্রশাসন সব সময়ই আফগানিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। ভিসা আবেদনকারীরা যাতে হুমকি না হয়, তা আমরা যথাযথভাবে যাচাই করার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাই।’ তিনি জানান, নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করার ক্ষেত্রে কোনও তাড়া নেই। “যত সময় লাগুক, আমরা নেব। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিমুক্ত, এটা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও ভিসা মঞ্জুর করা হবে না,” বলেন কর্মকর্তা।

এই কর্মকর্তাকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি যেসব নীতি নিয়েছে, সেগুলোর আওতায় ফ্যাক্ট-চেকিং বা কনটেন্ট মডারেশন-সম্পর্কিত কাজে যুক্ত থাকা (যেমন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা সিভিল সোসাইটি সংগঠনে কাজ করা) কি ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে কি না। উত্তরে তিনি বলেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও মে মাসে এমন বিদেশিদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, যারা আমেরিকানদের নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তা করে।” তবে তিনি বলেন, ভিসা অনুমোদন কোনও একক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় না, বরং আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। প্রতিটি আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা সব দিক দেখে সিদ্ধান্ত নেন। জানা গেছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। বহু আফগান এখনও বিশেষ মার্কিন কর্মসূচির আওতায় পুনর্বাসন বা ভিসার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বহুস্তরীয় নিরাপত্তা যাচাই বাধ্যতামূলক, যদিও এতে দীর্ঘ সময় লাগছে। বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন ও প্রশাসন বদলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিও বদলায়।

Facebook Comments Box

Posted ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us