মার্কিন ভিসা-নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরো ১৩ দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ২:২৪ অপরাহ্ণ

মার্কিন ভিসা-নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরো ১৩ দেশ

নিজ দেশে নিরাপত্তাহীনতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এসে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন (রাজনৈতিক কারণে, অর্থনৈতিক কারণে, প্রাকৃতিক-দুর্যোগের পেিপ্রক্ষিতে, ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষী হামলার আতংকে, মানবিক বিপর্যয়ে পড়া) কারিগণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ছিল ৫ বছর। কিন্তু ৪ ডিসেম্বর ইউএসসিআইএস (সিটিজেনশিপ এ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস)’র পরিচালক যোসেফ এ্যাডলো এক ঘোষণায় তা কমিয়ে দেড় বছর করেছেন। এ্যাডলো এক বিবৃতিতে বলেন, কর্মসংস্থান বিষয়ে অনুমতির সর্বোচ্চ বৈধতার সময়কাল কমানো নিশ্চিত করবে যে, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য আসা ব্যক্তিরা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না বা আমেরিকান-বিদ্বেষী মতাদর্শ প্রচার করবে না।

এরফলে বেশ কয়েকহাজার বাংলাদেশীসহ ৩০ লাখের অধিক অভিবাসন-প্রত্যাশীকে নতুন জটিলতায় পড়তে হলো বলে নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন বিষয়ে খ্যাতনামা এটর্নী অশোক কর্মকার এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন। এর দুদিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ঘোষণায় ইমিগ্রেশন কোর্টে ঝুলে থাকা এসাইলামের আবেদনগুলোর কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ এবং ১৯ দেশের বিরুদ্ধে ভিসা-প্রসেসিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে টহলরত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনা সদস্যকে টার্গেট করে গুলিবিদ্ধ করার পর অভিবাসন-বিরোধী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেলে-বেগুণে জ্বলে উঠেছেন। কারণ, গুলিবর্ষণকারি ব্যক্তিটি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন এবং চলতি বছরই অভিবাসন দপ্তর সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। তালেবান নিধনে মার্কিন বাহিনীর সহযোগী ছিলেন ঐ আফগান। আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান ঘটায় পিছু হঠা মার্কিন বাহিনীর সহযোগীদেরকে তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন। সে সময় ঐসব আফগানের ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিকমত চেক করা হয়নি ফলে সন্ত্রাসীরাও এসেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে আনার ফলে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি লাভের অপেক্ষায় থাকা বিদেশীদের গতিবিধি আরো (নবায়নের আবেদনের সময়) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে যোসেফ এ্যাডলো সহ ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে। তবে ইতিমধ্যেই যাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে তারা নয়া এই নির্দেশের আওতায় পড়বে না। ৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়বে নির্মাণ, পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন সেক্টর। এসব সেক্টরেই কাজ করেন ওয়ার্কপারমিটধারীরা। এটর্নী অশোক কর্মকার উল্লেখ করেন, গত জুলাই মাসে অপর এক আদেশ অনুযায়ী এসাইলামের আবেদনের সময় ৫৫০ ডলারের ফি ধার্য করা হয়েছে। ওয়ার্ক পারমিটের নবায়নের ফি-ও দিতে হচ্ছে অধিক হারে। এমনি অবস্থায় নবায়নের মেয়াদ ৫ বছর থেকে দেড় বছরে কমিয়ে আনার ব্যাপারটি অনেকের জন্যে কষ্টকর হয়ে পড়বে, একইসাথে প্রসেসিংয়ের প্রক্রিয়া আরো ধীর গতি পাবে।

এটর্ণী অশোক কর্মকার বলেন, গত ৪/৫ বছরে অনেক বাংলাদেশী মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রমের পর যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তাদের বড় একটি অংশের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। তবে তারা ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে কাজ-কর্ম করছেন। মোটামুটি লিগ্যাল স্ট্যটাস সহ দিনাতিপাত করছেন। এমনি অবস্থায় ইমিগ্রেশন কোর্টকে আপাতত: সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ জারি এবং সর্বশেষ ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে দেয়ার ঘটনার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে সমগ্র কম্যুনিটিতে। ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক এটর্নী মঈন চৌধুরী ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, অভিবাসীদের মেধা আর রক্ত-ঘামে গড়ে উঠা আমেরিকায় যে পরিস্থিতি তৈরী করা হচ্ছে তা অকল্পনীয়। অসহায় কিন্তু কঠোর পরিশ্রমী অভিবাসীদের সন্ত্রস্ত করার মধ্যদিয়ে মূলত: আমেরিকাকেই থামিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, ভিসা নিষিদ্ধ হওয়া দেশের তালিকা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ৩২ করার একটি তথ্য কম্যুনিটিকে আরো উদ্বিগ্ন করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েম বৃহস্প্রতিবার ফক্স নিউজে কথা বলার সময় উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আরো কটি দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ঐসব দেশের নাগরিকের মধ্যে যারা ইতিমধ্যেই গ্রীণকার্ড পেয়েছে কিংবা গ্রীণকার্ডের অপেক্ষায় আছে, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডও নতুন করে যাচাইয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ২০২১ সাল থেকে তথা বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে তাদের ব্যাপারেই এই কঠোরতা জারি।

গত জুন মাসে ১৯ দেশের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা অথবা কড়াকড়ির বিধি কার্যকর হওয়ার পর অতিরিক্ত ১৩ দেশের তালিকা ক্রিস্টি নয়েমও খোলাসা করেননি। সেই তালিকায় তারাই থাকবে যেসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে, অর্থনৈতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত লোকজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে যুক্ত কিংবা আমেরিকার স্বার্থ-বিরোধী কর্মকান্ড-প্রচারণায় জড়িত সে সব দেশ।

Facebook Comments Box

Posted ২:২৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us