যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ ক্রয়ের লাইনে ভারত ও বাংলাদেশ শীর্ষে

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১:১৪ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ ক্রয়ের লাইনে ভারত ও বাংলাদেশ শীর্ষে

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ৫ মিলিয়ন ডলার (৬০ কোটি টাকা) এর বিনিময়ে ‘গোল্ড কার্ড’ তথা মার্কিন নাগরিকত্ব ক্রয়ে আগ্রহীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশী, ভারতীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীরা। গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত সিটিজেনশিপ বিক্রির এই কর্মসূচির পরিপূরক সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি ইউএসসিআইএস (সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস) থেকে। বিশেষ করে এই কর্মসূচির সমর্থনে মার্কিন কংগ্রেসে এখোন পর্যন্ত কোন বিল উঠেনি।

মুসলিম অধ্যুষিত এবং আফ্রিকান ১৯ দেশের নাগরিকের জন্যে মার্কিন ভিসা নিষিদ্ধ এবং কড়াকড়ির নির্দেশ কার্যকর হবার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লাল গালিচা অভ্যর্থনা’র ‘গোল্ডকার্ড’ ক্রয়ে আগ্রহী বিদেশীদের তথ্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পত্রিকা ‘নিউজউইক’ প্রকাশ করেছে। বলা হয়েছে, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থাসমূহে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্ট সাবমিট করেছেন-যাতে কর্মসূচির শুরুতেই তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লাল গালিচা অভ্যর্থনা পেতে পারেন।

বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি গ্রীণকার্ড এবং সিটিজেনশিপ প্রদানের এই কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বিশ্বের ৬০ দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘হেনলী অ্যান্ড পার্টনার’র প্রধান নির্বাহী ডমিনিচ ভলেক গণমাধ্যমে বলেছেন, সিঙ্গাপুরস্থ ‘ইউএইচএনডব্লিউআই’( the Ultra High Net Worth Individual (UHNWI) গত সপ্তাহে এ নিয়ে বিশেষ একটি ওয়ার্কশপ করেছে। সে সময় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের কাগজপত্র সাবমিট করেছেন। তিনি বলেছেন, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশী এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আছেন। এমন ব্যবসায়ীর অনেকে সিঙ্গাপুর এবং দুবাইতে ব্যবসা করছেন। তারা মার্কিন সিটিজেনশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতে আগ্রহী।

৮ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে (যে ব্যবসায় অন্তত: ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়) যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীণকার্ড লাভের বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারি ‘ইবিফাইভরিসোর্স ডট কম’ (ঊই৫জবংড়ঁৎপবং.পড়স) এর পরিচালক অশোক কুমার জানান, দুবাইতে বসবাসরত ভারতীয় ব্যবসায়ীর অনেকে ইবি-৫ কর্মসূচিতে গ্রীণকার্ডের আবেদন করেছেন। কিন্তু এটি নানা জটিল শর্তে পরিপূর্ণ এবং দু’বছর অপেক্ষা করতে হয় গ্রীণকার্ড পেতে। তাই সে সব ব্যবসায়ীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ৫ মিলিয়ন ডলার রেডি রেখেছেন বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশের সাথে সাথে আবেদন সাবমিট করার জন্যে। গোল্ড কার্ডে গোটা পরিবারকে গ্রীণকার্ড তথা সিটিজেনশিপ প্রদান করা না হলেও আাপত্তি নেই এসব ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারির। নিজেরা সিটিজেন হবার পর বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী পারিবারিক কোটায় স্ত্রী-সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে আনবেন তারা-এমন মতামত সিংগভাগ ব্যবসায়ীর।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ক পারমিট পাইয়ে দেয়ার কাজে নিয়োজিত জার্মানভিত্তিক ল’ফার্ম ‘উইনহেলার জিএমবিএইচ-এর চীফ মার্কেটিং অফিসার ফ্লোরিয়ান ডেমলার জানিয়েছেন যে, তারাও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীগণের নাম তালিকাভুক্ত করছেন এবং ইতিমধ্যেই সে সংখ্যা হাজারে উপনীত হয়েছে।

ট্রাম্পের আগ্রহের পরিপূরক এই ব্যবস্থা চালুর জন্যে কংগ্রেসে বিল পাশের পর ট্যাক্স কোডেও সংশোধনী আনতে হবে। বর্তমানে ইউএস সিটিজেন এবং গ্রীণকার্ডধারী হিসেবে ট্যাক্স প্রদান করা যাচ্ছে। গোল্ডকার্ডে সিটিজেনশিপ প্রাপ্তদের ট্যাক্সের পরিধি বাড়াতে হবে। তারা কোন দেশে কী ব্যবসা করছেন তার বিবরণীসহ আয়-ব্যয়ের তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র আবিগাইল জ্যাকসন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হচ্ছেন একজন ব্যবসায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধির স্বার্থে তিনি বরাবরই উদ্ভাবনী-পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্র ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত করার মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো উন্নয়ন দিতেই এমন লোভনীয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন-যা ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us