যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘতম সরকারি ‘শাটডাউন’র সমাপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘতম সরকারি ‘শাটডাউন’র সমাপ্তি

শাটডাউন অবসানের বিলে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি-সংগ্রহ।

ফেডারেল সরকারের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল ৪৩ দিন। এ সময় অনেক কর্মচারি বেতন পাননি। অনেকেই ছুটিতে কিংবা বরখাস্ত করা হয়। ১২ নভেম্বর রাতে এই শাটডাউনের পরিসমাপ্তি ঘটায় কতজন পুনরায় কাজে ফিরতে পারবেন সেটি অনিশ্চিত এবং যে দাবিতে ডেমক্র্যাটরা সরকারী ব্যয়-বরাদ্দের বিলে ভোট দানে বিরত থাকায় অচলাবস্থা তৈরী হয়েছিল সে দাবির পূরণে রিপাবলিকানদের পূর্ণ নিশ্চয়তা মেলেনি বলে সিনেটে বিরোধী দলীয় নেতা নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শ্যুমার বলেছেন, দাবি আদায়ে আমরা বদ্ধ পরিকর এবং ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-করটেজ ক্ষোভের সাথে বলেছেন, কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই রিপাবলিকানদের বিলে ডেমক্র্যাটরা সাপোর্ট দিলেন। এটা সমীচিন হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মন্তব্য করেছেন যে, শীঘ্রই আবারো অচলাবস্থা হাতছানি দিচ্ছে। কারণ, এই সমঝোতার মেয়াদ হচ্ছে ৩১ জানুয়ারি। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে পাওয়া ‘ওবামা কেয়ার অ্যাক্ট’ তথা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’র মেয়াদ বৃদ্ধির দাবিতে ডেমক্র্যাটরা ফেডারেল ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাবে সাঁয় না দেয়ায় ১ অক্টোবর থেকে শাটডাউন শুরু হয়েছিল। সিনেটে সোমবার ৬০-৪১ ভোটে এবং বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ২২২-২০৯ ভোটে সেটি পাশের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন এবং তা আইনে পরিণত হয় অর্থাৎ অবসান ঘটেছে শাটডাউনের। সিনেটে ৮ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ৬ ডেমক্র্যাট ভোট দিয়েছেন অচলাবস্থার অবসানে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ফেডারেল বাজেটের পরিমাণ হচ্ছে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এরমাত্র ১০% নিয়ে প্রতিবছরই জটিলতা তৈরী হয়। তার মধ্যে সামরিক ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যয়-বরাদ্দও রয়েছে। অর্থাৎ চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি অর্থ বছরই এসব খাতের ব্যয়-বরাদ্দ উঠা-নামা করে। এবারের অচলাবস্থা তৈরীর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় দাবি ছিল নিম্ন ও মাঝারি আয়ের লোকজনের চিকিৎসা সেবার বরাদ্দ। প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে তৈরী ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (যা ওবামা হেল্্থ কেয়ার অ্যাক্ট নামেও পরিচিত)র মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে ৩১ ডিসেম্বর। সেটির নবায়ন অথবা সম্প্রসারণে সম্মত নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অর্থাৎ গরিব আমেরিকানদের সুচিকিৎসায় সরকারী অর্থ ভর্তুকির ব্যাপারটি বন্ধ করতে চান রিপাবলিকানরা। এছাড়াও রয়েছে গরিবের চেয়েও গরিবদের পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তার তহবিল সংকুচিত করার পরিকল্পনা। এ দুটি বিষয়ে অনড় রয়েছেন ডেমক্র্যাটরা। এতদসত্বেও দীর্ঘতম শাটডাউনের প্রভাব জনজীবনকে নাজুক করায় কয়েকজন ডেমক্র্যাট রিপাবলিকানদের প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে সাঁয় দিলেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যয়-বরাদ্দে আর কোন বাধা থাকলো না। শাটডাউনের অবসানে ভোট প্রদানের শর্ত হিসেবে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ওবামা কেয়ার অ্যাক্ট নিয়ে রিপাবলিকানদের সাথে সমঝোতার ব্যাপারটি চ’ড়ান্ত করা হবে বলে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ও কংগ্রেসমানরা দাবি করছেন। তবে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ডেমক্র্যাটদের মধ্যে। কারণ তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এজন্যে আবারো শাটডাউনের আশংকা করা হচ্ছে। ওবামা কেয়ার অ্যাক্ট’র নবায়ন তথা সম্প্রসারণ ঘটানো না হলে সামনের বছরের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর খেসারত দিতে হবে ডেমক্র্যাটদেরকেও-এমন মন্তব্য করেছেন এই দলের শীর্ষ নেতারাও। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ৪৩দিনের শাটডাউনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার হয়েছেন ৪২ মিলিয়ন আমেরিকান-যারা পুষ্টিকর খাদ্য-সহায়তার (ফুডস্ট্যাম্প) ওপর নির্ভরশীল। এই কর্মসূচি ১ নভেম্বর স্থগিত হয়ে গেছে। এখোন শাটডাউনের অবসান ঘটলেও কবে নাগাদ সেই অর্থ মিলবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে এই বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা চুক্তিটির পক্ষে ২২২ ভোট ও বিপক্ষে ২০৯ ভোট পড়ে। প্রতিনিধি পরিষদের ছয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাশ হয়। এর আগে সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে শাটডাউন শেষ করার ও সরকারকে তহবিল যোগানোর একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল, বুধবার সেটিই অনুমোদন করেছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ।

কংগ্রেসের উভয়কক্ষে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজের ওভাল দপ্তরে ট্রাম্প প্রস্তাবটিতে স্বাক্ষর করেন। প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প এটিতে স্বাক্ষর করেন।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি খাদ্য সহায়তা ফের শুরু, হাজার হাজার ফেডারেল কর্মীর আটকে থাকা বেতন দেওয়া ও ব্যাহত এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৪৩ দিন ধরে বিনাবেতনে ছুটিতে থাকা ফেডারেল কর্মীরা আবার তাদের কাজে বৃহস্পতিবারই ফিরতে পারছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকারি সবগুলো পরিষেবা ও কার্যক্রম কতো দ্রুত পুরোপুরি সচল হবে তা পরিষ্কার হয়নি।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us