বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে দক্ষিণের সীমানার এ দৃশ্য ছিল প্রতিদিনের। ছবি-সংগ্রহ।
মেক্সিকো হয়ে দক্ষিণের (আরিজোনা-টেক্সাস-ক্যালিফোর্নিয়া) সীমান্ত দিয়ে বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরই সীমান্ত রক্ষী কর্তৃক আটক কিংবা স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণকারিদের কোন ধরণের শুনানী ব্যতিরেকেই নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর যে নির্দেশ গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জারি করেছিলেন তার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের নির্দেশ দিলো মার্কিন ফেডারেল আদালত। ২৯ আগস্ট শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের জজ জিয়া এম কোব প্রদত্ত এই রুলিং অনুযায়ী গ্রেফতারকৃতদের বহিষ্কারের আগে অবশ্যই বিচারিক আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এই রুলিংয়ের ফলে ট্রাম্পের ব্যাপক বহিষ্কারের প্রক্রিয়া থমকে দাড়ালো বলে মনে করা হচ্ছে। নিউইয়র্কস্থ ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত ‘মেইক দ্য রোড নিউইয়র্ক’র পক্ষে এই আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিল ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে শপথ গ্রহনের পরদিন অর্থাৎ গত ২১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্র্র্তক জারিকৃত এক আদেশে বলা হয় যে, দু’বছরের কম সময় যাবত অবৈধভাবে বসবাসরতদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু আগের আইন অনুযায়ী সীমান্তের ১০০ মাইলের মধ্যে ১৪ দিনের কম সময় যাবত অবৈধভাবে বসবাসরতদেরকেই গ্রেফতার ও বহিষ্কারের ক্ষমতা ছিল ফেডারেল প্রশাসনের। ফেডারেল জজ জিয়া এম কোব তার রুলিংয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন এই বিধি অব্যাহত রাখতে পারবেন। মিয়া এক কোব বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতিত অবৈধভাবে প্রবেশকারিদেরকে গ্রেফতারের পরই নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর এখতিয়ার নেই প্রেসিডেন্টের। এ ধরনের পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধদের পাশাপাশি বৈধভাবে বসবাসরতরাও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত বিচারক কোব বলেছেন, ইতিপূর্বে যারা সীমান্তে কোন ধরনের ইন্সপেকশন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করেছেন এবং সে সব আবেদন পেন্ডিং রয়েছে, তারা তোন ট্রাম্পের নয়া নির্দেশের আওতায় পড়তে পারেন না। তারা তো আইনে প্রদত্ত সুযোগ পাবেন। এবং সরকারকে তা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের আমলে তৈরী একটি আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীরা গ্রেফতার এড়ানোর জন্যে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে এসাইলামের আবেদন করতে পারেন। তাদের সে আবেদন নাকচ হয়ে গেলে ইমিগ্রেশন কোর্টে আপিলের সুযোগ পান। টাম্প প্রশাসন সেই বিধিকে অবজ্ঞা করছিলেন।
এদিকে, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৯ আগস্ট শুক্রবার জানানো হয়েছে যে, আইস কর্তৃক চলমান অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের ৭০%-ই কোন ধরনের অপরাধে লিপ্ত ছিলো না বা দন্ডিত হয়নি। ২১ জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন ৬১২২৬ জন। এরমধ্যে ১৮২০৫ জন হলেন দন্ডিত অপরাধি। ১৫৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঝুলছে। ২৭৪২৮ জনের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র অভিবাসনের আইন লংঘনের অভিযোগ রয়েছে। আইস কর্র্র্র্তৃক সরবরাহকৃত এ তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গিকারের পরিপূরক নয় বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন যে, গুরুতর অপরাধে লিপ্ত অবৈধদেরকেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার করা হবে।
Posted ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর