ডিসি থেকে সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মানববন্ধন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
সাজানো মামলায় অবৈধ আদালত কর্তৃক শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ডের প্রতিবাদ, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তি এবং অবিলম্বে আওয়ামী লীগ-সহ সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনায় ১৯ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মারকো রুবিয়ো সমীপে স্মারকলিপি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। ওয়াশিংটন ডিসিতে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে মানববন্ধনের পর অপরাহ্নে মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ডেস্ক অফিসার মাইকেল এ কামিরাসের নিকট এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় তার সাথে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সোলায়মান আলী, শরীফ কামরুল হিরা, আশরাফ উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দরুদ মিয়া রনেল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, সাহানারা রহমান, সাদেকুল বদরুজ্জামান পান্না, ব্যারিস্টার আকরাম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, নাহিদ শিকদার জন, উপ-প্রচার সম্পাদক খান শওকত, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনেওয়াজ, পেনসিলভেনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লোকমান হোসেন রাজু, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ খান, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুতুন নবী বাকি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজাদ, ভার্জিনিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ সভাপতি জিআই রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক ড. জাহিদ হোসেন, ম্যারিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সেলিম, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক বাহার খন্দকার সবুজ, আমিনুল ইসলাম, মাহমুদ রহমান, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন এবং সেক্রেটারি সৈয়দ কিবরিয়া, শেখ হাসিনা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সোহেল করীম, শ্রমিক লীগ নেতা জুয়েল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য নাজিমউদ্দিন, কানিজ শাওন, শামীমা দৌলা প্রমুখ। এর আগে মানববন্ধনে সমবেত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে টেলিফোনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যে আদালতে বিচারের নামে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে সেটির কোন বৈধতা নেই। তাই ঐ রায়েরও কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের সামনে কথা বলছি এবং ইতিমধ্যেই আমাকে মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। অথচ আমি জানিনা কীভাবে মানবাধিকার লংঘন করলাম, সেটি আমারও প্রশ্ন। যেভাবে একটা মামলা সাজানো হলো-এবং আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন থেকে শুরু করে প্রবাসের এবং বাংলাদেশের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ চায় ভোটের অধিকার। আমি সংগ্রাম করেই সেটি প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার নিশ্চয়তা-সবকিছু আওয়ামী লীগের দেয়া। আমাদের মহান নেতা জাতিরপিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। দেড় লক্ষাধিক নেতা-কর্মী কারাগারে। প্রতিদিনই আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতার অথবা খুন করা হচ্ছে। বাড়ি-ঘর লুটপাট। দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু শেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। শারিরিক নির্যাতন থেকে মহিলারাও রেহাই পাচ্ছে না। শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। ১৩ বছরের শিশুকে ধরে নিয়েও মামলা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে সেটিকে আমি স্বাভাবিক মনে করি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি কাকে হত্যা করলাম-সেটি আমারও প্রশ্ন এবং কীভাবে তারা প্রমাণ করলো? শেখ হাসিনা বলেন, গত তিনদিন আগে ইউনুস সরকারের নিয়োগ দেয়া ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনাররা কী বলেছে? যারা অগ্নি সন্ত্রাস করবে, যানবাহনে আগুন দেবে, ভাঙচুর করলেই সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটা আইনেই আছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে আইনে যদি গুলি চালানোর বিধান থাকে তাহলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটা কি? শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই, যা হচ্ছে একতরফা।
শেখ হাসিনা সমবেত নেতা-কর্মীগণকে সাহস নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় সরব থাকার আহবান জানান। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যদি কোন নির্বাচনের আয়োজন করা হয় তাহলে সেটি কেউই মানবে না। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দিতে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করতে সকলকে কাজ করার আহবানও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মানববন্ধনে টেলিফোনে শেখ হাসিনার বক্তব্য সমন্বয় ঘটাচ্ছেন নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
কর্মসূচি শেষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ সংবাদদাতাকে জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী মুক্ত করতে প্রবাসীরা সোচ্চার রয়েছে। তিনি মুহম্মদ ইউনূসকে সর্বকালের কুখ্যাত স্বৈরাচার হিসেবে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
Posted ৯:২০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর