সত্য বলেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল ক্লিনটনের: মনিকা লিউনস্কি

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

সত্য বলেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল ক্লিনটনের: মনিকা লিউনস্কি

যতদিন যাচ্ছে, ততই পুরোনো ঘটনাগুলোর দাগ আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ২২ বছর বয়সী মনিকা লিউনস্কির সম্পর্ক তোলপাড় তুলেছিল বিশ্ব রাজনীতিতে। এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির জীবনকে বদলে দেয়নি, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরাট ছাপ রেখে গেছে। এবার, দীর্ঘদিন পর, মনিকা লিউনস্কি আবারও সেই ঘটনাকে নিয়ে কথা বলেছেন এবং নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন, যা হয়তো অনেকের জন্য এক নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

পূর্বে ঘটে যাওয়া সেই যৌন কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে, মনিকা লিউনস্কি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উচিত ছিল স্বীকারোক্তি দেয়ার পরেই পদত্যাগ করা। গত মঙ্গলবার ‘কল হার ড্যাডি’ শীর্ষক পডকাস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

মনিকা বলেন, ‘যতটা সম্ভব, সঠিকভাবে মোকাবিলা করার উপায় ছিল আসলে সত্য বলাটা এবং এরপর পদত্যাগ করা।’ এর মধ্যে, তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘ক্লিনটনের উচিত ছিল মিথ্যা না বলে, সব কিছু স্পষ্টভাবে বলে, কিংবা এমন একটি উপায় বের করা যাতে শুধু আমি বা ক্লিনটন নয়, পুরো পরিস্থিতিটা আরো মসৃণভাবে সামলানো যেত।’

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় ক্লিনটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয়। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায় এবং সেই ঘটনার পর, ক্লিনটন মিথ্যা সাক্ষ্য দেন, যা তাকে অভিশংসনের মুখে দাঁড় করায়। এই ঘটনায় হোয়াইট হাউস ও পুরো বিশ্বের মানুষের সামনে যেন এক নতুন ধরণের রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।

মনিকা লিউনস্কি, যিনি এখন ৫১ বছর বয়সী, তিনি জানান, তার জন্য এই ঘটনা শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনেই বিপর্যয় ডেকে আনেনি, বরং তার ভবিষ্যতও একেবারে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তবে, তিনি গর্বিত যে, তিনি তার সত্যিকারের সত্তা ধরে রেখেছেন, যা তাকে এই সমস্ত ঘটনার পরেও নিজেকে সম্মানজনকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।

বিল ক্লিনটন একাধিকবার বলেছেন যে, তিনি কখনও পদত্যাগের কথা ভাবেননি। তবে ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম অভিশংসন সফল হবে না, তবে এটি একটি সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না।’ পরবর্তীতে ২০০৪ সালে তিনি তার ও মনিকার সম্পর্ক নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা ছিল এক ধরনের নৈতিক পর্যালোচনা: ‘এটি ছিল একেবারে বাজে কাজ, এবং আমি এই কাজটি করেছিলাম কারণ আমার সুযোগ ছিল, যা নৈতিকভাবে ভুল ছিল।’

মনিকা আরো জানান, তার এবং ক্লিনটনের সম্পর্কের পর, তিনি অনেক সময় কাটিয়েছেন আত্মবিশ্লেষণের মধ্যে। তার মতে, যদিও সে সময়ের ঘটনাগুলি তার জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে, তিনি তার নিজের সত্যকে লুকিয়ে রাখেননি এবং এখন নিজের সত্তা নিয়ে গর্বিত।

এটি কেবল মনিকার জীবনের একটি অধ্যায় নয়, বরং বিশ্বের রাজনীতি এবং গণমাধ্যমের আলোচনার এক বিরাট মোড়।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us