নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাগণের সভায় কথা বলছেন ডা. ওয়াদুদ ভ’ইয়া। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
গত ৫০ বছর বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক কর্মকর্তাগণের এক সভা ২১ এপ্রিল সোমবার রাতে জ্যামাইকার পারসন্স বুলেভার্ডে হালাল ডাইনার রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয়। স্বল্প পরিসরের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাঃ ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং পরিচালনা করেন বাবুল চৌধুরী ও মোহাম্মদ জামান তপন। সভা অয়োজনের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন ডাঃ ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
ভবিষ্যতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক উন্নয়নে বছরে অন্তত একটি পারিবারিক মিলনমেলা আয়োজন করা যায় কিনা সে লক্ষ্যে সভায় উপস্থিত সকলে নিজের পরিচয় এবং কে কত সালে কোন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তা উপস্থাপন করেন।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে সকল কর্মকর্তা ও সংগঠনের সদস্যবৃন্দ ইন্তেকাল করেছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। আর এভাবেই সম্প্রীতির বন্ধনে বিপুল উৎসাহে অর্ধশত সাবেক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যেন ছোটখাটো মিলনমেলায় পরিণত হয় আয়োজনটি।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাগণের সভায় কথা বলছেন মো. আকতার হোসেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামীতে স্বপরিবারে বছরে অন্তত একটি মিলনমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই লক্ষ্যে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের তাগিদ দেন সকলে। সভায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর আহ্বায়ক হিসেবে ডাঃ ওয়াদুদ ভুঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রব মিয়া, সদস্য-সচিব বাবুল চৌধুরী, সমন্বয়ক মোহাম্মদ জামান তপন, কোষাধ্যক্ষ নুরল হক, সদস্য মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম ফজলে রাব্বী, ফখরুল আলম সহ অনেকের নাম প্রস্তাব দেয়া হয়। পরে সভাপতি ডাঃ ওয়াদুদ ভূঁইয়া সকল নাম লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে কারা কমিটিতে থাকবেন বা থাকবেন না এবং বিশেষ কারণে যারা এ সভায় উপস্থিত হতে পারেননি-সবার সাথে আলোচনা করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও সকলে মতপ্রকাশ করেন।
সময়ের প্রয়োজনে কম্যুনিটির সার্বিক কল্যাণের অভিপ্রায়ে ন্যূনতম ভ’মিকায় অবতীর্ণ হবার পথ সুগম করবে-এমন একটি সুন্দর আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তা মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম ফজলে রাব্বী, মোহাম্মদ জামান তপন ও বাবুল চৌধুরীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ আক্তার হোসেন, মো. রব মিয়া, সউদ আহমেদ চৌধুরী, নুরল হক, সালামত উল্লাহ, নাসির আলী খান পল, মোহাম্মদ হোসেন খান, ফখরুল আলম, রুহুল আমিন ছিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম, কাজী আজহারুল হক মিলন, গিয়াস আহমেদ, খন্দকার ফরহাদ, কিউ জামান, শেখ সিরাজ, জাহিদ খান অরুন, ওয়াসি চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম, আজহার হোসেন, নিশান রহিম, সাইফুল ইসলাম, নুরুল হক, বেলাল মাহমুদ, কাজী আজম, ফারুক হোসেন মজুমদার, এস কে জামান, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আক্তার হোসেন, সানি মোল্লা, ওসমান চৌধুরী, নওশাদ হোসেন, ফারুক চৌধুরী, খান শওকত, ফারহানা চৌধুরী, মাঈনুল উদ্দিন মাহবুব, জুয়েল চৌধুরী, সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া, সরোয়ার খান বাবু, মোহাম্মদ হায়দার, আলাউদ্দিন প্রমূখ।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাগণের সভায় কথা বলছেন গিয়াস আহমেদ । ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, এই সংগঠনের কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ নির্বাচনেই প্রার্থীরা অঙ্গিকার অনুযায়ী নিউইয়র্কে একটি কম্যুনিটি সেন্টার নির্মাণে সক্ষম হননি অথবা আন্তরিক অর্থে কোন পদক্ষেপ নেননি। এছাড়া, নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশ ডে প্যারেডের অনুমতিও সংগ্রহ করতে পারেননি। এমন চরম ব্যর্থতার মধ্যেও সোসাইটি ঝলসে উঠেছিল করোনাকালিন সময়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে করোনায় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাসায় খাবার পৌছে দিয়েছেন। এমনকি মৃতদের দাফন-কাফনেও কৃপণতা করেননি। সময়ের ব্যবধানে নিউইয়র্ক অঞ্চলেই তিন লাখের বেশী বাংলাদেশীর বসতি গড়ে উঠেছে। তবুও কম্যুনিটিভিত্তিক ঐক্য সুসংহত হয়নি। এরফলে সিটি, স্টেট নির্বাচনে এখোন পর্যন্ত তেমন কোন সাফল্য আসেনি। বরঞ্চ দিনদিনই জাতিগত অনৈক্য প্রসারিত হয়েছে, বাংলাদেশী রাজনীতির অবয়বে পরস্পরের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন অনেকে। এহেন অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন আলোচনায় অংশগ্রণকারিরা। আর এভাবেই প্রবাসে বেড়ে উঠা প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ততার প্রত্যাশাও পূরণ করা সম্ভব হলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
Posted ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর