গবেষণা জরিপ

৫৯% আমেরিকানই সন্তান লালন-পালনের ব্যয় নির্বাহে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

৫৯% আমেরিকানই সন্তান লালন-পালনের ব্যয় নির্বাহে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন

ফাইল ছবি

মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে অবিশ্বাস্যরকমভাবে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের মূল্য এবং চিকিৎসা ব্যয় আকাশচুম্বি হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনে হিমসিম খাচ্ছেন অভিভাবকেরা। শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাপারটিও অভিভাবককে ভাবিয়ে তোলেছে। এরফলে অনূর্দ্ধ ১৮ বছর বয়েসী সন্তানের ৫৯% অভিভাবকই ঋণগ্রস্ত এবং ৮১% অভিভাবক বলেছেন যে তারা ঋণ নিয়ে চিন্তিত থাকায় সন্তান ধারণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ‘ন্যাশনাল ডেবট রিলিফ এ্যান্ড টকার রিসার্চ’ নামক একটি সংস্থার গবেষণা-জরিপে ২৬ আগস্ট উদ্বেগজনক এমন তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। এ গবেষণায় আরো উদঘাটিত হয়েছে যে, অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহের স্বার্থে অনেক অভিভাবকই পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয়ে সক্ষম হচ্ছেন না। সারা আমেরিকার ২০০০ অভিভাবক এ জরিপে অংশ নিয়েছেন। প্রতি ১০ জনের ৬ জনই শিশু সন্তানের বুঝা বইতে সক্ষম হচ্ছেন না। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে অনেকে বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী নিজেকে দেউলে ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর আগে ২০২২ সালে পাবলিক পলিসি থিঙ্কট্যাংক ‘দ্য ব্রুকিং ইন্সটিটিউট’র গবেষণায় উদঘাটিত হয় যে, মাঝারি আয়ের পরিবারের দুটি শিশুর বয়স ১৮ বছর হবার আগে অভিভাবকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৩১০৬০৫ ডলার করে।

ব্যয়ের সাথে আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় অথবা ক্রমান্বয়ে বৈষম্য বাড়তে থাকায় আমেরিকানরা সন্তান ধারণে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। ২০২৪ সালে সিডিসির (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন)সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি মহিলা গড়ে ১.৬ জন শিশু ধারণ করছেন-যা মৃত্যুর চেয়ে অনেক কম। আর এভাবেই জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়েছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী ষাড়াশি অভিযানে থমকে দাঁড়িয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে কর্মরত একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল রায়ান উদ্ভ’ত পরিস্থিতির আলোকে গণমাধ্যমে বলেছেন, সন্তান লালন-পালনে আমেরিকান অভিভাবকগণের এমন নাজুক অবস্থায় নিপতিত হবার তথ্য হঠাৎ করে সামনে আসেনি। তা দীর্ঘদিন থেকেই বিরাজ করছে। অর্থনীতির বাস্তবতা ক্রনাম্বয়ে পরিস্থিতিকে নাজুক করছে। ‘এ্যানী কেসি ফাউন্ডেশন’ নামক আরেকটি সংস্থা জানিয়েছে যে, সন্তান লালন-পালনে হিমসিম খাওয়া এহেন অবস্থা শুরু হয়েছে ১৯৯০ সাল থেকেই। তাই ঋণের দায়ে জর্জরিত হবার চেয়ে সন্তান ধারণের আগ্রহ পরিত্যাগ করাকেই অধিকাংশ আমেরিকান শ্রেয় বলে বিবেচনা করছেন। ‘কলেজ, হাউজিং, হেল্থকেয়ার-এই ৩ ইস্যুতে হাপিয়ে উঠেছেন অভিভাবকেরা। সচেতন কোন অভিভাবকই তার সন্তানের মাথায় ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন না। জরিপ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৭% অভিভাবককে গ্রীস্মকালিন ছুটির সময় অবকাশ ভ্রমণের জন্যে ঋণ নিতে হচ্ছে। আর স্কুল বর্ষ শুরু করতে হয় ঋণের চাপে ৩৯% অভিভাবককে। জরিপে আরো উদঘাটিত হয়েছে যে, সদ্য বিবাহিত দম্পতির ৬৩% সন্তান ধারণে বিলম্বিত করাকে শ্রেয় মনে করছেন। ঋণ করে ঘি খেতে আগ্রহী নন এমন মেধাবি অভিভাবকেরা। মার্টিনে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি’র ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ইন্সট্রাক্টর ড. আলেক্স বীনি বলেন, এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে নতুন ধারণে সতর্কতা অবলম্বন।

 

Facebook Comments Box

Posted ৯:০২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us