নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি সোমবার ৬০তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন। তার এই অভিষেক ঘিরে নেওয়া হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১৭০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই শপথ অনুষ্ঠানে আড়াই লাখ মানুষ উপস্থিত হবেন বলে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্নের অভিপ্রায়ে বসানো হচ্ছে চেক পয়েন্ট, থাকবে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার অতিরিক্ত ২৫ হাজার অফিসার। গড়ে তোলা হচ্ছে ৩০ মাইল দীর্ঘ কালো অস্থায়ী-বেষ্টনি। এমন অজানা আতংকে এবং স্মরণকালের সবচেয়ে বেশী নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে বেশ কিছু প্রবাসীও থাকবেন। এরমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহকারি আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিনও অভিষেক উৎসবের আগের দিন থেকে সমাপনী পর্যন্ত সবকটি ইভেন্টের দাওয়াত পেয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানে জীবিত সব প্রেসিডেন্ট (বিল ক্লিন্টন, জর্জ বুশ, বারাক ওবামা) অংশ নেবেন। মিশেল ওবামা ছাড়া অন্য সকল সাবেক ফার্স্টলেডিও থাকবেন শপথ অনুষ্ঠানে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ছিলেন অনুপস্থিত। অতীতের সব রীতি ভেঙ্গে তিনি জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে যোগদান দূরের কথা, উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে সে সময়ের ফার্স্টলেডিকে নিয়ে ট্রাম্প বিমানে উঠেন এবং সরাসরি ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবন মার-এ লাগোতে অবতরণ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে ২০ জানুয়ারি ভর দুপুরে ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর হোয়াইট হাউজে যাত্রা করবেন। তার আগে এ সপ্তাহান্তে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প বিরোধীরা বিক্ষোভ করেছে। অপরদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থকরা সমাবেশ করেছে। তাছাড়া, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পও গতবছর নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই হামলার হুমকির মুখে আছেন। তাকে হত্যার চেষ্টা চলেছে একাধিকবার। গতবছর ১৩ জুলাইয়ে আততায়ীর বুলেট থেকে কোনরকমে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। তার ডানকান ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় গুলি। আরেকবার গলফ ক্লাবে তাকে হত্যার জন্য ওঁত পেতে থাকা আততায়ী ধরা পড়ে যাওয়ায় বেঁচে যান ট্রাম্প। নতুন বছর ২০২৫ সাল শুরুর সময়েও সাধারন আমেরিকানদের ওপর ঘটেছে কয়েকটি হামলার ঘটনা। এর মধ্যে একটি ঘটনায় নিউ অরলিন্সে নববর্ষ উদযাপনের মুহূর্তে মানুষের ভিড়ে সাবেক এক প্রবীণ মার্কিন সেনা ট্রাক চালিয়ে দিয়ে অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছেন। একইদিনে আরেক ঘটনায় ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের সামনে একটি টেসলা সাইবারট্রাকে (বৈদ্যুতিক গাড়ি) বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গাড়িচালক মারা যান। সাইবার ট্রাকের চালক ছিলেন সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্য। এতসব ঘটনার ঘনঘটায় সোমবার ১৩ জানুয়ারি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস স্পেশাল এজেন্ট ম্যাট ম্যাকুল বলেছেন, “আমরা প্রচন্ড হুমকির এক পরিবেশের মধ্যে আছি।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্প এবং তার সঙ্গে কংগ্রেসের অন্য সদস্যরা যেখানে শপথ নেবেন এবং অন্য যারা তা দেখবেন, সেই জায়গাটি হচ্ছে কংগ্রেস ভবন -ক্যাপিটল হিল -যেখানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে ঘটেছিল তাণ্ডব। ট্রাম্পের হাজার হাজার সমর্থক ভবনের জানালা ভাঙচুর করেছে আর আইনপ্রণেতারা জান নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে বেঁচেছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টাতেই ঘটেছিল ওই দাঙ্গা-হাঙ্গামা। যদিও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস। যে কাজটি ট্রাম্প ২০২০ সালে করেননি। বরং তিনি উল্টো নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছেন গত চার বছরে।
এবারে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠান ঘিরে কোনও সুনির্দিষ্ট বা সমন্বিত হুমকি আছে কিনা সে সম্পর্কে কিছু জানেন না বলেই জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন, কোনও আততায়ীর একক হামলার আশঙ্কাতেই মূলত: তারা উদ্বিগ্ন। যেমনটি ঘটেছে নিউ অরলিন্সে কিংবা গত সপ্তাহের দুটি পৃথক ঘটনায়। ক্যাপিটল পুলিশের তথ্যমতে, একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি ক্যাপিটল ভবনে চাপাতি নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হয়েছে। আরেক ঘটনায় আরেকজন ব্যক্তি ক্যাপিটল ভবনের কাছে আগুন জালানোর চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশ প্রধান থমাস মাঙ্গার নিরাপত্তা বিষয়ক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “এরকম একক আততায়ীর হামলার হুমকিই হচ্ছে আগামী সপ্তাহ জুড়ে আমাদের সবচেয়ে সতর্ক অবস্থায় থাকার সবচেয়ে বড় যৌক্তিক কারণ।”
১৭৮৯ সালে জর্জ ওয়াশিংটন থেকে প্রত্যেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণের পর দেয়া ভাষণের পরিধি ছিল কখনো বিস্তৃত, আবার কখনো একেবারেই সংক্ষিপ্ত। ৮৪৪৫ শব্দ থেকে ১৩৫ শব্দের মধ্যে সীমিত ছিল বক্তব্য। বরাবরের মত এবারও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ‘জয়েন্ট কংগ্রেসনাল কমিটি অন ইনঅগ্যুরাল সিরিমনি’। আমন্ত্রণ পত্র ছাড়াই যারা নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করবেন তারা ন্যাশনাল মলের পশ্চিমে ফোর্থ স্টিট নর্থওয়েস্ট এলাকার খোলা মাঠে থাকবেন। আর যারা আমন্ত্রণের জন্যে আবেদন করেছিলেন তাদের বাছাইয়ের লটারি হয়েছে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার। এর বাইরে ইউএস সিনেটররাও কিছু টিকিট বিলি করেছেন।
ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জানুয়ারি শনিবার ভার্জিনিয়ায় পটোম্যাক ফলসে ট্রাম্প ন্যাশনাল গল্্ফ ক্লাবে আতশবাজির মধ্য দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে হোয়াইট হাউজে অধিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপরই ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট’র ডিনার অনুষ্ঠিত হবে নয়া মন্ত্রিসভার সদস্যগণকে নিয়ে। ১৯ জানুয়ারি আর্লিংটনে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হবে শহীদ সৈনিকদের স্মরণে। এদিন অপরাহ্ন ৩টায় ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল-১ এরিনায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন ভিক্টরি’ র্যালিতে বক্তব্য দেবেন। এরপর সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল বিল্ডিং মিউজিয়ামে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির উদ্বোধনেও কথা বলবেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
এক মেয়াদের দায়িত্ব শেষে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বিজয়ী হতে পারেননি ট্রাম্প। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। গত নভেম্বরের নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের উচ্ছ্বাসে ক্ষমতা গ্রহণের জন্যে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের দিনটি শুরু হবে সেন্ট জোন্স এপিসকোপাল চার্চে প্রার্থনার পর হোয়াইট হাউজে চা পর্বে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে। তারপর মটর শোভাযাত্রা সহকারে ক্যাপিটল হিলের সপরিসর বারান্দায় ভর দুপুরে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে বিদায় অভ্যর্থনা জানানো হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মটর শোভাযাত্রা সহকারে নিজ কক্ষে যাবেন এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিছু আদেশে স্বাক্ষর করবেন। তারপরই হোস্ট কমিটি কর্তৃক দেয়া কংগ্রেসনাল মধাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সালাম নেবেন এবং তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন পেনসিলভেনিয়া এভিনিউতে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল প্যারেড’এ অংশ নেবেন সাড়ে সাত হাজার বিশিষ্টজনের সাথে। এরপর ফিরবেন হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এবং নির্বাচনী অঙ্গিকারের পরিপূরক বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন ট্রাম্প। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে বক্তব্য দেবেন সে সময়। এরপর আরো তিনটি ইভেন্টে অংশ নেবেন নতুন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রেলে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রেয়ার সার্ভিসে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
Posted ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর