নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
অভিবাসন-বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিবাসন-বিষয়ক ২০ বিচারককে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। করোনাকালিন জট হ্রাসের অভিপ্রায়ে যে শতাধিক বিচারক নিয়োগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এরা তাদেরই অংশ। উল্লেখ্য, ফেডারেল সরকারের লাখো কর্মচারি ছাটাইয়ের চলমান কার্যক্রমের আওতায় অভিবাসন দফতরের ৭০০ বিচারকের মধ্যে আরো অনেককে বরখাস্ত করা হবে বলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা আশংকা করছেন। আরো উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই অভিবাসন-আদালতে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ৩৭ লাখ ছাড়িয়েছে। এমনি অবস্থায় বিচারক কমানো হলে মামলাসমূহ (রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা, রিফ্যুজির আবেদন ইত্যাদি) নিষ্পত্তির ধিরগতি আরো বাড়বে। একইসাথে সিটিজেনদের স্বজনের জন্যে করা আবেদনের নিস্পত্তির ব্যাপারটিও দীর্ঘতর হবে বলে আশংকা করছেন ইমিগ্রেশন এ্যাটর্নীরা। বর্তমানে সিটিজেনদের ভাই-বোনরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে ১৮ বছরের অধিক সময় লাগছে।
ভালোবাসা দিবস অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারিতে বরখাস্তের আদেশপ্রাপ্তগণের মধ্যে ৫ জনই হলেন সহকারি মুখ্য ইমিগ্রেশন জজ। এই ২০ জনের বাইরে আরো কয়েক ডজন নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া শেষে কাজে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন, সেটি বাতিল করা হয়েছে। সারা আমেরিকায় অভিবাসন আদালতে বিচারকের সংখ্যা ৭০০ জন। প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই কম বলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছিল। ডেমক্র্যাট এবং রিপাবলিকান পার্টির লোকজনও দাবি জানাচ্ছিলেন বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্যে। বাইডেন আমলে অর্থ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যাশার পরিপূরক বিচারক সম্ভভ না হলেও ১৩০ জনের মত নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বরখাস্তের আদেশ প্রাপ্ত ২০ জনের একজনও আগাম কোন নোটিশ পাননি। ফলে গোটা প্রশাসনে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে স্বচ্ছ্বতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি ফেডারেল প্রশাসনে অপ্রয়োজনীয় কর্মচারি হ্রাসের অভিপ্রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গঠিত নতুন দফতর ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্ণমেন্ট অ্যাফিয়েন্সি’ তথা ‘ডোজ’র প্রধান কর্মকর্তা (মন্ত্রী) বিলিয়োনেয়ার ইলোন মাস্ক ১৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের পাশে বসে দাবি করেছেন যে, অযথা কিছু অফিস রয়েছে, যেগুলোতে হাজার হাজার কর্মচারি বেতন-ভাতা নিচ্ছে। মাস্কের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উচ্চারণ করেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা খুঁজে পেয়েছি যে বিপুল অংকের অর্থ তছরুপ করা হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে। এভাবে চলতে দেয়া হবে না।’
শনিবার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল প্রশাসনের মোট কর্মচারির মধ্যে দুই লাখ ১৬ হাজার জনের চাকরির বয়স মাত্র এক বছর। এর বাইরের কয়েক লাখ কর্মচারির মধ্যে ইতিমধ্যেই ভ্যাটারান্স এ্যাফেয়ার্স-১০০০, এডুকেশন-২২০০, কঞ্জ্যুমার প্রটেকশন ব্যুরো-১২০০, ইউএসসিআইএস-২০০, হেল্্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস-৫২০০, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়-৪০০, সাইবার সিকিউরিটি-১৩০, ফেমা-২০০, সিডিসি-১৩০০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদেশের দূতাবাসের কর্মচারিরাও বরখাস্তের নোটিশ পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অর্থাৎ গোটা প্রশাসনকে এক ধরনেরহ-য-ব-র-ল অবস্থায় নিপতিত করা হয়েছে। এরফলে প্রশাসনিক কাজকর্ম তথা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান চরমভাবে ব্যহত হবার আশংকা করছেন জনপ্রতিনিধিরা। বিভিন্ন দফতরের শ্রমিক-কর্মচারিগণেল সমন্বয়ে গঠিত ‘এএফএল-সিআইও’র নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গোটা প্রশাসনকে নাজুক অবস্থায় নিপতিত করার প্রক্রিয়া অবলম্বন করার অভিযোগে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় এই শ্রমিক ফেডারেশন ‘এএফএল-সিআইও’র নেতৃত্বে রয়েছেন ডেমক্র্যাটরা।
Posted ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর