বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিভিন্ন কোম্পানীর জন্যে ভিসা অনুমোদন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী কঠোর অবস্থানের মধ্যেও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশী কর্মী (এইচ-ওয়ানবি ভিসা) আমদানিতে ন্যূনতম ভাটা পড়েনি। তথ্য-প্রযুক্তি, প্রকৌশল ছাড়াও চিকিৎসা-সেবা সেক্টরে বিদেশী কর্মী নিয়োগও চলছে পূর্বনির্দ্ধারিত কোটা অনুযায়ী। এরফলে মেধাবি-উচ্চ শিক্ষিতরা (কন্সালটিং, টেকনোলজি, ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) ৩ বছর মেয়াদি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অনেকেই নিজ নিজ কর্মগুণে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও পাচ্ছেন। আর এমন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশী গ্রীণকার্ড পাচ্ছেন ভারতীয়রা। ফেডারেল সূত্রে আরো জানা গেছে, এইচ-১বি ক্যাটাগরিতে বার্ষিক ৮৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ করা হয়েছে। নানাবিধ প্রক্রিয়া অবলম্বন ও শর্ত পূরণের পর সেই কোটা কখনো ঝুলে থাকেনি কিংবা যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীর অভাব ঘটেন। আর এই কোটা পদ্ধতির হান্ড্রেড পার্সেন্ট সুবিধা (লটারিতেও) নিচ্ছে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল, জেপি মর্গ্যান চ্যাজ, সিস্কো সিস্টেম, জেনারেল মটর্স কোম্পানী। ইউএসসিআইএস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে অ্যামাজন ১০০৪৪ ভিসার অনুমোদন পেয়েছে। আগের বছরের চেয়ে তা ৭৮৭টি বেশী। জেপি মর্গ্যান চ্যাজ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সবচেয়ে বেশী এইচ-১টি ভিসার অনুমোদন পেয়েছে। এ সংখ্যা হচ্ছে ২৪৪০ অর্থাৎ গতবছরের চেয়ে ৭২১টি বেশী। এ বছর মাইক্রোসফ্্ট ৫১৮৯টির অনুমোদন পেয়েছে। মেটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে ৫১২৩।
ফেডারেল প্রশাসন সূত্রে আরো জানা গেছে, যেসব সেক্টরে আমেরিকানের সংকট রয়েছে। অর্থাৎ মেধাগতভাবে তারা কাজে ততটা সাফল্য দেখাতে পারেন না বিধায় বিদেশ থেকে মেধাবি ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্নদের আনা হয়। আর এক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ভারতীয়রা। ২০২৩ সালের সরকারী তথ্য অনুযায়ী এইচ-১বি ভিসায় ঐ বছর আগতদের ৭২% হলেন ভারতীয়। নানাবিধ কারণে গত আড়াই দশকে এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের হারও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তা দ্বিগুণ বেড়ে ৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগে থেকে কর্মরতদের ভিসা নবায়নের দ্বার অবারিত হয়েছে এবং একইসাথে বার্ষিক কোটা ৮৫ হাজারের পুরোটাই ব্যবহৃত হচ্ছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবাহ বৃদ্ধিসহ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সম্মুখে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসায় আগত কর্মীদের অবদান সবচেয়ে বেশী। চিকিৎসা সেক্টরেও অবিস্মরণীয় ভ’মিকা পালন করছেন বিদেশীরা-এটিও অবলিলায় উচ্চারিত হয় সর্বমহল থেকে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্র্তৃক ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ভিসাধারীগণের বিরুদ্ধে গৃহিত নানা পদক্ষেপ অনেক বিদেশী কর্মীকে হতাশ করেছে। অনেকেই শিক্ষা গ্রহণের মাঝপথেই অন্য দেশে চলে যাবার কথা ভাবতে শুরু করেছেন। এহেন অবস্থার অবসানে ট্রাম্প প্রশাসনকে উদারনীতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
Posted ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর