নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ০৬ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
কৃষি সেক্টরের শ্রমিকদের গ্রীণকার্ড প্রদানের প্রস্তাব দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫ আগস্ট ‘সিএনবিসি’ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, আমেরিকানদের চেয়ে বিদেশী কৃষি শ্রমিকেরা উত্তম। কৃষি খাতকে উজ্জীাবিত রাখতে বছরের পর বছর ধরে বিদেশী শ্রমিকেরা অপরিসীম অবদান রেখে চলছেন। কিন্তু তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি নেই। মওসুমী শ্রমিক হিসেবে কেউ কেউ আসেন, কৃষি মওসুম ফুরিয়ে গেলে নিজ দেশে ফিরে যান। আবার অসংখ্য শ্রমিক রয়েই গেছেন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে। এমন কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকরা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেলে প্রকারান্তরে আমেরিকা আরো বেশী সুবিধা পাবে।
গত ২০ জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পরই অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও তাড়ানোর জন্যে সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বহিস্কারের প্রক্রিয়ায় আরো লাখখানেক অবৈধ অভিবাসীকে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। এরফলে গোটা আমেরিকায় এক ধরনের সন্ত্রস্ত্র অবস্থা বিরাজ করার মধ্যেই স্বয়ং প্রেসিডেন্ট কর্র্র্র্তৃক এমন প্রস্তাবে স্বস্তিবোধ করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের আমলে কংগ্রেসে পাশ হওয়া ‘ইমিগ্রেশন রিফর্ম এ্যান্ড কন্ট্রোল এ্যাক্ট অব ১৯৮৬’(আইআরসিএ) বিল অনুযায়ী কৃষি শ্রমিকদের গ্রীণকার্ড প্রদান করা হয়েছিল । সেই প্রোগ্রামের নাম ছিল ‘স্পেশাল এগ্রিকালচারাল ওয়ার্কার’ (স্য)। সে সময়েও ঐ প্রোগ্রামের আওতায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীসহ ৩ লাখের অধিক অবৈধ অভিবাসী গ্রীণকার্ড পেয়েছিলেন। আরো উল্লেখ্য, গত ৪০ বছরের মধ্যে সেটিই ছিল একমাত্র কর্মসূচি যেখানে অবৈধ অভিবাসীরা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজের সার্টিফিকেট দেখিয়েই গ্রীণকার্ড পেয়েছেন। এখন প্রেসিডেন্ট যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন সেটিও তেমন ধরনের একটি কর্মসূচি হতে পারে বলে ইতিমধ্যেই বলাবলি শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘কৃষি শ্রমিক হিসেবে আমাদের ক্ষেত-খামারে কর্মরতদের আমরা অনিশ্চিত জীবন-যাপনে বাধ্য করতে চাই না। তারা যাতে অনন্তকাল বৈধভাবে বাস করতে পারেন সেটি চাচ্ছি। তবে কিছু ক্ষেত্রে আমরা নিজ দেশে ফিরে যাবার নির্দেশ দেব এবং তারা আবার আসার সময় গ্রীণকার্ড হাতে নিয়ে ঢুকতে পারবেন-এমন ব্যবস্থা করতে চাই। আমরা আমাদের কৃষি শ্রমিকদের অন্যদের মত নিদারুন অবহেলার দৃষ্টিতে দেখতে চাই না।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে আরেকটি নির্বাহী আদেশ দেবেন, নাকি কংগ্রেসকে অনুরোধ জানাবেন-তা স্পষ্ট করেননি। ট্রাম্প মনে করছেন, কেবলমাত্র বিদেশী শ্রমিকেরাই স্বল্প মজুরিতে কৃষি সেক্টরে বিশাল অবদান রেখে চলছেন। আমেরিকানরা এত কম মজুরিতে এতবেশী পরিশ্রমে সক্ষম হবেন না। আমরা সকলেই মেধার বিনিয়োগ আর শ্রম দিতে দিতে পরিশ্রান্ত। এসব (বিদেশী) শ্রমিকরা প্রকৃতিগতভাবেই শক্তিশালী এবং তারা কাজে কখনো অক্ষমতা প্রদর্শন করেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ ক’মাস ধরেই কৃষি ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে কর্মরত শ্রমিকের মধ্যে যারা অবৈধ, তাদেরকে বৈধতা প্রদানের কথা বলে আসছিলেন। কারণ, এদুটি সেক্টরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বিদেশী শ্রমিকের ওপর। লসএঞ্জেজেলেসে তীব্র আন্দোলন শুরু হলে সেখানকার কৃষি শ্রমিক ও হোটেল-মোটেলে কর্মরত অবৈধ অভিবাসীগণকে গ্রেফতার থেকে বিরত হবার একটি নির্দেশ জারি করেছিলেন। তবে তা আবার বাতিল করা হয়েছে। তারপরও থেমে থাকেননি বৃহৎ কৃষি খামার এবং হোটেল-মোটেলের মালিকেরা। তারা লবিং চালিয়ে আসছেন কাগজপত্রহীন শ্রমিক-কর্মচারিদের টার্গেট না করতে। ট্রাম্পের নিজের হোটেল-রেস্টুরেন্টেও অনেকে কাজ করছেন যাদের বৈধতা নেই। এমন মালিকের অনেকেই রিপাবলিকান পার্টির চাঁদাদাতা। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলেও মোটা অংকের চাঁদা দিয়েছেন।
তবে কৃষি ও হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকের মধ্যে অবৈধভাবে কতজন রয়েছেন সে সংখ্যা কর্র্তপক্ষের জানা না থাকলেই কর্মসূচিটি চালু হলে তা কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে অনেকে মনে করছেন। এরফলে প্রায় দুই কোটি অবৈধ অভিবাসীর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
Posted ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৬ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর