নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণ-বিরোধী, সুশাসন-বিরোধী, অভিবাসন-বিরোধী এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটানোর মত অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ, ছাত্র-সমাজ এবং আইনজীবীগণকে রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহবান জানালেন। বৃহস্প্রতিবার রাতে নিউইয়র্কের ক্লিন্টন সিটিতে হ্যামিল্টন কলেজে ছাত্র-জনতার এক সমাবেশে বক্তব্যকালে ওবামা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অটুট রাখার স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবানও জানিয়েছেন। বিশ্ব মানবতার সামগ্রিক কল্যাণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ধ্বংসের যে পাঁয়তারা ট্রাম্প প্রশাসন চালাচ্ছে সে সম্পর্কেও সচেতন নাগরিকগণকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্টগণের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বারাক ওবামা। অন্যথায় বিশ্ব নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র তার মর্যাদা ও সম্মান হারাবেন বলেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওবামা।
অবাধে মতপ্রকাশ এবং বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা বজায় রেখেই অন্যের দ্বিমতের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধের যে সংস্কৃতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে উঠেছে তা নছনছ হতে চলেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ ও পদক্ষেপে-অভিযোগ ওবামার। বারাক ওবামা বলেন, এহেন অবস্থার অবসানের দায়িত্ব প্রতিটি সচেতন নাগরিকের। সাধারণ নাগরিকেরাও উচ্চকিত হয়ে বলতে হবে, ‘না, এসব ঠিক নয়’।
ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্কারোপের ব্যাপারটির সাথে ওবামা দ্বিমত পোষণ করছেন প্রচন্ডভাবে। তবে তারচেয়েও ভয়ংকর একটি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিপতিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীনভাবে কথা বলার চিরাচরিত অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্যে। আর এমন পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজসমূহের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধের প্রক্রিয়ায়-উল্লেখ করেন ওবামা। গাজায় জঘন্য বর্বরতার নিন্দা ও প্রতিবাদকারি আন্তর্জাতিক ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল এবং ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল অনুদান বাতিলের প্রক্রিয়াকে তিনি আত্মঘাতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওবামার আহবান, আপনারা যদি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তাহলে ভাবতে হবে যে ঠিক কাজটি করছেন কিনা। আমরা কী আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করছি? নিজস্ব ন্যায়-নিষ্ঠতা এড়িয়ে যাচ্ছি? এমনকি বিদ্যমান আইনেরও লংঘন করছি? যদি তেমন আচরণে লিপ্ত না থাকি তবে কেন আমরা ট্রাম্পের অন্যায় পদক্ষেপ নিরবে মেনে চলবো? উল্লেখ্য, গতমাসে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে বরাদ্দৃত ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মঞ্জুরি প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্দোলন রচিত হবার খেসারত হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর হার্ভার্ড, প্রিন্সটনের মত খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেডারেল অর্থায়নও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ঘোষণা করা হয়েছে যদি তারা গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-সমাবেশ থেকে বিরত না হয়। ট্রাম্পের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদকারি শিক্ষার্থী এবং ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। সে সবে ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ অথবা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো ইতিমধ্যেই ৩ শতাধিক ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টের ভিসা বাতিলের তথ্য জানিয়েছেন-যারা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন নন এমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাগণকেও বহিষ্কার করা হচ্ছে। এবং যারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায়। নাগরিক অধিকারের স্বর্ণযুগে অবস্থানকারি একটি দেশে এমন আচরণ বরদাশত করা সমীচিন নয় বলেও মন্তব্য করেছেন বারাক ওবামা। ওবামা বলেন, আমি যদি হোয়াইট হাউজের সংবাদ পরিবেশনকারি ফক্স নিউজের ক্রিডেরশিয়াল কেড়ে নেই তাহলে সেটি কেমন দেখাবে? সেটি কী মুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপূরক? উল্লেখ্য, বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তাকে ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠার পর ঐ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছিলো ওবামা প্রশাসন।
এদিকে, ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপকে সংবিধানের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করে আইনী লড়াইয়ে সহায়তাকারি ল’ ফার্মের অন্যতম ‘পারকিন্স কোই’কে নিষিদ্ধ করার একটি দাপ্তরিক নির্দেশের বিরুদ্ধে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি ল’ ফার্ম আদালতে গেছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে পারকিন্স কোই’র আবেদনে। প্রশাসনের অন্যায় আচরণ চ্যালেঞ্জ করতে কেউ যাতে সাহস না দেখায় তেমন একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরীর অভিপ্রায়ে ট্রাম্প এমন নির্দেশ জারি করেছেন বলে ল’ ফার্মগুলো অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ঐ নির্দেশ কার্যকর থাকাবস্থায় পারকিন্স কোই সরকারী কোন অফিসে ঢুকতে পারবে না, সরকারী কোন কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে পারবে না, ফেডারেল প্রশাসনের কোন নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করা মামলায় কাজ করতেও পারবে না। এ অবস্থা চলতে দেয়ার অর্থ হবে সুশাসনের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে গুড়িয়ে দেয়ার সামিল এবং লাগামহীনভাবে স্বৈরাচারি আচরণে সমর্পিত হবার মত অবিশ্বাস্য একটি পরিস্থিতি-মন্তব্য মামলা দায়েরকারি ল’ ফার্মসমূহের।
Posted ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর