নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ওয়াহেদ হোসেনি।
উত্তর আমেরিকায় জনপ্রিয় সমাজ-সংগঠক-মূলধারার রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী এবং সাংবাদিক ওয়াহেদ হোসেনি আর নেই। দূরারোগ্য ব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২৫ অগাস্ট সেমবার রাতে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়া স্টেটের স্প্রিংফিল্ড সিটিতে নিজ বাসভবনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় কম্যুনিটি লিডার ওয়াহেদ হোসেনি। মৃত্যুকালে তর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর এবং স্ত্রী আরজিনা, একমাত্র কন্যা লিসা, নাতি জ্যাসন এবং নাতনী আন্না, ভাই ওয়াজেদ আলী, সাজেদ হোসেনি, খালেদ হোসেনি এবং শওকত হোসেনি-সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্য সংবাদ নিশ্চিত করেছেন ‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি’র চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। হানিপ জানান, হোসেনির জানাযা বুধবার বেলা দেড়টায় মুসলিম কম্যুনিটি সেন্টারে যোহর নামাজের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তারপরই ম্যারিল্যান্ডের আডেলফি সিটিতে অবস্থিত জর্জ ওয়াশিংটন মাউন্ট লেবানন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কিছুকাল ঢাকাস্থ মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে চাকরি করেছেন। ১৯৭৩ সালে ১০ মাস বয়েসী কন্যা লিসা ও স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসতি শুরু করেন ফ্যানি-মে নামক আধা সরকারি গৃহঋণ সংস্থায় কাজ নিয়ে। আশি ও নব্বই দশকে তাঁর সম্পাদিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের নিউজলেটার মেট্রো ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাংলাদেশি সুধীজনের একমাত্র লিখিত সাংস্কৃতিক বাহন ছিল। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠাকালে উত্তর আমেরিকাভিত্তিক ফোবানা’র (ঋবফবৎধঃরড়হ ড়ভ ইধহমষধফবংযর অংংড়পরধঃরড়হং রহ ঘড়ৎঃয অসবৎরপধ) সেক্রেটারির ভূমিকাও পালন করেন। অবসরে যাবার পর তিনি আমেরিকার মূলধারার অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘এএআরপি ( অঅজচ – অসবৎরপধহ অংংড়পরধঃরড়হ ড়ভ জবঃরৎবফ চবৎংড়হং)’র সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। কোভিডের পর এলাকার জ্যেষ্ঠদের সাপ্তাহিক ‘শনিবারের কফি ক্লাব’ আড্ডাটি ভার্চুয়াল হয়ে গেলে এক সময় তিনি এর পরিচালনার ভার নেন। কখনও কখনও সভ্যদের মাঝে বিতন্ডা ও বিব্রতকর চিঠি চালাচালি শুরু হলে তা সামাল দেয়ার দায়িত্বও তাঁর ঘাড়েই পড়তো।
১৫/২০ বছর থেকে তিনি বার্ষিক ‘রামাজান ফুড ড্রাইভ’ নামে একটি জনহিতকর কাজে হাত দেন। কম্যুনিটি থেকে সংগ্রহ করা অপচনশীল খাবার এবং অর্থ স্থানীয় দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে শুধু দিতেন না, দাতাদের কাছে এর পাই পয়সার হিসাবও বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিবার। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক তথা ‘বাই’ এর মাধ্যমে এই কাজটি এখনও চালু রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিকগুলোতে বাংলায় কলাম ও ছোট ছোট প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ‘ওয়াশিংটনের জানালা’ নামে তাঁর একটি কলাম অনেকের খুব পছন্দের ছিল। বাঙালি কারো গর্ব করার মতো অর্জন হলে প্রথমেই তিনি এগিয়ে যেতেন।
তাঁর মৃত্যু সংবাদে গোটা কম্যুনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Posted ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর