নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারুফ হোসেন। ছবি-সংগ্রহ।
ভয় এবং ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করে দীর্ঘ ৮ বছর আইনী লড়াই চালিয়ে বাংলাদেশী মারুফ হোসেন (৩২) পায়ের পাঁচ আঙ্গুলের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২২.৭৫ মিলিয়ন ডলার (২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) পাবার রায় পেলেন। অর্থাৎ প্রতি আঙ্গুলের জন্যে মারুফ পাবেন সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার করে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস কাউন্টির সিভিল কোর্টের মাননীয় জুরিবোর্ড কর্তৃক গত সোমবার প্রদত্ত এ রায়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের জুনে মারুফের বয়স যখোন ২৪ বছর ছিল তখোন তিনি ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার রেল স্টেশনের প্ল্যাটফরমে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিলেন। ভাঙ্গা জরাজীর্ণ প্ল্যাটফরমে পা পিছলে রেল নাইনের ওপর পড়েছিলেন। সে সময়েই একটি ট্রেন মারুফের বাম পায়ের ৫টি আঙ্গুলের ওপর দিয়ে যায়। কেটে যায় সবকটি আঙ্গুল। একই কারণে মারুফ তার নিতম্বেও আঘাত পান। থেতলে যায় মেরুদন্ড। অর্থাৎ প্রাণে বেঁচে গেলেও স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় বাকিটা জীবন তাকে কাটাতে হবে সার্বক্ষণিক চিকিৎসার সাথে এবং হারিয়ে ফেলেছেন চলনশক্তি। মা-বাবার সাথে অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর জীবন শুরু করেছিলেন সাইকেলে ডেলিভারিম্যানের কাজ দিয়ে। কিন্তু এমটিএ (মেট্রপলিটন ট্র্যাঞ্জিট অথরিটি)’র গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মারুফের স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। ব্রঙ্কসের জ্যাকবি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার প্রথম ৬ মাস পরই মারুফ একটি ল’ ফার্মের মাধ্যমে এমটিএর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা করেন। সে সময় তিনি ২০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। এমটিএ তাকে মাত্র এক লাখ ডলারের বিনিময়ে মামলাটির নিস্পত্তির অনুরোধ জানায়। এমটিএ তখোন গল্প সাজিয়েছিল যে, মারুফ দুর্ঘটনায় পতিত হননি। আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। এমটিএ সাজানো গল্পে উল্লেখ করেছিল যে, মারুফ আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ট্রেনের লাইনে ঝাপ দিয়েছিলেন। এ দাবি প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে এমটিএ দু’জন সাক্ষীও সংগ্রহ করেছিলেন। এমন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মারুফকে ভয়-ভীতিও প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু মারুফের আইনজীবী দুর্ঘটনাস্থলের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়ার পর থেকে প্রথম কয়েকদিনের তার কথাবার্তা ও আচরণ গভীরভাবে বিশ্লেষণের মধ্যদিয়ে মাননীয় আদালতকে কনভিন্স করতে সক্ষম হন যে, মারুফ মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং আত্মহত্যা করতে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। শুধু তাই নয়, সেটি ছিল রমজান মাস এবং মারুফ রোজা ছিলেন। মারুফের মানসিক চিকিৎসক নাবিল করোম এমন তথ্য পেশ করেন ১২ সদস্যের জুরিবোর্ডের সামনে।
মাননীয় জুরিবোর্ডের প্রদত্ত রায়ের পর মারুফ হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, এমটিএ আমাকে ভুল প্রমাণিত করতে চেয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য জয়ী হলো। মারুফের আইনজীবী নিক লিয়াকাস বলেন, এই রায় কেবল তার মক্কেল মারুফের জন্যে বিজয় নয়, বরং এমটিএর মত বৃহৎ কর্পোরেশনগুলো অপরাধ থেকে নিজেদের কৌশলে মুক্ত রাখার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এটি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। তবে রায়ের পর এমটিএ জানায় যে, তারা রায়ের পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারেন।
Posted ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর