নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
সিনেটর জিম রিস (বামে) ও রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসে
মার্কিন সিনেটে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর জিম রিস (রিপাবলিকান-আইডাহো) ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনয়ন প্রাপ্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের অনুমোদনের শুনানীর সূচনা বক্তব্যে বলেছেন, ‘গতবছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশটিতে ব্যাপক পরিবর্তনের ঢেউ বইছে। সংস্কারের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি চললেও ক্রমবর্দ্ধমান ধর্মীয় উগ্রবাদসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখীতে রয়েছে বাংলাদেশ। মিস্টার ক্রিস্টেনসেন,যদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পান, আমি আশা করি আপনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে এগিয়ে নিতে আপনার প্রতিপক্ষের সাথে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন।’ সিনেটর রিস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় (১৯৭২) এবং আমরা বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারদেরও অন্যতম।
সিনেটর রিস বলেন, বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিদ্যমান সম্পর্ক কীভাবে আরো বিকশিত হওয়া উচিত, সেই সাথে এক ভূমিকায় আপনার অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে আপনার চিন্তা-ভাবনা শোনার জন্যে আমি উম্মুখ হয়ে আছি।
কমিটির র্যাঙ্কিং মেম্বার সহ সদস্য-সিনেটরগণের প্রশ্নোত্তর পর্বে যাবার প্রাক্কালে প্রদত্ত বক্তব্যে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই মনোনয়নের মধ্যদিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিয়োর প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন সেজন্যে নিজেকে গৌরবান্বিতবোধ করছি। যদি মনোনয়নের অনুমোদন পাই তাহলে আপনাদের পরামর্শক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থকে বাংলাদেশে আরো জোরালো করতে ক’টনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবো।
উল্লেখ্য, সিনেটের অনুমোদন পেলে ১৯৭৪ সাল থেকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত দূতাবাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বেন ক্রিস্টেনসেন হবেন ২২তম রাষ্ট্রদূত। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক কাউন্সেলরের দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশীদের জীবন-ধারার সাথেও পরিচিত ব্রেন্ট বলেন, বিশ্বের অস্টম বৃহত্তম জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত হলেও খুব কম সময়েই বিশ্বের কাছে সহৃদয়তাপূর্ণ সহযোগিতা পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। ঢাকায় ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও দীর্ঘ ২০ বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নানা দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিও আজানা নেই। ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আসছে বছরের শুরুর দিকে নির্বাচনে যাবে-কয়েক দশকের মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। একটি নতুন সরকার এবং বাংলাদেশকে সম্মুখে যাওয়ার নতুন পথ বেছে নিয়ে এই নির্বাচনের প্রতি সর্বত্র ব্যাপক কৌতুহল তৈরী হয়েছে। একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন করে। আমার মনোনয়ন অনুমোদিত হলে আমি বিদ্যমান সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে দূতাবাসের টিমকে নেতৃত্ব দিতে কুণ্ঠাবোধ করবো না। ব্রেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উত্তরসূরির সাথে কাজ করবো।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, সাম্প্রতিক বছরসমূহে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এজন্যে প্রায়শ:ই এশিয়ায় নতুন টাইগার হিসেবে অভিহিত করা হয় বাংলাদেশকে। প্রচন্ড চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বাংলাদেশ এখোন স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবার দ্বারপ্রান্তে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্থিতিস্থাপকতা এবং অধ্যাবসায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধের ঘটনা দৃশ্যমান হয়েছে। আমার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে আমি মার্কিন ব্যবসার আরো প্রসারের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাধা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করবো।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতিরও আলোকপাত করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার সাথে অন্যান্য দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
Posted ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর