নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কের অপসারন দাবিতে জাতিসংঘের সামনে প্রবাসীদের বিক্ষোভ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে কথিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সহিংসতা রোধে সেনাবাহিনীকে সক্রিয় না হবার আহ্বানের জন্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কের অপসারণ এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে ১০ মার্চ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে সচেতন প্রবাসীদের এক বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকান, ইনক’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোটা আন্দোলনের আড়ালে জঙ্গি ও জামাত-শিবিরের ক্যাডারদের তান্ডবে গোটা বাংলাদেশ যখোন তছনছ হচ্ছিল, পুলিশ স্টেশনে হামলা ও পুলিশ অফিসারদের হত্যার লিলাখেলা চলছিল মধ্য জুলাই থেকে আগস্টেও শুরু পর্যন্ত, সে সময় ভলকার তুর্ক বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ভয় দেখান যে, তারা যদি সহিংসতা দমাতে মাঠে নামেন তাহলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হবে। এ তথ্য ভলকার তুর্ক নিজেই প্রকাশ করেছেন বিবিসি’র একটি অনুষ্ঠানে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের মত একটি বিশ্বসংস্থার মানিবাধিকার সুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভলকার তুর্ক এমন আহবান জানিয়ে প্রকারান্তরে কথিত কোটা বিরোধী আন্দোলনকারিদের হত্যাযজ্ঞে উস্কে দিয়েছেন, যার পরিণতি হিসেবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে। অর্থাৎ ভলকার তুর্ক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ইসলামিক জঙ্গি ও জামাত-শিবিরকে ক্ষমতায়িত করার পথ সুগম করে দিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলেও ঐ জঙ্গিরা এখনো বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের হত্যা করছে, বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ শেষে অগ্নিসংযোগ করছে। এহেন অবস্থায় নিরব দর্শকের ভ’মিকা পালন করছে সেনাবাহিনী। যাদও শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর সেনাপ্রধান ওয়াকারউজ্জামান জাতির উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে প্রদত্ত বক্তব্যে অঙ্গিকার করেছেন যে, তিনি জনগণের জানমালের সুরক্ষায় দায়িত্ব নিলেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কের অপসারন দাবিতে জাতিসংঘের সামনে প্রবাসীদের বিক্ষোভ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ-সমাবেশে ‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট ড. প্রদীপ কর আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। আমরা এই জাতিসংঘে বারবার এসেছি একাত্তরে বাংলাদেশে পাক হায়েনা ও তার দোসরদের মানবাধিকার লংঘন তথা গণহত্যার বিচার দাবিতে। কিন্তু এই জাতিসংঘ এখোন পর্যন্ত ঐ গণহত্যার স্বীকৃতি প্রদান ও দায়ীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে ন্যূনতম পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ড. প্রদীপ কর বলেন, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে কিছু চরমপন্থি ছাত্র বিশেষ করে ছাত্রশিবির ও হিযবুল তাহেরিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে, সেই কর্মকান্ডের সাথে এই ভলকার তুর্ক জড়িত বলেই আমাদের ধারণা। কারণ, তিনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধানকে ভয় দেখিয়েছেন এই বলে যে, তোমরা যদি ছাত্রদের চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করো তাহলে তোমাদেরকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে রাখা যাবে না। এ ধরনের ভয় প্রদর্শনের ফলে তারা সেনাবাহিনী নিউট্রাল হয়ে গেছে। ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। ড. প্রদীপ করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার যে রিপোর্ট দিয়েছেন সেটিও পক্ষপাতদুষ্ট। কারণ, সেখানে ভিকটিম কারোরই বক্তব্য নেয়া হয়নি। এমনকি, ৫ আগস্টের পর পুলিশ অফিসারদের হত্যা, ৪৬০টির বেশী থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা, বাড়িঘরে আগুন দেয়া, লুটতরাজে কারা জড়িত-সে সব উদঘাটনেও ন্যূনতম মনোযোগ দেয়নি ঐ তদন্ত কমিশন।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকানের অন্যতম সংগঠক একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক ড. নুরুন্নবী বলেন, ভলকার তুর্কের আচরণকে মুখ বুজে সহ্য করার সময় শেষ। জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, তার সেই ইমেজ অটুট রাখার স্বার্থেই ভলকার তুর্ক-কে অপসারণের বিকল্প নেই।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্কের অপসারন দাবিতে জাতিসংঘের সামনে প্রবাসীদের বিক্ষোভে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো কথা বলেছেন মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবুল হাসিব মামুন, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, এম এ করিম জাহাঙ্গির, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, আকতার হোসেন, সাখাওয়াত আলী, শেখ আতিক, ফারুক হোসাইন, ইমদাদ চৌধুরী, নূরল ইসলাম নজরুল, শেখ জামাল, জালালউদ্দিন, ড. জিনাত নবী প্রমুখ। স্লোগানে সোচ্চার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা।
Posted ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর