নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ব্রঙ্কসের একটি মসজিদে এ্যান্ড্রু কুমো। ছবি-সংগ্রহ।
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী যোহরান মামদানিকে ধরাশায়ী করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যান্ড্রু কুমোও এখোন ছুটছেন মসজিদে। গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার নিন্দা দূরের কথা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো নিউইয়র্কের সাবেক গভর্ণর এ্যান্ড্রু কুমো শনিবার ব্রঙ্কসে একটি মসজিদে গিয়ে মুসল্লীগণের ভোট প্রার্থনা করেন। এর আগেরদিন মসজিদ আনসারউদ্দিন ইসলামিক সেন্টারে গিয়ে মুসল্লীগণের তোপের মুখে পড়েছিলেন এই মেয়রপ্রার্থী। তবে তিনি নিজকে সংযমী রেখে ক্ষুব্ধ মুসল্লীগণকে কনভিন্স করার মত কথা বলেছেন। দুদিনের ব্যবধানে আরেকটি মসজিদে গিয়ে আরবী শিক্ষাদানকেও নিউইয়র্ক সিটি স্কুল বোর্ডের অধিভুক্ত করার অঙ্গিকার করলেন। উল্লেখ্য, যোহরান মামদানি হচ্ছেন মেয়র পদে বড় কোন রাজনৈতিক দলের প্রথম মুসলমান প্রার্থী এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে এ্যান্ড্রু কুমোকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এরপরই কুমো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। যদিও সর্বশেষ সবকটি জরিপেই যোহরান অনেক এগিয়ে রয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির ভোটারের দু’লাখের অধিক হচ্ছেন মুসলমান। দক্ষিণ এশিয়ান ভোটারের সংখ্যাও অনেক। সকলেই যোহরানের জন্যে কাজ করছেন। এ্যান্ড্রু কুমোর পক্ষে মাঠে নেমেছে বিত্তশালী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সোচ্চার যোহরান মামদানিকে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিয়ে আসছেন। নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীর মেম্বার যোহরানের এমন সাহসী উচ্চারণকে উদারচিত্তের ভোটারোও স্বাগত জানাচ্ছেন। সেজন্যেই মুসলিম-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত এ্যান্ড্রু এখোন ছুটছেন মসজিদে। এ্যান্ড্রর এই ভ’মিকা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে তা দেখতে নভেম্বরের ৪ তারিখে চূড়ান্ত নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন যে, যোহরানকে বিজয় দিলে নিউইয়র্ক সিটির অনেক কিছুই কাটছাট করা হবে। কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে ফেডারেল সরকার থেকে। এর পরিবর্তে মানুষ যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমোকে ভোট দেন-সে চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনি অবস্থায় ভোটারের খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ হয়তো কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। তবে তা ফলাফলে তেমন একটি প্রভাব রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন না। তবে ব্যালট যুদ্ধের বৈতরণী পাড়ি দিতে মসজিদে প্রার্থীগণের আনাগোনা বৃদ্ধির ব্যাপারটিকে অনেকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।
এদিকে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততোই বিজয়ের পাল্লা ভারি হচ্ছে যোহরানের। শিক্ষক ইউনিয়ন, শ্রমিক ইউনিয়নের পর নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্ণর ক্যাথি হোকুলও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন যোহরানকে। রোববার কংগ্রেসওম্যান ইভেটি ক্লার্ক-ও যোহরানকে সমর্থন জানিয়েছেন। অনেক আগেই মাঠে নেমেছে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংগঠনগুলোও। অর্থাৎ একদিকে চলছে টাকার খেলা, অপরদিকে মেহনতি মানুষের জোটবদ্ধতার মহড়া। এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ (বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত আমেরিকান) সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেছেন, তাকেও পুন:নির্বাচনে ধরাশায়ী করতে বিলিয়োনেয়ারেরা অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। কিন্তু ভোটারকে কাছে টানতে সক্ষম হয়নি। যোহরানের ক্ষেত্রেও একই রেজাল্ট আসবে ইনশাআল্লাহ। খেটে খাওয়া মানুষেরা যখোন ঐক্যবদ্ধ হোন তখোন কোন শক্তিই তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির তরুণ প্রজন্মের ভোটারের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ। উল্লেখ্য, সিটি মেয়র পদে যোহরানের বিজয় নিশ্চিতে বাংলাদেশী আমেরিকানরাও যে কোন সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশী তৎপর হয়েছেন। তারা গঠন করেছেন ক্যাম্পেইন কমিটি।
Posted ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর