রাজনীতিতে দখলদারিত্বের পেশীশক্তি

ফকির ইলিয়াস   প্রিন্ট
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

রাজনীতিতে দখলদারিত্বের পেশীশক্তি

বাংলাদেশের সাবেক স্পীকার ড: শিরিন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হঠাৎ করেই আজ প্রায় বিশ মাস পরে তাঁকে এরেস্ট করা হলো। বলা হচ্ছে, তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। তাঁর এই অবস্থান কি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতো না? জানলে এতদিন তারা কীসের অপেক্ষায় ছিল? বিষয়গুলো রহস্যাবৃত।

ইউনুসের এই দখলদারিত্বের সময়ে, কী স্টিম রোলার দেশের উপর দিয়ে চালানো হয়েছে, তা সকলেই জানেন। ওই সময়ে ইউনুসের পরিষদ সাপ লুডু খেলেছেন। ইউনুস অবৈধভাবে কী কী করেছেন এর তালিকা বেরিয়ে আসছে প্রায় প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমে।
লুটপাট করেছেন তার সহযোগীরাও। অবাক করে দিয়ে, একজন উপদেষ্টা ব্রি: জে (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। যিনি সর্বপ্রথম ৭ পয়েন্ট ৬২ তত্ত্বটি জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন!

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অণুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তার পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন-মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

কী হতে যাচ্ছে তাহলে? এত অভিযোগ কোথা থেকে সামনে আসছে?

আরেকটি খবর বেশ রগরগা! বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে নিজের মালিকানাধীন গাড়ি ভাড়ার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব মোর্শেদ এমডি থাকাকালে নিজের মালিকানাধীন একটি টয়োটা এলিয়ন গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসসের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেন। ওই গাড়ির জন্য মাসিক দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা জ্বালানি, চালক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি স্বার্থের দ্বন্দ্বের স্পষ্ট উদাহরণ। যদিও এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন, ‘এ রকম কিছু ঘটে নাই।’
রেন্ট–এ-কার সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়িটি ভাড়ায় দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল কাদের দাবি করেন, ভাড়ার পুরো অর্থই মাহবুব মোর্শেদ গ্রহণ করতেন। তাঁর ভাষ্য, ‘একটা প্রতিষ্ঠানের এমডি যদি বলে তার গাড়ি অন্যের নামে চালাতে, তখন কিছু করার থাকে না।’

আরও অভিযোগ রয়েছে, এমডি থাকাকালে তিনি ২২ জনকে স্থায়ী ও ৪১ জনকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেন, যার মধ্যে কিছু পদ বিদ্যমান জনবল কাঠামোর বাইরে ছিল। এসব নিয়োগ ও ভাতা প্রদানের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ বা মন্ত্রণালয় অবগত ছিল না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছরের জন্য বাসসের এমডি পদে নিয়োগ দেয়। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন। সর্বশেষ ১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে।

আর ইউনুসের দুর্নীতির খতিয়ান যে কতটা বারি, তা বলে শেষ করার মতোই নয়। ‘দেশ উদ্ধারের স্বার্থে’র কথা বলে অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরেন তিনি। সে সময় তাঁকে ঘিরে আশার বীজ বুনেছিল জাতি। অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন তাঁর ‘জাদুর ছোঁয়ায়’ বিশ্বের দুয়ারে আরো উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের মুখ, বাড়বে মানুষের মর্যাদা, খুলে যাবে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ সম্ভাবনার দুয়ার।

দেশের বারোটা বাজলেও কিভাবে নিজের স্বার্থ ষোলোআনা হাসিল করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী।

ষোলোআনার অন্যতম হলো গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে দেশে এই একটিমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল থাকার কথা। কিন্তু গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনপত্রে দেড় কোটি টাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে, যা আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি গ্রামীণ ট্রাস্টের একটি উদ্যোগ। আর এই গ্রামীণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগে থেকে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বছর বছর ধরে ঝুলে থাকলেও গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করার ৩ মাসের মধ্যেই পেয়ে যায় অনুমোদন।

ইউনুস, গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেন, যাতে সরকার অন্তত এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের এক হাজার ৪৩ কোটি টাকা ফাঁকির পাশাপাশি ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের মতো ব্যাপক সুবিধাও নিয়েছেন তিনি।

ইউনুস কর্তৃক, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জারি করা গেজেট অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের আয় করমুক্ত থাকবে। পূর্ববর্তী কর তথ্য অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা কর দিত গ্রামীণ ব্যাংক। সেই হিসাবে আগামী পাঁচ বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি অন্তত ১ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে—যা বড় রাজস্ব ঘাটতির সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্তত ৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি, ই-ওয়ালেট লাইসেন্স অনুমোদন এবং জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স প্রাপ্তি—যেগুলো অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ।

গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড ১৬ বছর ঝুলে থাকার পর ২০২৫ সালে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স ও বায়রার সদস্যপদ পায়। একইভাবে, দীর্ঘদিন আটকে থাকা ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ই-ওয়ালেট লাইসেন্স পায়। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অন্যদিকে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্রুত নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার হয়ে যায়। এর মধ্যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজা বাতিল এবং দুদকের অর্থ আত্মসাতের মামলা প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও জনজীবনে বড় ধরনের অবনতি ঘটে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট বেড়ে যায়; একই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছায়।
খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক ঋণ, সুদের হার ও বিনিয়োগ-স্থবিরতা বেড়েছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, আর উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করেছে।

আরেকজন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা ও তার স্বামীর লুটপাট নিয়ে এখন অনেক নিউজ !
২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে রিজওয়ানার কোনো ভূমিকা না থাকলেও আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পুরোনো ঘনিষ্ঠতা এবং প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের তদবিরে তিনি উপদেষ্টা হয়ে যান। উপদেষ্টা হয়েই সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন রিজওয়ানা ও তার স্বামী এ বি সিদ্দিকী।

তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকী (এবিসি) আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিজওয়ানার পক্ষে তার স্বামী দুর্নীতির অর্থ সংগ্রহ করতেন। ১৮ মাসে পরিবেশ খাতেই শুধু নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, তদবিরের মাধ্যমে এই দম্পতি শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। উপদেষ্টার স্বামী আগের সরকারের সম্পদের পাহারাদার !উপদেষ্টা হওয়ার আগে, রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের সম্পত্তির পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। যা ঘিরে রীতিমতো প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এবি সিদ্দিকী যেহেতু নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে একসঙ্গে একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, সেই সূত্রেই হামিদ ফ্যাশনে চাকরি করতেন। ২০২৪-এর আগস্টের পর এবি সিদ্দিকী বা উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী নসরুল হামিদ বিপুর নানা সম্পত্তি বেচাকেনার মধ্যস্থতা করছেন। এমনকি এই টাকা বিদেশে পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবের ঠিক উল্টোপাশে এক বিঘা জমির একটি প্লট আছে নসরুল হামিদের নামে। দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫-এর জানুয়ারিতে বিপুর সব সম্পত্তি আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেই ক্রোক তালিকায় নেই এই শত কোটি টাকার সম্পদ। অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিজওয়ানার তদবিরের কারণে দুদকের তালিকা থেকে এই জমি বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী এর দাম অন্তত ২০০ কোটি টাকা। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই জমির বরাদ্দ বাতিল করে সরকারের অনুকূলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত আগস্টে। কিন্তু সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়,রিজওয়ানার হস্তক্ষেপে।

নসরুল হামিদের কোম্পানি হামিদ রিয়েল এস্টেটের অঘোষিত মালিক এখন এবি সিদ্দিকী। প্রতিষ্ঠানের গুলশান অফিসের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, এবি সিদ্দিকী সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এখানে আসেন। চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে ব্যবসা তদারকি করেন।
হামিদ সোয়েটার লিমিটেড এই কারখানাটি এখন বিপু ও তার মালিকানাধীন থেকে চলে এসেছে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিকী এবং তার পুত্র আহমেদ জহির সিদ্দিকীর নামে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, কারখানা চালু রাখার জন্যই কাগজে কলমে মালিকানা বদল করা হয়েছে। কিন্তু কারখানার আসল মালিক বিপুই। পলিথিন বাণিজ্য- উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা পলিথিনের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। শপিং মলে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। কয়েকদিন চলে অভিযান। কিন্তু তিন মাস পরই অভিযান থেমে যায়। গত নভেম্বর থেকে বাজারে আবার আগের মতোই পলিথিনের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, পলিথিন উৎপাদকরা প্রথমে আন্দোলনের উদ্যোগ নিলেও পরে তারা উপদেষ্টার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পলিথিন উৎপাদক কোম্পানির সংগঠন গত বছরের ডিসেম্বরে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সম্মেলন করে। সেই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন রিজওয়ানার স্বামী এবি সিদ্দিকী। সমিতির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোন যোগ্যতায় এবি সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে বিবেচিত হলেন? উত্তরে মুচকি হেসে বলেন, আপনারা তো সবই বোঝেন, তবুও প্রশ্ন করেন কেন? একাধিক সূত্র জানায়, কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে পলিথিন নাটক শেষ হয়। গত নভেম্বর থেকে রিজওয়ানা হাসান পলিথিন নিয়ে একটি কথা বলেননি। এই সময়ে নাটকীয়ভাবে পলিথিন অভিযান বন্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এমন অনেক অভিযোগের পাহাড় ঘেরা আজকের প্রধানমন্ত্রীর চারিদিক! তিনি কি সেদিকে নজর দেবেন ! নাকি একটি বড় দল আওয়ামী লীজ কে কীভাবে নিশ্চিহ্ন করা যায়, সেই ফিকিরে ব্যস্ত থাকবেন?

বিরোধী দল জামায়াত ইতোমধ্যে চলমান সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনার ফন্দি ফিকির শুরু করেছে। তা, তারেক রহমানের কেবিনেটকে মোকাবেলা হরতে হবে। তাই আওয়ামী লীগই তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ তা ভাবার কোনো কারণ নাই!

তারেক রহমান বলেছিলেন, এই দেশ সকল মানুষের। তা মনে রেখে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরী। কারণ অনেক দুর্গম পথ এই সরকারের সামনে, তা ভোলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

Facebook Comments Box

Posted ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us