নিউইয়র্কে বিক্ষোভ-সমাবেশ: বঙ্গবন্ধুৃ ভবন গুড়িয়ে দেয়া জাতীয় দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিউইয়র্কে বিক্ষোভ-সমাবেশ: বঙ্গবন্ধুৃ ভবন গুড়িয়ে দেয়া জাতীয় দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন গুড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে প্রবাসীদের র‌্যালি। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বিনা উষ্কানীতে হামলা ও বুলডোজার দিয়ে তা গুড়িয়ে দেয়ার সংবাদে ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ র‌্যালি করেন। নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ ব্যানারের সামনে মূল বক্তব্য প্রদানকালে প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ ক্ষুব্ধচিত্তে বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে এবং সে যুদ্ধে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছেন প্রবাসীরা। আজ সময় এসেছে প্রবাস থেকেই যুদ্ধ শুরু করার এবং এ যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটবে সারা বাংলায়। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধ্বংস করেছে যারা আমরা ওদেরকে ধ্বংস করবো। ওদের ভিডিও সংরক্ষণ করুন। আমরা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে, ওদের প্রত্যেকের তালিকা আমরা করছি। তালিকানুযায়ী ওদের প্রত্যেককে নিধন করা হবে। নিশ্চিহ্ন করা হবে। কুলঙ্গার, জাতীয় শত্রু ড. ইউনূস-সহ প্রত্যেককে ধ্বংস করা হবে। যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুৃ ভবনসহ বাঙালি চেতনায় ও মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনায় আঘাত করেছে সেই জাতীয় দুশমনদের বিরুদ্ধে প্রবাসীরা আজ যুদ্ধ ঘোষণা করলো।’ উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষার প্রথম নিয়মিত সাপ্তাহিক ‘প্রবাসী’র প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ (৮৪) আরো বলেন, এবারের সংগ্রাম একাত্তরের শত্রুদের বিরুদ্ধে, এবারের সংগ্রাম বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসিন ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে, ইউনূসের সাথে তার সমস্ত কুলঙ্গার সাথীদের বিরুদ্ধে। এ যুদ্ধ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারি-মানবতাবিরোধী অপরাধকারি জামাতের বিরুদ্ধে।’
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি বলেন, শুধু ৩২ নম্বর নয়, সারাদেশে সর্বদিকে সর্বপ্রান্তে কী এক অমোঘ চক্রান্তে, বিদ্বেষে নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। আমরা তা বসে দেখছি। এটা নিলয়ের গল্পে মত। রোম যখোন পুড়ছিল নিলয় তখোন বাশী বাজাচ্ছিল। আমরা বাশী বাজাচ্ছি। আমরা বক্তৃতা করছি। আমাদের সাহস নেই রাস্তায় দাঁড়ানোর। তবে একটা সাহস আছে। আমাদের মনে রাখার সাহস আছে। আমরা বারবার পরাজিত হয়েছি, বারবার ফিরে এসেছি। বারবার আমরা পড়ে গেছি। বারবার আমরা উঠে দাঁড়িয়েছি। এবারও যদি আমাদেরকে পড়ে যেতে হয়, আবার আমরা উঠে দাঁড়াবো। যে সিগন্যাচার, যে স্বাক্ষর আপনারা রেখে গেলেন, তা আমাদের মনে রয়ে গেল। এর চ’ড়ান্ত পরিণতি কী হবে, জবাব কী হবে-সেটাও আমরা আপনাদের দেখিয়ে দেব। আজ থেকে সেই দেখানো আমরা শুরু করি। আপনারা আসুন আমরা জমায়েত হই, এগিয়ে যাই। আমরা আমাদের অধিকার সংরক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

রনি উল্লেখ করেন, ৫ ফেব্রুয়ারি ছিল গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী,জন্যে কিছুটা ভাবাবেগে ছিলাম। এমনি অবস্থায় ভোরে যখোন ঘুম ভাঙলো-আমরা দু:খে আক্রান্ত হলাম। আমরা ভারাক্রান্ত হলাম। আমরা টিভিতে দেখলাম-আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের, স্বাধীনতা সংগ্রামের, আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের যে কেন্দ্রস্থল, সেই স্থানে একদল হিংস্র জানোয়ার তাদের যা কিছু আছে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কি অন্যায়, কি পাপ, কি অপরাধ, কীসের বিচার, কোথায় বিচার, আমরা কিছুই জানলাম না। বুঝলাম না। আমরা দেখলাম আমাদের চোখের সামনে থেকে আমাদের স্বাধীনতার সূতিকাগার ৩২ নম্বরে একটা একটা করে ইট খুলে পড়ে যাচ্ছে। স্মৃতিকাতর প্রতিটি বস্তু আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। কয়লা হয়ে যাচ্ছে।
এ র‌্যালির আয়োজকদের অন্যতম মোজাহিদ আনসারীর পরিচালনায় এ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন আর্টিস্ট ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন, কম্যুনিটি অ্যাক্টিভিস্ট জাকির হোসেন বাচ্চু, গোলাম কিবরিয়া অনু, সুব্রত বিশ্¦াস প্রমুখ। র‌্যালিতে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে নেতৃত্ব প্রদানকারিগণের মধ্যে আরো ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য আফসার আহমেদ, অজিৎ ভৌমিক, আওয়ামী লীগ নেতা খালেদুজ্জামান প্রদীপ, দীনেশ মজুমদার, গণমাধ্যমকর্মী সঞ্জিবন সরকার প্রমুখ।

এই র‌্যালির পর একইস্থানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ‘শেখ হাসিনার বাংলায় জঙ্গিদের ঠাঁই নেই’, ‘ফাদার অব তালেবান-ইউনূস ইউনূস’, ‘কীলার অব বাংলা-ইউনূস ইউনূস’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ ‘রক্তের বন্যায়-ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘দিয়েছি তো রক্ত-আরো দেব রক্ত’, ‘‘একাত্তরের হাতিয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘হটাও ইউনূস ফ্রম বাংলাদেশ-শেখ হাসিনার নির্দেশ’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত অবস্থায় সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এখোন রুখে দাঁড়ানোর সময়। এখোন অস্ত্র হাতে নেয়ার সময়। তাই আমি নেত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের আর চুপ করে থাকা যাবে না। আমরা অস্ত্র চাই। জঙ্গিদের উৎখাতের জন্যে অস্ত্র দরকার। আমরা আপনার অনুমতি চাই সশস্ত্র যুদ্ধে ঁঝাপিয়ে পড়ার জন্যে।

এ র‌্যালিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ, ইমদাদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান মিয়া, সোলায়মান আলী, সাহানারা রহমান, দরুদ মিয়া রনেল প্রমুখ।

Facebook Comments Box

Posted ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us