লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
উবার এবং লিফট কর্তৃক নিউইয়র্ক সিটির ৯০ হাজার ড্রাইভারের ৩২৮ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনা উদঘাটিত হবার পর ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশীসহ ৬৫ হাজার ড্রাইভার চুরিকৃত অর্থ ফেরৎ পেয়েছেন। অবশিষ্ট প্রায় ২৫ হাজার ড্রাইভারকে ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন জানাতে হবে। তা না হলে উবার-লিফটের চুরিকৃত অর্থ বেহাত হবার আশংকা রয়েছে। ২৭ মার্চ দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে লিটল বাংলাদেশ’র পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কঠোর পরিশ্রমী ট্যাক্সি ড্রাইভারদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে সোচ্চার সিটি কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর চুরির অর্থ ফেরৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ আইনী লড়াই চালিয়েছিল ‘নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কারস এলায়েন্স’ এবং সরেজমিনে তদন্ত করেছেন নিউইয়র্ক স্টেটের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস। নিউইয়র্ক সিটিতে সর্বদা সচল রাখতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনরত ট্যাক্সি ড্রাইভারের বড় একটি অংশ হলেন বাংলাদেশীরা। আর মোট ড্রাইভারের ৯৫% এরমত অভিবাসী। যাদের সংসার চলে ড্রাইভিংয়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে। সেই অর্থ চুরি করেছিল উবার ও লিফট কোম্পানী। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে।
এ সময় নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কারস এলায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে যারা উবার অথবা লিফ্ট চালিয়েছেন তারাই যোগ্য এ অর্থ পাবার। ভৈরবী বলেন, চুরিকৃত অর্থ উদ্ধারে আমাদেরকে পরপর ৩টি মামলা করতে হয়েছে। এক পর্যায়ে নিউইয়র্কের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস’র তদন্তে ৩২৮ মিলিয়ন ডলার চুরির তথ্য উদঘাটিত হয়। এবং নিউইয়র্ক স্টেটে কঠোর পরিশ্রমীদের উপার্জিত অর্থ চুরির এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটি ঘটনা। উবার এবং লিফট চুরির কথা স্বীকার করে ৩২৮ মিলিয়ন ডলার সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারদের ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গিকার করেছে। অর্থাৎ এ অর্থ হচ্ছে ড্রাইভারদের। উপরোক্ত সময়ে উবার অথবা লিফটের ড্রাইভার ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে যদি মৃত্যুবরণ করে থাকেন তাহলে নিকটাত্মীয়দেরকে আবেদন জানাতে হবে। আর যারা ভিন্নপেশায় চলে গেছেন তারাও আবেদনের যোগ্য। ভৈরবী উল্লেখ করেন যে, তার অফিসের লোকজন ড্রাইভারদের আবেদন প্রক্রিয়ায় বিনামূল্যে সহযোগিতা দিচ্ছে। সবভাষার মানুষ রয়েছেন এই সহযোগিতার জন্যে। তাই ৩১ মার্চের মধ্যে যেন সকলে যোগাযোগ করে চুরিকৃত অর্থ ফিরে পাবার পন্থা অবলম্বন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ভৈরবী দেশাই। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে উবার-লিফটের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ট্যাক্সি ওয়ার্কারস এলায়েন্স। সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেন স্টেট এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস। ২০১৭ সাল নাগাদ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উবার-লিফট ‘ব্ল্যাক কার ফান্ড সারচার্জ’ হিসেবে ড্রাইভারের প্রতিটি ট্রিপ থেকে অর্থ কেটে নেয়। যদিও এ অর্থ আদায়ের কথা প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে। এরপর উবার ও লিফ্ট দোষ স্বীকার করে গত বছর থেকে চুরিকৃত অর্থ ফেরৎ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
‘ড্রাইভারস পাওয়ার-ইউনিয়ন পাওয়ার’ স্লোগানের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে দু’জন ড্রাইভার ছাড়াও কথা বলেছেন দেশিজ রাইজিং আর অ্যান্ড মুভিংয়ের কর্মকর্তা কাজী ফৌজিয়া।
Posted ৮:০০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর