মামুলি চুরি এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সমাবেশ করে ভিসা হারালেন বাংলাদেশী দুই শিক্ষার্থী
প্রিন্ট
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন কংগ্রেসে প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় উজ্জীবিত সদস্যগণের অন্যতম (নিউইয়র্ক-কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৪, ডেমক্র্যাট) আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো করটেজ ৩ এপ্রিল বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকাসহ সমগ্র আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের খোঁজ-খবর নিলেন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশীদের অবস্থা জানতে চাইলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেন। নিজের ডিস্ট্রিক্ট অফিসে আহূত এক সমাবেশে অংশ নেয়া ব্রঙ্কস কম্যুনিটি বোর্ডে অভিবাসন বিষয়ক চেয়ারপার্সন শাহজাহান শেখের কাছে সবিস্তারে জানতে চান কাগজপত্রহীন প্রবাসীদের সর্বশেষ পরিস্থিতি। কংগ্রেসওম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, তাৎক্ষণিক সহযোগিতার জন্যে তার অফিসের দরজা সব-সময় প্রস্তুত রয়েছে। উল্লেখ্য, কংগ্রেসওম্যানের ডিস্ট্রিক্ট অফিসের পরিচালক বাংলাদেশী আমেরিকান নওরীন আকতার অভিবাসন সমাজের যে কোন সমস্যায় সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত রেখেছেন। সে প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন কংগ্রেসওম্যান করটেজ।
প্রবাসীদের জন্যে কংগ্রেসওম্যানের আন্তরিক সহানুভ’তিতে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাহজাহান শেখ। সমাবেশের পর এ সংবাদদাতার সাথে কথা প্রসঙ্গে বাংলাদেশী আমেরিকান শাহজাহান শেখ জানান, শুধু কাগজপত্রহীনরাই নন, ট্রাম্পের অভিযানে অনেক গ্রীর্ণকার্ডধারীও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। কারণ, গুরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার অভিযানের সময় সামনে যাকে পাওয়া যাচ্ছে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্দোষজনক জবাব দিতে না পারলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।
চুরির ঘটনায় ভিসা হারালেন এক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থানরত একটি ভার্সিটির শিক্ষার্থী কয়েক মাস আগে একটি দোকান থেকে ৭০ ডলারের পণ্য চুরির সময় ধরা পড়েছিলেন। ছোটখাটো চুরির সেই মামলায় দোষ স্বীকার করার পর মাননীয় আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন। তাকেও গত সপ্তাহে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টরা গ্রেফতার করেছে এবং তার ভিসা বাতিল করে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়েছে বাংলাদশে পাঠিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়ায়। নিউইয়র্ক অঞ্চলে খ্যাতনামা ইমিগ্রেশন এটর্নী এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক মঈন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়ে আরো বলেন, গাজায় ইসরায়েলি বর্বতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশে অংশ নেয়ায় আরেকজন বাংলাদেশী নারী শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মুক্তির জন্যে আমরা কাজ করছি।
জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ডজনখানেক বাংলাদেশীকে ফেরৎ পাঠানো হয়েছে। তারা গ্রীণকার্ডধারী এবং পারিবারিক কোটায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় এসেছিলেন। কাস্টমস কর্মকর্তাগণের প্রশ্নের সঠিক জবাব অর্থাৎ সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর সংবাদ পাওয়া গেছে এটর্নী মঈন চৌধুরী এবং ঐসব লোকজনের স্বজনের কাছে। তাই যারা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন কিংবা ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আসছেন-তারা যেন সকল প্রস্তুতি নিয়েই রওয়ানা দেন। গ্রীণকার্ডধারীরা বছরের অধিকাংশ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস না করলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন এয়ারপোর্টে। সম্প্রতি বেশ ক’জনকে থামানোর পর মুচলেকা নিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়েছে অর্থাৎ তারা বছরের ১০ মাস যুক্তরাষ্ট্রে না থাকলে গ্রীণকার্ড কেড়ে নেয়া হবে।
Posted ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর