নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলা নতুন বছরকে হৃদয়ের উচ্ছ্বাস আর বাঙালিত্ব জাগ্রত রেখে বরণের অভিপ্রায়ে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ১২ এপ্রিল শনিবার সর্বস্তরের প্রবাসীর অংশগ্রহণে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য অবহিত করেন সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদের সদস্য-সচিব মুজাহিদ আনসারী। এ সময় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক খ্যাতনামা কন্ঠশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়। সংবাদ সম্মেলনে আরো কথা বলেন উদযাপন পরিষদের জন্যে গঠিত উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ। সাংবাদিকদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে আরো ছিলেন প্রবীন সাংবাদিক ফজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, সুব্রত বিশ্বাস, সাগর লোহানী,সনজীবন কুমার, রামদাস ঘরামী, রাশেদ আহমেদ, আলী হাসান কিবরিয়া অনু, জাকির হোসেন বাচ্চু, ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন প্রমুখ।
সদস্য-সচিব মুজাহিদ আনসারী জানান, ইতিমধ্যেই ৩০টিরও অধিক সংগঠন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্যে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আরো অনেকের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। ২৮ চৈত্র ১৪৩১, ১২ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার বিকেল ৪টায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ৩৭ রোড ধরে ৭৭ ষ্ট্রীটে গিয়ে বামে মোড় নিয়ে ৩৭ এভিনিউতে বামে ঘুরে ৭৩ ষ্ট্রীটে এসে আবার বামে মোড় নিয়ে পুনরায় ডাইভার্সিটি প্লাজায় এসে শেষ হবে। এজন্যে প্রশাসন থেকে অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে রথীন্দ্রনাথ রায় উল্লেখ করেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে সম্মিলিত মঙ্গল শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে একটি পোষ্টার ও স্যুভেনির প্রকাশ করার। নিউইয়র্কে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে বাংলার লোক-নক্সা, মুখোশ, মোটিভ প্রস্তুতের প্রক্রিয়া জোরদার গতিতে এগিয়ে চলছে। অংশগ্রহণকারি সংগঠনের জন্যে পোস্টার, প্লেকার্ড, তৈরী করা হচ্ছে বাঙালি ঐতিহ্য আলোকে। বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বৈশাখী র্যালি গভীর সংকটে নিপতিত হয়েছে। তাই বিশ্বের রাজধানী খ্যাত এই নিউইয়র্কে আমরা বৈশাখ বরণের উৎসব বিপুল আনন্দ-ধ্বনিতে করতে চাই। যেখানে প্রবাস প্রজন্মের অংশগ্রহণ জরুরী। অভিভাবকগণকে অনুরোধ জানাচ্ছি সন্তান-সন্ততিকে সাথে আনার জন্যে। আরো বলা হয় : সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ – নিউইয়র্ক, বিশ্বাস করে বাংলার মানুষ অচিরেই তিমির বিদারী রণহুংকারে চূর্ণ করবে সকল অশুভ চক্রান্ত, ধ্বংস করবে সেই কূট-ষড়যন্ত্র যা বাংলার মুক্ত মানুষের স্বাধীনতাকে হরণ করে। আর তাই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল স্লোগান হচ্ছে – “অশুভের দুয়ারে শুনি জনতার রণধ্বনি”।
সদস্য-সচিব মুজাহিদ আনসারী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। বাঙালি জনগণ নিজস্ব সংস্কৃতি ও রীতি-নীতির মাধ্যমে এ উৎসব পালন করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে ম্লান করে দিয়েছে। একাত্তরের পরাজিত শত্রু আমাদের হাজার বছরের এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে ধংস করে দেয়ার হীন উন্মত্ততায় মেতে উঠেছে। তাদের অশুভ তৎপরতা নববর্ষ উদযাপনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে মলিন করে দিচ্ছে। ধর্মান্ধ আর উগ্র মৌলবাদীরা নগ্ন থাবা বসিয়েছে বাঙালি জাতির হাজারো সংগ্রাম এবং তার নিজস্ব সংস্কৃতির উপর।
মুজাহিদ আনসারী উল্লেখ করেন, নববর্ষ আমাদের জীবনে কেবলমাত্র একটি উৎসব নয় বরং এটি একটি চেতনার নাম। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলিয়ে নববর্ষ আমাদেরকে উজ্জীবিত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মানবতাবোধে। এ দিনটি আমাদের দরিদ্র, নিপীড়িত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা যোগায়। নববর্ষ একদিকে যেমন নির্মল আনন্দের খোরাক, অন্যদিকে তেমনি একটি চেতনার ধারক। আর তাই কোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং সন্ত্রাস যেন আমাদের ঐতিহ্যকে গ্রাস করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রত্যেক বাঙালিকেই সচেতন হয়ে উঠতে হবে।
ইতিমধ্যেই তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলো হচ্ছে : অনুপ ড্যান্স একাডেমী, আনন্দধ্বনী নিউইয়র্ক, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব (এবিপিসি), উদীচী যুক্তরাষ্ট্র শাখা, উদীচী জ্যামাইকা শাখা, একুশে চেতনা পরিষদ, গাইবান্ধা সোসাইটি অব আমেরিকা,তারার আলো ইউএসএ, প্রকৃতি, প্রগ্রেসিভ ফোরাম, পন্ডিত কৃষাণ মহারাজ তাল তরঙ্গ ইনিষ্টিটিউট নিউইয়ক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন- যুক্তরাষ্ট্র, বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আটর্স (বাফা), বাংলাদেশ ক্লাব, যুক্তরাষ্ট্র, বাঙালীয়ানা ইউএসএ, বাঙালীয়ানা ফাউন্ডেশন ইউএসএ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পুলিশ এসোশিয়েশন ( এনওয়াইপিডি), বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটের্যান্স-১৯৭১ ইউএসএ, ভয়েস অব ওইমেন অ্যামপাওয়ারমেন্ট ইউএসএ, মিথান ড্যান্স একাডেমি, রবীন্দ্র একাডেমী ইউএসএ, লালন পরিষদ ইউএসএ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, শিল্পকলা একাডেমী, সঙ্গীত পরিষদ,সাহিত্য একাডেমী নিউইয়র্ক, হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারী কলেজ এলামনাই এসোশিয়েশন।
শোভাযাত্রার উপদেষ্টামন্ডলির সদস্যরা হলেন: আহকাম উল্লাহ, খোরশেদুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, জীবন চৌধুরী, বেলাল বেগ, মাহবুবর রহমান, মুহাম্মদ ফজলুর রহমান,শরাফ সরকার, শামসুল আলম বকুল, সউদ চৌধুরী, সুব্রত বিশ্বাস। এবং ৭১ সদস্যের কার্যকরী পরিষদে রয়েছেন; আহ্বায়ক : রথীন্দ্রনাথ রায়,যুগ্ম আহবায়ক : সাগর লোহানী, সদস্য সচিব : মুজাহিদ আনসারী, যুগ্ম সদস্য সচিব : সনজীবন কুমার, প্রধান ব্যবস্থাপক : রাশেদ আহমেদ। সদস্যরা হলেন : অর্ঘ্য সারথী সিকদার, মো. আব্দুল কাদের, আলপনা গুহ, আব্দুল হামিদ, আশীষ রায়, আসলাম আহমেদ খান, আল আমিন বাবু, আলী হাসান কিবরিয়া অনু, আহসান আলী ভূঁইয়া, উৎপল চৌধুরী, এএফএম আফতাবুজ্জামান, এম এ মতিন মিঠু,ওয়ায়দুল্লাহ মামুন, ওয়াহেদুজ্জামান লিটন, কাজল মাহমুদ, কাবেরী দাশ, কামাল হোসেন মিঠু, ক্লারা রোজারিও,কল্লোল দাশ, গোপাল স্যানাল, গোলাম মর্তুজা, গোলাম হোসেন কুটি, জলি কর, জাকির আহমেদ রনি, জাকির হোসেন বাচ্চু, জায়েদুল মুহিত খান,ডাক্তার রুমা, ডালিয়া চৌধুরী, তপন মোদক, দীলিপ মোদক, নীরা কাদরী, নুরল আমিন বাবু, ফরিদা ইয়াসমিন, ফারুক হোসেন, রামদাস ঘরামী, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, মিজানুর রহমান মিজান, মিথান দেব, মনিকা রায়, মিনা ইসলাম, মাহফুজ তুহিন, মোশাররফ হোসেন, মিলন রায়, রামদাস ঘরামী, লাবলু আনসার, শ্যামল চন্দ্র রায়, সবিতা দাশ, সাবিনা হাই উর্বি, সুরাইয়া আকতার লাকী, সুরিত বড়ুয়া, রাজিব আহ্সান, রেজা রহমান, হাফিজুল হক, হিরো চৌধুরী, হুসনে আরা বেগম, শ্যামল চন্দ্র কর, শাহ ফারুক, শিশির শীল, সাগর লোহানী, সৈয়দ মিজানুর রহমান, সাবিনা হাই উর্বি, সুকান্ত হরে, সুরিত বড়ুয়া, সুলেখা পাল, সুশিল সিনহা, সুমন আলম। অনুষ্ঠান ও অভ্যর্ত্থনা উপ-পরিষদ : আহ্বায়ক -কাবেরী দাশ, সদস্য সচিব- সাবিনা হাই উর্বি, সদস্য-সুরাইয়া আকতার লাকী, সিগ্ধা আচার্য্য, মিনা ইসলাম। প্রচার-প্রকাশনা উপ-পরিষদ: আহ্বায়ক- জাকির হোসেন বাচ্চু। সদস্য সচিব- হিরো চৌধুরী, সদস্য-সুমন আলম, মাহফুজ তুহিন, দীলিপ মোদক। শোভাযাত্রা উপ-পরিষদ : আহ্বায়ক – রামদাস ঘরামী, সদস্য সচিব- বিপুল কে. সাহা, সদস্য- কাজী সৌমিক, ইকবাল হোসাইন, প্রশান্ত সরকার, পুষ্পেন গোয়ালা। শৃঙখলা উপ-পরিষদ : আহ্বায়ক -কাজল মাহমুদ, সদস্য সচিব-নিখিল কুমার মন্ডল। সদস্য- আলী বাবু, নীতাই বাগচী, ইসলাম লিটন,সুব্রত তালুকদার, দেলোয়ার হোসাইন, পলাশ নন্দী, রাহুল বড়ুয়া, কাজী সৌমিক, ইকবাল হোসাইন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয় যে, ১৪৩১ বঙ্গাব্দে বাংলাদেশের মানুষ দিনযাপন করেছে এক ভয়াল রাহুগ্রাসের কবলে। বাংলার মানুষ অবলোকন করছে বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধুলিসাৎ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আদর্শিক ভিত্তিকে ভূলুণ্ঠিত করার এক সুগভীর চক্রান্ত । যখন বাংলার মানুষ দ্বিজাতিতত্ত্বকে ছুঁড়ে ফেলে অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, শোষণহীন-ন্যায় ভিত্তিক, মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী একেকটি সোপান রচনায় রত তখন অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে রাজনীতি ও প্রশাসনের আস্তিনের সাপ হয়ে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা উগ্র-ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সুকৌশলে বিদেশী কুচক্রীমহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে বাংলার সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা, প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শসহ প্রবাহমান বাংলা সংস্কৃতির ধারাকে ধ্বংস করতে হেনেছে উদ্ধ্যত ফনা। বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা, বাংলার ইতিহাসের আকর জাদুঘর, দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ভাস্কর্য-ম্যুরাল, ইত্যাদিকে সমূলে উৎপাটনই শুধু নয় এরা বাংলার নারীদের স্বাধীনতা হরণ করে হাজার বছর আগের বর্বর মানবেতর সময়ে পৌঁছে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে । আবহমান বাংলা-সংস্কৃতিই এই নরপিশাচদের মূল লক্ষ্যবস্তু। এমন এক দুঃসহ অবস্থায় সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ-নিউইয়র্ক মনে কওে, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে বাংলার অন্যতম সর্বজনীন উৎসব বঙ্গাব্দবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা সম্মিলিতভাবে আয়োজনই হচ্ছে আমাদের সবার প্রধান কর্তব্য। সেই লক্ষ্যে ৩০টিরও অধিক সংগঠনের সমন্বয়ে সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ, নিউইয়র্ক গঠন করা হয়েছে। আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, নিউইয়র্কে অবস্থিত এ পরিষদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সমমনা যে কোন অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি এ আয়োজনে যুক্ত হতে চাইলে তাদের সাদর আমন্ত্রণ জানানো হবে।
মঙ্গল শোভাযাত্রার সার্বিক আয়োজনকে বেগবান করতে একটি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি এবং প্রবাসের বিশিষ্ট ও সম্মানিত ব্যাক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
Posted ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর