বাংলাদেশীসহ ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার থেকে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরত হবার আহ্বান ফেডারেল কোর্টে ১৯ স্টেটের এটর্নী জেনারেলের

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:০১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশীসহ ৭ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার থেকে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরত হবার আহ্বান ফেডারেল কোর্টে ১৯ স্টেটের এটর্নী জেনারেলের

ফাইল ছবি

বেশ কয়েক ডজন বাংলাদেশীসহ ৭ শতাধিক ‘ইন্টান্যাশনাল স্টুডেন্ট’র ভিসা বাতিলের পর গ্রেফতার ও বহিষ্কারের যে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে তা বিরত হবার আহবান জানিয়েছেন ১৯ স্টেটের এটর্নী জেনারেলরা। ১১ এপ্রিল সম্মিলিতভাবে এ আবেদন জানানো হয়েছে ফেডারেল আদালতে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্টুডেন্ট ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ থেকে অবিলম্বে সরে পড়ার উদাত্ত এ আহবানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের এমন আচরণে প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক মূল্যবোধ এবং বাক-ব্যক্তির অবাধ স্বাধীনতাকেই খর্ব করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নির্বিচার গণহত্যা এবং গাজাকে শশ্মানে পরিণত করার ভয়ংকর প্রক্রিয়াকে সভ্য জগত কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। তাই মানবিক গুণে গুণান্বিত শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছেন। গণতান্ত্রিক সমাজের এমন আচরণের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহিত পদক্ষেপকে স্বৈরাচারের নামান্তর এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি হিসেবেও অভিহিত করা হচ্ছে। আরিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, নিউইয়র্ক, কলরাডো, কানেকটিকাট, দেলওয়ার, হ্ওায়াই, ইলিনয়, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসেচুসেট্্স, মিনেসোটা, নিউজার্সি, ওরেগণ, রোড আইল্যান্ড, ওয়াশিংটন স্টেট এবং ওয়াশিটন ডিসির এটর্নী জেনারেলগণ এই আবেদন জানিয়েছেন। জানা গেছে, ভিসা বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীগণের কেউ কেউ কখনোই ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্দোলনে ছিলেন না। তারা ট্রাফিক আইন লংঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা অন্য কোন মামুলি কারণে মামলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন-এমন অজুহাতে ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এরফলে সারা আমেরিকায় ১৫ লাখের মত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট’র সকলেই ভীতির এবং সন্ত্রস্ত অবস্থায় নিপতিত হয়েছেন-যা সমাজকেও অস্থির করে তোলেছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর ভিসা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বাতিল করায় তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ধুলিসাত করা হয়েছে। এবং অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে-যা অমানবিক এবং অকল্পনীয়। কারণ তারা সকলেই গ্র্যাজুয়েশনের প্রত্যাশায় ছিলেন। এ আবেদনে স্বাক্ষরকারীগণের অন্যতম নিউইয়র্কের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস এক বিবৃতিতে বলেছেন, চিন্তা, অবাধে কথা বলা এবং ভয়হীন চিত্তে উচ্চ শিক্ষা লাভ করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তাই অবাধে কথা বলার জন্যে কেউ জেলে যাবেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হবেন-এটি মেনে নেয়া যায় না। নিউইয়র্ক এবং অন্য কোন স্টেটেই এমন আচরণ বরদাশত করা উচিত হবে না গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন আচরণ চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ মার্চ ‘আমেরিকান এসোসিয়েশন অব প্রফেসরস’রা যে মামলা করেছেন সেই মামলার পরিপপূরক হিসেবে এটর্নী জেনারেলরা এ আবেদন জানিয়েছেন।

সারা আমেরিকায় ১৫ লক্ষাধিক ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টের অধিকাংশই চীন এবং ভারতের। তারা কম্প্যুটার সায়েন্স, ভাষা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবস্থাপনায় উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৯:০১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us