বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
রবিবার, ১১ মে ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
ছবি সংগৃহীত
অভিবাসন-বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি আমদানীকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কঠোর নীতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরে বিরাজমান সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে। সিলিকন ভ্যালি এবং অন্য এলাকার মাঝারি ও বড় আকারের শিল্প-কারখানার ৭৫% মালিকের আশংকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-গ্রেফতার ও বহিষ্কারের চলমান অভিযান না থামলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং লোকসানের সাগরে ভাসতে ভাসতে একসময় ক্রমবর্দ্ধমান প্রতিষ্ঠানগুলোতে লালবাতি জ্বালাতে বাধ্য হবেন তারা।
উদীয়মান তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের ওপর পরিচালিত এবং ১০ মে প্রকাশিত ঐ জরিপ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সেক্টরের নাজুক অবস্থা আরো প্রবল আকার ধারণ করবে। আর এহেন আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছে অভিবাসন-বিরোধী অভিযান ক্রমান্বয়ে জোরদারের ফলে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-নীতি সরলিকরণ করা না হলে বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিকের আমদানিও হ্রাস পাবে।
জরিপে অংশ নেয়া সাবানটোয়া’ নামক একটি টেকনোলজি কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ক্রেইগ রুপ বলেছেন, অভিবাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে ট্রাম্পের গৃহিত পদক্ষেপসমূহ আমার কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় না হলেও সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের নীতি আমাকে বিচলিত করেছে। গোটা পরিস্থিতিকেই টালমাটাল করেছে।
জরিপে অংশ নেয়া পদস্থ কর্মকর্তাগণের ৭০% এর ধারণা আইস (ট.ঝ. ওসসরমৎধঃরড়হ ধহফ ঈঁংঃড়সং ঊহভড়ৎপবসবহঃ (ওঈঊ) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অভিযানের কঠোরতা হ্রাস করা না হলে সামনের বছর শিল্প-কারখানায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। শ্রমিক-কর্মচারির সংকটে নিপতিত হবে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার। ৫৮% মনে করছেন যে, উৎপাদন ব্যাহত হবার জের পড়বে গোটা অর্থনীতির ওপর-যার ধকল পোহাতে হবে আপামর জনগোষ্ঠিকে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য মার্চের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে ৩৪৯টি কোম্পানীর মালিক/সিইও অংশ নেন। এরমধ্যে ৬০% হলেন কোম্পানীসমূহের আইন-কানুন বিষয়ক কর্মকর্তা। অবশিষ্টদের মধ্যে আছেন মানব-সম্পদ তথা নিয়োগ বিষয়ক কর্মকর্তা। জরিপে অংশগ্রহণকারি কল-কারখানাসমূহে শ্রম-শক্তির সংখ্যা এক হাজারের উর্দ্ধে। অর্থাৎ এই জরিপ অনুযায়ী অভিবাসন-বিরোধী অভিযান চলতে থাকলে শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে তথা উৎপাদন হ্রাস পাবে। একইসাথে উৎপাদিত পণ্য গন্তব্যে সরবরাহেও সমস্যা বাড়বে। ফলে ক্রেতা-সাধারণকে গুণতে হবে অত্যধিক মূল্য-যার কিছুটা প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে।
আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন কমতে পারে ৬০ বিলিয়ন ডলারের মত। এই সংস্থার সিইও রেবেকা শি বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করে দক্ষ ও মেধাবি অভিবাসনের ওপর। ‘দ্য আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল’র ধারণা ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী তৎপরতা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লাগবে প্রথম বছরেই। টার্গেট অনুযায়ী বার্ষিক ১০ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটতে থাকলে প্রতি বছর গড়ে আরো ৮৮ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন হ্রাস পাবে।
শিল্প-কল-কারখানা বিষয়ে অভিজ্ঞ এটর্নী হেক্টর কুইরোগা গণমাধ্যমে বলেছেন, শ্রম সেক্টর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পর তা পূরণ করা কখনোই সম্ভব হবে না সিটিজেনদের মাধ্যমে-এটাই হচ্ছে বড় সত্য। বহুবছর ধরেই অভিবাসীরা শিল্প-কারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব রাখছেন এবং অভিবাসীগণের মেধাতেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রসার ঘটছে বছরের পর বছর যাবত।
Posted ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১১ মে ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর