ডেস্ক নিউজ
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস আজ (১১ জুন, ২০২৫) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে এক অনুষ্ঠানে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভোটের সময় টাকা দিলেই মানুষকে কেনা যায়—”টাকা দিন, ভোট দেব।” তার এই মন্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা টাকা নিয়ে বিএনপিকে ভোট দেবে, বিএনপির সমর্থকরা আওয়ামী লীগকে, এবং জামাত বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাও একই কাজ করবে। এমনকি সুশীল সমাজের লোকজনও টাকার জন্য রাজনৈতিক মত বা আদর্শ ভুলে যায়।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি কি সত্যিই এমন? বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিসংখ্যান ইউনূসের এই মন্তব্যকে সমর্থন করে না। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪৮.০৪% ভোট পেয়ে ২৩০টি আসন অর্জন করে, অন্যদিকে বিএনপি ও জামাত জোট ৩২.৫০% ভোট পেয়ে ৩০টি আসন জেতে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় একই পরিমাণ ভোট পাবে। কারণ তাদের ভোটব্যাংকের বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না। টাকা দিয়ে যদি সবার ভোট কেনা যেত, তাহলে এমন ফলাফল সম্ভব হতো না। অনেকে মনে করেন, ইউনূস কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই এই মন্তব্য করে বিদেশে বাংলাদেশের ভোটারদের শুধু নয়, ১৮ কোটি মানুষকেই অপমান করেছেন। তাদের বক্তব্য হলো, ভোটের সময় অর্থের ভূমিকা সব দেশেই থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু মানুষ হয়তো টাকার বিনিময়ে ভোটের সিদ্ধান্ত নিলেও, সাধারণভাবে সব ভোটারকে একই কাতারে ফেলা অপপ্রচার ও অবমাননাকর।
চ্যাথাম হাউসে ইউনূসকে তীব্র জেরা
নির্বাচন ছাড়াও, ইউনূস চ্যাথাম হাউসের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে ইউনুস প্রবল জেরার সম্মুখীন হন। কিন্তু তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী তিনি সরাসরি উত্তর দেওয়া এড়িয়ে যান এবং আলোচনাকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেন। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, দুর্নীতি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সংস্কার—এসব উদ্বেগজনক বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দেননি।
অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রনওয়েন ম্যাডক্স। একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক হিসেবে ম্যাডক্স বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরে আলোচনা শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ, শেখ হাসিনার অপসারণের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং অমীমাংসিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকট। প্রসপেক্ট ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দ্য টাইমস ও ফিনান্সিয়াল টাইমসে তার পূর্ববর্তী ভূমিকার ভিত্তিতে ম্যাডক্স সাংবাদিকসুলভ প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সাথে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ উত্থাপিত হলে, অধ্যাপক ইউনূস করে বলেন যে দলটি নিষিদ্ধ করা হয়নি বরং “সাময়িকভাবে স্থগিত” করা হয়েছে।
ম্যাডক্স পরামর্শ দেন যে শেখ হাসিনা এবং অন্যদের বিচার ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউনূস দৃঢ়ভাবে জোর দিয়ে বলেন, “প্রথমে সংস্কার, তারপর বিচার, তারপর নির্বাচন।”
ম্যাডক্স পাল্টা যুক্তি দেন যে অনেক পর্যবেক্ষক বিশ্বাস করেন সংস্কারকে গণরায়ের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করেন যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া তার প্রশাসনকে আরেকটি স্বৈরাচারী শাসনে পরিণত করবে।
ইউনূস এটিকে “একটা মতামত, কোনো রায় নয়” বলে উড়িয়ে দেন।
সাংবাদিক দমন-পীড়নের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউনূস তা ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে এখনকার মতো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আগে কখনো ছিল না।”
উপস্থিত সাংবাদিক ও দর্শকরা শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানধ্বংসের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন করলে ইউনূস এই অভিযোগগুলির কোনো সুস্পষ্ট জবাব দেননি।
Posted ১:২৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর