'একাত্তরের প্রহরী'দের সম্মিলনী

জয় বাংলাই আমাদের চেতনার উৎস

বিশেষ সংবাদদাতা   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

জয় বাংলাই আমাদের চেতনার উৎস

জয় বাংলাই আমাদের চেতনার উৎস

সকালে এক পশলা বৃষ্টি ছিল। প্রচন্ড গরমের হাওয়া। কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। দুপুর বারোটা থেকেই নিউজার্সির প্লেইনসবরো কাউন্টির বাড়িতে একটি আয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিরোধী অপশক্তিকে হটাতে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ ওঠানোর এ আয়োজনের হোস্ট ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড: নুরুন নবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড: জিনাত নবী।

জয় বাংলা লেখা সম্বলিত কেকটি এনেছিল এ প্রজন্মের শিল্পী মুন হাই। সেটি কাটা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং রাজাকারের বশংবদদের নির্মূলের সংকল্প উচ্চারণের মধ্যদিয়ে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

২২ জুন রোববার সকাল থেকেই বাড়ির আঙগিনায় বড় প্যান্ডেল। একপাশে তাঁবু খাটিয়ে রান্না করছেন বিশিষ্ট পাচকের দল। বিভিন্ন পদের এপিটাইজার দিয়ে শুরু। অতিথিরা আসতে শুর করেছেন। এরা সকলেই ‘একাত্তরের প্রহরী’র সদস্য। একটি অস্থির সময়ের ভ্যানগার্ড এরা। তারা কাজ করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশের পক্ষে।

চলমান লড়াই-আন্দোলনকে আরো বেগবান করার আলাপচারিতায় একাত্তরের প্রহরিরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

একপাশে গান-বাজনার স্টেজ। কথা চলছে।আড্ডা চলছে। এসেছেন বিশ্ব পরিচিত লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁকে ঘিরে চলছে অনেক প্রশ্ন-উত্তর। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ হৃদয়ের আবেগ আর শক্তি দিয়ে কথার ফুলঝুরি ছড়াচ্ছেন চিরতরুণের মতোই। জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বহুগুণী শিল্পী তাজুল ইমাম। তাঁর কন্ঠে সুদৃঢ় প্রত্যয়।

আন্দোলন-লড়ইয়ের আলাপচারিতার ফাঁকে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হোন একাত্তরের প্রহরিরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

অতিথি সবাই। শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট জনেরা। অতিথিদের নিয়েই স্টেজে দাঁড়ালেন ড: নুরুন নবী-ডঃ জিনাত নবী দম্পতি। একটি সুদৃশ্য শিল্পকর্ম এই দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হলো। এটি নির্মাণ করেছেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী তাজুল ইমাম।

মিনহাজ অহমেদ সাম্মু বাঁশী বাজান-এটা কী কেউ জানতেন? ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

এ সময় তসলিমা নাসরিন বললেন, ‘আমি ধন্য হয়েছি এখানে এসে। ড. নুরুন নবী ভাইকে আমার শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা। বকুল আপার(জিনাত নবী) জন্যেও আমার অনেক শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা এত গুণিজনের মধ্যে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে। সেই বইমেলায় (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা) দেখা হয়েছিল, আজ আবার দেখা হলো অনেকের সঙ্গে। এবং যে কথা বলা হয়েছে যে, এখানে আমরা সবাই ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো। এই কর্মসূচির সাথে আমার একশত ভাগ সমর্থন আছে। আমি লিখছি, আমি প্রতিবাদ করছি এই জিহাদি সরকারর বিরুদ্ধে। আমি বলি এটি মৌলবাদিদের গুরু, একে না সরালে দেশের কোন উন্নতি হবে না। আমরা সবাই মিলে সেই প্রতিবাদ করলে সেটির জোর অনেক বেশী থাকে। আজকের দিনে এখানে জড়ো হয়ে আমরা সবাই আনন্দ করলাম, সবার সঙ্গে দেখা হলো, খাবার-দাবার হলো। আবারো বকুল আপা ও নবী ভাইকে ধন্যবাদ এত সুন্দর খাবার আয়োজন করার জন্য। এবং এটা স্মৃতি হিসেবে থাকবো যদি আমরা একটা ভালো উদ্যোগ নেই এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্যে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন , আবার দেখা হবে’।

আলাপচারিতায় ৩ কবি। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বেলাল বেগ বললেন, জয় বাংলাই আমাদের চেতনার উৎস। আমরাই বলেছি- সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই। আজ সেই মানবিকতাই বাংলাদেশে রক্তাক্ত। এর অবসানে আমাদের ঐক্য চাই।

আন্দোল-লড়াই এগিয়ে নেয়ার আলাপচারিতায় অংশগ্রণকারি একাত্তরের প্রহরিরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব- যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ছবি তুলে দিল ড: নবী দম্পতির হাতে। ছবিগুলো ছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ঘিরে। বাহারী আয়োজনে সেরে নেয়া হলো দুপুরের লাঞ্চ। এরপরেই বিশিষ্ট সংগঠক স্বীকৃতি বড়ুয়ার জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেক কাটা হলো। নিজ হাতে ‘জয় বাংলা’ লেখা আরেকটি কেক বানিয়ে এনেছিল এই প্রজন্মের শিল্পী মুন হাই।

একাত্তরের প্রহরিগণের পক্ষে ড. জিনাত নবীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান মো. আব্দুল কাদের মিয়া। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

এভাবেই অসহনীয় তাপদাহের যন্ত্রনা দূরে ঠেলে চেতনাকে শানিত করতে শুরু হলো সাংস্কৃতিক পর্ব। গান কবিতা কথা। বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করলেন মিনহাজ আহমেদ সাম্মু। ক্যামেরায়ও ছিলেন তিনি। বিভিন্নপর্বের ছবি তোলার গুরুদায়িত্ব পালন করলেন সুলেখক আসলাম আহমেদ খান।

জিএইচ আরজু ফটো অ্যালবাম প্রদান করেন ড. নুরুরন্নবীকে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

পর্যায়ক্রমে কবিতা পড়ে শোনালেন- তসলিমা নাসরিন, ফকির ইলিয়াস, মঞ্জুর কাদের, মিনহাজ সাম্মু প্রমুখ। আবৃত্তি করলেন সাবিনা নীরু, শুক্লা রায় এবং আরও কয়েকজন। দ্বৈত আবৃত্তি ও গানে অংশ নিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার গোপন সাহা ও প্রিয়াংকা দাস । তাক লাগিয়ে দিলেন তারা ! তরুণ প্রজন্মের শিল্পী গুঞ্জরী সাহা’র গাওয়া ইংরেজী গান অভিভ’ত করে সবাইকে। কী অসাধারণ ছিল তার প্রক্ষেপণ! সঙ্গীত পরিবেশন করেন তাজুল ইমাম, দিনাত জাহান মুন্নী, সুতপা মন্ডল প্রমুখ।
প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার বিশিষ্টজনদের মধ্যে এ অনুষ্ঠানে ছিলেন সমাজসেবক ও সংগঠক আবদুল কাদের মিয়া, সমাজ-সেবক ফজলুল হক, ব্যবসায়ী-সংগঠক মো. জাফরউল্লাহ, রাজনীতিক রাফায়েত চৌধুরী, বিশিষ্ট আবৃত্তিকার আহকাম উল্লাহ, অভিনেত্রী লুৎফুন নাহার লতা দম্পতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, সংগঠক -পৃষ্টপোষক আলিম খান আকাশ, সংগঠক সাহিদা শিকদার হাই, শিল্পী এ্যানি ফেরদৌস ও জাফর ফেরদৌস, বিশিষ্ট সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, শিল্পী দিনার মনি, সংগঠক ড: রানা হাসান এবং অধ্যাপক আরিফা রুমা, সংগঠক-চিত্র নির্মাতা রওশন আরা নীপা দম্পতি, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, আবৃত্তিকার জি এইচ আরজু, কবি মিশুক সেলিম, লেখক আবু সাঈদ রতন, কবি খালেদ সারফুদ্দীন, ছড়াকার মনজুর কাদের, আবৃত্তিকার তাহরীনা প্রীতি, লেখক স্মৃতি ভদ্র, সংগঠক বিলকিস দোলা, সংগঠক গোপাল সান্যাল, জয়তুর্য চৌধুরী, চৌধুরী ঝর্ণা,প্রসুন দত্ত, পিঙ্কি চৌধুরী, তমা রহমান, সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার, সংগঠক নুরল আমিন বাবু, আব্দুল হামিদ, খ্যাতনামা চিত্রগ্রাহক নাদিম ইকবাল, সমাজকর্মী রোকসানা ইয়াসমিন, স্বপ্না আহমেদ, স্বপ্না ইয়াসমিন প্রমুখ।

আগস্টের শেষার্ধে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য বইমেলায় সকলকে আমন্ত্রণ জানান সাংবাদিক-সংগঠক দস্তগীর জাহাঙ্গির। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

বিকেল সাড়ে ছয়টায় ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ড: নবী দম্পতি। উজ্জ্বল আলোয় ভরা একটি দিন। প্রিয় মাতৃভ’মিকে হায়েনা মুক্ত করার লক্ষ্যে সামনের দিনগুলোতেও দুর্বার আন্দোলন-সংগ্রামের শপথ উচ্চারণের একটি স্মৃতি বুকে নিয়ে ঘরে ফেরেন একাত্তরের প্রহরীরা ।

Facebook Comments Box

Posted ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us