জনমত জরিপ

উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা অবিলম্বে বাংলাদেশে নির্বাচন চান

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৮ জুলাই ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা অবিলম্বে বাংলাদেশে নির্বাচন চান

ভোটাধিকারের দাবিতে র‌্যালি। ছবি-সংগ্রহ।

সকলেই দেশের চেয়ে দলকে বেশী ভালবাসেন। দলের জন্যে অনেকে প্রাণ দিতেও কসুর করে না। এজন্যে ‘যেই লাউ সেই কদু’র মত অবস্থা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলবাজি অব্যাহত রয়েছে। শুধু গুমের ভীতি কমলেও খুনের ঘটনা হরদম ঘটছে পুলিশ-প্রশাসনের সামনেই। গত ৫৪ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক-স্বৈরাচার, সামরিক জান্তা, কেয়ারটেকার সরকার দায়িত্ব পালন করাকালে বর্তমানের মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের মত নাজুক পরিস্থিতির উদ্ভব কখনো হয়নি। এমন অভিমত পাওয়া গেছে ৭ জুলাই পর্যন্ত ৩দিনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিত্বকারি দেড় শতাধিক প্রবাসীর মতামত সংগ্রহকালে। বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৮০% এর অধিক প্রবাসী । এহেন অবনতিশীল পরিস্থিতির অবসানে অবিলম্বে জাতীয় সংসদের নির্বাচন চেয়েছেন এবং ঐক্যমতে উপনীত হওয়া ইস্যুসমূহের ব্যাপক সংস্কারের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের জন্যে রেখে দেয়ার সুপারিশ করেছেন প্রায় সকলেই। ৫৫% প্রবাসী বলেছেন যে, বৈষম্য বিরোধী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার পূরণে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূস ও তার সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল এবং যে কারণে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলা হচ্ছে, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা কয়েকগুণ বেড়েছে। গুটিকতক সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক মাস্তান ব্যতিত কেউই এখোন স্বস্তিতে নেই বলেও প্রবাসীরা মন্তব্য করেছেন। ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল ও বদলি বাণিজ্য হ্রাস দূরের কথা কয়েকগুণ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন নেতৃস্থানীয় প্রবাসীরা।

নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসলিভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, বস্টন, মিশিগান, শিকাগো, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, লুইঝিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস প্রভৃতি স্থানের প্রবাসীরা অংশ নেন এই মতামত-জরিপে। এরমধ্যে ছিলেন মাসাধিককাল বাংলাদেশ সফর করে চারদিন আগে ফিরে আসা জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর (ডেমক্র্যাট) শেখ রহমান, ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক অধ্যাপক ড. ফাইজুল ইসলাম, নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির এমিরিটাস প্রফেসর ড. মুস্তফা সরোয়ার, ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব স্কুল অব সোস্যাল ওয়ার্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উত্তর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং নিউজার্সিতে মনমাউথ ইউনিভার্সিটির ডীন এবং অধ্যাপক গোলাম মাতবর, নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল, নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, বাংলাদেশী আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান এবং ফোবানার নির্বাহী সচিব রহিম নিহাল, নির্মাণ ব্যবসায়ী ও সংগঠক মো. আব্দুল কাদের মিয়া, সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ব্যবসায়ী ও গৃহিনী নাসিমা বানু প্রমুখ।

সাধারণ প্রবাসীর মধ্যে ছিলেন দোকান কর্মচারি, ট্যাক্সি ড্রাইভার, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, গ্রোসারি মালিক, শিক্ষার্থী, গৃহিনী, অভিনেতা-অভিনেত্রী-সাস্কৃতিক কর্মী, লেখক-কবি, ফেডারেল কর্মচারি এবং কম্যুনিটি সংগঠক। সকলেই প্রচন্ড হতাশা ব্যক্ত করেন মুহম্মদ ইউনূসের ১১ মাসের কর্মকান্ড নিয়ে। কেউই স্বস্তিবোধ করছেন না আইনের শাসন নিয়ে। আগের মতোই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতা অব্যাহত রয়েছে। শতশত মানুষকে একটি হত্যার জন্যে অভিযুক্ত করা হচ্ছে-যা হাসির খোরাক হচ্ছে। নারীরা একাকি চলতে সাহস পাচ্ছেন না হামলা, ছিনতাই এবং ধর্ষণের আতংকে। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গণমাধ্যম জবর-দখলের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগের পর সেনাপ্রধান ওয়াকারউজ্জামান জাতির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসীদের দমনে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৬৫% প্রবাসী।

সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বসবাসরত অর্থনীতিবিদ-লেখক ড. ফাইজুল ইসলাম বলেন, গত ৫৩ বছরের শাসনামলে কখনো এমন খারাপ অবস্থা দেখিনি। আমার মনে হচ্ছে জাতিগতভাবে আমরা ভালো মানুষ নই বলেই এতকিছুর পরও নিজেরা পরিশুদ্ধ হতে পারছি না। সব সরকারের সময়েই সমান দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি দেখছি। এহেন অবস্থা থেকে পরিত্রাণে দরকার নির্বাচিত একটি সরকার। এক্ষেত্রে সংস্কারের যে অঙ্গিকার রয়েছে তা প্রতিপালনের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপরেই ছেড়ে দেয়া উচিত।

২৭ মে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বললেন, ব্যাসিক সংস্কারের পরই নির্বাচন দেয়া দরকার। সংস্কারের ব্যাপারটিকে হেলাফেলা করা হলে পুনরায় বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে যাবে। তাই কিছুটা হলেও করা দরকার। শেখ রহমান বলেন, মানুষের প্রত্যাশার পরিপূরক একটি নির্বাচন হলেই বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

এমিরিটাস অধ্যাপক ড. মোস্তফা সারোয়ার বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বিশেষ করে তার পতনের আগের দিকে বাংলাদেশে চুরি-ডাকাতি তেমন একটা ছিল না। দারুন একটা সভ্য-শান্ত-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ছিল। গত বছরের ৮ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলার লেশমাত্র নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক অবস্থা যেন একেবারেই স্থবিরতায় আক্রান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে ড. মোস্তফা সারোয়ারের। সে আলোকে তিনি বলেন, আমরা যারা প্রবাসী তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তবে যে দেশটি ছেড়ে এসেছি সেটির মঙ্গল কিছু দেখলে আপ্লুত হই। মন্দ কিছু ঘটলে সকলে ব্যথিত হই, দু:খবোধে আক্রান্ত হই। সেজন্যেই অন্য সকলের সাথে আমারও জোর দাবি অনতিবিলম্বে নির্বাচন হওয়া উচিত। এজন্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। এর আগে লতিফুর রহমান ও জাস্টিস সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকার তিনি মাসের মধ্যেই নির্বাচন দিয়েছেন। সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে ড. মোস্তফা সারোয়ার বললেন, আমার যেন মনে হয় যে উনারা (অন্তর্বর্তী সরকারের কোন উপদেষ্টা) হালুয়া-রুটির পেয়ে গেছেন, এবং এই হালুয়া-রুটি যতদিন খাওয়া যায় সে জন্যেই সংস্কারের নামে ভ’য়া একটি জিকির উঠিয়েছেন। কারণ, গত ১১ মাসে কোন ইস্যুতেই সংস্কার ঘটেনি। যে সব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো ৩ শতাধিক, ১১ মাসে তারা একটিও করতে পারেননি। তাহলে সবগুলোর জন্যে কতশত বছর লাগবে? অন্যের চাপিয়ে দেয়া সংস্কারের এই ধোয়া কখনোই বিদেশী কিছু নাগরিকের দ্বারা সম্ভব নয়। তাই আমি মনে করছে অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচন হোক এবং নির্বাচিত সরকার সংস্কারের কাজগুলো করুক।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক ড. গোলাম মাতবর বলেন, আমার মনে ২/৩ জন বাদে অন্য কোন উপদেষ্টাই কার্যকর কোন দায়িত্ব পালনে সক্ষম হননি বলে সংস্কারের প্রত্যাশা থমকে রয়েছে। তারা শুধু বড় বড় কথাই বলেছেন। অপরদিকে, নির্দিষ্ট কোন রোডম্যাপও ঘোষণা করতে পারেননি নির্বাচনের ব্যাপারে। একইভাবে জনগণের প্রত্যাশার পরিপূরক ন্যূনতম সাফল্যও দেখাতে পারেননি রাষ্ট্র পরিচালনায়। ড. মাতবর বলেন, ড. মুহম্মদ ইউনূসকে আমি ভালোভাবেই চিনি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনারও চট্টগ্রামে আমার এলাকারই মানুষ। আমার মনে হয় না তারা সুন্দর একটি নির্বাচনের জন্যে তৈরী আছেন। কারণ নির্বাচনের যেসব পূর্বশর্ত রয়েছে সেগুলোর অবস্থান কী। প্রশাসন, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীর ভ’মিকা বা অবস্থান, ভোটাররা নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন সে ধরনের পরিবেশ তৈরীর জন্যে কোন পদক্ষেপ দেখছি না। এজন্যে যে ধরনের সংস্কারের আশা মানুষ করেছিলেন সেটি করতে সক্ষম হননি।

অধ্যাপক বিরুপাক্ষ পাল বলেন, নিকট অতীতে ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকার দু’বছরের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিয়েছিলেন। এরপর মুহম্মদ ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণের পরই আমি পত্রিকায় কলাম লিখেছিলাম যে, এই সরকারকে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্যে দু’বছর সময় দেয়া উচিত। কিন্তু ড. ফখরুদ্দিনের মত ইউনূস সরকারের স্ট্রং ডিটারমিনেশন দেখছি না। অধিকন্তু ইউনূসের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন টালাবাহানা ধরা পড়ছে যে, তারা সংস্কারের ব্যাপারে খুব সৎ নন। আর আওয়ামী লীগ যেহেতু একমুখো নির্বাচন করেছে, সে অবস্থায় সংস্কারের প্রত্যাশা হচ্ছে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের। কিন্তু এরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই যেভাবে সম্ভব আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সব মানুষতো দুর্নীতি করেননি কিংবা খারাপও ছিলেন না। তাহলে কেন পুরো আওয়ামী লীগকেই নিশ্চিহ্ন করা চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ বৈষম্যমূলক সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতির সাথে এটা যায় না। এরইমধ্যে তারা শুরু করলেন সংবিধান সংশোধনের-যা উদ্ভট কাজ। আরো কয়েকটি সেক্টরের জন্যে সংস্কার কমিশন গঠন করে জনগণের প্রত্যাশার সংস্কারকে একটি তামাশায় পরিণত করা হয়েছে। ঐকমত্য কমিশন আরো বড় তামাশার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিরুপাক্ষ পাল বলেন, মব কালচার বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে, জিডিপি গত ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে, তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে এই সরকারের সরে যাওয়া উচিত। এবং এটাই হচ্ছে সময়ের দাবি। তা না হলে রাষ্ট্র আরো খারাপের দিকে যাবে।

নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মূলধারার ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা বলতে চাচ্ছি না যে, সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন হউক। আমাদের মহাসচিব গতকালও বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপি এই সরকারের সংস্কারের ম্যাক্সিমাম উদ্যোগই মেনে নিয়েছে। এমনও অনেক কিছু রয়েছে যেগুলো বিএনপির সাথে যায় না, তা সত্ত্বেও বিএনপি ঐক্যের খাতিরে তা মেনে নিয়েছে। এ অবস্থায় যেসব ইস্যুতে ঐক্যমত হয়নি সেগুলোর সংস্কারের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। এতদসত্তেও যারা নির্বাচনে ভোট পাবে না কিংবা জনগণের সাথে সম্পর্ক নেই-তেমন কিছু মানুষ একটার পর একটা ইস্যু সৃষ্টি করছেন, যেমন পিআর সিস্টেম, এটা কিন্তু সংস্কার কমিশনের কোন এজেন্ডা ছিল না। এটা হঠাৎ করেই সামনে এনে সময়ক্ষেপনের বাহানা করা হচ্ছে। পিআর সিস্টেম সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ এখনো কিছই জানেন না।

কম্যুনিটি লিডার কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন বলেন, সামগ্রিক অবজার্ভেশনে মুহম্মদ ইউনূসের কারণে দেশ এগুতে পেরেছে। প্রফেসর ইউনূস না হয়ে অন্য কেউ দায়িত্ব নিলে একমাসও টিকতো না। যেভাবে প্রশাসন, সেনা প্রধান এবং রাষ্ট্র প্রধানসহ সর্বক্ষেত্রে প্রাক্তন সরকারের (শেখ হাসিনা) অনুসারীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং প্রতিটি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে। এজন্যে অনেক কিছু করার চেষ্টা করেও সক্ষম হননি। সে কারণেই মব জাস্টিস, ছিনতাই-রাহাজানি-খুন-খারাবি যত্রতত্র চলছে। ধর্ষণ বেড়েছে। সামরিক বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসী পাওয়ার দেয়া হয়েছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে অপরাধচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কাজী নয়ন উল্লেখ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা দিয়েছিলেন কিন্তু সেটি জুনের মধ্যে হবে বলে বলা হচ্ছিল। এরপর লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর নির্বাচন জুনের আগে হবে বলে শোনা গেলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ কিংবা রোডম্যাপ ঘোষণা না করায় জনমনে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে।
ফ্লোরিডাস্থ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবং ফোবানার চেয়ারপার্সন আতিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীনরা বিশেষ একটি ঘোরের মধ্যে রয়েছেন। দেশের সত্যিকারের কল্যাণের ব্যাপারে কোন মনোযোগ আছে বলে মনে হয় না। এরফলে গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে সৃষ্ট প্রত্যাশা এখোন হতাশায় নিপতিত হয়েছে। ভোটের অধিকার আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে কিনা সে সংশয়ও দেখা দিয়েছে সুধীজনের মধ্যে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ জুলাই ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us