অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সংগৃহীত ছবি
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধই ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠান, যা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল।
প্রতিবেদনে এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শি জিনপিং-এর সেই বার্তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। চিঠিতে শি আমেরিকা-ভারত সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা বেইজিং-এর স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। একইসঙ্গে, তিনি একজন প্রাদেশিক নেতার নামও উল্লেখ করেন যিনি চীনের তরফে এই উদ্যোগকে নেতৃত্ব দেবেন।
ভারতীয় কূটনৈতিক মহল সূত্রে জানা যায়, এ বছরের জুন মাস থেকেই নয়াদিল্লি চীনা প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। তখনই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপরও নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। একই সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন, কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নাকি তারই মধ্যস্থতায় হয়েছে।
ট্রাম্পের এই চাপের ফলে দিল্লি ও বেইজিং উভয়েই সিদ্ধান্ত নেয় ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের অধ্যায় পেরিয়ে এসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর। তার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক পরিবর্তন। শিগগিরই ভারত-চীন সরাসরি যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা চালু হবে। চীন ভারতের জন্য ইউরিয়ার রপ্তানি শিথিল করেছে। অন্যদিকে ভারতও কয়েক বছর পর চীনা নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু করেছে।
যে শুল্কনীতি দিয়ে ট্রাম্প বেইজিং ও দিল্লিকে একঘরে করতে চেয়েছিলেন, সেটাই উল্টো দুই এশীয় দেশকে কাছাকাছি এনেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্চ মাসেই দিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছিল আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়াতে। শি তখন বলেন, হাতি আর ড্রাগনের একসঙ্গে নাচাই একমাত্র সঠিক পথ। জুলাইয়ে চীনা সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস তো আরও একধাপ এগিয়ে লিখেছিলো, এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তির একসঙ্গে ব্যালে নাচ এখন জরুরি।
সব মিলিয়ে নজর এখন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর আসন্ন সম্মেলনে। সাত বছরের বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাচ্ছেন চীন সফরে, যেখানে শি জিনপিং-এর সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্মেলনই হবে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় বৈঠক।
চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার বলেন, এই সম্মেলন শি জিনপিং-এর জন্য সুযোগ হয়ে উঠবে দেখানোর, যে আমেরিকা-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে যাচ্ছে। ট্রাম্প যেসব দেশকে চাপে রাখতে চাইছেন, চীন, ইরান, রাশিয়া, এমনকি ভারত তাদের মধ্যে সহযোগিতাই এখন নতুন বার্তা।
সূত্র: এনডিটিভি
Posted ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর