নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
গরিবদের মধ্যে সন্দ্বীপ সোসাইটির খাদ্য-সামগ্রি বিতরণ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট টাম্পের শুল্কারোপের জের হিসেবে ক্রেতা-সাধারণকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য অধিক মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি, আরেকদিকে অনেকেরই কর্মঘন্টা কমেছে অর্থাৎ আয় কমেছে। এ অবস্থায় কঠোর পরিশ্রমী বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন কম্যুনিটির মানুষ অর্থ সংকটে নিপতিত হয়েছেন। এহেন অবস্থায় নিপতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে নিউইয়র্কস্থ ‘সন্দ্বীপ সোসাইটি’। প্রতি মাসের তৃতীয় শনিবার তারা সংকটে পড়া মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করছে। গত ২১ মাসে সন্দ্বীপ সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রায় ২০ হাজার আমেরিকানের মধ্যে সাড়ে ৮ লাখ ডলারের খাদ্য-সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে বলে এ সংবাদদাতাকে জানালেন এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ফিরোজ আহমেদ।
১৮ অক্টোবর শনিবার অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে এভিনিউ সি প্লাজায় হাজারো মানুষের ভীড় এবং সেখানেই সুশৃঙ্খলভাবে খাদ্য-সামগ্রি বিতরণের দৃশ্য পথচারিদের দৃষ্টি এড়ায়নি। এরমধ্যে বাংলাদেশী ছাড়াও ছিলেন শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিসপ্যানিকরাও। অর্থাৎ অভাবে পড়া সকলের মধ্যেই অকৃপণভাবে খাদ্যের প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। চাল, ডাল, মাছ, পিয়াজ, আলু, তেল, দুধ, কলা, আপেল, আঙ্গুর, কমলা, শশা, চীজ, উটমিল, গাজর ইত্যাদির প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন সকলে। আর এসব বিতরণ করছেন সন্দ্বীপ সোসাইটির প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসাইনসহ সকল সদস্য।
এ সময় ফিরোজ আহমেদ অবশ্য উল্লেখ করেন, খাদ্য-সামগ্রি ক্রয়ের তহবিল সরবরাহ করছে নিউইয়র্ক স্টেট প্রশাসন। আমরা শুধু ব্যবস্থাপনায় রয়েছি। এতদসত্বেও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ সোসাইটির পক্ষ থেকেও করতে হচ্ছে। আর এমন মহান কাজটি করতে পেরে আমরা সকলেই আনন্দিত। কারণ, চরম এই দু:সময়ে অভাবী মানুষের জন্যে কিছুটা হলেও করতে সক্ষম হচ্ছি।
ফিরোজ আহমেদ বললেন, আমার নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি। তখোন থেকেই মাসে দু’বার খাদ্য-সামগ্রি বিতরণ করেছি এবং তা অব্যাহত ছিল ৬ মাস। কিন্তু বিষয়টি খুবই জটিল বলে পরবর্তিতে মাসে একবার করে বিতরণ করা হচ্ছে। আশে-পাশের মানুষেরাই আসছেন। তবে প্রতিবারই নতুন মানুষের আগমণ ঘটছে ৪০% পর্যন্ত।
সন্দ্বীপ সোসাইটির খাদ্য-সামগ্রি বিতরণ প্রসঙ্গে কথা বলছেন প্রেসিডেন্ট ফিরোজ আহমেদ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের সামগ্রিক কল্যাণের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার আর্ত-মানবতার কল্যাণে কাজের অঙ্গিকারে নিউইয়র্কে দেড় শতাধিক সংগঠন রয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছেন সন্দ্বীপ সোসাইটি। বর্তমান কমিটির উদ্যোগে গত দু’বছর গ্রীষ্মে দুটি বনভোজন হয়েছে যা ছিল প্রবাসের সর্ববৃহৎ আয়োজন। ৬ হাজারের অধিক প্রবাসীর অংশগ্রহণে দুটি বনভোজনে সমস্ত ব্যয়ের পর উদ্বৃত্ত দু’লাখ ডলার সোসাইটির ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়েছেন বলে ফিরোজ আহমেদ জানালেন। তিনি বলেন, ৫ লাখ ডলারের অধিক অর্থ রয়েছে সোসাইটির তহবিলে। এছাড়াও সোসাইটির নিজস্ব একটি ভবন ক্রয় করা হয়েছে কয়েক বছর আগে। সেই ভবনে স্থাপিত হয়েছে একটি লাইব্রেরী। নিউইয়র্ক অঞ্চলে অন্য কোন সংগঠনের নিজস্ব ভবন থাকলেও লাইব্রেরী নেই।
সন্দ্বীপ সোসাইটির সদস্যরা মারা গেলে তার দাফন-কাফনের পুরো দায়িত্ব এই সংগঠনের। গত ২১ মাসে ৩১ লাশের দাফন-কাফনের দায়িত্ব পালন করেছে এই সোসাইটি। এছাড়া মৃত ব্যক্তিগণের পরিবার যদি কঠিন সংকটে থাকে তাহলে তাদেরকে নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ বাবদ প্রতিজনের জন্যে গড়ে ব্যয় হয় ৫ হাজার ডলার করে। জানা গেছে, মৃত প্রবাসীর লাশ এখানে দাফন অথবা দেশে পাঠিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই সোসাইটি। এছাড়া, নানাবিধ কারণে যদি কোন সদস্য স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে যান, তাহলে তাদেরকেও ৩ হাজার ডলার করে প্রদান করা হয়।
সন্দ্বীপ সোসাইটির খাদ্য-সামগ্রি বিতরণের দীর্ঘ লাইন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
সভাপতি ফিরোজ আহমেদ জানালেন, সোসাইটির অর্থে ৮০৭টি কবরের জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। অসহায় প্রবাসীদের জন্যে কবরের জায়গা বরাদ্দ করা হয়।
টানা ৪ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ফিরোজ আহমেদ প্রেসিডেন্ট হবার পর সোসাইটির সদস্য, বিশেষ করে নবাগতদের চিকিৎসা সহায়তা এবং ছাড়াও বর্তমানের অভিবাসন-বিরোধী পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের করনীয় সম্পর্কে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুজ্জামান আরিফ। এছাড়া ব্রুকলীনে মায়মনিডেস হাসপাতালে চিকিৎসারতরা যাতে হালাল খাদ্য পায়, চিকিৎসার সময় অনুবাদক পাশে থাকে, তা নিয়ে দেন-দরবারের পর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছেন বলে জানালেন প্রেসিডেন্ট ফিরোজ আহমেদ।
ফিরোজ বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপে যাতায়াতের ঝক্কি-ঝামেলা অনেক পুরনো ছিল। অনেকেই সকথা দিয়েও কথা রাখেনি। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানী ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ফওজুল কবির সম্প্রতি নিউইয়র্কে এলে তার কাছে সন্দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সংযোগের পরিধি বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলাম। তিনি বাংলাদেশে ফিরেই ফেরী সার্ভিস চালু করেছেন। সাবেক সরকারের আমলে ৫০% এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। এখোন তা ৮০% এ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্দ্বীপ সদর-সহ আশে-পাশের রাস্তাসমূহ ছিল ১২ ফুট করে। ফলে গাড়ি চলাচলে নিদারুন সমস্যা বিরাজ করছিল। এখোন সে সব রাস্তাকে প্রশস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মো. ফওজুল কবির হচ্ছেন সন্দ্বীপের সন্তান। এর আগে কখনোই সন্দ্বীপের কেউ মন্ত্রী ছিলেন না বলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে মনোযোগ ছিল না প্রশাসনের-অভিযোগ ফিরোজ আহমেদের।
Posted ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর