বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
ইউএনএইচআরসি
জুলাই আন্দোলনে জাতিসংঘ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বলে গত ফেব্রুয়ারিতে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে বাস্তবে তা ছিল ফেইক এবং জাতিসংঘ সে রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
ভলকার তুর্ক নিজ উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনের উপর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করেন এবং সেটিকে জাতিসংঘের রিপোর্ট বলে চালিয়ে দিয়েছেন । আসলে রিপোর্টটি জাতিসংঘের রিপোর্ট নয়। এটা ভলকার তুর্কের এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের যৌথ রিপোর্ট । এই রিপোর্টে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বানোয়াট ও মিথ্যা বয়ানে ভরা।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট’ প্রকাশ করতে গেলে হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হয় এবং তখন জাতিসংঘ এর জন্য বাজেট অনুমোদন করে । কিন্তু এই রিপোর্ট প্রকাশের জন্য কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি । কোনো রেজ্যুলেশন পেশ করা হয়নি বা কোনো প্রস্তাব পাশও করা হয়নি। ভলকার তুর্ক নিজ উদ্যোগে কোনো ব্যাক্তি বিশেষ বা কোনো রাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এই রিপোর্টটি মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন । এই রিপোর্টটি ইউএন রিপোর্ট নয়। ইউএন রিপোর্টগুলোতে একটি ইউএন ডক্যুমেন্ট নম্বর থাকে, এটাতে কোনো ডক্যুমেন্ট নম্বর নেই । এটা ভলকার তুর্কের ব্যক্তিগত রিপোর্ট ।
‘বাঙালিকে হাই কোর্ট দেখানো’র মত এই রিপোর্টে অনেক তথ্যর গরমিল আছে। মৃতের সংখ্যা ফুলিয়ে ১৪০০ করা হয়েছে যদিও দেশের সকল নামীদামী পত্রিকা যারা আন্দোলনের সময়ে প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করতো তাদের হিসাবে জুলাই আন্দোলনে মৃত্যের সংখ্যা ৬৫৭ জন। ইউনূস সরকারের স্ব্যাস্থ উপদেষ্টা সর্বোচ্চ ৮৩৪ জনের মৃত্যুর হিসাব দিয়েছেন যার মধ্যে ৫২ জন অন্যবিধ কারণ যেমন গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছেন । ঐ লিস্টের অনেকে আবার জীবিত হয়ে ফিরে এসেছেন ।
ঢাকাস্থ জাতিসংঘ মিশন তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে বলেছিল ৬৫০ জনের মত মারা গেছেন । ইউনূস সাহেবের সাথে আলাপ করার পর ভলকার সাহেব ৬৫০ কে ১৪০০ বানিয়ে ফেলেন।
সবচেয়ে লক্ষণীয় যে রিপোর্টটি জাতিসংঘ প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘের নাম দিয়ে এটাকে প্রচার করা হচ্ছে । এটা একটা বড় জালিয়াতি বৈকি। বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এখনো এনিয়ে কোনো সংবাদ কেন প্রকাশ করেননি-সে প্রশ্ন এখোন ক্রমে চাঙ্গা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবকে অনুরোধ করা হয় যে এ ধরনের বানোয়াট রিপোর্ট জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা বিনষ্ট করছে। সুতরাং এ বিষয়ে নতুন অনুসন্ধান চালানো হোক। জাতিসংঘ জানায় যে, তারা কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করেনি । কোনো রিপোর্ট প্রকাশের জন্য কোনো প্রস্তাব পাশ হয়নি এবং কোনো বাজেটও বরাদ্দ হয়নি । হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে এনিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি । সুতরাং তারা তথাকথিত জুলাই আন্দোলনে হিউম্যান রাইটস কমিশনারের নামে প্রচারিত ফ্যাক্ট ফাইনডিং রিপোর্ট নিয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি নয়, যেহেতু এটা তাদের রিপোর্ট নয়।
এভাবেই বাংলাদেশ বাটপারদের খপ্পরে পড়েছে এবং সেই বাটপারেরা বাঙালির কষ্টে অর্জিত সকল অর্জন চিহ্নিত করার মিশন নিয়ে কাজ করছে-যাতে মানচিত্র থেকে লাল-সবুজের পতাকা মুছে ফেলা সহজ হয়। আবারো বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়।
Posted ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর