দেশ বিনির্মাণে প্রবাসীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিউইয়র্কে জামায়াত নেতা শফিকুর

‘আপনাদের দেখে ওদের চোখ খুলবে। ওরা লজ্জা পাবে। ওরাও মানুষ হবে। ওরাও কাজ করবে’

আনিসুর রহমান   প্রিন্ট
সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

‘আপনাদের দেখে ওদের চোখ খুলবে। ওরা লজ্জা পাবে। ওরাও মানুষ হবে। ওরাও কাজ করবে’

নিউইয়র্কে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ লগ্নে রোববার ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিউইয়র্কের এই হল হচ্ছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ।  আমি যে চেহারাগুলো দেখতে পাচ্ছি এই চেহারাগুলো যদি ডিটারমাইন্ড হয় এবং তারা ডিসিশন নেন যে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রিয় দেশকে কিছু দেব, তাহলে আল্লাহ্্র মেহেরবাণী আমরা পেয়ে যাবো। দেখেন, আমি আপনাদের কাছে টাকা-পয়সা চাচ্ছি না। জাতির জন্যে যা প্রয়োজন (টাকা-পয়সা) তা আপনারা এমনিতেই দিচ্ছেন। আপনাদেরকে অসংখ্য শোকরিয়া, অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদেরকে এই রেমিটেন্সটা দেন, আমাদের ভাঙা-চোরা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে ঠিক করতে সাহায্য করুন। আমাদের ইকনোমির রন্দ্ব্রে রন্ধে¦্র যে উইপোকা-ছারপোকা ঢুকে পড়েছে, ওগুলোকে তাড়ানোর জন্যে আমাদেরকে সাহায্য করুন। ওগুলোর হাত থেকে আমাদের সমাজ-দেহটাকে সুস্থ করতে সাহায্য করুন। আসুন আমাদেরকে সাহায্য করেন আপনাদের নলেজ আর এক্সপার্টিজ।

এ সময় দর্শকের মধ্যে গুঞ্জন উঠে যে, ‘বাংলাদেশে যারা আছেন তারা প্রবাসীদের আন্তরিক আতিথেয়তা জানাতে সীমাহীন কার্পণ্য করেন, পাত্তা দিতে চায় না’। এ গুঞ্জনের ব্যাপারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাঁ-জানি। আজকে একজন চিকিৎসক আমাকে প্রশ্ন করেছেন। দিতে চাই কিন্তু দেশের বুকে যারা আছে তারা তো আমাদেরকে সে সুযোগ দেবে না। আমি বলেছি, দেবে না কেন? বলেন যে, তারা তো আমাদেরকে ওখানে ইন করতেই দেবে না। আমি বলেছি যে, তারা তাদের জগত নিয়ে আছে, তারা সেখানেই থাকুক। আপনাদের (প্রবাসীদের) জন্যে আমরা সেপারেট এভিনিউ তৈরী করে বলবো-আপনারা কাজ শুরু করুন। আমরা আপনাদের সাথে আছি। আপনাদের দেখে ওদের চোখ খুলবে। ওরা লজ্জা পাবে। ওরাও মানুষ হবে। ওরাও কাজ করবে।

নিউইয়র্কে জামাত ইসলামের আমিরকে ফুলেল শুভেচ্ছা.

জামায়াতের নেতা বলেন, এই সরকার প্রবাসীদের এনআইডি কার্ড দিচ্ছে। ভোট দেয়ার অধিকার পেয়েছেন। তাই যারা সৎভাবে দেশ চালাবে বলে মনে করবেন-তাদেরকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশটাকে সুপথে পরিচালিত করার সুযোগ দেবেন-এটাই আমার অনুরোধ।

জামায়াতের আমীর বলেন, আমাদের ব্যাপারে বদনাম দেয়া হয় যে, যদি আমরা ক্ষমতায় যাই মহিলাদেরকে তালা দিয়ে ঘরের ভেতরে আটকে রাখবো। অতো তালা কেনার পয়সা কোথায়? আমাদের মা-বোন নেই? সবার মা-বোন আছে। তারা কী শিক্ষা-দীক্ষা করেনি? তারা কি সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে না? আলহামদুলিল্লাহ সবাই করছেন?

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জনগণের পালস যারা বুঝতে পারে না, তারা কখনোই ক্ষমতায় বসতে পারে নাই। আগামীতে আমরাও পারবো না যদি জনগণের পালস বুঝতে অক্ষম হই। জনগণের পালসকে সম্মান করতে হবে। আমরা সেই সম্মান দেয়ার পক্ষে। আমাদের কয়েকটা প্রায়োরিটি আছে। এক নম্বর প্রায়োরিটি হচ্ছে আমরা আপনাদেরকে দেশে নিয়ে যেতে চাই। আল্লাহ আপনাদেরকে জন্ম দিয়েছিলে বাংলাদেশে। সেই মাটিতে অনেকে বড় হয়েছেন, লেখাপড়া করেছেন। পাঠশালার ইদ, পাথর, নূড়ি-বালি-রড-সিমেন্ট সবগুলোর সাক্ষী আপনারা এবং আপনাদের সাক্ষী ওগুলো।

নিউইয়র্কে ‘কোয়ালিশ অব বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েশন’  (কোবা)’র উদ্যোগে ‘এস্টোরিয়া ম্যানর’এ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রদত্ত ‘নাগরিক সম্বর্ধনা’ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল আজিজ ভ’ইয়া। এবং পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রস্থ সমন্বয়কারি ড. নাকিবুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এবং আমার দল যে প্রতিজ্ঞা করেছিল এই মজলুম বাংলাদেশকে গড়তে হবে। ন্যায় এবং সত্যের পথে কেউ এগিয়ে আসুক আর না আসুক আমাদের এই মজলুম কাফেলা হিম্মত করে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।\

নিউইয়র্কে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সম্বর্ধনা সমাবেশে সুধীর একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মধ্যে শেখ হাসিনা কর্র্তৃক জামায়াতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলো। আল আল্লাহ তা’লা জনগণের মনে ভেতরে ৫ আগস্ট তাদেরকে নিষিদ্ধ করে দিল। এর কোন কৃতিত্ব আমাদের না। সমস্ত কৃতিত্ব আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন ক্ষমতায় বসান, আবার যখোন সীমা লংঘন করে দুনিয়াকে অস্থির করে তোলে, আল্লাহ সেই ক্ষমতা কেড়ে নেন। ইট ইজ আল্লাহ। হি ইজ অ্যলমাইটি। হি সুপ্রীমি অব অ্যল পাওয়ার্স। আসুন আমরা শোকরিয়া আদায় করি আল্লাহ তা’লার।

জামায়াত আমির বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ সংঘটন করা হয়েছে হাজার হাজার ক্যামেরার চোখের সামনে, স্পষ্ট দিবালোকে মানুষের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। এই জঘন্য ঘটনা যারা ঘটিয়েছেন তারা কোন প্রজাতির মানুষ আল্লাহ তা’লা ভাল জানেন। আদৌ তাদের মধ্যে কোন মানবিকগুণাবলী ছিল কিনা তাও আল্লাহ ভালো জানেন। (দর্শকের মধ্য থেকে বলেন আওয়ামী প্রজাতি)। সম্মানীত সুধীমন্ডলি, আমরা চেষ্টা করছি যারা আহত পঙ্গু তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য। কিন্তু এই সংখ্যাটা এতবেশী একটা দলের জন্য বড় কিছু করা বড়ই কঠিন। কিন্তু আমরা তাদেরকে ছেড়ে দেইনি। যেখানেই যার পক্ষ থেকে অনুরোধ এসেছে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়ে তাদের কাছে চলে যাবার চেষ্টা করেছি। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ছুটে চলেছি-গিয়েছি, শান্তনা দিয়েছি, সাহস জুগিয়েছি। তাদেরকে বলেছি, শহীদ হওয়ার বড় আকাঙ্খা ছিল-আল্লাহ তো আমাকে নিলো না। আপনার পরিবারের একজনকে নিয়েছে, গোটা জাতি যুগ যুগ ধরে তাদের কলিজায় এবং হৃদয়ের চাদড়ে ঢেকে রাখবে ইনশাআল্লাহ। এক সন্তান হারিয়েছেন, ১৮ কোটি মানুষকে সন্তান হিসেবে পাশে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর বলেন, এই সরকারের মেয়াদকালে সব হত্যাকান্ডের বিচার করা সম্ভব নয়। তবে তাদের বিদায় নেয়ার আগে দৃশ্যমান কটি রায় দেখার জন্যে জাতি অপেক্ষা করছে। তাহলে আস্থা ফিরে আসবে। এরপর যারাই সরকারে যাবে, আল্লাহ যাদেরকেই মনোনীত করেন, তাদেরকে অবশ্যই এই বিচারের ন্যায়ভিত্তিক সমাধান টানতে হবে। আমরা মকারি বিচার চাই না, আমরা চাই ন্যায় বিচার নিশ্চিত হোক। অভিযুক্তরা যদি তাদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে, তারা খালাস পাবে।

এ সম্বর্ধনা সমাবেশে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রবাসীদের মধ্য থেকে ডা. জুন্নুন চৌধুরী, মুফতি জামালউদ্দিন, মাওলানা আব্দুর রহমান খান, ড. শওকত আলী, ডা. বদরুল ইসলাম, ডা. খালেকুজ্জামান প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ২২ অক্টোবর নিউইয়র্কে এসেই গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের মধ্যদিয়ে সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন জামায়াতের নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

Facebook Comments Box

Posted ৯:১২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us