নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
সীসাজনিত বিষক্রিয়ার ওপর ভিএনএস’র সেমিনারের প্রাক্কালে অতিথি ও আয়োজকদের সাথে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
নিউইয়র্কে প্রবাসীদের পরীক্ষিত বন্ধু কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেছেন, বর্তমানের ক্রান্তিকালে প্রবীনসহ সকল বয়েসী মানুষের চিকিৎসা সেবায় ‘ভিএনএস হেল্্থ’ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সে আলোকেই আজকের এ সেমিনার এবং সেমিনারের মধ্যদিয়ে এলাকার নবীন-প্রবীন সকলের মধ্যে স্বাস্থ্যচেতনতা আরো বাড়বে বলে আশা করছি। সময়ের প্রয়োজনে এমন একটি সেমিনারের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমি ভিএনএস হেল্্থ’র পরিচালক সালেহ আহমেদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
স্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান হাইন্ডম্যানকে পাশে নিয়ে কথা বলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং।
৯ নভেম্বর রোববার দুপুরে কুইন্সের জ্যামাইকায় ‘ম্যারি লুইস একাডেমি’তে লীড পয়েজনিং প্রতিরোধের ওপর এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় ভিএনএস হেল্্থ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর উদ্যোগে। একাডেমি প্রাঙ্গনে প্রাত:রাশের মধ্যদিয়ে শুরু এ সেমিনার পূর্ব আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীওম্যান এলিসিয়া হাইন্ডম্যান, সিটি মেয়রের ডেপুটি কমিশনার (কম্যুনিটি অ্যাফেয়ার্স) পিটার এ ক্যু, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, বাংলাদেশী আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের প্রধান প্রমুখ। এসময় জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ওসমান গণিসহ বিশিষ্টজনেরা ছিলেন।
সীসাজনিত বিষক্রিয়ার ওপর ভিএনএস’র সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জুয়েল ঘোষ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
স্বাগত বক্তব্যে ভিএনএস হেল্্থ’র পরিচালক সালেহ আহমেদ বলেন, কম্যুনিটির প্রবীন তথা সিনিয়র সিটিজেনদের সবধরনের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রি ক্রয়ের জন্যে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ তথা ওটিসি কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থও দেয়া হচ্ছে-যা অন্য যেকোন কোম্পানীর তুলনায় বেশী।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিউইয়র্ক সিটি হেল্্থ ডিপার্টমেন্টের ‘পাবলিক হেল্্থ এডুকেটর’ ডা. জুয়েল ঘোষ। তিনি তার চমৎকার উপস্থাপনায় সীসাজনিত বিষক্রিয়া সম্পর্কে সকলকে সচেতন করেন। সীসা কীভাবে ছড়ায় বা জন্ম নেয় এবং তার প্রভাব শিশু ও গর্ভবতী মহিলার ওপর বিষক্রিয়া তৈরী করে, সীসাঘটিত বিষক্রিয়া থেকে পরিত্রাণের উপায় ও করণীয় ইত্যাদি ছিল জুয়েল ঘোষের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ছিল-যা সকলকে এই নীরব ঘাতকের ব্যাপারে সচেতন করতে সক্ষম হয়। জুয়েল উল্লেখ করেন, আপনি যদি মনে করেন যে বাসা এবং কর্মস্থলে সীসার সংস্পর্শে এসেছেন তাহলে আপনার নিয়োগকর্তা/ল্যান্ডলর্ডের সাথে কথা বলুন। যদি তারা সমস্যার সমাধান না করেন তাহলে ৮০০-৩২১-৬৭৪২ নম্বরে কথা বলুন এবং সরেজমিনে তদন্তের অনুরোধ জানাতে পারেন। অথবা ৩১১ এ ফোন করেও বিষয়টি জানাতে পারবেন।
ভিএনএস’র সেমিনারে অংশগ্রহণকারি প্রবীনদের সীসাজনিত বিষক্রিয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত অবহিত করছেন সালেহ আহমেদ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
জুয়েল আরো বলেন, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা দরকার। সীসা আছে এমন রং, রঞ্জক বা গ্লেজ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। গুড়া মশল্লা, সুরমা, শিশুদের খেলনা থেকেও সীসার বিস্তৃতি ঘটে। বিশেষ করে জরাজীর্ণ ভবন হচ্ছে সীসা বিষক্রিয়ায় অন্যতম উৎপত্তিস্থল। জুয়েল বলেন, সীসা একটি বিপজ্জনক ধাতু যা শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষতি করে। সীসাঘটিত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর শেখার ও আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়, উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় ও কিডনির ক্ষতি হয়।
গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জুয়েল ঘোষ বলেন, আপনি যখোন সীসা মিশ্রিত ধুলো বা ধোঁয়ায় নি:শ্বাস নেন, সীসা রয়েছে এমন কোন পণ্য স্পর্শ করার পর সেই হাত মুখে দিলে অথবা সীসা রয়েছে এমন কোন খাদ্য গ্রহণ করলে সেই সীসা আপনার শরীরে প্রবেশ করে।
এ সময় সীসাঘটিত বিষক্রিয়া নিয়ে আরো কথা বলেন কম্যুনিটির জনপ্রিয় চিকিৎসক শেখ হাসান এমডি, ডা. আতাউল গনি, রুবাইয়া রহমান ভিএনএস’র কম্যুনিটি লিঁয়াজো (হেল্্থ প্ল্যান) চঞ্চল মাহমুদ, কম্যুনিটি আউটরিচ রিপ্রেজেনটেটিভ ইলিয়েন ভেলারেজ প্রমুখ।
Posted ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর