আইসিটি রায়ের নিন্দা জানিয়েছে পাঁচটি ইউরোপীয় সংগঠন

লন্ডন প্রতিনিধি   প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫   সর্বশেষ আপডেট : ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

আইসিটি রায়ের নিন্দা জানিয়েছে পাঁচটি ইউরোপীয় সংগঠন

ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটি রায়ের নিন্দা করেছে । সংগঠনগুলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার বন্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

লন্ডনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠনসমূহের একটি জোট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) প্রদত্ত সাম্প্রতিক রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরে এই জোট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরো, ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ সচিবালয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ বিশেষ প্রতিবেদকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার বিচার করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত আইসিটি তার মূল নীতি থেকে মারাত্মকভাবে সরে গেছে। সাম্প্রতিক কার্যক্রমে আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদন্ড প্রদান অন্তর্ভুক্ত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ও সংশয় দেখা যাচ্ছে। এই কার্যপ্রণালী আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত চুক্তি (ওঈঈচজ) এবং সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (টউঐজ)-তে উল্লিখিত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজ্যুলেশন ৬২/১৪৯-এ প্রতিফলিত মৃত্যুদন্ড স্থগিতের আহ্বানসহ বিবর্তিত আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চিঠিতে উদ্বেগের প্রধান কারণসমূহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবিধানিক বৈধতার অভাব: আইসিটি এমন একটি অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে যার কোনো সাংবিধানিক বৈধতা নেই, যা ইতিহাসে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সংক্ষিপ্ত বিচার ও মৃত্যুদন্ড কার্যকরী ট্রাইব্যুনালের অনুরুপ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন: জোরপূর্বক পদত্যাগ ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রতিবেদন নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল ও ঝুকিপূর্ণ করছে। তড়িঘড়ি বিচার কার্যক্রম: বিচারকার্য অšন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, যথাযথ প্রক্রিয়ার সঙ্গে নয়। যথাযথ আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা: আসামিদের নিজেদের আইনজীবী বেছে নেওয়ার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে এবং অনির্বাচিত রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীদের চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আসামীদের অনুপস্থিতিতে বিচার ও প্রতিরক্ষা সাক্ষীর অনুপস্থিতি: আসামিদের উপস্থিতি ছাড়াই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কোনো প্রতিরক্ষা সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

যোগসাজশের প্রমাণ: ফাঁস হওয়া ভিডিওতে পূর্বনির্ধারিত রায় এবং সাজানো বিচার প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হচ্ছে ইউরোপীয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইইউ ও গ্রেট ব্রিটেন), আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক (গ্লোবাল নেটওয়ার্ক), ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স (গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম), সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম (বেলজিয়াম) এবং ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (জার্মানি)।

 

Facebook Comments Box

Posted ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

nyvoice24 |

Address
New York
Phone: 929-799-2884
Email: nyvoice24@gmail.com
Follow Us