নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
এটর্নী মঈন চৌধুরীর সাথে পলাশ সরকার। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
পারিবারিক সহিংসতার মামলায় সাজাভোগকারী এক প্রবাসীকে গ্রীনকার্ড থাকা সত্বেও ২৪ নভেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনের এই প্রবাসী সম্প্রতি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ফেরার সময়েই ইমিগ্রেশনের এজেন্টরা তাকে গ্রেফতার করেছে। এ প্রসঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগেশনে খ্যাতনামা এটর্নী মঈন চৌধুরী ২৬ নভেম্বর এ সংবাদদাতাকে জানান, এক যুগেরও অধিক সময় আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই প্রবাসীর গ্রীণকার্ড রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে পারিবারিক সহিংসতার একটি মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। সেটি তার জন্যে কাল হয়ে রয়েছে বলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন দমনের অভিযানের টার্গেট হয়েছেন। অর্থাৎ যারা সিটিজেনশিপ নেননি তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হচ্ছে অত্যন্ত নিপূণভাবে। ডিজিটাল সিস্টেমে কারোর গোপন তথ্যই আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাই শুধু নয়, গাড়ি চালানোর সময় রেড লাইট ভায়োলেশনের অভিযোগে অভিযুক্তরাও এখোন ফেঁসে যাচ্ছেন। তবে যারা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এই প্রবাসীকে গ্রেফতারের পর নিউইয়র্ক স্টেটের অরেঞ্জ কাউন্টিতে অবস্থিত ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়েছে। গ্রীণকার্ড বাতিলের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায়। এটর্নী মঈন চৌধুরী উল্লেখ করেন, থ্যাঙ্কসগীভিং-য়ের ছুটি চলছে। সোমবার আমার অফিস ইউএসসিআইএস’র সাথে যোগাযোগের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন কোর্টে তার মুক্তির আবেদন জানাবে। এটর্নী মঈন পরামর্শ দিয়েছেন, গ্রীণকার্ড থাকা সত্বেও যারা মনে করছেন যে বিদেশ ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ (অতীতের কোন দোষের কারণে), তারা যেন আপাতত: বিমানে উঠার চেষ্টা না করেন। এদিকে, নিউইয়র্ক সিটি ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে ২৬ নভেম্বর বিলি করা এক সতর্কতা নোটিশে (লিফলেট) বলা হয়েছে, শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নয়, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ওয়ার্কপারমিটর এবং গ্রীণকার্ডধারীর ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছেন অভ্যন্তরীণ রুটেও। অতীতে যে কোন ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ইমিগ্র্যান্টদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি নিউইয়র্কের লাগায়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীরাও বিপদে পড়েছেন বলে নিউইয়র্ক সিটি ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, ভিসার রীতি লংঘনকারি এক বাংলাদেশী ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। দীর্ঘ চার মাস আইনী লড়াইয়ের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তিলাভ করেছেন।
ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের বিলি করা সতর্কতা লিফলেট। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাবার পর এসাইলামের আবেদন করেছিলেন ফিলাডিলফিয়া সিটিতে বসবাসরত পলাশ সরকার (৩৫) নামক এক বাংলাদেশী। এরপর তিনি এটর্নীর মাধ্যমে এসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) প্রার্থনা করেছিলেন এবং সেজন্যেই নিউইয়র্কস্থ ফেডারেল প্লাজায় ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে গত ৩ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন এই প্রবাসী। উল্লেখ্য, পলাশের সাথে ছিলেন স্ত্রী ও ৪ বছর বয়েসী এক সন্তান। তাদেরকে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এ্যানফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা গ্রেফতার করেনি। পলাশ মুক্তি পেয়েছেন ৪ মাস ৪ দিন পর গত ৭ নভেম্বর টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে। তার মুক্তির জন্যে আইনগত লড়াই করেছেন নিউইয়র্কে খ্যাতনামা ইমিগ্রেশন এটর্নী মঈন চৌধুরী। এটর্নী মঈন এ সংবাদদাতাকে জানান, পলাশ সরকার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ২০২১ সালের ২৩ জুন। জেএফকে এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে ৬ মাসের ভিসা (বি১/বি২) মঞ্জুর করেছিল অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পলাশের ভিসার মেয়াদ ছিল। কিন্তু তিনি ঐ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে যাননি। মেয়াদ শেষ হবার বেশ কদিন পর এটর্নীর মাধ্যমে এসাইলামের আবেদন করেছিলেন ইউএসসিআইএস-এ। সে অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিটও পেয়েছেন। রয়েছে সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বরও। ঐ আবেদনের পর পলাশ নিউইয়র্ক থেকে ফিলাডেলফিয়ায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। সেখান থেকেই সপরিবারে ৩ জুলাই এসেছিলেন নিউইয়র্কে ফেডারেল কোর্টে পূর্ব নির্দ্ধারিত তারিখে হাজিরার জন্যে। ওৎপেতে থাকা আইসের এজেন্টরা তাকে স্ত্রী-সন্তানের সামনে থেকে গ্রেফতার করেছিল। তাকে নিউইয়র্কে ডিটেনশন সেন্টারে একদিন রাখার পর পাঠিয়ে দেয়া হয় নিউজার্সিতে। এরপর সেখান থেকে নেয়া হয় টেক্সাসের আরেকটি ডিটেনশন সেন্টারে। এটর্নী মঈন চৌধুরী আরো জানান, তার জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। এরপর একমাস সময় ছিল ইউএসসিআইএস (ইউএস সিটিজেনশিপ এ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস) এর আপিল করার। কিন্তু তারা আপিল করেননি বলে ৭ নভেম্বর টেক্সাস থেকে মুক্তি পেয়েছেন পলাশ সরকার। পলাশ সরকার নিজেও সোস্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্টে তার মুক্তির জন্যে কাজ করা এটর্নী মঈন চৌধুরী-সহ ‘এবিসি হেল্প’ নামক একটি সংগঠনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এটর্নী মঈন চৌধুরী জানান যে, পলাশ সরকারকে নয়া একটি তারিখ দেয়া হয়েছে নিউইয়র্কস্থ ফেডারেল প্লাজায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজিরার জন্যে।
মঈন চৌধুরীর লেখা ‘দ্য রোড টু আমেরিকা’ বই হাতে এটর্নী মঈন চৌধুরীর সাথে এটর্নী জন ডব্লিউ রীভস। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।
এ ধরনের পস্থিতিতে সন্ত্রস্ত গোটা কম্যুনিটি। সকলকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, চলাফেরা বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণে ইচ্ছুক গ্রীণকার্ডধারীরা যেন অভিজ্ঞ এটর্নীর পরামর্শ নেন। ইমিগ্রেশনের চলমান ক্রান্তিকালে অনেক টাউট-বাটপার নিজেকে এটর্র্নী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং মহাসংকটে ফেলছে সহজ-সরল প্রবাসীদের-এমন অভিযোগ পাও যাচ্ছে।
Posted ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর