নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
ফেডারেল প্লাজা।
নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল ভবনে অবস্থিত ইমিগ্রেশন কোর্টের আরো ৮ বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ‘দ্য ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ইমিগ্রেশন জাজ’র উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে উদ্বেগজনক সংবাদটি ছাপা হয়েছে। চলতি বছর সারা আমেরিকায় ইমিগ্রেশন কোর্ট থেকে আরো ৯০ বিচারক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে নিউইয়র্কের ছিলেন ৬ বিচারক। এরফলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যস্ততম ইমিগ্রেশন কোর্টের স্থবিরতা আরো চরমে উঠবে বলে এটর্নীরা মনে করছেন। আর এমন সময়ে এই বরখাস্তের আদেশ জারি হয়েছে যখোন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে অভিবাসন বিরোধী জোরদার করা হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসরতদের গ্রেফতারের পর বহিষ্কারের প্রাক্কালে আত্মপক্ষ সমর্থনের রীতি রয়েছে বিদ্যমান আইনে। কিন্তু বিচারকের সংখ্যা একেবারেই কমিয়ে ফেলায় গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই সে সুযোগ পাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ইমিগ্রেশন এটর্নীরা। সর্বশেষ বরখাস্ত হওয়া ৬ জনের অন্যতম হলেন আমিনা এ খান, তিনি ছিলেন এই কোর্ট হাউজে কর্মরত বিচারকগণের সুপারভাইজিং কর্মকর্তা। ‘দ্য ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ইমিগ্রেশন জজ’র পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে যে, এর আগে বরখাস্তকৃত ৯০ জনের শুন্য আসনে মাত্র ৩৬ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। আরো জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাধিক ইমিগ্রেশন কোর্টে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ৩৭ লাখের মত। এগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে আবেদনকারিগণের ভাগ্য। অর্থাৎ রাজনৈতিক আশ্রয়ের চ’ড়ান্ত সিদ্ধান্ত অথবা পারিবারিক কোটায় অভিবাসনের ভিসা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান অথবা অন্য কোন কারণে স্ট্যটাস এডজাস্টমেন্টের নিস্পত্তির আদেশ দিয়ে থাকেন এসব বিচারক।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত আইন প্রতিপদে থমকে দাঁড়াচ্ছে বলেও মানসবাধিকার ও অভিবাসনদের অধিকার নিয়ে কর্মরতরা উল্লেখ করেছেন।
ইমিগ্রেশন কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারকের সংকটে ইতিমধ্যেই অসংখ্য মামলার তারিখ স্বয়ক্রিয়ভাবে ২০২৮ সালে পরিবর্তিত হয়েছে। আরো জানা গেছে,
রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার অনেক আবেদন শুনানী ছাড়াই সরকারের পক্ষ থেকে বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থাৎ প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে নিরাপদ সন্ধানের আসা অসহায় বিদেশীগণের ভাগ্য। ইমিগ্রেশন কোর্টে কর্মরতদের সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে গত সপ্তাহে এক আফগান ইমিগ্র্যান্টের নির্বিচার গুলিতে ন্যাশনাল গার্ডের একজন সদস্য নিহত এবং আরেকজন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার ঘটনার পরই ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানসহ ১৯ দেশের নাগরিকের ভিসা নিষিদ্ধ এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে ঝুলে থাকা এসাইলামের মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, পারিবারিক কোটায় ইমিগ্রেশন ভিসার প্রসেসিং-ও থামিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ এক ব্যক্তির অপকর্মের দায় গোটাবিশ্বের অসহায় মানুষের ওপর চাপানো হয়েছে।
Posted ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর