নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
বক্তব্য দিচ্ছেন শাহানা হানিফ।
শ্রম দফতর কর্তৃক সিদ্ধান্ত প্রদানের পরও শ্রমিকদের বকেয়া পারিশ্রমিক প্রদানে গড়িমসির নিন্দা-প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে জরিমানাসহ ৩ মিলিয়ন ডলার প্রদানের দাবিতে ২ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনের পার্কস্লোপে ‘ইন্ডিয়ান স্পাইস রেস্টুরেন্ট’র সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। বাংলাদেশী শ্রমিকগণের দীর্ঘদিন ন্যায্য মজুরি থেকে শুধু বঞ্চিত করাই হয়নি, একইসাথে মাসের পর মাস কোন মজুরি প্রদানও করা হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপনকারি কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ বলেন, এই রেস্টুরেন্টের মালিক মরিয়ম খন্দকারের নির্দয় ও নিষ্ঠুর আচরণে অতীষ্ঠ কর্মচারিরা ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করেছিলেন আমার অফিসে। সাথে সাথে আমি বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত জেনে ওয়ার্কার্স জাস্টিস প্রজেক্ট, ব্রুকলীন লিগ্যাল সার্ভিস এবং ব্রুকলীন ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর অফিসে যোগাযোগ করি। এরপরই মজুরি না পাওয়া শ্রমিকেরা তথ্য-উপাত্তসহ নিউইয়র্ক স্টেট শ্রম দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর শ্রম দফতর মরিয়ম খন্দকারকে শ্রমিকের চুরি করা মজুরির সাথে জরিমানা-সহ মোট ৩ মিলিয়ন ডলার অবিলম্বে পরিশোধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু এখোন পর্যন্ত তা পরিশোধ করা হয়নি বলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। শাহানা হানিফ ক্ষুব্ধচিত্তে বলেন, শ্রমিকেরা বকেয়া মজুরি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না। তাই শ্রম দফতরের কাছে আহবান জানাচ্ছি অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের। মরিয়ম খন্দকার যাতে শ্রমিকের বকেয়া মজুরি প্রদানে বাধ্য হন সে ব্যবস্থা করতে হবে। মরিয়ম খন্দকারের সহায়-সম্পদ হস্তান্তরের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। শাহানা আরো বলেন, সহকর্মীগণকে সাথে নিয়ে রাজু আহমেদ এসেছিলেন আমার অফিসে। কাজ করেও বেতন না পেয়ে তারা চরম দুর্দশায় নিপতিত হয়েছিলেন। আমি এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রেখে ন্যায্য পারিশ্রমিকের একটা সুরাহা করতে সক্ষম হলেও মরিয়ম খন্দকারের অনীহা সমস্যাটিকে জিইয়ে রেখেছে। যা সহ্য করার নয়।
শ্রম দফতর থেকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক লিখিত নোটিশে মরিয়ম খন্দকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমাও অতিবাহিত হয়েছে ২৪ নভেম্বর। এখনো মরিয়ম খন্দকার চুরিকৃত মজুরির অর্থ প্রদানে ন্যূনতম কোন উদ্যোগ না নেয়ায় রেস্টুরেন্টেরন সামনে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেয়া হয়। এতে আরো ছিলেন সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড লেন্ডার, ওয়ার্কার্স জাস্টিস প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক লিজিয়া গোয়ালপা।
ইন্ডিয়ান স্পাইস রেস্টুরেন্টের সামনে বিক্ষোভ।
কম্পট্রোলার লেন্ডার এ সময় বলেন, কাউন্সিলওম্যান শাহানা এবং ওয়ার্কার্স জাস্টিস প্রজেক্টের নিরন্তর চেষ্টায় কঠোর পরিশ্রমিক শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আদায়ের এই প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো যে, নিউইয়র্ক হচ্ছে কর্মজীবীগণের গড়া একটি শহর যেখানে শ্রমিকের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোন সুযোগ নেই। আমরা শ্রমিকের মর্যাদা সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর।
বিক্ষাভের সময় রেস্টুরেন্টটি বন্ধ ছিল।
জানা গেছে, নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্ট শ্রমিকের ২৫% অধিকাংশ সময়েই ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিবাসনের মর্যাদা না থাকায় অনেকে ১২/১৪ ঘন্টা কাজের বিনিময়ে কেবলমাত্র পেট ভরে খাবার খেতে পারেন। ন্যূনতম মজুরি নিয়ে মালিকের সাথে শ্রমিকেরা দেন-দরবারের সুযোগ পান না ওয়ার্ক পারমিটহীনরা। তাদেরকে সবসময় ভয়-ভীতির মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
Posted ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর