অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাতে বিড়ি খাওয়ার সময় একদল স্থানীয় যুবক তাদের পথরোধ করে ‘বাংলাদেশি’ কি না তা জানতে চায়। পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার কার্ড দেখানোর আগেই উগ্রপন্থী দলটি তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জুয়েলের পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ভারতে চলমান ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যু এবং তার জেরে বাংলাভাষী মানুষের ওপর নেমে আসা সামাজিক নিপীড়নের একটি অংশ। স্থানীয় পুলিশ অফিসার তোফান বাগ জানিয়েছেন, আধার কার্ড দেখতে চাওয়ার নাম করে একদল স্থানীয় বাসিন্দা এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ওড়িশাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের নির্বিচারে হেনস্থা করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে কাজ করতে যাওয়া ফেরিওয়ালা ও শ্রমিকরা প্রায়ই এমন পরিচয় সংকটের মুখে পড়ছেন। কেবল বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাদের বিদেশি বা অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণেই সাধারণ শ্রমিকরা আজ নিজ দেশের ভেতরেই ‘পরবাসী’ এবং নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছেন। জুয়েল রানার এই মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ জাতিগত সহনশীলতার ওপর এক বড় আঘাত।
Posted ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর