এজাজ আহম্মেদ
প্রিন্ট
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
সংগৃহীত ছবি
স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করলেন, তখন রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সেটি ছিল এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্পেনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়। ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবের জন্য এটি ছিল শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং মর্যাদারও প্রশ্ন।
আর ঠিক সেই কারণেই কি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্পেন মাঠে নামার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্ক কুকুরেয়াকে দলে ভেড়াল রিয়াল মাদ্রিদ?
দলবদলের বাজারে সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন চলে, আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসে, এরপর হয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। কিন্তু কুকুরেয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। কোনো বড় ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ করেই চেলসি থেকে স্প্যানিশ এই লেফট ব্যাককে দলে টানার খবর জানান দলবদল বিশেষজ্ঞ ফাবরিজিও রোমানো। জানা গেছে, এই ট্রান্সফারে রিয়ালের খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে বাস্তব ফুটবলীয় কারণও।
বর্তমান স্কোয়াডে বাঁ প্রান্ত নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না নতুন কোচ জোসে মরিনহো। ফারল্যান্ড মেন্ডি প্রায়ই চোটে ভোগেন, ফ্রান গার্সিয়া এখনো প্রত্যাশার ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি, আর আলভেরো কারেরাসকে ঘিরে ড্রেসিংরুমে নানা অসন্তোষের খবর রয়েছে। ফলে অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত এবং বড় ম্যাচে খেলার অভ্যাস আছে—এমন একজন লেফট ব্যাকের প্রয়োজন ছিল রিয়ালের।
সেই জায়গায় কুকুরেয়া ছিলেন আদর্শ সমাধান। প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটন ও চেলসির হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা এবং একাধিক পজিশনে খেলার সামর্থ্য—সব মিলিয়ে তিনি মরিনহোর চাহিদার সঙ্গে মানানসই।
কিন্তু গল্পের আরেকটি দিকও আছে।
রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাব নিজেদের শুধু একটি ফুটবল দল হিসেবে দেখে না; তারা নিজেদের স্পেনের ফুটবল ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতিনিধিও মনে করে। সেই ক্লাবের একজন খেলোয়াড়ও যদি জাতীয় দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না থাকে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিব্রতকর। ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের কাছে বিষয়টি যে সুখকর ছিল না, তা অনুমান করাই যায়।
কুকুরেয়াকে দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে সেই অস্বস্তি অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তত একজন রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় আছেন, যদিও কয়েক দিন আগেও তিনি ছিলেন চেলসির সদস্য।
অন্যদিকে চেলসির অবস্থানও এই ট্রান্সফারকে সহজ করে দিয়েছে। নতুন কোচ জাবি আলোনসো দলকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। তরুণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিকল্পের দিকে ঝুঁকে থাকায় কুকুরেয়া ধীরে ধীরে তাঁর পরিকল্পনার বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। ফলে সুযোগটি কাজে লাগাতে দেরি করেনি রিয়াল।
সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্নের উত্তর হয়তো সাদা-কালো নয়। কুকুরেয়ার ট্রান্সফারের পেছনে যেমন রয়েছে রিয়ালের ফুটবলীয় প্রয়োজন, তেমনি রয়েছে ক্লাবটির মর্যাদা ও প্রতীকি উপস্থিতি ধরে রাখার ইচ্ছাও। তাই বলা যায়, কুকুরেয়াকে কেনার সিদ্ধান্তে ফুটবল এবং আত্মসম্মান—দুটোই সমানভাবে কাজ করেছে।
Posted ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর