এজাজ আহম্মেদ
প্রিন্ট
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সংগৃহীত ছবি
#
দুর্নীতি শুধু রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরেই এর বিস্তার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রাজনীতিবিদদের স্বাক্ষর থাকায় শেষ পর্যন্ত দায় তাঁদের ওপরই বর্তায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে দুদকের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবি সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দুর্নীতি সব জায়গায় হয়। ঘুরেফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদের হয়। কিন্তু যতগুলো ফাইল স্বাক্ষর হয়, শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদকেই সই করতে হয়। এজন্য সব দায় তাঁর ঘাড়ে এসে পড়ে।”
দুদকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দুদক গঠনের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুদককে শক্তিশালী করতে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা সংসদে অনুমোদন পায়নি। ফলে আগের আইনই বহাল রয়েছে। সেই আইনের বিধান অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হবে।
সার্চ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির মনোনীত প্রতিনিধি নিয়োগে দেরি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। তবে এখন সেই জট কেটে গেছে এবং দ্রুত কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও দুদক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। নতুন সরকারও দুদককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দুদককে শক্তিশালী করতে সংশোধনী এনেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগকে আইনে পরিণত করেনি। এতে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দুদকের প্রকৃত স্বাধীনতা নেই। নিয়োগ ও কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে তিনি কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংসদের আলোচনায় দুদকের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা এবং দুর্নীতি দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা যায়। তবে সরকার পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইন ও নতুন কমিশনের মাধ্যমে দুদককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Posted ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর