Blog

  • আফ্রিকাকে যা নিয়ে সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    আফ্রিকাকে যা নিয়ে সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ডিআর কঙ্গোর আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামেকে সমাবেশে সভায় যোগ দিতে দেখা গেছে। কিন্তু এম২৩ তার দেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি শীর্ষ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন।

    গত মাসে উত্তর কিভুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী গোমা দখলের সময় কঙ্গোর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে রুয়ান্ডা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীট এম২৩।

    নিরাপত্তা ও মানবিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর বুকাভুতে অগ্রসর হওয়ার আগে তারা সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর দখল করে।

    শীর্ষ সম্মেলনে এক ভাষণে গুতেরেস রুয়ান্ডার নাম উল্লেখ না করে নেতাদের বলেন, “এম২৩ আক্রমণের ধারাবাহিকতার ফলে দক্ষিণ কিভুতে যে লড়াই চলছে তা পুরো অঞ্চলকে খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়ার হুমকিতে ফেলেছে।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “যে কোনও মূল্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা এড়াতে হবে। এর কোনও সামরিক সমাধান নেই।” তার মতে, “সংলাপ শুরু করতে হবে। এবং কঙ্গোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।”

    কঙ্গোতে আঞ্চলিক দাঙ্গার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আফ্রিকান ইউনিয়ন তার ভীতু মনোভাবের জন্য সমালোচিত হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা আরও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন শনিবার বলেছে, বুকাভু থেকে আসা খবরের পর তারা “জরুরিভাবে” সমস্ত বিকল্প বিবেচনা করছে। এটি সতর্ক করে দিয়েছে, “কঙ্গোর আঞ্চলিক অখণ্ডতার চলমান লঙ্ঘন উত্তরহীন থাকবে না।”

    Facebook Comments Box
  • পুতিনের কৌশলে পাল্টে যাচ্ছে ভূ-রাজনীতি

    পুতিনের কৌশলে পাল্টে যাচ্ছে ভূ-রাজনীতি

    সময়ের বিবর্তনে আমরা আজ ২০২৫ সাল এসে পৌঁছেছি। লন্ডনে এখনো হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ নেই। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে আগামী সপ্তাহে বরফ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হিমাংকের নিচে তাপমাত্রা থাকবে প্রায় রাত্রেই। প্রকৃতিতে যখন এমন অবস্থা, তখন পশ্চিমা বাজার অর্থনীতিতে নেমে এসেছে সাহারার তপ্ত আগুনের হলকা। বাজার একেবারে গরম। আর সেই গরমে বেসামাল পশ্চিমের মানুষরা। হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে সাধারণ মানুষজন।

    অথচ পশ্চিমের রাজনীতিবিদ, উদার অর্থনীতিবিদ, যুদ্ধবাজ সামরিক বিশেষজ্ঞগণসহ মার্কা মারা পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রতিনিয়ত ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে, যেন এখনো কিছুই হয়নি। যা কিছু হচ্ছে, সবই ভালোর জন্য, গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য, ইউক্রেনকে জয়ের আসনে আসীন করার জন্য। মিথ্যাচার চলছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। দিনকে রাত বানানোর আর সত্যকে মিথ্যা বানানোর গল্পে থাকতে থাকতে একদিন যখন মহা বিপদের দামামা বেজে উঠবে, সে দিন যে আর বাঁচার উপায় থাকবে না, সেটা এখনো পশ্চিমাদের মগজে ঢুকেনি।

    যুদ্ধের প্রায় তিন বছর শেষ হতে চললো। সংকট শুরু হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে কত কিছু ঘটে গেলো, তা আমাদের সকলেরই জানা। তবে যেটা কেউ জানতে পারেনি, বা বুঝতে পারেনি কিংবা বুঝতে চায়নি, সেটা হলো এই সংকটে পশ্চিমাদের ভরাডুবি হবে, ইউক্রেনের পতন হবে এবং রাশিয়া জয়ের মুকুটে সজ্জিত হবে। পুতিন হয়ে উঠবেন এক পরাক্রমশালী, বুদ্ধিদ্বীপ্ত রণকৌশলী বিশ্ব নেতা। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এক অভ‚তপূর্ব মনোযোগ আকর্ষণ লক্ষণীয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক অংশগ্রহণের কারণে। এদের সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের সাঙ্গো-পাঙ্গোরা।

    অর্থাৎ ন্যাটোভুক্ত আরো কিছু দেশ। মূলত ইউ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোই সংকটে ইউক্রেনের পক্ষ নেয় এবং ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। প্রায় ৫০টিরও অধিক পশ্চিমা দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সামরিক সাহায্য আর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলে দিচ্ছে ইউক্রেনকে। লক্ষ্য একটাই, রাশিয়াকে যে কোনোভাবে পরাস্ত করতে হবে। রাশিয়ার পরাজয় মানে পশ্চিমাদের একচ্ছত্র আধিপত্য আর বিশ্বব্যাপী লম্ফ-ঝম্প। আট-ঘাট বেঁধে লেগেছে পশ্চিমা দেশগুলো। প্রয়োজনে ইউক্রেনের সবাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুক, মরতে হয় মরবে, তবুও রাশিয়াকে দমাতে হবে, পুতিনকে ধ্বংস করতে হবে, এতে করে যদি পশ্চিমের মানুষদের নাভিশ্বাসও শুরু হয় অসুবিধে নেই। তাই কোমরে গামছা বেঁধে নেমেছিল পশ্চিমারা। গত কয়েক বছরে, এই পশ্চিমা দেশগুলো বিশাল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইউক্রেনকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

    ইউক্রেন হয়ে উঠেছে পশ্চিমাদের ভিক্ষার ঝুলি, আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুক। একের পর এক অনুরোধ করেছেন এবং পশ্চিমারা সব কিছু ঢেলে দিয়েছেন। এসব প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল করা, তাকে পিছু হটাতে বাধ্য করা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে, যেখানে রাশিয়া এবং তার নেতা ভøাদিমির পুতিন আগের চেয়ে আরও দৃঢ় এবং অনেক ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। একেই বলে শাপে বর।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলো যুদ্ধবাজদের সর্দার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে ১৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বরাদ্দ এবং ৮৬.৭ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে সরাসরি সামরিক সহায়তা, বাজেটারি সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক এবং জরুরি সহায়তা এবং অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মধ্যে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত।

    যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের জন্য ১২.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার মধ্যে সামরিক সহায়তায় ৭.৮ বিলিয়ন এবং ৫ বিলিয়ন অ-সামরিক সহায়তা। ২০২৪ সালের মার্চ নাগাদ, বেশিরভাগ পশ্চিমা সরকার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ৩৮০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার মধ্যে স্বতন্ত্র দেশগুলো থেকে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ছিল সরাসরি সামরিক সহায়তা। একত্রে, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টা বজায় রাখতে এবং রাশিয়াকে দমন করতে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

    এই আর্থিক প্রতিশ্রুতি ছাড়াও, এই দেশগুলো রাশিয়ার অর্থনীতির প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে, বিশেষ করে শক্তি, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পর্যন্ত বিশ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভেবেছিল এসব করে রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেবে, রাশিয়াকে ধ্বংস করে দেবে, পুতিনকে ক্ষমতা থেকে জনগণ ছুড়ে ফেলে দেবে। কিন্তু পশ্চিমারা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি ভবিতব্যের দেবতা লুকিয়ে লুকিয়ে মিট মিট করে হাসছিলো পশ্চিমাদের হম্বি-তম্বি আস্ফালনে। যা হবার তাই হতে চলেছে। সব কিছুই একেবারে উলট-পালট। রাশিয়া আর পুতিনের জয়জয়কার। অর্থনীতিতে নেমেছে জোয়ার আর স্পেশাল মিলিটারি অপারেশনে চলছে উল্লাস। একের পর এক এলাকা দখলে নিচ্ছে রাশিয়ার বাহিনী।

    শত্রুপক্ষের কঠিন দেয়াল ভেদ করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে রাশিয়ার সৈন্য বাহিনী বীর দর্পে। পশ্চিমাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টা অর্থায়নে বাধা সৃষ্টি করা এবং বৈশ্বিক মঞ্চে তাকে একঘরে করার পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। তবে, এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ সত্তে¡ও, রাশিয়া বিকল্প বাণিজ্য পথ কাজে লাগিয়ে এবং চীন, ভারত ও তুরস্কের মতো অ-পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করে অভিযোজিত হতে পেরেছে। একে রাশিয়ার বিশাল জয় আর পশ্চিমাদের ভরাডুবি ছাড়া আর কিইবা বলা যায়? গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিকভাবে, রাশিয়া উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে। ২০২৩ সালে, এর জিডিপি ছিলো ৩.৬% এবং ২০২৪ সালে নভেম্বর পর্যন্ত ছিলো ৪ শতাংশ, যা অনেক উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশ ভালো। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর জিডিপির অবস্থা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী হয়েছে শক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে তেল এবং গ্যাস থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দ্বারা।

    এছাড়াও, রাশিয়ান রুবল, যদিও অস্থিরতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রতি মার্কিন ডলারে ১০০ রুবলের কাছাকাছি স্থিতিশীল হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধরনের কর্মক্ষমতা পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশার বিপরীত, যারা রাশিয়ার ভয়ানক এবং গভীর অর্থনৈতিক পতনের প্রত্যাশা করেছিল। নিষেধাজ্ঞাগুলো অবশ্যই কিছুটা ব্যয় চাপিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চতর মুদ্রাস্ফীতি, নির্দিষ্ট প্রযুক্তি এবং উপাদানগুলোর উৎস খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। তবে, রাশিয়া কৌশলগত আমদানি প্রতিস্থাপন এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই প্রভাবগুলো সফলভাবে হ্রাস করেছে। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ান বিলিয়নিয়াররা তাদের সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে পুনঃনির্দেশিত করেছে, যা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করেছে। এই অভিযোজন কেবল রাশিয়ার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখেনি বরং এর স্বনির্ভরতাও বাড়িয়েছে, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ধরনের অর্থনৈতিক অপ্রতিরোধ্যতা সৃষ্টি করেছে।

    পুতিন নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একজন স্থিতপ্রাজ্ঞ, বুদ্ধদ্বীপ্ত কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন এই সংকটকালীন সময়ে। নিষেধাজ্ঞাগুলো তার অবস্থানকে দুর্বল করার পরিবর্তে বরং জাতীয়তাবাদী মনোভাবকে উদ্দীপিত করেছে এবং ইউক্রেনে পুতিনের পদক্ষেপকে যথোপযুক্ত বলেই সার্বিকভাবে পুতিনে রাশিয়ার জনগণ সমর্থন দিয়েছে। আর তারই ফলশ্রুতিতে প্রেসিডেন্ট পুতিন জনগণের সমর্থনকে পুঁজি করে প্রশাসনকে নবোদ্যমের সাথে তার ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো অনুসরণ করতে সক্ষম করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে পশ্চিমা জোটের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।

    যুদ্ধ প্রচেষ্টা বজায় রাখায় আর্থিক এবং রাজনৈতিক ব্যয় বাড়তে থাকে যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক পরিস্থিতিতে নিয়ে যায়। কোনো কোনো ইউরোপীয় দেশ তাদের দেশের মধ্যে শক্তি মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে অসন্তোষের মুখোমুখি হয়েছে, যা রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার সাথে সংযুক্ত। যার ফলে ওইসব দেশগুলোতে সরকরের ইউক্রেন নীতির প্রতি জনসমর্থন হ্রাস পেতে থাকে। সত্যিকারের বাস্তবতা হলো, বিশাল পশ্চিমা বিনিয়োগ এবং প্রচেষ্টা সত্তে¡ও, এই সংঘাত রাশিয়ার জন্য কৌশলগত আঘাত এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    পশ্চিমা শক্তি দ্বারা রাশিয়াকে দুর্বল করার কল্পনা ক্রমশঃ বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে। এই জটিল ভ‚-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, পশ্চিমাকে তার কৌশল এবং রাশিয়ার প্রতি তার বৃহত্তর কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে হতে পারে। তবে এটা স্বীকার করতে হচ্ছে যে, রাশিয়া এবং পশ্চিমের মধ্যে তথাকথিত শক্তি খেলা এখনো শেষ হয়নি, এবং এই উচ্চ ঝুঁকির প্রতিযোগিতায় পুতিন একটি উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় হিসাবে প্রমাণিত হয়েছেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তার গত শাসন আমলে “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কৌশল এবং সংঘাতের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন রকম ছিল।

    ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দাবি করেছেন যে তার প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলে এই সংঘাত এতদূর গড়াত ইতোমধ্যে তিনি রাশিয়ার সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প এমন একটি অবস্থান নিতে পারেন যেখানে তিনি যুক্তি দেবেন যে নিষেধাজ্ঞা এবং বিশাল আর্থিক ব্যয়ের পরিবর্তে ক‚টনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধান অর্জন করা সম্ভব। এছাড়া, ইউক্রেনকে দেয়া বিশাল সামরিক এবং আর্থিক সহায়তার কারণে আমেরিকান অর্থনীতির উপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, সেটি কমানো তার জন্য একটি অগ্রাধিকার হতে পারে।

    তবে ট্রাম্পের এই নীতি কার্যকর করতে হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক‚টনৈতিক দক্ষতা এবং ইউক্রেনের জন্য একটি সম্মানজনক সমাধান নিশ্চিত করার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থার প্রয়োজন হবে। রাশিয়া এবং পশ্চিমের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব অর্জন করা সহজ হবে না, কারণ এটি কেবল যুদ্ধ শেষ করার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস করার প্রশ্ন। একই সময়ে, ট্রাম্পের সমালোচকরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে তার পন্থা রাশিয়ার প্রভাব বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং পশ্চিমা জোটের ঐক্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে, তার ক্ষমতায় আসার পর, এই জটিল পরিস্থিতি কীভাবে তিনি সমাধান করবেন তা দেখার বিষয় মাত্র। তবে এটা স্পষ্ট যে, ইউক্রেন সংকটে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    বিপুল অর্থ ব্যয়, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সহায়তা সত্ত্বেও রাশিয়া এবং ভ্লাদিমিরি পুতিন এই সংঘাতের প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রাশিয়া শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠেনি, বরং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাশিয়া চীন, ভারত এবং অন্যান্য ব্রিকস সদস্যদের সাথে তার কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করেছে। এই গোষ্ঠী এখন একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্লক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, যা পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রস্তুত। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিকল্প বাণিজ্য পথের সফল ব্যবহার প্রমাণ করে যে, এই নতুন জোট পশ্চিমের তুলনায় আরও কার্যকরী এবং স্বনির্ভর হওয়ার ক্ষমতা রাখে।

    খুব শিগগিরই ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রাশিয়া এবং তার মিত্রদের পক্ষে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিকস-এর শক্তি বৃদ্ধি এবং এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভ‚মিকার প্রসার পশ্চিমা আধিপত্যকে আরও দুর্বল করবে। বিশ্বব্যাপী মুদ্রাব্যবস্থায় ডলারের প্রভাব হ্রাস পেতে পারে এবং বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার দিকে একটি প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা রাশিয়া এবং তার মিত্রদের জন্য ইতিবাচক।

    Facebook Comments Box
  • ইলন মাস্কের ১৩তম সন্তানের জন্ম দেয়ার দাবি মার্কিন লেখিকার

    ইলন মাস্কের ১৩তম সন্তানের জন্ম দেয়ার দাবি মার্কিন লেখিকার

    বিশ্বের শীর্ষ ধনী মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের ১৩তম সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন এক লেখিকা। তার নাম অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, মাস পাঁচেক আগে তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই সন্তানের বাবা হলেন ইলন মাস্ক।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রেকর্ড অর্থ দেওয়া এই ধনকুবের এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছেন— বিরোধীদের এমন দাবির মাঝে মাস্ক নিয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন এই লেখিকা।

    কিন্তু তিনি এত বড় বিষয়টি এত দিন পরে প্রকাশ্যে আনলেন কেন? এই বিষয়ে লেখিকার দাবি, তিনি এত দিন এই ব্যাপারটা গোপন করেছিলেন, কারণ তিনি তার সন্তানের নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কিন্তু এক ট্যাবলয়েড মিডিয়া তার সন্তানের খবর জেনে যাওয়ায়, তিনি সেই খবর প্রকাশের আগেই সত্যিটা নিজে থেকে জানিয়ে দিলেন বলে অ্যাশলে দাবি করেন। এর আগে ইলন মাস্কের চার নারীর সঙ্গে ১২টি সন্তান আছে।

    অ্যাশলের দাবি, তিনি মাস্কের ১৩তম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ‘এলিফ্যান্ট আর নট বার্ডস’ নামের এক বই লিখে জনপ্রিয় হয়েছিলেন অ্যাশলে।

    টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের সঙ্গে তার পাঁচটি সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে— প্রথমে যমজ সন্তান ভিভিয়ান এবং গ্রিফিন এবং তারপরে তিন সন্তান কাই, স্যাক্সন এবং ড্যামিয়ান।

    পপ-তারকা গ্রিমসের সঙ্গে মাস্কের তিনটি সন্তান রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ছোট ছেলে এক্স, যাকে হোয়াইট হাউসে মাস্কের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, মেয়ে এক্সা ডার্ক সাইডারেল এবং ছেলে টেকনো মেকানিকাস।

    এছাড়া নিউরালিংকের নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে মাস্কের যমজ সন্তান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যাদের ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় দেখা গিয়েছিল। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, দ্য মিরর

    Facebook Comments Box
  • আফ্রিকাকে যা নিয়ে সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    আফ্রিকাকে যা নিয়ে সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ডিআর কঙ্গোর আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামেকে সমাবেশে সভায় যোগ দিতে দেখা গেছে। কিন্তু এম২৩ তার দেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি শীর্ষ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন।

    গত মাসে উত্তর কিভুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী গোমা দখলের সময় কঙ্গোর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে রুয়ান্ডা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীট এম২৩।

    নিরাপত্তা ও মানবিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার কার্যত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর বুকাভুতে অগ্রসর হওয়ার আগে তারা সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর দখল করে।

    শীর্ষ সম্মেলনে এক ভাষণে গুতেরেস রুয়ান্ডার নাম উল্লেখ না করে নেতাদের বলেন, “এম২৩ আক্রমণের ধারাবাহিকতার ফলে দক্ষিণ কিভুতে যে লড়াই চলছে তা পুরো অঞ্চলকে খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়ার হুমকিতে ফেলেছে।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “যে কোনও মূল্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা এড়াতে হবে। এর কোনও সামরিক সমাধান নেই।” তার মতে, “সংলাপ শুরু করতে হবে। এবং কঙ্গোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।”

    কঙ্গোতে আঞ্চলিক দাঙ্গার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আফ্রিকান ইউনিয়ন তার ভীতু মনোভাবের জন্য সমালোচিত হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা আরও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন শনিবার বলেছে, বুকাভু থেকে আসা খবরের পর তারা “জরুরিভাবে” সমস্ত বিকল্প বিবেচনা করছে। এটি সতর্ক করে দিয়েছে, “কঙ্গোর আঞ্চলিক অখণ্ডতার চলমান লঙ্ঘন উত্তরহীন থাকবে না।”
    সূত্র: এএফপি

    Facebook Comments Box
  • রোহিঙ্গা গণহত্যা : সু চিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    রোহিঙ্গা গণহত্যা : সু চিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    রোহিঙ্গা গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান কমান্ডার সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং, সাবেক প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও ও গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিসহ মোট ২৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আর্জেন্টিনার একটি আদালত। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ আদেশ দিয়েছেন আদালত। জানা গেছে, মিন অং হ্লাইং, সাবেক প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও ও গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ছাড়া আরও ২২ সামরিক কর্মকর্তার নাম পরোয়ানার তালিকায় রাখা করা হয়েছে। তবে পরোয়ানার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিন অং হ্লাইং, যিনি ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নেতৃত্বে রয়েছেন।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, নিজ দেশে তারা বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যভিত্তিক এই জনগোষ্ঠীর ওপর ২০১৭ সালে গণহত্যা চালায় দেশটির কুখ্যাত সেনাবাহিনী।

    সম্প্রতি রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি গোষ্ঠী আর্জেন্টিনার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বুয়েন্স আয়ার্স আদালত। আর্জেন্টিনার আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার সমালোচনা করেছে মিয়ানমার জান্তা।

    সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা।

    Facebook Comments Box
  • ইলন মাস্কের সন্তানের জন্ম দেওয়ার দাবি মার্কিন লেখিকার

    ইলন মাস্কের সন্তানের জন্ম দেওয়ার দাবি মার্কিন লেখিকার

    বিশ্বের শীর্ষ ধনী মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের ১৩তম সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন এক লেখিকা। তার নাম অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, মাস পাঁচেক আগে তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই সন্তানের বাবা হলেন ইলন মাস্ক।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে রেকর্ড অর্থ দেওয়া এই ধনকুবের এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছেন— বিরোধীদের এমন দাবির মাঝে মাস্ক নিয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন এই লেখিকা।

    কিন্তু তিনি এত বড় বিষয়টি এত দিন পরে প্রকাশ্যে আনলেন কেন? এই বিষয়ে লেখিকার দাবি, তিনি এত দিন এই ব্যাপারটা গোপন করেছিলেন, কারণ তিনি তার সন্তানের নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। কিন্তু এক ট্যাবলয়েড মিডিয়া তার সন্তানের খবর জেনে যাওয়ায়, তিনি সেই খবর প্রকাশের আগেই সত্যিটা নিজে থেকে জানিয়ে দিলেন বলে অ্যাশলে দাবি করেন। এর আগে ইলন মাস্কের চার নারীর সঙ্গে ১২টি সন্তান আছে।

    অ্যাশলের দাবি, তিনি মাস্কের ১৩তম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ‘এলিফ্যান্ট আর নট বার্ডস’ নামের এক বই লিখে জনপ্রিয় হয়েছিলেন অ্যাশলে।

    টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের সঙ্গে তার পাঁচটি সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে— প্রথমে যমজ সন্তান ভিভিয়ান এবং গ্রিফিন এবং তারপরে তিন সন্তান কাই, স্যাক্সন এবং ড্যামিয়ান।

    পপ-তারকা গ্রিমসের সঙ্গে মাস্কের তিনটি সন্তান রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ছোট ছেলে এক্স, যাকে হোয়াইট হাউসে মাস্কের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, মেয়ে এক্সা ডার্ক সাইডারেল এবং ছেলে টেকনো মেকানিকাস।

    এছাড়া নিউরালিংকের নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে মাস্কের যমজ সন্তান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যাদের ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় দেখা গিয়েছিল। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, দ্য মিরর

    Facebook Comments Box
  • পরিষ্কারভাবে বলেছি জাতীয় নির্বাচন আগে, তারপর স্থানীয়: ফখরুল

    পরিষ্কারভাবে বলেছি জাতীয় নির্বাচন আগে, তারপর স্থানীয়: ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি জাতীয় নির্বাচন আগে হতে হবে, তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তিনি বলেন, আমরা আশা করি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে দ্রুতই ঐকমত্যে পৌঁছাবে।

    শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রধান উপদেষ্টা সংস্কারের প্রতিবেদনগুলোর তুলে ধরেছেন। সেগুলোর ওপর আলাপ-আলোচনা হবে। দলগুলো প্রতিবেদন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে কথা বলে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

    ‘আজকে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত দিয়েছেন। আশা করি দ্রুতই সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হবে এবং দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব পরিস্কারভাবে বলেছি জাতীয় নির্বাচন আগে হতে হবে, তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয়েছে। আর এই পথচলায় বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আছে।

    তিনি বলেন, আমরা যে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি, তার সঙ্গে পুরো বিশ্ব এবং দেশের মানুষেরা আছেন। দ্বিতীয় যাত্রার মধ্যদিয়ে আমরা কী রকমের বাংলাদেশ চাই তা নির্ধারিত হবে।

    জাতিসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘের যে প্রতিবেদনটি এসেছে, তার মাধ্যমে পুরো বিশ্ব জানতে পেরেছে যে কেমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন হাসিনা।

    সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোকেই করতে হবে, কমিশন ও সরকার সহযোগিতা দেবে।

    Facebook Comments Box
  • আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যার তালিকা

    আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যার তালিকা

    তথাকথিত চাকরিপ্রত্যাশী কোটা আন্দোলনকারী ও বর্তমান অসাংবিধানিক সরকারের সন্ত্রাসীদের হাতে গত চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৩৭০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে, জুলাই মাসে ২২ জন, আগস্ট মাসে ৩১৭ জন, সেপ্টেম্বরে ১১ জন এবং অক্টোবরে ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পিটিয়ে ৫০ জন, গুলি করে ২৩ জন, আগুনে পুড়িয়ে ২২৮ জন, কুপিয়ে ৫০ জন এবং অন্যান্য পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছে।

    ড. ইউনূসের অসাংবিধানিক সরকারের পক্ষ থেকে খুনিদের ইনডেমনিটি প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে এসব হত্যাকাণ্ডের সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ এবং প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যমে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপিত হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে সাধারণ জনগণ অবহিত হতে পারেনি। উল্লেখ্য যে, পরিসংখ্যানের একটি অংশ সংবাদপত্র থেকে সংগৃহীত হলেও, যদি আরও গভীর অনুসন্ধান করা হয়, তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা যায়। ফলে এই তালিকাটি অসম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য করা উচিত।

    দুঃখজনক হলেও সত্য, হত্যার শিকার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যাতে তারা আমাদের দলীয় প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।

    আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যার তালিকা দেয়া হলো:

    Facebook Comments Box
  • প্রথম অধ্যায় শেষ, সরকারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রথম অধ্যায় শেষ, সরকারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু: প্রধান উপদেষ্টা

    দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে, এবং শনিবার থেকে শুরু হলো দ্বিতীয় ইনিংস। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বৈঠকে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ছয় মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ইনিংস শেষ। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে আমরা দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুশৃঙ্খল, সমৃদ্ধ দেশ গড়া।’

    তিনি আরো বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারের তৈরি করা কাঠামো থেকে আমরা বের হয়ে আসতে চাই, এবং এ জন্য সংস্কারের মাধ্যমে দেশের কাঠামো উন্নত করতে চাই। সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে, এবং আমরা যত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়ন করবো, তত দ্রুত আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’

    ড. ইউনূস আইন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে বলেন, ‘আইন করা হয় মানুষ উপভোগ করার জন্য, কিন্তু বিগত সরকার তা তামাশায় পরিণত করেছিলো।’

    তিনি বৈঠকে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে আরো বলেন, ‘আজকের ডায়ালগের লক্ষ্য একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়া। কারো ওপর কিছু চাপিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য নয়, বরং ঐক্যমতের মাধ্যমে একটি কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। সমাজের কাঠামো কী হবে, কীভাবে হবে, সেটা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে।’

    সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি আমরা প্রথম অধ্যায়ের মতো দ্বিতীয় অধ্যায়েও ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তবে তৃতীয় অধ্যায়েও আমরা সফল হবো। সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

    Facebook Comments Box
  • Trump DOJ files motion to dismiss corruption case against NYC Mayor Adams after mass resignations

    Trump DOJ files motion to dismiss corruption case against NYC Mayor Adams after mass resignations

    The Department of Justice moved to dismiss the Manhattan U.S. attorney’s sweeping public corruption case against Mayor Adams late Friday after at least seven people quit rather than obey an order from Trump’s new DOJ leaders to abandon the historic prosecution.

    The motion was filed by President Trump’s No. 2 at the Department of Justice, Emil Bove, and two Washington, D.C.-based prosecutors, and follows the stunning resignation of acting U.S. Attorney Danielle Sassoon. After receiving an order from Main Justice in Washington, D.C., on Monday directing her to drop the charges, Sassoon quit in protest.

    Sassoon wrote to Trump’s new U.S. Attorney General Pam Bondi that she could not, in good faith, support the effort to dismiss, which she said resulted from an effective “quid pro quo” between the Trump administration and New York City’s mayor, one that would see Adams let off the hook in exchange for giving Trump free rein to carry out his hardline immigration policies in the country’s largest sanctuary city.

    The motion reiterated many of the points that had touched off a legal and political firestorm,  arguing the criminal prosecution should be tossed so Adams could better work on immigration initiatives at the heart of Trump’s policy agenda. The Administration’s argument that political necessity should override a criminal proceeding has been seen by many as a fundamental challenge to the rule of law.

    The motion also said that Bove had concluded, “among other things,” that the case should be dismissed based on the actions of former Manhattan U.S. Attorney Damian Williams, who has been criticized by Adams for creating prejudicial pretrial publicity.

    Bove noted Williams had published an op-ed in City & State after resigning ahead of Trump’s inauguration that commented generally on the state of corruption in New York, and that he had created a personal website. That argument has come under sharp attack.

    “In connection with that determination and directive, the Acting Deputy Attorney General also concluded that continuing these proceedings would interfere with the defendant’s ability to govern in New York City, which poses unacceptable threats to public safety, national security, and related federal immigration initiatives and policies,” the motion said.

    Adams has denied there was any promise made by him or anyone on his behalf to the Trump Administration.

    ““I want to be crystal clear with New Yorkers: I never offered — nor did anyone offer on my behalf — any trade of my authority as your mayor for an end to my case. Never. ,” he said in a statement Friday. “I am solely beholden to the 8.3 million New Yorkers that I represent and I will always put this city first.”

    Adams’ attorney, Alex Spiro, has said the move to dismiss was a vindication of the mayor and that he case was over. He could not be reached for comment on Friday’s developments.

    The motion filed shortly after 6 p.m. asked Manhattan Federal Judge Dale Ho to dismiss the case without prejudice, meaning it could be revived. It said Adams had agreed to the arrangement through his attorneys.

    It said the case had been transferred from the SDNY to the DOJ’s Public Integrity Section in D.C. and is now in the hands of the unit’s senior litigation counsel, Edward Sullivan, who agreed to sign on to the filing after Bove threatened to fire everyone in the unit unless someone stepped up. Antoinette Bacon from the DOJ’s criminal division and Bove himself also entered notices of appearance in the case.

    Judge Ho must approve the request. It was not immediately clear whether he would do so without seeking more information from prosecutors, whether in writing or at a potential hearing.

    Sassoon, in her resignation letter, said she had been prepared to file more charges against Adams, accusing him of destroying and instructing others to get rid of evidence and providing false information to the FBI. A trial was set for April.

    Moments after the motion was filed, the veteran Manhattan prosecutors who had been handling the case — Assistant U.S. Attorneys Celia Cohen, Andrew Rohrbach, Derek Wikstrom, and Hagan Scotten — notified the court they were withdrawing.

    Early Friday, Scotten followed Sassoon’s lead, telling Bove in his resignation letter that he’d have to find a “fool” or a “coward” to bring the motion that he and others argued sought to support Trump’s policy agendas and not the law.

    Scotten echoed his former boss’s sentiments in a brief but searing letter to Bove Friday.

    “I can even understand how a Chief Executive whose background is in business and politics might see the contemplated dismissal-with-leverage as a good, if distasteful, deal. But any assistant U.S. attorney would know that our laws and traditions do not allow using the prosecutorial power to influence other citizens, much less elected officials, in this way,” Scotten wrote.

    “If no lawyer within earshot of the President is willing to give him that advice, then I expect you will eventually find someone who is enough of a fool, or enough of a coward, to file your motion. But it was never going to be me.”

    Adams has pleaded not guilty in the case to bribery, soliciting illegal campaign donations from foreign nationals, wire fraud, and conspiracy, charges that each carry significant prison time on their own and up to 45 years collectively.

    The case filed last September was born out of a wide-ranging investigation by the Manhattan U.S. attorney’s office, the FBI, and the city Department of Investigation that began several months before Adams was elected mayor.

    It accuses him of abusing his positions in New York City government starting more than a decade ago during his days as Brooklyn borough president by accepting luxury benefits, including first-class flights and opulent hotel stays all over the world, from wealthy foreign businessmen and officials in or close to the authoritarian Turkish government looking to gain influence over him.

    Facebook Comments Box
  • ভয় কি সবতো শেষ হয়ে যায়নি

    ভয় কি সবতো শেষ হয়ে যায়নি

     

    প্রিয় নেত্রী,
    কেমন আছেন এই প্রশ্ন করবো না। যে দেশটাকে নিজের হাতে পরম মমতায় একটু একটু করে সমৃদ্ধ করলেন সেই দেশটাকে চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখে জানি আপনি ভালো নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে দেশটা আজ আবার পরাধীন। জঙ্গীবাদের নির্লজ্জ আস্ফালনে তটস্থ বাংলাদেশ। দেশ সংস্কারের নামে চলছে লুটেরার নগ্ন উৎসব। এসব দেখে চোখ জ্বলে যায়। হাত নিশপিশ করে। কিছু করতে না পারার অসহায়ত্ব কুড়ে কুড়ে খায়। ঠিক এমন হতাশ সময়ে মনে হয় – ভয় কি!! সব তো শেষ হয়ে যায়নি। আছেন তো আমার নেত্রী!! পরম করুনাময়ের অসীম কৃপায় তিনি বেঁচে আছেন। সুস্থ আছেন। লড়াই করার সংকল্পে আবার আমি উঠে দাঁড়াই।

    জানি লড়াইটা কঠিন হবে। বিপথগামি হাওয়া উপড়ে নিতে চাইবে। তবু লড়াই থামাবো না। যার যার অবস্থান থেকে লড়াই করে যাবো। এই লড়াই হবে কলমের লড়াই, কন্ঠের লড়াই। এই লড়াই হবে মুখোমুখি লড়াই। এই লড়াই চলবে রাজপথে, অফিসে, আদালতে, প্রতিটি ঘরে ঘরে, অলিতে গলিতে। এই লড়াই ছড়িয়ে যাবে গ্রাম থেকে শহরে। এই কঠিন লড়াইয়ে রক্তপাত হবে প্রানহানী হবে। কিন্তু শেষমেষ এই লড়াইয়ে জয় হবে মানুষের। জিতে যাবে বায়ান্ন, জিতবে ৭১। জিতে যাবে দেশ, জিতবে জয় বাংলা। আগুনের ধ্বংসস্তুপ থেকে আবার জেগে উঠবো আমরা। সুসময় আবার কড়া নাড়বে দরজায়। অসাম্প্রদায়িকতার পাখি ফের  গেয়ে উঠবে গান। জীবন হবে সুস্থির।

    “শেখের বেটি”-
    আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা আপনাকে এই নামেই সম্বোধন করতেন। আপনার প্রতি ছিলো তার অবিচল বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস তিনি আমার ভেতরে প্রোথিত করেছেন। আমি যখন কিশোর তখন থেকে আপনাকে নেতা মেনেছি।আমি যখন যুবক আপনার নেতৃত্বে জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। প্রিয় বন্ধুর মৃতদেহ পরে থাকতে দেখেছি ম্যানহোলে, পাড়ার মোড়ে। প্রিয় সতীর্থের মৃত মুখে ভন ভন মাছি উড়তে দেখেছি। ভয় পাই নাই। পিছু হটি নাই। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, ৭১ এর পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে। বুকে ছিলো জয় বাংলার অদম্য সাহস। সামনে ছিলো বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথ আর সাথে ছিলো আপনার বুদ্ধিদীপ্ত দিকনির্দেশনা।

    নেত্রী আমার,
    তারুণ্যের সেইসব লড়াকু সময়ের এক দিনে মুখোমুখি বসে আপনি বলেছিলেন- পরিবারকে বলে দিও জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে মরে গেলে বা আহত হলে ওরা যেন আফসোস না করে। বলেছিলেন- আমার ছেলেরা নির্ভীক। আমার ছেলেরা হাতে চুড়ি পরে অসুরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে না।

    প্রিয় নেত্রী,
    আজ আমি পঞ্চাশোর্ধ। সেই কৈশোর থেকে আমরন আপনি আমার নেতা।আমাদের উপরে ভরসা রাখেন। দলের সুসময়ে ক্রিম খাওয়া ধ্বজভঙ্গ নেতার দল গর্তে লুকিয়ে থাক। আমরা আছি। আপনার ছেলেরা চুড়ি পরে বসে নাই। প্রতিটি ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ আমরা নিবো। প্রতিটি বোনের অপমানের বদলা আমরা নিবো।
    ৩২ গুড়িয়ে দিয়েছে যারা
    বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করেছে যারা
    মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে যারা
    মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিত করেছে যারা
    দেশটাকে রক্তাক্ত করছে যারা
    আপনাকে অপমান করেছে যারা
    তাদের কারো রেহাই নাই।

    আপনি আছেন। দ্যাটস ইট। আর কিচ্ছু লাগবে না। ওরা বুঝবে নদীর পাড়ে দাঁড়ায়ে সুসময়ের অপেক্ষা আমরা করি না। লড়াই করে সুসময় ছিনিয়ে আনি। আমরা বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শিক সন্তান। চুড়ি পরে বসে থাকা লাল্লু পাঞ্চুর দল না।

    সবাইকে বসন্ত এবং ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

    জয় বাংলা
    জয় বঙ্গবন্ধু
    জয়তু শেখ হাসিনা।

    Facebook Comments Box
  • গ্রীস ও গুয়াতেমালা আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে যাচ্ছেন কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ

    গ্রীস ও গুয়াতেমালা আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে যাচ্ছেন কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ

    আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে গ্রীস ও গুয়াতেমালা থেকে আমন্ত্রণ পেলেন নিউইয়র্কে বসবাসরত কবি ও শব্দগুচ্ছ সম্পাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি কবি মারিয়া মিস্ট্রিয়টি চতুর্থ গ্রীক আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিশ্বের ১৫ দেশের কবিদের নিয়ে এই উৎসব হবে এথেন্সের অদূরে খালকিদা শহরে মে মাসের শেষ সপ্তাহে। অন্যদিকে গুয়াতেমালায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কবি রুডি আলফোনসো গোমেস রিভাস। এই উৎসব হবে জুলাই মাসে। উল্লেখ্য গ্রীসে এটি কবির দ্বিতীয় সফর হলেও গুয়াতেমালায় তিনি যাবেন প্রথম বার। “একদিকে হোমার, সক্রেটিস, আর্কিমিডিসের দেশ, অন্যদিকে মায়ান সভ্যতার নিদর্শন আমাকে হাতছানি দিচ্ছে” বলে তাঁর ফেসবুক প্রফাইলে কবি লিখেছেন। দু’টি অনুষ্ঠানেই বিভিন্ন দেশের কবিদের সাথে মতবিনিময়, কবিতা বিষয়ক সেমিনার, কবিতাপাঠ, ও স্থানীয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কাব্যালাপের আয়োজন করা হয়েছে। আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা নিয়ে এন্থোলজি প্রকাশ পাচ্ছে দুই দেশ থেকেই। উল্লেখ্য, কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ ইতিপূর্বে চীন, গ্রীস, মরক্কো, কেনিয়া, ভারত, মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবে যোগ দিয়েছেন। তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে ষোলটি ভাষায়। প্রকাশ পেয়েছে নানা দেশের সাহিত্য পত্রিকা ও সংকলনে। ইংরেজি, চাইনিজ, পোলিশ ও স্প্যানিশ ভাষায় বেরিয়েছে দ্বিভাষিক কাব্যগ্রন্থ। হোমার মেডেল (ব্রাসেল্স), ক্লেমেন্স জেনেস্কি (পোল্যান্ড), নাজি ন্যাম (লেবানন) ও পল ভন হেসে (জার্মানি) আন্তর্জাতিক কবিতা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় প্রকাশ পেয়েছে তাঁর পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থ। তিনি ‘শব্দগুচ্ছ’ কবিতা পত্রিকা সম্পাদক। ২০০১ সাল থেকে প্রবর্তন করেছেন ‘শব্দগুচ্ছ কবিতা পুরস্কার।‘ তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও কেনিয়ার কিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত¡ বিভাগে তিনি ‘শব্দগুচ্ছ মেধাবৃত্তি’ চালু করেছেন। তাঁর সম্পাদিত সর্বশেষ গ্রন্থ “ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি অ্যান্থোলজি” (নিউইয়র্ক, ২০২৩)।

    Facebook Comments Box
  • ‘একুশে পদক-ইউএসএ ২০২৫’ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৭ প্রবাসী

    ‘একুশে পদক-ইউএসএ ২০২৫’ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৭ প্রবাসী

    নতুনত্বের স্বাদ নিয়ে সাজানো এক ভিন্নমাত্রার অনুষ্ঠান উপস্থাপনের মধ‍্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করেছে ক‍্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টির প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল‍্যাংগ্যুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার।
    মাতৃভাষা বাংলাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংরক্ষণ, প্রসার, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭জন প্রবাসী বাংলাদেশীকে ‘একুশে পদক ইউএসএ ২০২৫’ পুরস্কারে সম্মানিত করে এবং এর শুভ সূচনার ঘোষণা দেয়া হয়। বলা হয় যে, এখোন থেকে প্রতিবছরই এ এওয়ার্ড বিতরণ করা হবে।
    এবারের পদকপ্রাপ্ত পেলেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান রোকেয়া হায়দার, ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি অব পেরিসের মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও পৃষ্ঠপোষক ডা: মোহাম্মদ সিরাজুল্লাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পৃষ্ঠপোষক মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কন্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার ডা: নাসির আহমেদ অপু, বিশিষ্ট সমাজকর্মী মমিনুল হক বাচ্চু ও মূকাভিনেতা, লেখক ও সাংবাদিক কাজী মশহুরুল হুদা। ৮ ফেব্রুয়ারি লস এঞ্জেল শহরে অবস্থিত সাইন্টোলজি মিলনায়তনে এক জমকালো আয়োজনে এই সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয় । পরিপূর্ন মিলনায়তনে দক্ষিন ক‍্যলিফোর্নিয়ার বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড: ইউনূস রাহী, জাহিদুল মাহমুদ জামী, সোহেল রহমান বাদল, মোহাম্মদ আবু নাসের রাজীব, হাসিবুল শরীফ, মোহাম্মদ এস হক সেন্টু, রেজাউল করিম, মন্জুর আহমেদ অপু, সৈয়দ এম হোসেন বাবু, রফিকুল হক রাজু, মন্জুর হাসান চৌধুরী ( ম‍্যাক্স), তওফিক সোলেমান তুহীন, ফ্রেন্ডস বাবু, ইফতেখার মাহমুদ, জুয়েল, মোহাম্মদ কামাল, আশিক ইসলা, সাবিনা ইসলাম, তপন দেবনাথ, মর্তুজ খাজা প্রমুখ।

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্তরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন লসএঞ্জেলেস শহরের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা সাজিয়া হক মিমি। তাঁর অনবদ‍্য ও চমৎকার উপস্থাপনা সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে দর্শকদের কাছে প্রানবন্ত করে তোলে।

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তথা অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে উল্লেখযোগ‍্য কর্মসূচির মধ্যে ছিলো বড় পর্দায় ৭০’র দশকে সর্বাধিক বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আইএমএলডিসি’র ৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান।
    অনুষ্ঠানের শুরুতেই স¤প্রতি ক‍্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ।
    শপথবাক্য‍ পাঠ করার আগে সাইফুর রহমান ওসমানী জিতুর পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় রিভারসাইড কাউন্টির পেরিশ শহরে ঐতিহাসিক ‘আন্তর্জাতিক মাদার ল‍্যাংগ্যুয়েজ ডে স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মানের নেপথ্যের কাহিনী নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রদর্শিত হয় । দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে গভীর আগ্রহের পাশাপাশি অনেক কৌতুহলের সঞ্চার করে।
    এসময় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ র পক্ষ থেকে উপস্থাপিকা সাজিয়া হক মিমি, স্থিরচিত্র গ্রাহক শেখ হাসান এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল পরিচালক আদনান খান’কে বিশেষ সনদপত্র প্রদান করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, গ্রন্হনা, গ্রাফিক্স ও নির্দেশনায় ছিলেন সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু ।

    Facebook Comments Box
  • ইউনূসের ভয়ে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি চ্যাপ্টার ৬

    ইউনূসের ভয়ে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়নি চ্যাপ্টার ৬

    বিক্ষোভ চলাকালীন, উগ্র জনতার কিছু অংশ পুলিশ এবং আওয়ামী লীগকর্মকর্তা বা সমর্থকদের লক্ষ্য করে গণপিটুনি ও অন্যান্য গুরুতরপ্রতিশোধমূলক সহিংসতা চালায়, যা অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের দ্বারাসংঘটিত বা তাদের ওপর দোষারোপ করা বেআইনি সহিংসতার প্রত্যক্ষপ্রতিক্রিয়া বলে মনে হয়।


    উদাহরণস্বরূপ, ১৯ জুলাই উত্তরায়, একদল জনতা গাজীপুরের সাবেকমেয়রকে মারাত্মকভাবে প্রহার করে এবং তার এক সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়েহত্যা করে, কারণ তিনি ও আরও কয়েকজন সশস্ত্র আওয়ামী লীগ সমর্থকবিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে ৪ আগস্ট থেকে। সাবেক সরকার ক্রমশ দেশেরওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকলে, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধেপ্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঘটনা বাড়তে থাকে।

    সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জে, রামদা ও রড দিয়ে সজ্জিত একদল পুরুষ, যারাপ্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এলাকার অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের তুলনায় পোশাকেরদিক থেকে ভিন্ন দেখাচ্ছিল, স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়েসেটি জ্বালিয়ে দেয়। হামলাকারীরা পাঁচজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মকর্তা ওএক সাংবাদিককে হত্যা করে। নিহত কর্মকর্তাদের একজনকে প্রথমে প্রকাশ্যেঅপমানিত করা হয়—তার কানে ধরে উঠবস করানো হয়, এরপর তাকেপিটিয়ে হত্যা করা হয়।

    একই দিনে, একই জেলায় আরও একদল তরুণের বড় একটি দল এনায়েতপুরস্টেশনে হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনায় ১৫ জন পুলিশসদস্য নিহত হন।

    ৫ আগস্ট, ফেনী জেলায় তিনটি থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ও লুটপাটচালানো হয় এবং ১৬ জন পুলিশ সদস্যকে আক্রমণ করা হয়। এর আগে, ৪আগস্ট ফেনীতে ৩০০–৪০০ জন সশস্ত্র আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্রবিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, যাতে ৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হনএবং ৭৯ জন গুরুতর আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    রংপুরে, সশস্ত্র আওয়ামী লীগ সমর্থকরা, যাদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগসিটি কাউন্সিলরও ছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালান। এরপর, একদল জনতা ওই কাউন্সিলর এবং তার এক সহযোগীকে পিটিয়ে হত্যা করেএবং পরে কাউন্সিলরের মরদেহ রাস্তায় টেনে নিয়ে যায়।

    নরসিংদীতে, একদল উগ্র জনতা ছয়জন আওয়ামী লীগ সমর্থককে তাড়া করেএবং পিটিয়ে হত্যা করে। অভিযোগ ছিল যে, তারা বিক্ষোভকারীদের ওপরগুলি চালিয়েছিল।
    214. ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর প্রতিশোধমূলক সহিংসতাব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সহিংস জনতা বহু পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েসেগুলো জ্বালিয়ে দেয়। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে ৬৩৯টিপুলিশের থানার মধ্যে ৪৫০টি হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অনেক ক্ষেত্রে, পুলিশ কর্মকর্তারা পালিয়ে যান বা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাতাদের সরে যাওয়ার অনুমতি দেন। অন্যদিকে, কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়েহত্যা করা হয় বা অন্যভাবে হত্যা করা হয়।

    215. ৫ আগস্ট যখন সাভার পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করাহয়, পুলিশ সদস্যরা গুলি চালিয়ে নিজেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সিলেটেবেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একটিতেপুলিশ সদস্যরা স্থানীয় একটি মসজিদে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের রক্ষা করতেসক্ষম হয়। রামপুরায়, একজন স্থানীয় ইমাম পুলিশ সদস্যদের একটি নিরাপদস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

    216. ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের নির্বিচার গুলির প্রতিক্রিয়ায়এলাকার একদল সহিংস মব স্টেশনটিতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে, হামলাচালিয়ে, এরপর স্টেশনটি পুড়িয়ে দেয় ও লুট করে। দুইজন র‌্যাব কর্মকর্তাএবং অন্তত চারজন আনসার/ভিডিপি ও পুলিশ কর্মকর্তা উগ্রবাদীদের হাতেনিহত হন। অন্যান্য র‌্যাব এবং পুলিশ কর্মকর্তারা আঘাত নিয়ে পালিয়েযায় এবং স্থানীয় লোকদের দ্বারা আশ্রয় পায়। উত্তরা পূর্ব থানায় একদলসহিংস জনতা হামলা চালায় । আক্রমণকারীরা চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকেহত্যা করে। আশুলিয়ায়, উন্মত্ত জনতা কমপক্ষে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকেশাস্তি দেয় পুলিশের বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার প্রতিশোধ হিসেবে এবংতাদের দেহ পুড়িয়ে দেয়। তিনটি জায়গায়ই, হত্যা করা পুলিশ কর্মকর্তাদেররক্তাক্ত দেহগুলো পাবলিক স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

    ৫ আগস্ট থেকে, সহিংস জনতা আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং নেতাকর্মীদেরওপর আক্রমণ চালায়।  ওএইচসিএইচআর এর  কাছে দেওয়া সাক্ষ্যে দেখাযাচ্ছে যে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থকরাও এতে জড়িত ছিল।বিএনপি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু স্থানীয় নেতাএবং কর্মী প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় অংশ নিয়েছে এবং ১০ আগস্টজানিয়েছে যে তারা ৪৪ জন স্থানীয় নেতা এবং কর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

    218.
    আগস্টের শুরু থেকেই ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতিরকার্যালয়ে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। পুলিশ, দলীয় কর্মী্রা সেসকলহামলা প্রতিহত করে। ৫ আগস্ট, সকল কর্মচারী চলে যাওয়ার পরে, একদলসহিংস জনতা অফিসটিতে হামলা চালিয়ে সেটি পুড়িয়ে দেয়। একই দিনে, যাত্রাবাড়ীতে একটি আওয়ামী লীগ সমর্থককে আক্রমণকারীদের একটি দলছুরিকাঘাত করে হত্যা করে, যাদেরকে ভুক্তভোগীর পরিবার বিএনপি সদস্যহিসেবে সনাক্ত করে।

    219.
    সহিংস জনতা আওয়ামী লীগ নেতাদের, সরকারী কর্মকর্তাদের বা তাদেরকাছের পরিবারের সদস্যদের বাসা–বাড়ি এবং ব্যবসায় ভাঙচুর, লুট বা পুড়িয়েদেয়। এক ঘটনায়, বিএনপি সমর্থকরা একজন সিনিয়র যুবলীগ নেতারব্যবসায় হামলা চালায়। ওএইচসিএইচআর এর কাছে দেওয়া এক সাক্ষ্যে দেখাযায় তারা তার বাবা–মাকে জিম্মি করে এবং একজন স্থানীয় বিএনপি নেতামুক্তিপণ আদায় করে। বিএনপি সমর্থকরা ব্যবসা দখল করে এবং পুলিশঅভিযোগ দায়ের করতে চেষ্টা করে পরিবারের একজন সদস্যকে আক্রমণকরে। আরেকটি ঘটনায়, যশোরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারমালিকানাধীন একটি হোটেল পুড়িয়ে দেয়। ঘটনায় প্রায় ২৪ জন মারা যায়।বিরোধীদলের সমর্থকরা মিলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনেহামলা ও ভাঙচুর চালায়। আরেকটি দল শেখ হাসিনার পিতা ও জাতির পিতাবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত  বঙ্গবন্ধুমেমোরিয়াল মিউজিয়ামে লুটপাট চালায় এবং পেট্রোল বোমা দিয়ে হামলাকরে।

    220.
    প্রতিশোধমূলক যৌন সহিংসতার আরেকটি ঘটনা ওএইচসিএইচআরনথিভুক্ত করেছে। আগস্ট মাসে এক নারীকে দুই ব্যক্তি আটক করে যারা ছিলবয়স ও পোশাক অনুযায়ী ছাত্রদের চাইতে আলাদা। তারা নারীটিকেছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত করে। পুরুষরা তাকে অশ্লীল মন্তব্য করেঅপমান করে, তার পোশাক ধরে টানে, তার মুখে বারবার থাপ্পড় মারে এবংতার বুকে ঘুষি মারে। কয়েক দিন পর একই মহিলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার এবংআরও গুরুতর আক্রমণ করা হয়। আক্রমণকারীরা তাকে ঘিরে ধরে, তারপোশাক ছিঁড়ে ফেলে, তার স্তন এবং গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে এবং শেষ পর্যন্ততাকে ধর্ষণ করে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোন হাসপাতালে তাকেচিকিৎসা দেওয়া হয় নি।

    আরো কিছু ঘটনায় দেখা গেছে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নারীসমর্থকরা মৌখিক ও সামাজিক মাধ্যমে ধর্ষণের হুমকি পেয়েছে। উল্লিখিতকারণগুলির জন্য, ওএইচসিএইচআর মনে করে যে অনেক বেশি যৌনসহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যা ওএইচসিএইচআর নথিভুক্ত করতে পারেনি।বিক্ষোভের পরে, কিছু মহিলারা যারা নেতৃত্বের অবস্থানে ছিলেন বা দৃশ্যমানপ্রোফাইল ছিল তারা হুমকি বা প্রতিশোধের ভয় পেয়েছিলেন, যা তাদের তাদেরপরিচয় গোপন করার প্রচেষ্টায় মুখ এবং চুল ঢেকে রাখতে বাধ্য করে।

    221.
    শেখ হাসিনার পতনের পরের দিনগুলোতে, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা কাজেউপস্থিত হতে ভয় পেতেন এবং অনেক স্থানে পুলিশ কার্যত অকার্যকর হয়েপড়েছিল। এটি আরও প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং সুযোগসন্ধানীঅপরাধকে সহজতর করেছিল। যদিও প্রতিশোধমূলক সহিংসতার সবচেয়েবেশি ঘটনা ৫ আগস্ট এবং তার পরের কয়েক দিনে ঘটেছে বলে মনে হয়, তবেঅন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসার পর থেকেও আওয়ামীলীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে সহিংস হামলার খবর ওএইচসিএইচআর পেতেথাকে।

    উদাহরনস্বরুপ ১৯৭৫ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডস্মরণ করতে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসমর্থকদের দ্বারা হামলার শিকার হয়, যদিও কিছু ছাত্র হস্তক্ষেপ করার চেষ্টাকরেছিল। অনেক নারী আওয়ামী লীগ সমর্থকসহ কয়েক ডজন মানুষ আহতহয়েছিল, এবং একজন আওয়ামী লীগ নেতা দুর্ঘটনার দু‘সপ্তাহ পরে ১৫আগস্টের হামলা কারণে মারা যান বলে জানানো হয়। বেশ কয়েকজনপ্রত্যক্ষদর্শীর মতে, ১৪ আগস্ট স্থানীয় বিএনপি সমর্থকের নেতৃত্বে একটি দলএকজন বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ সমর্থকের মালিকানাধীন একটি কারখানায়আক্রমণ করে এবং মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিতেশ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। দ্বিতীয় আক্রমণে কারখানাটি পুড়িয়ে দেওয়াহয়। পুলিশ দুটি আক্রমণের সময় কোন ফোন কলের জবাব দেয়নি, এবংযথাযথভাবে তদন্তও করেনি।

    222.
    প্রতিশোধমূলক সহিংসতা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশসদস্যদের ওপর হামলার কোন পরিসংখ্যান ওএইচসিএইচআর নিজ থেকেদিতে না পারলেও আওয়ামী লীগের কাছ থেকে পাওয়া বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত হামলায় আওয়ামী লীগ এবং এরসহযোগী সংগঠনের ১৪৪ জন কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩আগস্ট পর্যন্ত ২৩ জন, ৪ আগস্ট ৩৫ জন, ৫ আগস্ট ৬৮ জন এবং ৬ থেকে১৫ আগস্টের মধ্যে আরও ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
    ওএইচসিএইচআর স্বাধীনভাবে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

    223.
    বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্তসময়কালে ৪৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আরও ২,৩০৮ জন আহতহয়েছেন। ৩৯৪ বিডিআর (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) রিপোর্ট করেছে যে তিনজনসীমান্ত প্রহরী নিহত এবং ১২৯ জন আহত হয়েছেন। ৩৯৫ আনসার/ভিডিপি(গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী)-এর মধ্যে তিনজন নিহত এবং ৬৩ জন আহতহয়েছেন। ৩৯৬ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর দুইজন কর্মকর্তানিহত এবং ৩০৭ জন আহত হয়েছেন।

    225.   
    সাংবাদিক এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিশোধমূলক সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুহয়েছিল যেগুলোকে আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট এবং সাবেকসরকারের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনাদেশ ত্যাগ করার অল্প সময়ের মধ্যেই, হিংস্র জনতা বেশ কয়েকটি টিভি স্টেশনআক্রমণ করে এবং পুড়িয়ে দেয় বা ভাঙচুর করে। এর মধ্যে একটি স্টেশন, একাত্তর টিভি, ইতিমধ্যেই ৩ আগস্ট লাঠি ও পাথর সজ্জিত একদল হিংস্রজনতার হামলার শিকার হয়েছিল, যারা অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের চেয়েআলাদা দেখাচ্ছিল।

    ৫ আগস্ট, কয়েকশ মানুষ স্টেশনটিতে আবার আক্রমণ করে এবং শেষ পর্যন্তজোর করে ভেতরে প্রবেশ করে, এরপর স্টেশনটি লুটপাট করে এবং পুড়িয়েদেয়। স্থানীয় লোকজন এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের সমন্বয়ে গঠিত একদল  উন্মত্ত জনতা সময় টিভিতে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এটিএননিউজ টিভিতে আক্রমণকারীরা দুইজন সাংবাদিক এবং দুইজন অন্যান্যকর্মীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে, পাশাপাশি স্টেশনটি ভাঙচুর ও লুটপাটকরে। ৫ আগস্ট অন্যান্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল এটিএন বাংলা, ডিবিসিনিউজ, মাই টিভি, বিজয় টিভি এবং গাজী টিভি। ৭ আগস্ট ২০০ জনেরএকটি মব আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিএনপির স্লোগান দিতে দিতে মোহনা টিভি স্টেশনেজোর করে প্রবেশ করে। তারা একজন সিনিয়র সাংবাদিককে মারধর করে এবংস্টেশনটি ভাঙচুর বা পুড়িয়ে না দেওয়ার জন্য টাকা আদায় করে।

    226.
    একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিককে হত্যা এবং অন্যান্য সহিংসঅপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকহিসেবে বিবেচিত বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাংবাদিককে এই ধরনের মামলারভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলাগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলেউদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণমাধ্যমেকর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা পর্যবেক্ষণের জন্য একটিকমিটি গঠন করে। ২১ নভেম্বর একটি সাক্ষাত্কারে, অন্তর্বর্তীকালীনসরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে হত্যার মামলাগুলো“পুরানো আইন ও অনুশীলন অনুসরণ করে তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল।“
    বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাগুলোবর্তমান আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের দ্বারা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলাদায়ের করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সরকার উল্লেখ করেছেযে তদন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে।

    227.
    অনেক সাংবাদিক এবং অন্যান্য সুশীল সমাজ পর্যবেক্ষক ৫ আগস্টের পরথেকে একটি বিপরীত ভীতির পরিবেশ অনুভব করেছেন, যেখানে সাংবাদিকএবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কোন সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রচার করতেসতর্ক করা হয়েছে যা আওয়ামী লীগের পক্ষে বা এর রাজনৈতিক বিরোধীদেরবিপক্ষে বলে বিবেচিত হতে পারে।

    ধর্মীয় ও আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন
    228.
    বাংলাদেশ বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং গোষ্ঠীর আবাসস্থল, যারা ধর্মীয়, জাতিগতবা ভাষাগতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা ভাষাভাষী সুন্নি মুসলিম জনগোষ্ঠী থেকেস্বতন্ত্র। এই সম্প্রদায় এবং গোষ্ঠীগুলি কাঠামোগত এবং গভীরভাবে প্রোথিতসামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে, যা ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং একটিসাংবিধানিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা বৈষম্য নিষিদ্ধ করাসত্ত্বেও দেশের বাঙালি এবং ইসলামিক পরিচয়কে জোর দেয়। বিশেষ করেরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, এই গোষ্ঠীগুলি ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু এবংঘৃণাজনিত অপরাধের শিকার হয়েছে। তাদের প্রকৃত উদ্বেগগুলি প্রায়শই ভুলতথ্য, বিকৃতি এবং তাদের নিজস্ব দুর্দশার সাথে সম্পর্কিত নয় এমন বৃহত্তরজাতীয় এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    229. 
    OHCHR স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও আদিবাসী গোষ্ঠীর উপর হামলা সম্পর্কিত ৩৪টিসাক্ষাৎকার পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪সালের মধ্যে আক্রান্ত ১২ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।এছাড়াও, OHCHR বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সুশীলসমাজ, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষাকারী কর্মী এবং ধর্মীয়সংগঠনের সদস্য, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং মিডিয়া প্রতিনিধিদেরসাথে সাক্ষাৎ করেছে। তবে, নির্দিষ্ট অঞ্চলে যৌন সহিংসতা সহ কিছুঅভিযোগের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হয়নি বা আরও তদন্তের প্রয়োজনরয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রকৃত মাত্রা নিশ্চিত করাচ্যালেঞ্জিং প্রমাণিত হয়েছে, বিশেষত কারণ প্রচারাভিযান এবং ধর্মীয়সংগঠনগুলির প্রতিবেদন প্রায়শই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের প্রতিবেদনেরসাথে বিভিন্ন মাত্রায় সাংঘর্ষিক হয়। এছাড়াও, OHCHR-কে জানানো কিছুঅভিযোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি ও  OHCHR-এরকাছে উপলব্ধ সম্পদের স্বল্পতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যক্ষ বিবৃতি সংগ্রহ করা সম্ভবহয়নি।

    230.
    এরপরেও সাক্ষাৎকারদাতাদের প্রদত্ত তথ্য ধর্মীয়, জাতিগত এবং রাজনৈতিকপক্ষপাতের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার একটি  বিরাট চিত্র তুলে ধরে, যেখানে সম্পদ বিনষ্ট এবং ভিন্নধারার পরিচয় দমনেরবিষয়গুলিকে ঘিরেই ঘটনাগুলি ঘনীভূত হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবংথানা দখলের মত ঘটনার ফলে স্বতন্ত্র ধর্মীয় এবং আদিবাসী গোষ্ঠী, বিশেষতহিন্দু, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস (CHT)-এর আদিবাসী গোষ্ঠী এবং আহমদিয়ামুসলমানদের নিরাপত্তা সংকট বাড়িয়েছে। এই ধরনের আক্রমনের পেছনেকারনগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য, আওয়ামী লীগেরসংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ, জমিসংক্রান্ত ও ব্যক্তিগত কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ। OHCHR স্বীকারকরে যে বেশ কয়েকটি ঘটনার মূল কারণ জানা ও বোঝার ক্ষেত্রে ভুল তথ্যধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে এবং এই ঘটনাগুলির পরতিবেদন তৈরিতে যাচাইকৃতউৎসের ওপর গুরুত্ব দেয়। উপরোক্ত বাধা–বিপত্তি সত্ত্বেও ওএইচসিএইচআরপর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে যা থেকে পরবর্তী ঘটনাগুলোর একটিধারা বুঝতে পারা যায় এবং ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন নির্দেশকরে।

    হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মন্দিরে হামলা এবং উৎখাত

    বিগত সরকারের পতনের পরপরই ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুরের মতসংঘর্ষপ্রবণ এলাকা ছাড়াও সিলেট, খুলনা ও রংপুরে আক্রমনের তথ্য পাওয়াযায়। এধরনের হামলা মূলত এমন জায়গায় হয়েছে যেখানকার হিন্দুসম্প্রদায়ের সদস্যদের আওয়ামীলীগ  সমর্থক বলে ধারনা করা হয়, কারণঐতিহাসিকভাবেই এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। 

    233.
    OHCHR এই অঞ্চলগুলির কিছু হিন্দু ব্যবসায়ী এবং বাড়ির মালিকেরসাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা জানিয়েছে যে তাদের ব্যবসা, বাড়ি, জমি এবং ধর্মীয়স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, পাশাপাশি হিন্দুদের মালিকানাধীনদোকানগুলিও লুট করা হয়েছে। হামলার ধরনের মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ এবং শারীরিক হুমকি, এর সাথে যুক্ত ছিল পুলিশের তরফ থেকেব্যবস্থা না নেওয়া, হামলাকারীদের কৌশলগতভাবে দায়মুক্তি দেওয়া এবংরাজনৈতিক উদ্দেশ্য। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাক্ষাৎকারদাতা বলেছেন যেঠাকুরগাঁওতে হিন্দুদের শ্মশান এবং মন্দিরগুলি ভাংচুর করা হয়েছে, এবংঅন্যান্য সাক্ষীরা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সম্পত্তিতে হামলার পর, সেইগ্রামগুলির প্রায় ৩,০০০ – ৪,০০০ হিন্দু, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ভয়ে, ভারতের সীমান্তের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু ভারতের বর্ডার সিকিউরিটিফোর্স (BSF) তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি ব্যাপক  নিরাপত্তাহীনতা এবং বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে, যেখানেঅনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গবাদি পশু এবং পুরো ব্যবসা হারিয়েছে।

    234.
    সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের বিবরণ ইঙ্গিত দেয় যে হামলাগুলি প্রাথমিকভাবেসাবেক সরকারের পতন উদযাপনকারী “বিজয় মিছিল“-এ জড়িত ব্যক্তিদেরদ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। যদিও এই হামলাগুলির অপরাধীদের পরিচয় সর্বদাস্পষ্ট ছিল না, কিছু ঘটনার সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে আক্রমণকারীরাস্থানীয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য সংগঠিত গোষ্ঠীর সমর্থকছিল। তবে, এই রাজনৈতিক দলগুলি থেকে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েহস্তক্ষেপও করা হয়েছিল। ৬ আগস্টের পরে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলির দ্বারা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি এবংউপাসনালয় রক্ষার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের–এর নেতাদেরপাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সকলেই সহিংসতারনিন্দা করে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছিলেন।

    235.
    উন্মত্ত জনতা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রধান শিকক্ষককেজোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করানোর অনেকগুলো অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।এরকম একটি ঘটনার ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য দেন যে উন্মত্ত জনতার মধ্যে স্থানীয়বিএনপি নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।   

    236.
    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে OHCHR-কে প্রদত্ত ন্যাশনাল সিকিউরিটিইন্টেলিজেন্স (NSI) তথ্যে ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যকরে সংঘটিত ৩৭টি সহিংস হামলার বিবরণ রয়েছে। এই হামলাগুলি যশোর, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, নাটোর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, মেহেরপুর, বরগুনা, বরিশাল, রাজবাড়ী, ঠাকুরগাঁও, ফরিদপুর, পিরোজপুর এবং নেত্রকোণায় ঘটেছে। রিপোর্ট করা বেশিরভাগহামলায় এক বা একাধিক বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট বাপুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ছিল।
    চারটি হামলা হয়েছিল মন্দিরে। এই ঘটনাগুলির কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদেরশারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন মহিলার গলা কাটাএবং একজন পুরুষকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা আহত করা হয়েছিল। চিহ্নিতভুক্তভোগীদের মধ্যে নয়জন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেযুক্ত ছিলেন। পাঁচটি হামলার ক্ষেত্রে, NSI রিপোর্টে আক্রমণকারীদের মধ্যেবিএনপি সমর্থকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।  জানুয়ারী ২০২৫ সালে, বাংলাদেশপুলিশ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যা ৪–২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশেসংঘটিত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ১,৭৬৯টি হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনাপরীক্ষা করেছে, যা বেসরকারী বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দ্বারারিপোর্ট করা হয়েছিল। পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই হামলাগুলির মধ্যে১,২৩৪টির রাজনৈতিক পটভূমি ছিল, ২০টি সাম্প্রদায়িক প্রকৃতির ছিল এবং১৬১টি মিথ্যা দাবি ছিল।

    পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্যাতন–নিপীড়ন

    সমতলের বাঙ্গালিদের, বেশিরভাগ সময় সেনা সহায়তায়, পার্বত্য চট্টগ্রামেস্থানান্তর করার নীতি ও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকোণঠাসা হয়ে পড়েছে যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের। এইজনগোষ্ঠীগুলো জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামো অনুযায়ী আদিবাসী বলেবিবেচিত।

    বাংলাদেশ সরকার এই জনগোষ্ঠিগুলোকে “আদিবাসী” বরং সাংবিধানিকভাবেজাতিগত সংখ্যালঘু হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত একটি শান্তিচুক্তি কখনই সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি, এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ওঅভ্যন্তরীণ সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

    গণ্ডগোলের পরের দিনগুলিতে সাবেক সরকারের প্রতি আনুগত্যের অভিযোগেআদিবাসী জনগোষ্ঠীকে হয়রানি করে সেটেলার বাঙ্গালিরা। কোটাবিরোধীআন্দোলনের কারণে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছিল, কিন্তু এর পেছনে গুজবও দায়ী ছিল। একটি গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে স্থানীয়বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন বাঙালি ছাত্রকে বাদ দিয়ে একজন আদিবাসী ছাত্রকেভর্তি করানো হয়েছে, যদিও বাস্তবে দুইজনই ভর্তি হয়েছিল।

    এই ধরনের প্রচারণার ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি গোষ্ঠীগুলির তরফ থেকেঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পায়, কিছু গ্রুপ সামরিকবাহিনীর সাথেও যুক্ত বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের সময় এবং ৫ আগস্টেরপরেও, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচারণা ও গ্রাফিতির মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয়সমস্যা–সংকট যার মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপ্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর মনোযোগ ছিল থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলা এবংভিন্নমত দমন করার জন্য এক্টিভিস্টদের আটক করা।

    এই কর্মকান্ডের ফলে আদিবাসীরা সংগঠিত হতে ভয় পায়, কারণ সেনানির্যাতন বৃদ্ধির ভয়ে অংশগ্রহণের মাত্রা কম ছিল। সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুযায়ী, ৫আগস্ট, বান্দরবানে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে আদিবাসী এবংবাঙালি গোষ্ঠীগুলি বিক্ষোভের জন্য একত্রিত হয়েছিল। কিছু সশস্ত্র বাঙালিট্রাকে করে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসভবনে হামলা চালায় এবং একজনআদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন সদস্যকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে।
    মন্দির, মসজিদ, মাজার এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে হামলা

    239.
    বাংলাদেশে মন্দির এবং মাজার সহ উপাসনালয়ে হামলার একটি দীর্ঘ ইতিহাসরয়েছে। এই রিপোর্টে বিবেচনাধীন সময়কালে, ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে, মিডিয়া এবং অন্যান্য স্থানীয় সংবাদের তথ্যমতে বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু, আহমদিয়া, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত উপাসনালয়ে হামলারখবর তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

    ওএইচসিএইচআর এর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বুরাশারদুবি, হাতিবান্ধা, লালমনিরহাটে তিনটি মন্দিরে হামলা করা হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, পাশাপাশি প্রায় ২০টি বাড়ি লুট করা হয়, যা ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গারপ্রতিফলন।
    মেহেরপুরে ইসকন–এর একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের হামলাও হয়েছিল।ওএইচসিএইচআর–কে জানানো কিছু ঘটনা এই হামলাগুলির চারপাশেরজটিলতাগুলি তুলে ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, নন্দীপাড়ায় কালী মন্দিরে ৭আগস্ট হামলা করা হয়েছিল, কিন্তু তদন্তে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ক্ষয়ক্ষতিরকারণ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নয়, বরং জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বিরোধ।

    ২৪২. ওএইচসিএইচআর ১৫ আগস্টের পরেও ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্রজাতিগত সম্প্রদায়ের ওপর  হামলা–নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছে এবংএগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করার পরামর্শদেয়।

    Facebook Comments Box
  • ট্রাম্প মোদির বৈঠকের সময় বাইরে প্রবাসীদের মানববন্ধন

    ট্রাম্প মোদির বৈঠকের সময় বাইরে প্রবাসীদের মানববন্ধন

    হোয়াইট হাউজে ১৩ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্নে নরেন্দ্র মোদির সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠকের সময় বাইরে আওয়ামী লীগ, ইউনাইটেড হিন্দুজ-সহ বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই হত্যা করা হচ্ছে অথবা বাগি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার মত বর্বরতা চলছে কিংবা সাজানো মামলায় গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়। ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণের পর গত ৬ মাসে বাংলাদেশে আইনের শাসনের বালাই নেই, কথিত আন্দোলনকারিদের হুমকি-ধমকি ও বর্বর আচরণের কারণে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে মহাসংকটে দিনাতিপাত করছেন বলেও অভিযোগ করা হয় মানববন্ধন থেকে। বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করা গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হোয়াইট হাউজসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় মানববন্ধন থেকে। এই মানববন্ধনের প্রত্যাশার পরিপূরক একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে যৌথ প্রেস কনফারেন্সে। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, আমরা জানি বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে বাইডেন প্রশাসনের সময় মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট জড়িত ছিল, সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জুনিয়র সোরেসের (জর্জ সোরেসের ছেলে) বৈঠকেও তা প্রমাণিত। তো বাংলাদেশ নিয়ে আপনি কী বলবেন? জবাবে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, না, আমাদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এখানে কোন ভ’মিকা ছিল না। প্রধানমন্ত্রী (ভারতের) এই বিষয়টা নিয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছেন। কাজেই বাংলাদেশের বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দেবো’-পাশে বসা নরেন্দ্র মোদির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন মি. ট্রাম্প।

    সংবাদ সম্মেলনে নিউ হ্যামশায়ার স্টেটের রিপ্রেজেনটেটিভ আবুল বি খান। পাশে দুই সহকর্মী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    ট্রাম্পের এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বাইরে মানববন্ধনের সকলেই গগনবিদারি স্লোগানে প্রকম্পিত করেন গোটা এলাকা। এ সময় নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত এবং বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
    রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে যখোন বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এমন সরগরম অবস্থা চলছিল তখোন ২৬০ মাইল দূর নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি রেজ্যুলেশন (এইচআর ১১) পাশ হয় ৩২৮-৪১ ভোটে। এই রেজ্যুলেশনে হোয়াইট হাউজ, কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয় অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার ও বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার মত হিংসার আচরণ বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে। রেজ্যুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক মৌলবাদিদের উষ্কানীতে তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিধন, ধমীয় উপাসনালয় ধ্বংস, জাতিরজনকের বাড়ি গুড়িয়ে দেয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রথিতযশা সাংবাদিকদের হেনস্থা, গ্রেফতার ও খুন করা, মাজার ধ্বংস করা, এমনকি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই খুন হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদেরকে; শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন মন্ত্রী-এমপি, রাজনীতিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি শতশত পুলিশ অফিসারকেও হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো পুলিশের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত রয়েছে গোটা বাংলাদেশে(– that government was overthrown by a so-called student uprising supported by Islamicfundamentalists that is hostile to religious minorities; and Whereas, attacks on places of religious worship and cultural figures, harassment and attacks on Hindu religious centers, have increased resulting in many deaths and injuries; and

    Whereas, at least 50 Shrines, including the Shah Paran shrine, the Dewanbagh shrine in

    Narayanganj, and the Garibullah Shah shrine in Chittagong, were attacked and set on fire; and

    Whereas, Muhammad Yunus, the current leader of Bangladesh, has attempted to erase the

    history of Bangabandhu by canceling national holidays such as the father of the nation

    Bangabandhu’s birthday and removing plaques and renaming institutions that were placed or

    named in his honor; and Whereas, there have been extradjudicial killings of citizens who either have spoken out against the Yunus government or who were members of the previous government, including members Bangladesh Awami League, and including the killing of police officers; and; now, therefore, be it Resolved by the House of Representatives: the United States government is urged investigate

    allegations of abuse of minorities, especially Hindus, Buddhists, Christians, and other religious

    minorities by the interim government of Bangladesh.

    Let it be further resolved that copies of this resolution be sent to the members of the New

    Hampshire Congressional delegation, the Secretary of State of the United States, the President of

    the United states, and the White House Press Office.)|

    নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে রেজ্যুলেশন পাশের পর প্রবাসী নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    এই রেজ্যুলেশন উত্থাপন করেছিলেন নিউ হ্যামশায়ার স্টেটের রিপ্রেজেনটেটিভ (রিপাবলিকান) আবুল বি খান। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার অন্যতম সহ-সভাপতি আবুল বি খানের উত্থাপিত রেজুলেশনটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পাশের পর পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কো-স্পন্সর ডোগ থমাস এবং জোনা হুইলারকে পাশে নিয়ে বাংলাদেশী আমেরিকান আবুল বি খান বলেন, মাতৃভ’মি ছেড়ে ৪৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এলেও মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে যাই নাড়ির টানে। কিন্তু গত ৫ আগস্টে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথিত এক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উচ্ছেদের পর বাংলাদেশে এক অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। হত্যা করা হচ্ছে পুলিশ-প্রশাসনের সামনে। এমনকি কদিন আগে বোলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জাতিরপিতার স্মৃতি বিজড়িত ভবনটিকে। লুট-তরাজের পর আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলা হয় সেনা বাহিনীর সামনে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অথচ তারা কথিত ছাত্র-আন্দোলনকারীদের অপকর্ম বন্ধে ন্যূনতম কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এরফলে সাধারণ মানুষেরাও সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। আবুল খান উল্লেখ করেন, নিজের দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে চরম ব্যর্থতা প্রদর্শনকারি সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে রাখার যৌক্তিকতা আদৌ আছে কিনা তা খতিয়ে দেয়া দরকার। আবুল খান বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই। হুমকির মুখে সাংবাদিকগণের পেশা আজ বিপর্যস্ত। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা না থাকায় অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধের উপক্রম। কথিত আন্দোলনের সমন্বয়কারি ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা মোটা অংকের চাঁদাবাজি করছে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিগনের কাছে। চাঁদা না দিলে মামলা-হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এভাবে গোটা সমাজকে অসহনীয় অবস্থায় নিপতিত করা হয়েছে-যা কখনোই মানবতার পরিপূরক নয়।

    নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের বৈঠকের সময় বাইরে প্রবাসীদের মানববন্ধন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    এদিকে, নিউ হ্যামশায়ার স্টেট পার্লামেন্টে এই বিল পাশের সময় গ্যালারিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম ফজলুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আলিম খান আকাশ, মোহাম্মদ জাফরউল্লাহ, আফসার আলী, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের নেতা বিন্দু সফেদা বসু, টিপু চৌধুরী প্রমুখ।

    নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের বৈঠকের সময় বাইরে আওয়ামী লীগের মানববন্ধন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    এদিকে, হোয়াইট হাউজ এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনের মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ড. প্রদীপ কর, ড. সিদ্দিকুর রহমান, ড. দীলিপ নাথ, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবুল হাসিব মামুন, শরাফ সরকার, সাখাওয়াত আলী, ইমদাদ চৌধুরী, সোলায়মান আলী, রকিবউদ্দিন মন্টু, জালালউদ্দিন জলিল, ফারুক হোসেন, শাহানারা রহমান, শাহাদৎ হোসেন, শেখ জামাল, ইনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএসএ’র ডা. প্রভাত দাস, দীনেশ মজুমদার, প্রিয়তোষ দে, ভবতোষ মিত্র, সমর রায়, নির্মল পাল, ড. দ্বীজেন ভট্টাচার্য, রমেশ নাথ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে স্টেট ডিপার্টমেন্টে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতির অবসানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে।

    Facebook Comments Box