Category: প্রবাস

  • আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় নিউইয়র্কে আনন্দ-সমাবেশ

    আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় নিউইয়র্কে আনন্দ-সমাবেশ

    ‘জঙ্গি সংগঠন এবং মানবতা ও গণতন্ত্রের দুশমন হিসেবে আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ এবং ফ্যাসিস্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দাবিতে ১২ মে সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ‘বাংলা ব্লগ’র উদ্যোগে এক আনন্দ-সমাবেশ হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ব্লগ’র অন্যতম সংগঠক ও বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া এবং পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহিত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিভিণ্ন স্লোগানের পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানানো হয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতার তথ্য আন্তর্জাতিক বন্ধুদের অবহিত করার জন্য।

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর নিউইয়র্কের এই সমাবেশ থেকে আনন্দ মিছিল এবং প্রবাসীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণও করা হয় ।

    আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ এবং ফ্যাসিস্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে নিউইয়র্কের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    বাংলা ব্লগ’র প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ এই আনন্দ মিছিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বলেন, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নয়। বিএনপিই হচ্ছে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক । শেখ মুজিবুর রহমান ‘৭১ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। তিনি যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাইতেন তাহলে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে ভারতে গিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। সেই সংকটময় সময়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন । অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের মূল চেতনা গনতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ন্যায় বিচারকে গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় শাসন-ব্যবস্থা কায়েম করে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছেন। আবার শেখ হাসিনাও একাত্তরের চেতনা হত্যা করেছেন। গনতন্ত্র ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন। গিয়াস আহমেদ আজীবনের জন্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

    কেন্দ্রীয় বিএনপির অপর সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, আওয়ামী লীগ একটি জংগী সংগঠন। শেখ হাসিনা জংগী সংগঠনের গড ফাদার। তিনি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়। তাদেরকে বিচার করে শাস্তি দিতে হবে । আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য জিল্লুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা বাবুল, জাসাসের সেক্রেটারি জাহাংগীর সরোয়ার্দী , বিএনপি নেতা মুশাররফ হোসেন সবুজ, আবদুস সবুর, এবাদ চোধুরী, মিজানুর রহমান, আব্দুল আহাদ, মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, গোলাম হোসেন, দেওয়ান কাউসার, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, সৈয়দ আকিকুল ইসলাম ফারুক, শাহাদৎ হোসেন রাজু প্রমুখ।

  • বঙ্গবন্ধু বইমেলা সফল করতে ‘একাত্তরের প্রহরী’র আহ্বান

    বঙ্গবন্ধু বইমেলা সফল করতে ‘একাত্তরের প্রহরী’র আহ্বান

    নিউইয়র্কে আসন্ন ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা’ সফল করে তুলতে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সামাজিক এ্যাক্টিভিস্ট মোর্চা ‘একাত্তরের প্রহরী’। এক বিবৃতিতে এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নিউইয়র্কে মুক্তধারা বইমেলা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী’ একটি সভা আয়োজন করেছিল। সে সভায় নিউইয়র্ক ও সংলগ্ন এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির আয়োজনে আগামী ২৪ ও ২৫ মে ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা ২০২৫’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সে অনুযায়ী এই মেলার আহ্বায়ক হিসেবে একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড নুরুন্নবীর নামটি গৃহীত হয়।

    ১১ মে পাঠানো এ বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু বইমেলার প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে নিউইয়র্কে মুক্তধারা বইমেলা অনুষ্ঠিত হবার কথা। সম্প্রতি এই বইমেলার কর্মসূচি ও আমন্ত্রিত অতিথি তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকা ও কর্মসূচি বইমেলা অনুরাগীদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথেই বইমেলার কর্মসূচি ও অতিথি তালিকার ব্যাপারে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এজন্যে মুক্তধারা বইমেলা আয়োজক সংগঠনের প্রধান ড. নুরুন্নবী পদত্যাগ করেছেন, কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক-সংগঠক তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ও বইমেলা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। স্বতস্ফুর্তভাবে ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্কের বইমেলার মূল আদর্শ-উদ্দেশ্য অনুসরণে আরেকটি বইমেলা আয়োজনের।’

    আরো বলা হয়েছে, ‘এর আগে বইমেলা নিয়ে ভেতরে ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল বইমেলা আয়োজক কমিটির সভায়। মতবিরোধের বিষয় ছিলো বইমেলা (ক) ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-অনুসৃত পুরনো নীতিতে চলবে, না-কি (খ) বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন সরকারের নীতি, দৃষ্টিভঙ্গী ও আদর্শে চলবে। এহেন বিতর্ক নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে একাধিক সভা ও মতবিনিময়ের পর চেয়ারম্যান ড. নুরুন্নবীর কাছে যখন প্রতীয়মান হয়েছিল যে, বইমেলাটি বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী ও আদর্শকে প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থন করে আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এ কারণে তিনি পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। ড নবীর এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পত্রিকান্তরে ও সোশ্যাল মিডিয়াতে বইমেলা অনুরাগীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়। কমিউনিটির ক্ষোভ প্রশমনের জন্য সাথে সাথে বইমেলা আয়োজক সংগঠনের প্রভাবশালী সদস্যগণ ড নবীকে আশ্বস্ত করেন যে, বইমেলা পুরনো ধারাতেই চলবে, এবং অতিথি তালিকা থেকে কর্মসূচি, সব কিছুতেই সেটা প্রতিফলিত হবে। ফলে ড নবী বইমেলা ২০২৫ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল থাকেন, যদিও এ সিদ্ধান্তে কমিটির অপর দুজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত কর্মসূচি ও অতিথি তালিকা প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে যে, বইমেলা আয়োজক কমিটির যারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একজোট হয়েছিলেন, তারা বইমেলা অনুরাগীদের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য ড নবীকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কমিটিতে পুনর্বহাল করেছিলেন। তারা তাদের ষড়যন্ত্রে অটল থেকে কমিটি থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের অন্ধ অনুসরণকারী পদত্যাগকারী দুজনকে পুনর্বহালসহ একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসীদের নিয়ে কর্মসূচি তৈরি করেছে। অতিথি তালিকায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদেরকে অবহেলা করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপর প্রভাব আছে, সাদাত হোসাইন নামের এক সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী অযোগ্য ও অখ্যাত লেখককে বইমেলার উদ্বোধক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এই সাদাত হোসাইন চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট সন্ত্রাসের পক্ষে সক্রিয়ভাবে রাজপথে মাইক হাতে নেমে দখলদার ইউনুসের গভীর ষড়যন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি এখনও অব্যাহতভাবে অবৈধ ইউনুস সরকারের সমর্থনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

    বইমেলা আয়োজক কমিটির সদস্যদের এহেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ড.নুরুন্নবী অবশেষে তার পদত্যাগ চূড়ান্ত করেছেন এবং মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকার অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক-সংগঠক বইমেলার কর্মসূচি থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সকল সৃষ্টিশীল লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী’ একটি সভা আয়োজন করেছিল। সভায় নিউইয়র্কের লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দেওয়া অভিমতের আলোকে একটি বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সমসাময়িক কালে যখন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিকে বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলতে উদ্যত হয়েছে পাকিস্তানি আলবদর-রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষক ইউনুস সরকার, তখন নিউইয়র্কের এবারের বইমেলার নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু বইমেলা-২০২৫’ বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একাত্তরের প্রহরীর সাথে এই বইমেলা আয়োজনে অংশ নেবেন উত্তর আমেরিকার সকল সৃষ্টিশীল লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মী ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তি ও সংগঠন।

    এই মেলায় যারা জাতির পিতার অবমাননায় বঙ্গবন্ধুর বাসবভন ও যাদুঘর ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ধ্বংসে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননায় উল্লাস করেছে কিংবা প্রতিবাদ না করে নিরব থেকেছে, জয় বাংলা স্লোগানে যাদের গাত্রদাহ হয়, যারা খুনি, ধর্ষণকারী, শিক্ষক অবমাননাকারী এবং সাম্প্রদায়িকতাবাদী ও জঙ্গীবাদীদের প্রশ্রয় দেয় এবং যারা মানবিক করিডোরের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে পরাশক্তির কাছে বিক্রি করে, মানুষের আর্থিক দৈন্যতাকে পুঁজি করে সুদ ব্যবসায়ী ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সমর্থন করে, এই বইমেলাতে তাদের কোনো স্থান থাকবেনা।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, একাত্তরের প্রহরীর আয়োজনে আরেকটি বইমেলা আয়োজনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে অসংখ্য লেখক, সাংবাদিক, পাঠক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাংস্কৃতিক কর্মীগণ একাত্তরের প্রহরীকে অভিনন্দিত করেছেন। একাধিক পুস্তক প্রকাশক সময়স্বল্পতার কারণে সীমিত পরিসরে হলেও বইমেলায় তাদের স্টল দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেক শিল্প, সাহিত্য ও কমিউনিটি সংগঠন বইমেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

    মাত্র দু সপ্তাহের প্রস্তুতিতে দুদিনব্যাপী একটি বইমেলা আয়োজন খুব সহজ কাজ নয়। এ কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

  • ফুুলেল শুভেচ্ছা আর গভীর শ্রদ্ধায় নিউইয়র্কে ‘মা দিবস’ পালিত

    ফুুলেল শুভেচ্ছা আর গভীর শ্রদ্ধায় নিউইয়র্কে ‘মা দিবস’ পালিত

    মায়েরা ভালো থাকলেই গোটা সমাজ তথা রাষ্ট্র ভালো থাকে, মায়েরা সুস্থ থাকলেই সন্তানেরা মেধাবি হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম হয়। আর এজন্যেই প্রতিটি মা-কে পরম শ্রদ্ধায় আকড়ে রাখার সংকল্পে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হলো নিউইয়র্কে ‘মা দিবস’র বিভিন্ন সমাবেশে। কেউ মা-কে পাশে নিয়ে কেক কেটে আবার অনেকে নারীর সামগ্রিক কল্যাণে নিরন্তরভাবে কর্মরত মা-দের বিশেষ সম্মাননা জানানোর মধ্যদিয়ে ১১ মে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মা দিবস পালন করলেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

    ‘সবিতা মাদার অ্যান্ড চিল্ড্রেন ফাউন্ডেশন’র সমাবেশে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় সকল মা-কে। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানটি হয় জ্যাকসন হাইটসে জুইশ সেন্টারে ‘সবিতা মাদার অ্যান্ড চিল্ড্রেন ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে। এতে উপস্থিত সকল মা-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের পর্বে হাজির হয়েছিলেন অভিবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু নিউইয়র্কের স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ( ডেমক্র্যাট) স্টিভেন রাগা। তিনি গর্বিত সকল মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দিবসটি কেবলমাত্র মায়েদের জন্যে উৎসর্গীত হলেও এই কম্যুনিটির সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে মায়েরা প্রতিটি দিনই অপরিসীম ভ’মিকা রাখছেন। এজন্যে আমি স্টেট পার্লামেন্টে ব্যস্ততা সত্বেও ছুটে এসেছি মা-দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদেরকে আরো বেশী কাজে উৎসাহিত করতে।

    এ সময় মা দিবসের আলোকে আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক লাবলু আনসার এবং রাশেদ আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার ডা. প্রভাত দাস প্রমুখ। মুনমুন সাহার সঞ্চালনায় বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের মধ্যমণি ছিলেন ড. সবিতা দাস। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উপস্থিত সকল মা-কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বহুজাতিক এ সমাজের বৈচিত্রকে আরো মহিমান্বিত করতে বাংলাদেশী নারীরাও নিরন্তরভাবে কাজ করছি এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে নিজের স্বার্থে, পরিবারের কল্যাণে এবং গোটা জাতির এগিয়ে চলা ত্বরান্বিত করতে। আর এটাই হচ্ছে এবারের মা দিবসের আহবান।

    মা রিজিয়া সুলতানাকে পাশে নিয়ে কেক কাটেন জেরিন রহমান এবং তাসমিয়া রহমান। এ সময় পাশে ছিলেন তাদের অভিভাবকেরাও। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    ‘মা আমার মা, স্নেহময়ী মা’ স্লোগানে উজ্জীবিত এ আয়োজনে দিবসের আমেজে কবিতা আবৃত্তি করেন রবীন্দ্র একাডেমির কর্মকর্তা ডা. রুমা চৌধুরী। সমবেত কন্ঠে সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় সকলকে ভাসিয়ে নেন ড. সবিতা দাসের প্রতিষ্ঠিত আরেকটি সংগঠন ‘বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন’র শিল্পীরা।

    শিল্পীগণের মধ্যে ছিলেন রূনা রয়, শাকিলা রুনা, ডা. রুমা চৌধুরী, মুনমুন সাহা, সৌভিথ চৌধুরী, অরুনা সাহা, সুস্মিতা হালদার, পারিজাত দাস, শিলা চন্দ্র, সুশীল সিনহা, চন্দনা ভট্টাচার্য, সৈয়দ আহমদ বাবলা, ফারজিন স্বর্ণা, অনুষ্কা সেনগুপ্ত, ডা. কামরুল ইসলাম, সোমা রোজারিয়ো, ইমন বিশ্বাস, জুলি খাস্তগীর, দীপক দাস, আয়েশা খান, প্রদীপ কুন্ডু, অঙ্কিতা বিশ্বাস, অথরা ঘোষ, সুদেষ্ণ সাহা, অস্মিতা মন্ডল, অনামিকা চন্দ, রায়াশি বিশ্বাস, মিথি বড়ুয়া, পূর্ণ চৌধুরী, সপ্তর্ষী বণিক, পূজা দাস, উইলি নন্দি, প্রিণা নন্দী, সৃজিতা হিয় প্রমুখ।

  • ‘ইউনুসের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’

    ‘ইউনুসের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সংবাদ জানার পরই নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, শেখ হাসিনা মঞ্চ, জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন-সহ বিভিন্ন সংগঠনের শতশত নেতা-কর্মী বিক্ষোভে ফেঠে পড়েন।

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    ১০ মে শনিবার বিকেলে ক্ষুব্ধ-নেতা-কর্মীরা গগনবিদারি স্লোগানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং ইউনূসকে গণশত্রু হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে তাকে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মধ্যদিয়ে ইউনূস তার রাজাকারি চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছেন বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।

    এ বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে অবৈধ ইউনূস সরকারের কোন নির্দেশ বাংলাদেশের সচেতন মানুষ কখনো মানবে না বলে উল্লেখ করে বক্তারা ইউনূসের অন্যায়-অবিচার আর দু:শাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    বক্তব্য প্রদানকারি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. প্রদীপ কর, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আবুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, শাহীন আজমল, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, তারিকুল হায়দার চৌধুরী, দরুদ দিয়া রনেল, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মিয়া, সেক্রেটারি কামাল হোসেন মিঠু, সহ-সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ, নুরুল আবসার, শেখ হাসিনামঞ্চের সভাপতি জালালউদ্দিন জলিল, সেক্রেটারি কায়কোবাদ খান, কাশেম ভ’ইয়া, খসরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, খান শওকত, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কিবরিয়া, নুরুজ্জামান সর্দার, সাখাওয়াত বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা ড. সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুস সামাদ আজাদ, শামসুদ্দিন আজাদ, ইমদাদ চৌধুরী, সোলায়মান আলী, আব্দুল হামিদ, মফিজুল ইসলাম, আলী হোসেন গজনবী, তুলন মিয়া, আশফাক মাসুক, জহুরুল ইসলাম, নুরল ইসলা, নজরুল, জেড এ জয়, যুবলীগ নেতা শেখ জামাল, রহিমুজ্জামান সুমন, জাহিদ খন্দকার, ছাত্রলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, শাহানারা রহমান, মমতাজ শাহনাজ প্রমুখ।

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    সকলে সমস্বরে স্লোগান ধরেন : আমার মাটি আমার মা-করিডোর হবে না, সেন্ট মার্টিন দেব না-আমার মাটি আমার মা, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়, একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার, জামাতের আস্তানা-ভেঙ্গে দাও-গুড়িয়ে দাও, জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি।

  • আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সংবাদে নিউইয়র্কে আনন্দ-সমাবেশে মিষ্টি বিতরণ

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সংবাদে নিউইয়র্কে আনন্দ-সমাবেশে মিষ্টি বিতরণ

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সংবাদে নিউইয়র্কে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলন’র ব্যানারে মিষ্টি বিতরণের পর উল্লাস প্রকাশ করা হলো। ১০ মে শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় স্বতষ্ফুর্তভাবে জড়ো হওয়া এ আনন্দ-সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র নেতা আব্দুল কাদের। অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানও বলেছেন যে, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের স্থান নেই। আর এটি পরম সত্য যে, এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তর সালে পাকিস্তানী আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফেরার পর পচাত্তরে তিনি বাকশাল কায়েম করলেন। এসবই স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। কারণ, একাত্তরের চেতনা ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রকে তিনি হত্যা করলেন বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে। গিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, আবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে এরশাদের সাথে আঁতাত করলেন, জামায়াতের সাথে আঁতাত করলেন। শুধু তাই নয়, ১/১১ এর সাথেও আঁতাত করেছিলেন। আর এভাবেই শেখ হাসিনাও প্রমাণ করেছেন যে তিনি একাত্তরের স্বাধীনতার বিরোধী। গিয়াস বলেন, টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন। অতএব স্বাধীনতা বিরোধী এসব কার্যকলাপের কারণে এবং গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়াটা যৌক্তিক ছিল বলে আমরা মনে করি। আওয়ামী লীগ হচ্ছে মানবতাবিরোধী সংগঠন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন, এবং স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সংগঠন।

    এসময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন রিটা রহমান, এম এ সবুর, মনিরুল ইসলাম, দেওয়ান কাউসার, শাহাদৎ হোসেন রাজু, নীরা রাব্বানী, মো. হারুন মিয়া, হাসান সিদ্দিক, নূর আমিন, আবুল কালাম প্রমুখ। বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এখোন সময় হচ্ছে ১৫ বছরের অপশাসনের দায়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সমুচিত শাস্তি প্রদানের। সে অপেক্ষায় রয়েছে প্রবাসীরাও।

    ছবির ক্যাপশন-স্যুইট-র‌্যালি-১
    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় নিউইয়র্কে আনন্দ-সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন গিয়াস আহমেদ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।
    ছবির ক্যাপশন-স্যুইট-র‌্যালি-২
    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় নিউইয়র্কে আনন্দ-সমাবেশে মিস্টি বিতরণ করেন বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

     

  • অভিবাসন-বিরোধী অভিযান মার্কিন অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলবে

    অভিবাসন-বিরোধী অভিযান মার্কিন অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব ফেলবে

    অভিবাসন-বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি আমদানীকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কঠোর নীতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরে বিরাজমান সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে। সিলিকন ভ্যালি এবং অন্য এলাকার মাঝারি ও বড় আকারের শিল্প-কারখানার ৭৫% মালিকের আশংকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-গ্রেফতার ও বহিষ্কারের চলমান অভিযান না থামলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং লোকসানের সাগরে ভাসতে ভাসতে একসময় ক্রমবর্দ্ধমান প্রতিষ্ঠানগুলোতে লালবাতি জ্বালাতে বাধ্য হবেন তারা।

    উদীয়মান তথ্য-প্রযুক্তি সেক্টরের শীর্ষ কর্মকর্তাগণের ওপর পরিচালিত এবং ১০ মে প্রকাশিত ঐ জরিপ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সেক্টরের নাজুক অবস্থা আরো প্রবল আকার ধারণ করবে। আর এহেন আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছে অভিবাসন-বিরোধী অভিযান ক্রমান্বয়ে জোরদারের ফলে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-নীতি সরলিকরণ করা না হলে বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিকের আমদানিও হ্রাস পাবে।

    জরিপে অংশ নেয়া সাবানটোয়া’ নামক একটি টেকনোলজি কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ক্রেইগ রুপ বলেছেন, অভিবাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে ট্রাম্পের গৃহিত পদক্ষেপসমূহ আমার কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় না হলেও সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের নীতি আমাকে বিচলিত করেছে। গোটা পরিস্থিতিকেই টালমাটাল করেছে।

    জরিপে অংশ নেয়া পদস্থ কর্মকর্তাগণের ৭০% এর ধারণা আইস (ট.ঝ. ওসসরমৎধঃরড়হ ধহফ ঈঁংঃড়সং ঊহভড়ৎপবসবহঃ (ওঈঊ) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অভিযানের কঠোরতা হ্রাস করা না হলে সামনের বছর শিল্প-কারখানায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। শ্রমিক-কর্মচারির সংকটে নিপতিত হবে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার। ৫৮% মনে করছেন যে, উৎপাদন ব্যাহত হবার জের পড়বে গোটা অর্থনীতির ওপর-যার ধকল পোহাতে হবে আপামর জনগোষ্ঠিকে।

    এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে মধ্য মার্চের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে ৩৪৯টি কোম্পানীর মালিক/সিইও অংশ নেন। এরমধ্যে ৬০% হলেন কোম্পানীসমূহের আইন-কানুন বিষয়ক কর্মকর্তা। অবশিষ্টদের মধ্যে আছেন মানব-সম্পদ তথা নিয়োগ বিষয়ক কর্মকর্তা। জরিপে অংশগ্রহণকারি কল-কারখানাসমূহে শ্রম-শক্তির সংখ্যা এক হাজারের উর্দ্ধে। অর্থাৎ এই জরিপ অনুযায়ী অভিবাসন-বিরোধী অভিযান চলতে থাকলে শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে তথা উৎপাদন হ্রাস পাবে। একইসাথে উৎপাদিত পণ্য গন্তব্যে সরবরাহেও সমস্যা বাড়বে। ফলে ক্রেতা-সাধারণকে গুণতে হবে অত্যধিক মূল্য-যার কিছুটা প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে।

    আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন কমতে পারে ৬০ বিলিয়ন ডলারের মত। এই সংস্থার সিইও রেবেকা শি বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্ভর করে দক্ষ ও মেধাবি অভিবাসনের ওপর। ‘দ্য আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল’র ধারণা ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী তৎপরতা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লাগবে প্রথম বছরেই। টার্গেট অনুযায়ী বার্ষিক ১০ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটতে থাকলে প্রতি বছর গড়ে আরো ৮৮ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন হ্রাস পাবে।

    শিল্প-কল-কারখানা বিষয়ে অভিজ্ঞ এটর্নী হেক্টর কুইরোগা গণমাধ্যমে বলেছেন, শ্রম সেক্টর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পর তা পূরণ করা কখনোই সম্ভব হবে না সিটিজেনদের মাধ্যমে-এটাই হচ্ছে বড় সত্য। বহুবছর ধরেই অভিবাসীরা শিল্প-কারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব রাখছেন এবং অভিবাসীগণের মেধাতেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রসার ঘটছে বছরের পর বছর যাবত।

  • মালয়েশিয়ায় ৪৫০ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক

    মালয়েশিয়ায় ৪৫০ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক

    মালয়েশিয়াজুড়ে পরিচালিত অভিবাসন বিভাগের ব্যাপক অভিযানে অন্তত ৪৫০ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকালে শুরু হওয়া এই ‘অপস গেমপুর বারসাসার’ অভিযানে মোট ১,২৭০ বিদেশি নাগরিক এবং ১১ জন মালয়েশিয়ান নিয়োগকর্তা গ্রেফতার হন।

    মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জেলা জোহরের পাঁচটি অঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযানটি পরিচালিত হয়, যেখানে ৩৩০ জন বিদেশি শ্রমিক আটক হন। এর মধ্যে ২৩৯ জন ছিলেন বাংলাদেশি। অভিযানে অংশ নেয় অভিবাসন বিভাগের ১২০ জন কর্মকর্তা। তারা মোট ৫১৬ জনের কাগজপত্র যাচাই করেন।

    রাজধানী কুয়ালালামপুরেও একটি নির্মাণস্থলে অভিযানে ৪১ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশিয়ান এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকসহ আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। এ সময় দুই বাংলাদেশি পালাতে গিয়ে কাদাময় পুকুরে ঝাঁপ দেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়।

    অন্য রাজ্যগুলোর অভিযানে—

    কেলান্তান থেকে ৯১ জন,

    তেরেঙ্গানু থেকে ৩৯ জন (এর মধ্যে ৩৫ জন বাংলাদেশি),

    লাবুয়ান থেকে ২০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়।

    মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকা, অবৈধভাবে বসবাস ও কাজ করাসহ অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া ও নিয়োগ করার দায়ে মালয়েশিয়ান ১১ জন নিয়োগকর্তাও গ্রেফতার হয়েছেন।

    এই অভিযান এমন সময় চালানো হলো, যখন দেশটির সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌজন্যে: বিজনেসআই২৪

  • যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী শ্রমিকদের সংগ্রাম ও চ্যালেঞ্জ

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী শ্রমিকদের সংগ্রাম ও চ্যালেঞ্জ

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনযাত্রা একটি জটিল বাস্তবতা, যেখানে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বা ভাল জীবনযাপন করার জন্য সংগ্রাম করেন। যুক্তরাষ্ট্রে একদিকে যেমন উন্নত জীবনের আশা থাকে, অন্যদিকে নানা চ্যালেঞ্জও তাদের প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হয়। বৈধ অভিবাসী এবং অবৈধ অভিবাসী-দু’ধরনের শ্রমিকই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে তাদের জীবনধারা, নিরাপত্তা, আইনগত সমস্যা এবং কর্মস্থলের পরিস্থিতি কখনোই সহজ নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১১ মিলিয়ন (১ কোটি ১০ লাখ) অবৈধ অভিবাসী রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন খাতে শ্রম দিয়ে থাকেন, যেমন নির্মাণ, কৃষি, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সেবা। তবে তাদের অধিকাংশেরই কোন ধরনের শ্রমিক অধিকার নেই বা তারা বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পায় না। এই শ্রমিকরা মূলত কম পারিশ্রমিক, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও কাজ করতে বাধ্য হন। তারা সাধারণত শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত, এবং শ্রম শোষণ বা অন্য কোনও শোষণমূলক পরিস্থিতির শিকার হন।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের একটি বড় সমস্যা হলো আইনি সুরক্ষা। তাদের আইনগত অধিকার সীমিত থাকে এবং বিভিন্ন জায়গায় বৈষম্যের শিকার হন। উদাহরণস্বরূপ, নির্মাণ শ্রমিকেরা যাদের অধিকাংশই অস্থায়ী কাজের জন্য নিয়োগ পান, তাদের নিয়োগকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুবিধা দেয়া হয় না। শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা আহত হলে তারা সাধারণত কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পায় না। এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রেই আইনগত সুরক্ষা না থাকায় শ্রমিকরা চাকরি হারানোর ভয় এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার শঙ্কা নিয়ে বসবাস করেন।

    অনেক প্রবাসী শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী নীতি, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে কঠোর অভিবাসন আইনের কারণে অতিমাত্রায় আতঙ্কিত। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ভিসা ছাড়া, অদ্ভুতভাবে বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সার্বক্ষণিক ভাবেই গ্রেফতার বা ফেরত পাঠানোর শঙ্কায় থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা কখনোই নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন না। সামাজিক নিরাপত্তা বা কোন ধরনের সরকারি সুবিধা না পাওয়ার কারণে, তাদের কাজের মধ্যে যে কোনো বিপদ হলে, তারা সেগুলোকে চেপে যায় বা রিপোর্ট করতে সাহস পান না।

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী নারী শ্রমিকদের অবস্থা আরও জটিল। তারা সাধারণত ডোমেস্টিক কাজ, পরিচ্ছন্নতা, নার্সিং, অথবা গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত হন। এই নারী শ্রমিকরা প্রায়শই শোষণ, অবহেলা এবং যৌন হয়রানির শিকার হন। তাদের জন্য অফিসিয়াল কোনো আইনগত সহায়তা পাওয়া কঠিন, বিশেষ করে যদি তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। তারা প্রায়শই নিঃশর্তভাবে কাজ করে, এমনকি ন্যূনতম মজুরি কিংবা কাজের সময়সীমা বজায় না রেখেও। তারা কাজের পরিবেশে মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বিষহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, কিন্তু অভিবাসন নীতির কারণে তারা প্রতিবাদ বা অভিযোগ জানানোর সাহস পান না।

    যুক্তরাষ্ট্রে অনেক প্রবাসী শ্রমিক একটি নিম্ন মজুরি ভিত্তিক জীবিকা নির্বাহ করেন। মজুরি অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে দেয়া হয় না, এবং দিনের পর দিন তাদের কাজের ঘণ্টা বেড়ে যায়। যেমন, কৃষি খাতের শ্রমিকরা সাধারণত ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন, অথচ তাদের মজুরি কম থাকে এবং স্বাস্থ্যসেবা বা অন্যান্য সুবিধা তারা পায় না। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্য। একজন শ্রমিককে এক খাতে কম মজুরি দেয়া হলেও অন্য খাতে একই কাজের জন্য উচ্চ মজুরি দেয়া হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রে কিছু প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন রয়েছে যারা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্য সেবা এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা প্রদান করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ‘এআইআর’ (আমেরিকান ইমিগ্যান্ট রিলিফ) এবং ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রান্ট লিগাল সার্ভিসেস’ (এনআইএলসি) এর মতো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা অভিবাসীদের জন্য আইনি সহায়তা, কর্মস্থলে শোষণ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ভবিষ্যতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে যদি সরকার অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনে। ২০২১ সালে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন অভিবাসন নীতি সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে, এসব পরিবর্তনের বাস্তবায়ন এখনো অনেকটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

    এছাড়া, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং মানবাধিকার সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। তাদের লক্ষ্য হলো, অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, যাতে তারা মানবিক পরিবেশে কাজ করতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।