Category: প্রবাস

  • নিউইয়র্কে দোয়া-মাহফিল, গায়েবানা জানাযা

    নিউইয়র্কে দোয়া-মাহফিল, গায়েবানা জানাযা

    বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন নিউইয়র্ক কম্যুনিটিতেও গায়েবানা জানাযাসহ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে সবচেয়ে বড় শোক-সমাবেশ ও জানাযা অনুষ্ঠিত হয় উডসাইডে কুইন্স প্যালেসে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাটের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জানাযায় কেন্দ্রীয় কমিটির অপর নেতা জিল্লুর রহমান জিল্লু-সহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সাথে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, কন্সাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার নেতা বেদারুল ইসলাম বাবলা, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীনও ছিলেন। সকলেই কায়মনোবাক্যে বেগম খালেদা জিয়াকে যেন পরমকরুণাময় বেহেশত নসীব করেন সে প্রার্থনা করেন। এর আগেরদিন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস মসজিদেও বিএনপি, যুবদল, জাসাস, শ্রমিক দল প্রভৃতি সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আরেকটি শোক-সমাবেশ হয়েছে জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিমউদ্দিনের নেতৃত্বে। এছাড়া, কম্যুনিটির প্রায় প্রতিটি মসজিদেই দোয়া-মোনাজাতে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে।

    কুইন্স প্যালেসে সর্বস্তরের প্রবাসীর দোয়া-মোনাজত। ছবি-জাগো প্রহরী।

    গায়েবানা জানাযাসহ দোয়া-মাহফিলসমূহে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্রু বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন, বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া, এম এ সবুর, কাজী আজম, সবুজ,আনোয়ারুল ইসলাম, ফিরোজ আলম, কাজী আসাদুল্লাহ, আশরাফ হোসেন, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, এম এ সবুর, জাকির এইচ চৌধুরী, এম এ বাতিন, আনিসুর রহমান, দেওয়ান কাউসার, জাকির এইচ চৌধুরী ও আবু সাঈদ আহমেদ, মনিরুল ইসলাম, এজিএম জাহাঙ্গীর, রিয়াজ মাহমুদ, জিয়াউর রহমান মিলন, টিপু, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রহিচ উদ্দিন, জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সায়েম, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দি, মুক্তিযুদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন, শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সেচ্ছাসেবক দলের সব আন্তর্জাতিক সম্পাদক হারুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।

    আমেরিকাতেও শোকের ছায়া

    বাংলাদেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিউইয়র্কসহ সমগ্র আমেরিকায়। বিএনপি ছাড়াও প্রবাসীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন মসজিদে দোয়া-মোনাজাতে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

    কুইন্স প্যালেসে সর্বস্তরের প্রবাসীর গায়েবানা জানাযায় প্রবাসীরা। ছবি-জাগো প্রহরী।

    তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সুশাসনের পরিক্রমায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের একটি শ্যুনতা তৈরী হলো বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, মূলধারার রাজনীতিক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক সদস্য গিয়াস আহমেদ, তারেক রহমান মুক্তি আন্দোলন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা আতিকুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসীমউদ্দিন, সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদ, বিএনপি নেতা দিনাজ খান, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির এইচ চৌধুরী, যুুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন মনোভাব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তারা সকলেই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় প্রবাসীদের দোয়া চেয়েছেন।

    কুইন্স প্যালেসে সর্বস্তরের প্রবাসীর গায়েবানা জানাযায় প্রবাসীরা। ছবি-জাগো প্রহরী।

     

  • ইমিগ্র্যান্টদের স্বপ্নযাত্রা নিয়ে মঈন চৌধুরীর বইটি প্রকৃত অর্থে একটি প্রেমপত্র

    ইমিগ্র্যান্টদের স্বপ্নযাত্রা নিয়ে মঈন চৌধুরীর বইটি প্রকৃত অর্থে একটি প্রেমপত্র

    দীর্ঘ দুই দশক যাবত আমেরিকায় ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে নিরন্তরভাবে কর্মরত এটর্নী মঈন চৌধুরীর লেখা ‘দ্য রোড টু আমেরিকা : ইমিগ্রেশন হার্ডশিপ’ বইটি হচ্ছে ইমিগ্র্যান্টদের প্রতি সত্যিকারের ভালবাসার একটি পত্র (লাভ লেটার)। এটি হচ্ছে লাভ লেটার। এমন অভিমত পোষণ করেন মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশী তথা এশিয়ানদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে গ্রন্থটির মোড়ক উম্মোচনী সমাবেশে বিশেষ সম্মানীত অতিথির বক্তব্যে গ্রেস মেং আরো উল্লেখ করেন, কুইন্স হচ্ছে সবচেয়ে বেশী ভাষা-ভাষি আর বর্ণ ও গোত্রের মানুষের আবাস ভ’মি সমগ্র আমেরিকায়। এই বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশীরা বিশেষ এক অবস্থানে উন্নীত হয়েছেন সততা-নিষ্ঠা আর দক্ষতার মাধ্যমে। এমন চমৎকার শান্তিপ্রিয় কম্যুনিটির একজন হলেন মঈন চৌধুরী। আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ মঈনের বইয়ের প্রতি। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি বই নয়, এটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখোন এই দেশের বহু মানুষ জটিল সংকটে নিপতিত এবং তাদের ধারণা থাকা উচিত কীভাবে তারা এহেন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন এবং সে সব বিষয়কেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এই গ্রন্থে। আসলে এটি হচ্ছে ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটির প্রতি ভালবাসার একটি পত্র-যা অনেকের বিপদ মুক্তির সহায়ক হতে পারে। আমি এই বইয়ের তথ্যসমূহ নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে আমার সহকর্মীগণের সাথে কথা বলবো-যাতে তারাও ইমিগ্র্যান্টদের সজাগ রাখতে সক্ষম হন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান দমন-পীড়নের প্রতি ইঙ্গিত করে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই কংগ্রেসওম্যান আরো বলেন, এখোন প্রকৃত অর্থেই বহু ইমিগ্র্যান্টের জন্যে কঠিন সময়, আপনি সাম্প্রতিক সময়ে তথা কয়েক মাস আগে এসে থাকুন অথবা ৩ প্রজন্মের পরিবারের সদস্য হউন, আমরা একটি প্রশাসনের অধীনে পড়েছি যখোন মনে হচ্ছে যে, আমরা এখনো আমেরিকান হতে পারিনি। এমনকি আমাদের পরিবারের কোন কোন সদস্য কিংবা বন্ধুরা এখনো আমেরিকান হতে পারেননি। মঈন লিখেছেন কঠোর পরিশ্রমী ইমিগ্র্যান্টদের আমেরিকান হয়ে উঠার পথ-পরিক্রমার ধারাবিবরণী-যে অভিজ্ঞতা তিনি আইনী লড়াইয়ে অর্জন করেছেন। কুইন্সের ফ্লাশিং ও জ্যামাইকার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত নিউইয়র্ক কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ৬ এর কংগ্রেসওম্যা গ্রেস মেং আরো বলেন, কয়েকমাস আগে আমার এলাকার একজন আফ্রিকান আমেরিকান মুসলমান টেক্সাসে তার পুত্রের সাথে সাক্ষাতের পর নিউইয়র্কে ফেরার সময় জেএফকে এয়ারপোর্টে তাকে ইমিগ্রেশনের লোকজন আটক করে আইসের নিকট সোপর্দ করে এবং পাঠানো হয় লুইঝিয়ানায় ডিটেনশন সেন্টারে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তিনি কোন ধরনের অপরাধে কখনো লিপ্ত হননি এবং বৈধভাবেই বসবাস করছেন। হিজাব পরিহিত সেই মুসলমান নারীর মত প্রতিদিনই অগণিত ইমিগ্র্যান্ট অযথা হয়রানি-নাজেহালের শিকার হচ্ছেন।

    মঈন চৌধুরীর গ্রন্থের আলোকে বক্তব্য দেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

    গ্রেস মেং বলেন, বড়দিনের প্রাক্কালে এবং ইংরেজী নতুন বছরকে বরণে অপেক্ষমান কম্যুনিটিকে নিয়ে মঈন চৌধুরীর এই প্রকাশনা উৎসব সত্যি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং আমি গ্রন্থটি রচনার জন্যে মঈন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
    এর আগে সূচনা বক্তব্যে ইউএস সুপ্রিম কোর্টে সর্বপ্রথম বাংলাদেশী আমেরিকান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এটর্নী মঈন চৌধুরী উল্লেখ করেন, এর আগে আমি মিশিগান স্টেটে তালিকাভুক্ত হই আইনজীবী হিসেবে। ইমিগ্রেশন আইন, ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা এবং অপরাধ আইনে দুই দশকেরও অধিক সময় আদালতে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কম্যুনিটির নানা কর্মকান্ডেও জড়িত রয়েছি ২০১৬ সাল থেকে কুইন্স কাউন্টি ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ হিসেবে। আমি সচেষ্ট রয়েছি ইমিগ্র্যান্টদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার আইনী লড়াইয়ে। প্রশাসনের সর্বস্তরে ইমিগ্র্যান্টদের দুর্দশার কাহিনী উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে তা সুরাহার জন্যে কাজ করছি। বলতে দ্বিধা নেই যে, আমার এই দীর্ঘ চলার পথে অকৃত্রিম সাথী হিসেবে ছিলেন এবং আছেন এই কম্যুনিটির সকল গণমাধ্যম কর্মী, এ্যাক্টিভিস্ট এবং সহজ-সরল ইমিগ্র্যান্টরা। আমি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এ আয়োজনে সাড়া দেয়ার জন্যে। মঈন বলেন, একজন এটর্নী এবং একজন ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আমার এই চলার পথে অসংখ্য মানুষের সান্নিধ্যে এসেছি, অনেকের জন্যে আইনী লড়াই করেছি, সর্বত্র একধরনের আবেগ রয়েছে। আইনজীবী হিসেবে মানবিকতায় উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালনের বিবরণও রয়েছে এই গ্রন্থে। তিনি বলেন, আমেরিকায় ইমিগ্র্যান্ট হয়ে আসার পথ-পরিক্রমা অত্যন্ত দীর্ঘ ও সমস্যাসংকুল হলেও দিনশেষে যদি মর্যাদা পাওয়া যায়, সম্মানের সাথে বসবাসের সুযোগ অবারিত থাকে তাহলেই তা স্বপ্নে পরিণত হয়। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থিই শুধু নয়, সংবিধানকেও চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। যা গোটা ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটিকে বিতশ্রদ্ধ করে তোলেছে।

    সূচনা বক্তব্য দেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

    বৈধভাবে আমেরিকায় আসতে কেন এত ঝক্কি-ঝামেলা-এ প্রশ্ন প্রতিটি ইমিগ্র্যান্টের। সামগ্রিক পরিস্থিতি, বাস্তবতা এবং কোর্টে আইনী লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত এই গ্রন্থটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অন্তরাত্মা উম্মোচিত করেছে বলে বিদগ্ধ পাঠকেরা মনে করছেন। যেখানে ফুটে উঠেছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল, ধৈর্য আর সাহসের পরীক্ষা। যুদ্ধ ফেরৎ সৈনিক তথা বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে নির্যাতন-নীপিড়নের শিকার রাজনৈতিক কর্মীগণের আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ-পরিক্রমায় আইনগত সহযোগিতার মধ্যেও ছিল মঈন চৌধুরীর উদারতাপূর্ণ মানসিকতা এবং বিবেকতাড়িত উদ্দীপনা। মঈন চৌধুরী এটি রচনা করেছেন নিতান্তই একজন মানবিক গুণে গুনান্বিত একজন বাঙালি হিসেবে।

    এটর্নী হিসেবে দুই দশক পূর্তির এই শুভক্ষণে মঈণ চৌধুরী তার অঙ্গিকারের পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জানাতে চাই যে আজীবন আমি নিজেকে নিবেদিত রাখবো প্রতিটি ইমিগ্র্যান্টের ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা পূরণে এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্যে।

    শারমিন সোনিয়া সিরাজের সাবলির উপস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন এবং স্টিভ রাঘা, কুইন্স কাউন্টি কোর্টের বিচারপতি ক্যাসেন্দ্রা এ জনসন এবং স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কারম্যান ভেলেস্কুয়েজ এবং বিচারপতি সান্দ্রা এম মুনজ, এটর্নী মাইকেল তৌব এবং মঈন চৌধুরীর বড়ভাই রব চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী।

    অ্যামাজন কর্তৃক প্রকাশিত ইংরেজী ভাষায় ১৪৮ পাতার বইটির মূল্য মাত্র ১১.৯৯ ডলার। এই সাইটে (https://www.amazon.com/ROAD-AMERICA-IMMIGRATION-HARDSHIP-ebook/dp/B0G1P4RC9N) ক্লিক করলেই বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে কেনা যাচ্ছে হার্ড কভারের বইটি।

  • নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবে পুনরায় সভাপতি মনোয়ার ও সেক্রেটারি মমিন

    নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবে পুনরায় সভাপতি মনোয়ার ও সেক্রেটারি মমিন

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সংগঠন ‘নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’এর নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোয়ারুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম মজুমদার পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া, সহ সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ এবং প্রচার ও দফতর সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে আবিদুর রহিম, রশীদ আহমদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। এবারের নির্বাচনে ক্লাবের এ্যাক্টিভ ১০৫ জন সদস্যের মধ্যে ৯৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

    গত ৮ নভেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কার্যকরী কমিটির নির্বাচন শুরু হয় এবং তা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য ক্লাবের নতুন নির্বাচিত কমিটির তালিকা জানায় নির্বাচন কমিশন। এর আগে সাড়ে এগারোটায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রবীণ সাংবাদিক মঈন উদ্দীন নাসের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। কমিশনের অপর ২ জন সদস্য ছিলেন এবিএম সালেহ উদ্দীন ও চৌধুরী এম আলী কাজল।

    নির্বাচন কমিশন জানায়, মনোয়ারুল ইসলাম ৫১ ভোট পেয়ে সভাপতি হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকালের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও টাইম টিভির এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৪৩ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে ৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন বিএ নিউজ ২৪ এর সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি এমদাদ চৌধুরী দীপু পেয়েছেন ২৫ ভোট।

    নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটিতে নির্বাচিত অপর কর্মকর্তারা হলেন : সহ সভাপতি আবিদুর রহিম (ফ্রিল্যান্স), যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহাথীর খান ফারুকী (এনটিভি), কোষাধ্যক্ষ রশীদ আহমদ (ইয়র্ক বাংলা), সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু (টাইম টেলিভিশন), প্রচার ও দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (সাপ্তাহিক যুগান্তর)। নির্বাহী সদস্যরা হলেন: শেখ সিরাজুল ইসলাম (বাংলা পত্রিকা), রওশন হক (প্রথম আলো), ফারুক হোসেন ( ফ্রিল্যান্স) ও শাহ আহমদ (আওয়াজ বিডি)।

  • মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

    মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

    মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের কুয়ান্তান মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

    প্রধান তথ্য:
    ১. ঘটনার সময় ও স্থান:

    শুক্রবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা

    কুয়ান্তান থেকে কুয়ালালামপুরগামী মহাসড়ক

    ২. নিহতদের তালিকা:

    মো. সাবের হাসান (৩০)

    মো. জাহিদ হাসান (২১)

    আবদুল্লাহ (২৪)

    ৩. আহতদের অবস্থা:

    মো. হাবিব বিশ্বাস (৪৫)

    মণীরাম চন্দ্র বাস (৪০)

    কুয়ান্তানের তেংকু আম্পুয়ান আফজান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

    ৪. দুর্ঘটনার কারণ:

    চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা

    গাড়ির রোড ট্যাক্স মেয়াদোত্তীর্ণ

    গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়া

    ৫. তদন্ত প্রক্রিয়া:

    মালয়েশিয়ান পুলিশ ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় মামলা দায়ের করেছে

    গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষার জন্য পুসপাকমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে

    প্রতিক্রিয়া:
    বাংলাদেশ দূতাবাস ঘটনাস্থলে কর্মকর্তা পাঠিয়েছে

    নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে

    শেষ কথা:
    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছেন অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো।

  • নেতৃত্বের সংকটে জাতি: তারেক রহমানের কাছে এক প্রবাসীর খোলা চিঠি

    নেতৃত্বের সংকটে জাতি: তারেক রহমানের কাছে এক প্রবাসীর খোলা চিঠি

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও পদক্ষেপের জন্য জরুরী আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, কমিউনিটি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাহিদ খান। এই লেখাটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মত নয়—এটা আমাদের সময়ের, আমাদের প্রজন্মের, এবং ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

    প্রিয় তারেক রহমান স্যার,
সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সাথে, আমি আপনাকে লিখছি কেবল বিএনপির সমর্থক হিসেবেই নয় বরং বাংলাদেশের একজন প্রতিশ্রুতিশীল সন্তান হিসেবে। আমরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। বহু বছর ধরে স্বৈরশাসন, দমন-পীড়ন চলার পর, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের মানুষ আবার নিজের কণ্ঠ ফিরে পেয়েছিল। সেই গণজাগরণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, সাহসী, এবং আশায় ভরা। কিন্তু সেই আন্দোলনের পর ধীরে ধীরে একটা শূন্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যে দল এক সময় মানুষের কষ্টের কথা বলত, যে দল সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছিল, সেই দল এখন অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট বললেই চলে। বিএনপির এই নীরবতা, দ্বিধা ও ভেতরের বিশৃঙ্খলা আমাদের খুব ভাবিয়ে তুলছে। তারেক রহমান আপনার ব্যক্তিগত ত্যাগ আমরা জানি, এবং দেশের ইতিহাসে আপনার ও আপনার পরিবারের অবদান কেউ অস্বীকার করে না। মানুষ এখনো আপনাকে আপনজন মনে করে। কিন্তু এখনকার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আপনি কতটা সচেতন, সেটা খুব পরিষ্কার নয়। এখানে আপনার কতটুকু সীমাবদ্ধতা আছে সেটাও পরিষ্কার নয়। হতে পারে আপনাকে ঘিরে থাকা সিনিয়র নেতারাই অনেক সময় ভুল তথ্য দিচ্ছেন, অথবা দেশে অনুপস্থিতে আপনি অনেক সময় সত্যতা উপলব্ধি করতে পারছেন না।

    একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সময় আমাদর এসেছে, দুর্নীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা বিএনপির স্তরে অনুপ্রবেশ করেছে। যারা এখন দলের তকমা ধারণ করেছেন তারা গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের ছায়া থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং বিএনপির মূল মূল্যবোধ এবং আমাদের জনগণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ইতিমধ্যে, যারা একসময় আপনার নেতৃত্বের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং অনুগত ছিলেন তাদের দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তাদের ত্যাগ ভুলে যাওয়া হয়েছে।

    বিএনপি কেবল একটি রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না – এটি পরিচয় এবং নেতৃত্বের সংকট। আমরা, যারা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিএনপির মূল্যবোধে সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করি, তারা অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমরা আর নীরবে অপেক্ষা করতে পারি না।

    আমি আপনাকে শ্রদ্ধার সাথে সাহসী এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি:
১. দলকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরিষ্কার করুন — আপস ছাড়াই দুর্নীতি প্রকাশ এবং নির্মূল করতে হবে।
২. নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন মুখদের ক্ষমতায়ন করুন যারা সৎ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে ইচ্ছুক — কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।
৩. আপনার নেতৃত্বকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনুন। দূরপাল্লার রাজনীতির সময় শেষ। আপনি যদি ফিরে আসতে এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ইচ্ছুক হন, তাহলে আমি আপনার নিরাপত্তা এবং খরচ সহ আমার পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি আপনার পাশে হাঁটব — যদি আমরা বেঁচে থাকি, আমরা একসাথে বাঁচি। যদি আমরা মারা যাই, আমরা একসাথে মারা যাই।
এটাই আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র জীবন। আসল বিএনপি এখনও বেঁচে আছে — আপনার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের মানুষ দেখছে এবং আশা করছে। দয়া করে এই মুহূর্তটি কেটে যেতে দেবেন না।

    আমি আশা করি আপনি আমার শেষ বার্তা পেয়েছেন। আমি ভালোবাসা, আনুগত্য এবং ত্যাগের জায়গা থেকে এটি বলছি — এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।
    গভীর শ্রদ্ধার সাথে..
জাহিদ খান,
ইউএসএ, নিউ ইয়র্ক।

  • নির্বাচনে যাদের বিজয়ের সম্ভাবনা নেই তারাই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপ্রচারনা চালাচ্ছে

    নির্বাচনে যাদের বিজয়ের সম্ভাবনা নেই তারাই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপ্রচারনা চালাচ্ছে

    বিএনপি মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য এবং স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত সহ-সম্পাদক শাম্মী আকতার ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সমাবেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে এখনো সোস্যাল মিডিয়ায় নানা অপপ্রচারণা রুখে দিতেও সকলকে সরব থাকার প্রয়োজনীয়তা আলোকপাত করেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

    শাম্মী আকতার বলেন, রাজধানী ঢাকায় মিটফোর্ডে প্রকাশ্য রাস্তায় একজস মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের ভিডিও ভাইরাল করার পর সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের এই মুহূর্তের প্রাণস্পন্দন এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আমাদের প্রিয়নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিছিল করা হচ্ছে এবং মিছিলে যে ধরনের নোংরা-অশ্লীল স্লোগান উঠেছে তা সভ্যতার পরিপন্থি। তার মানে তারা পরিকল্পিতভাবে এহেন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করছে। আর যারা পিআর চাচ্ছে, যাদের পায়ের তলায় মাটি নেই, নির্বাচনে গেলে ভোট পাবার সম্ভাবনা নেই, জামানত বাজেয়াপ্ত হবে, এবং এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি ২৮০ আসনের বেশী সীট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, এমন পরিস্থিতি যাদের সহ্য হচ্ছে না-তারাই এমন আচরণ করছে। শাম্মী আকতার ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই-পুরনো খাচ্ছব বাদ দেন। একাত্তর সালে দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন। আপনারা চব্বিশেও গাদ্দারি করেছেন। আপনাদের ইতিহাস গাদ্দারির ইতিহাস। গেছিলেন তো লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে। তারপরও বিএনপির বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার কেন চালাচ্ছেন? নিশ্চয়ই আপনাদের হিসাব মিলছে না। আপনারা মনে মনে ভাবছেন যে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে আপনাদের অঙ্গুলি হেলনে। দুদিন পর নির্বাচন হলে তো বিএনপি ক্ষমতা নেবে। তখোন তো আপনাদের এই মাস্তানী আর করা চলবে না। কারণ বিএনপি একটি পোড় খাওয়া দল। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল।

    নিউইয়র্কে স্টেট বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন গিয়াস আহমেদ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে এ মতবিনিময় সমাবেশে বিশেষ সম্মানীত অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট এবং গিয়াস আহমেদ। তারা উভয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এহেন অবস্থার অবসান ঘটবে দ্রুত নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতান্ত্রিক একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে। তাই আমরা অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি যেজন্যে ছাত্র-জনতা অকাতরে প্রাণ দিতে কসুর করেনি। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন ভিপি বলেন, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে অবিচল আস্থাশীল রয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে যারা কুৎসা রটাচ্ছে তাদেরকে এই প্রবাসেও চিহ্নিত করে রাখবো।

    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা মোশারফ হোসেন সবুজ, এম জাহাংগীর, মো. সুরুজ্জামান, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন প্রমুখ। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন স্টেট বিএনপির সাংগঠিক সম্পাদক রইচ উদ্দিন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আসাদ উল্লাহ, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক বদরুল হক আযাদ, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আশরাফ হোসেন, হুমায়ুন কবীর এবং সাংবাদিক আনিসুর রহমান, বিএনপি নেতা আবু কাইয়ুম, দেলুয়ার হোসেন, ড মোশারফ হোসেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলামিন সুমন, শেখ তারেক হাসান,মাঈনুদ্দিন, একে এম ফজলুল হক, সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

  • উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা অবিলম্বে বাংলাদেশে নির্বাচন চান

    উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা অবিলম্বে বাংলাদেশে নির্বাচন চান

    সকলেই দেশের চেয়ে দলকে বেশী ভালবাসেন। দলের জন্যে অনেকে প্রাণ দিতেও কসুর করে না। এজন্যে ‘যেই লাউ সেই কদু’র মত অবস্থা বিরাজ করছে বাংলাদেশে। দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলবাজি অব্যাহত রয়েছে। শুধু গুমের ভীতি কমলেও খুনের ঘটনা হরদম ঘটছে পুলিশ-প্রশাসনের সামনেই। গত ৫৪ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক-স্বৈরাচার, সামরিক জান্তা, কেয়ারটেকার সরকার দায়িত্ব পালন করাকালে বর্তমানের মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের মত নাজুক পরিস্থিতির উদ্ভব কখনো হয়নি। এমন অভিমত পাওয়া গেছে ৭ জুলাই পর্যন্ত ৩দিনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিত্বকারি দেড় শতাধিক প্রবাসীর মতামত সংগ্রহকালে। বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৮০% এর অধিক প্রবাসী । এহেন অবনতিশীল পরিস্থিতির অবসানে অবিলম্বে জাতীয় সংসদের নির্বাচন চেয়েছেন এবং ঐক্যমতে উপনীত হওয়া ইস্যুসমূহের ব্যাপক সংস্কারের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের জন্যে রেখে দেয়ার সুপারিশ করেছেন প্রায় সকলেই। ৫৫% প্রবাসী বলেছেন যে, বৈষম্য বিরোধী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার পূরণে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূস ও তার সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল এবং যে কারণে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলা হচ্ছে, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা কয়েকগুণ বেড়েছে। গুটিকতক সন্ত্রাসী এবং রাজনৈতিক মাস্তান ব্যতিত কেউই এখোন স্বস্তিতে নেই বলেও প্রবাসীরা মন্তব্য করেছেন। ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখল ও বদলি বাণিজ্য হ্রাস দূরের কথা কয়েকগুণ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন নেতৃস্থানীয় প্রবাসীরা।

    নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসলিভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, বস্টন, মিশিগান, শিকাগো, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, লুইঝিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস প্রভৃতি স্থানের প্রবাসীরা অংশ নেন এই মতামত-জরিপে। এরমধ্যে ছিলেন মাসাধিককাল বাংলাদেশ সফর করে চারদিন আগে ফিরে আসা জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর (ডেমক্র্যাট) শেখ রহমান, ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক অধ্যাপক ড. ফাইজুল ইসলাম, নিউ অর্লিন্স ইউনিভার্সিটির এমিরিটাস প্রফেসর ড. মুস্তফা সরোয়ার, ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব স্কুল অব সোস্যাল ওয়ার্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট, উত্তর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং নিউজার্সিতে মনমাউথ ইউনিভার্সিটির ডীন এবং অধ্যাপক গোলাম মাতবর, নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল, নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, বাংলাদেশী আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আতিকুর রহমান এবং ফোবানার নির্বাহী সচিব রহিম নিহাল, নির্মাণ ব্যবসায়ী ও সংগঠক মো. আব্দুল কাদের মিয়া, সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ব্যবসায়ী ও গৃহিনী নাসিমা বানু প্রমুখ।

    সাধারণ প্রবাসীর মধ্যে ছিলেন দোকান কর্মচারি, ট্যাক্সি ড্রাইভার, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, গ্রোসারি মালিক, শিক্ষার্থী, গৃহিনী, অভিনেতা-অভিনেত্রী-সাস্কৃতিক কর্মী, লেখক-কবি, ফেডারেল কর্মচারি এবং কম্যুনিটি সংগঠক। সকলেই প্রচন্ড হতাশা ব্যক্ত করেন মুহম্মদ ইউনূসের ১১ মাসের কর্মকান্ড নিয়ে। কেউই স্বস্তিবোধ করছেন না আইনের শাসন নিয়ে। আগের মতোই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতা অব্যাহত রয়েছে। শতশত মানুষকে একটি হত্যার জন্যে অভিযুক্ত করা হচ্ছে-যা হাসির খোরাক হচ্ছে। নারীরা একাকি চলতে সাহস পাচ্ছেন না হামলা, ছিনতাই এবং ধর্ষণের আতংকে। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীসহ শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। গণমাধ্যম জবর-দখলের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগের পর সেনাপ্রধান ওয়াকারউজ্জামান জাতির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসীদের দমনে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৬৫% প্রবাসী।

    সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বসবাসরত অর্থনীতিবিদ-লেখক ড. ফাইজুল ইসলাম বলেন, গত ৫৩ বছরের শাসনামলে কখনো এমন খারাপ অবস্থা দেখিনি। আমার মনে হচ্ছে জাতিগতভাবে আমরা ভালো মানুষ নই বলেই এতকিছুর পরও নিজেরা পরিশুদ্ধ হতে পারছি না। সব সরকারের সময়েই সমান দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি দেখছি। এহেন অবস্থা থেকে পরিত্রাণে দরকার নির্বাচিত একটি সরকার। এক্ষেত্রে সংস্কারের যে অঙ্গিকার রয়েছে তা প্রতিপালনের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপরেই ছেড়ে দেয়া উচিত।

    ২৭ মে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন এবং ২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন স্টেট সিনেটর শেখ রহমান বললেন, ব্যাসিক সংস্কারের পরই নির্বাচন দেয়া দরকার। সংস্কারের ব্যাপারটিকে হেলাফেলা করা হলে পুনরায় বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে যাবে। তাই কিছুটা হলেও করা দরকার। শেখ রহমান বলেন, মানুষের প্রত্যাশার পরিপূরক একটি নির্বাচন হলেই বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

    এমিরিটাস অধ্যাপক ড. মোস্তফা সারোয়ার বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বিশেষ করে তার পতনের আগের দিকে বাংলাদেশে চুরি-ডাকাতি তেমন একটা ছিল না। দারুন একটা সভ্য-শান্ত-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ছিল। গত বছরের ৮ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলার লেশমাত্র নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক অবস্থা যেন একেবারেই স্থবিরতায় আক্রান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে ড. মোস্তফা সারোয়ারের। সে আলোকে তিনি বলেন, আমরা যারা প্রবাসী তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তবে যে দেশটি ছেড়ে এসেছি সেটির মঙ্গল কিছু দেখলে আপ্লুত হই। মন্দ কিছু ঘটলে সকলে ব্যথিত হই, দু:খবোধে আক্রান্ত হই। সেজন্যেই অন্য সকলের সাথে আমারও জোর দাবি অনতিবিলম্বে নির্বাচন হওয়া উচিত। এজন্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। এর আগে লতিফুর রহমান ও জাস্টিস সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকার তিনি মাসের মধ্যেই নির্বাচন দিয়েছেন। সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে ড. মোস্তফা সারোয়ার বললেন, আমার যেন মনে হয় যে উনারা (অন্তর্বর্তী সরকারের কোন উপদেষ্টা) হালুয়া-রুটির পেয়ে গেছেন, এবং এই হালুয়া-রুটি যতদিন খাওয়া যায় সে জন্যেই সংস্কারের নামে ভ’য়া একটি জিকির উঠিয়েছেন। কারণ, গত ১১ মাসে কোন ইস্যুতেই সংস্কার ঘটেনি। যে সব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো ৩ শতাধিক, ১১ মাসে তারা একটিও করতে পারেননি। তাহলে সবগুলোর জন্যে কতশত বছর লাগবে? অন্যের চাপিয়ে দেয়া সংস্কারের এই ধোয়া কখনোই বিদেশী কিছু নাগরিকের দ্বারা সম্ভব নয়। তাই আমি মনে করছে অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচন হোক এবং নির্বাচিত সরকার সংস্কারের কাজগুলো করুক।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক ড. গোলাম মাতবর বলেন, আমার মনে ২/৩ জন বাদে অন্য কোন উপদেষ্টাই কার্যকর কোন দায়িত্ব পালনে সক্ষম হননি বলে সংস্কারের প্রত্যাশা থমকে রয়েছে। তারা শুধু বড় বড় কথাই বলেছেন। অপরদিকে, নির্দিষ্ট কোন রোডম্যাপও ঘোষণা করতে পারেননি নির্বাচনের ব্যাপারে। একইভাবে জনগণের প্রত্যাশার পরিপূরক ন্যূনতম সাফল্যও দেখাতে পারেননি রাষ্ট্র পরিচালনায়। ড. মাতবর বলেন, ড. মুহম্মদ ইউনূসকে আমি ভালোভাবেই চিনি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনারও চট্টগ্রামে আমার এলাকারই মানুষ। আমার মনে হয় না তারা সুন্দর একটি নির্বাচনের জন্যে তৈরী আছেন। কারণ নির্বাচনের যেসব পূর্বশর্ত রয়েছে সেগুলোর অবস্থান কী। প্রশাসন, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীর ভ’মিকা বা অবস্থান, ভোটাররা নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন সে ধরনের পরিবেশ তৈরীর জন্যে কোন পদক্ষেপ দেখছি না। এজন্যে যে ধরনের সংস্কারের আশা মানুষ করেছিলেন সেটি করতে সক্ষম হননি।

    অধ্যাপক বিরুপাক্ষ পাল বলেন, নিকট অতীতে ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকার দু’বছরের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিয়েছিলেন। এরপর মুহম্মদ ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণের পরই আমি পত্রিকায় কলাম লিখেছিলাম যে, এই সরকারকে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্যে দু’বছর সময় দেয়া উচিত। কিন্তু ড. ফখরুদ্দিনের মত ইউনূস সরকারের স্ট্রং ডিটারমিনেশন দেখছি না। অধিকন্তু ইউনূসের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন টালাবাহানা ধরা পড়ছে যে, তারা সংস্কারের ব্যাপারে খুব সৎ নন। আর আওয়ামী লীগ যেহেতু একমুখো নির্বাচন করেছে, সে অবস্থায় সংস্কারের প্রত্যাশা হচ্ছে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের। কিন্তু এরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই যেভাবে সম্ভব আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সব মানুষতো দুর্নীতি করেননি কিংবা খারাপও ছিলেন না। তাহলে কেন পুরো আওয়ামী লীগকেই নিশ্চিহ্ন করা চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ বৈষম্যমূলক সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতির সাথে এটা যায় না। এরইমধ্যে তারা শুরু করলেন সংবিধান সংশোধনের-যা উদ্ভট কাজ। আরো কয়েকটি সেক্টরের জন্যে সংস্কার কমিশন গঠন করে জনগণের প্রত্যাশার সংস্কারকে একটি তামাশায় পরিণত করা হয়েছে। ঐকমত্য কমিশন আরো বড় তামাশার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিরুপাক্ষ পাল বলেন, মব কালচার বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে, জিডিপি গত ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে, তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিয়ে এই সরকারের সরে যাওয়া উচিত। এবং এটাই হচ্ছে সময়ের দাবি। তা না হলে রাষ্ট্র আরো খারাপের দিকে যাবে।

    নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মূলধারার ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা বলতে চাচ্ছি না যে, সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন হউক। আমাদের মহাসচিব গতকালও বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপি এই সরকারের সংস্কারের ম্যাক্সিমাম উদ্যোগই মেনে নিয়েছে। এমনও অনেক কিছু রয়েছে যেগুলো বিএনপির সাথে যায় না, তা সত্ত্বেও বিএনপি ঐক্যের খাতিরে তা মেনে নিয়েছে। এ অবস্থায় যেসব ইস্যুতে ঐক্যমত হয়নি সেগুলোর সংস্কারের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। এতদসত্তেও যারা নির্বাচনে ভোট পাবে না কিংবা জনগণের সাথে সম্পর্ক নেই-তেমন কিছু মানুষ একটার পর একটা ইস্যু সৃষ্টি করছেন, যেমন পিআর সিস্টেম, এটা কিন্তু সংস্কার কমিশনের কোন এজেন্ডা ছিল না। এটা হঠাৎ করেই সামনে এনে সময়ক্ষেপনের বাহানা করা হচ্ছে। পিআর সিস্টেম সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ এখনো কিছই জানেন না।

    কম্যুনিটি লিডার কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন বলেন, সামগ্রিক অবজার্ভেশনে মুহম্মদ ইউনূসের কারণে দেশ এগুতে পেরেছে। প্রফেসর ইউনূস না হয়ে অন্য কেউ দায়িত্ব নিলে একমাসও টিকতো না। যেভাবে প্রশাসন, সেনা প্রধান এবং রাষ্ট্র প্রধানসহ সর্বক্ষেত্রে প্রাক্তন সরকারের (শেখ হাসিনা) অনুসারীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে এবং প্রতিটি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে। এজন্যে অনেক কিছু করার চেষ্টা করেও সক্ষম হননি। সে কারণেই মব জাস্টিস, ছিনতাই-রাহাজানি-খুন-খারাবি যত্রতত্র চলছে। ধর্ষণ বেড়েছে। সামরিক বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসী পাওয়ার দেয়া হয়েছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে অপরাধচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কাজী নয়ন উল্লেখ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা দিয়েছিলেন কিন্তু সেটি জুনের মধ্যে হবে বলে বলা হচ্ছিল। এরপর লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর নির্বাচন জুনের আগে হবে বলে শোনা গেলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ কিংবা রোডম্যাপ ঘোষণা না করায় জনমনে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে।
    ফ্লোরিডাস্থ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট এবং ফোবানার চেয়ারপার্সন আতিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীনরা বিশেষ একটি ঘোরের মধ্যে রয়েছেন। দেশের সত্যিকারের কল্যাণের ব্যাপারে কোন মনোযোগ আছে বলে মনে হয় না। এরফলে গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে জনমনে সৃষ্ট প্রত্যাশা এখোন হতাশায় নিপতিত হয়েছে। ভোটের অধিকার আদৌ ফিরে পাওয়া যাবে কিনা সে সংশয়ও দেখা দিয়েছে সুধীজনের মধ্যে।

  • আরো ৩৬ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে

    আরো ৩৬ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে

    বুধবার সন্ধ্যা ৮টা (বাংলাদেশ সময় বৃহস্প্রতিবার সকাল ৬টা)’র মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তার ঘাটতি, ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেয়া কিছু ইস্যুতে সংশোধন আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা লোকজনকে গ্রহণ করার ব্যাপারে পূর্ণ সম্মতি প্রদানের নিশ্চয়তা, পাসপোর্টগুলো যুগোপযোগী এবং তা ৬০ দিনের মধ্যে এসব অঙ্গিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটানোর নিশ্চয়তা দিতে না পারলে আরো ৩৬ দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্র্যাভেল ব্যান’র আওতায় আনা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একটি (১৪ জুনের) স্মারকের চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে ১৭ জুন নিউইয়র্ক টাইমস সংবাদ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ১২ দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে আসার ভিসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসাথে আরো ৭ দেশের নাগরিকের ভিসা প্রদানে আংশিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি হয়েছে। নতুন যেসব দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে পূর্ণ অথবা আংশিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে চিঠি চালাচালি হচ্ছে সেগুলোরও অধিকাংশই আফ্রিকান দেশ। দেশগুলো হচ্ছে : এঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, বেনিন, ভ’টান, বারকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, ক্যাপ ভার্ডে, কঙ্গো, দিবুতি, ডমিনিকা, ইথিওপিয়া, মিশর, গ্যাবন, গাম্বিয়া, ঘানা, আইভরি কোস্ট, কিরগিস্তান, লাইবেরিয়া, মালাওয়ি, মরিতানিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুকাস, সাঁও টুমি আন্ড প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সাউথ সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, টঙ্গো, টোভালো, উগান্ডা, ভেনুয়াতো, জাম্বিয়া এবং জিস্মাবুয়ে। ইতিমধ্যেই অর্থাৎ এ মাসের ৪ তারিখে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো, গিনী, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে আগমণকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এই আংশিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে বুরুন্ডি, কিউবা, লাউস, সিয়েরা লিওন, টগো, তুর্কেমিনিস্তান এবং জেনিভার নাগরিকেরা।

    নতুন নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি হতে যাচ্ছে বলে যে তালিকা করা হয়েছে সেসব দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রকে প্রশ্রয় এবং সন্ত্রাসবাদ উষ্কে দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এছাড়া ঐসব দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছে, যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আগতরা ভিসার বিধি লংঘনের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে, এসব দেশের পাসপোর্ট ভিন্ন দেশের নাগরিকের কাছেও বিক্রি এবং জাল পাসপোর্ট তৈরীর তথ্য রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ওয়াশিংটন পোস্টের পর নিউইয়র্ক টাইমসে চাঞ্চল্যকর ‘ট্র্র্যাভেল ব্যান’ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের পর গোটা কম্যুনিটিতে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বেড়েছে।

    এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে : ভিসা ইস্যুও ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রয়াস চালানো হচ্ছে/সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তাকে আরো সুসংহত রাখার অভিপ্রায়ে এবং এটা হচ্ছে আমাদের অঙ্গিকারের পরিপূরক।

  • চাঁদাবাজিসহ অপরাধে লিপ্তরা কোন নির্বাচনেই বিএনপির নমিনেশন পাবে না

    চাঁদাবাজিসহ অপরাধে লিপ্তরা কোন নির্বাচনেই বিএনপির নমিনেশন পাবে না

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মেরিল্যান্ড স্টেট শাখা আয়োজিত এক সংবর্ধনা-সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের আমলে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি-দখলবাজির ঘটনা ঘটছে। লুটতরাজের সংবাদও পাচ্ছি। তবে এহেন বর্বরতার সাথে বিএনপির কেউই জড়িত নন। দুর্বৃত্তরা লুটতরাজ-চাঁদাবাজি-দখলবাজি চালাচ্ছে বিএনপির লেবাস লাগিয়ে। সত্যিকার অর্থে যারা বিএনপির কর্মী তারা কখনোই সামাজিক অস্থিরতা তৈরী করতে পারেন না।

    মেরিল্যান্ড বিএনপি’র নেতা কমীদের প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী আরো বলেন, সত্যিকারে যারা বিএনপি করেন তারা চাঁদাবাজের সাথে জড়িত নন। কিছু লোভী প্রকৃতির হাইব্রিড নেতা-কর্মী এসব করছেন। তারপরও আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন যারা চাঁদাবাজিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। শুধু তাই নয়, যারা চাঁদাবাজিসহ অপরাধে লিপ্ত তারা কখনোই কোন প্রকার নিবার্চনে বিএনপির নমিনেশন পাবেন না।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী সংলগ্ন মেরিল্যান্ড স্টেটে আগমণ উপলক্ষে গত বুধবার অপরাহ্নে বালটিমোর সিটিতে বাংলাদেশী মালিকানাধীন “কিচেন অব ইন্ডিয়া’ রেস্টুরেন্টে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপি’র সভাপতি সাহিদ খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজলের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তেলাওয়াত করেন মেরিল্যান্ড বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক তাহের মজুমদারের কন্যা তাহনী মজুমদার।

    অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বাবলু, বাবুল রহমান, বুলবুল মল্লিক ও মোবারক হোসেন লিটন।

    সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল বিএনপির এই বর্ষিয়ান নেতাকে ধন্যবাদ জানান এবং মেরিল্যাড বিএনপি গত সতেরো বছর কি করেছে তার বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করেন। এসময় মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা ইসলাম লীনার দ্রুত আরোগ্যে জন্য সবার নিকট দোয়া চেয়েছেন।

    দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া , ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি সাহিদ খান।

  • নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সভা ঐক্যের জয়গান

    নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির সভা ঐক্যের জয়গান

    নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠনকল্পে ১০ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে এক কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি সাইদুর রহমান সাঈদ। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর এ সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন ভিপি, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো রইচ উদ্দিন, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহব্বায়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, বদরুল হক আজাদ, হুমায়ুন কবীর, দেওয়ান কাউসার, মো আশরাফ হোসেন, সাংবাদিক আনিসুর রহমান, নীরা রাব্বানী, সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, কাজী আসাদউল্লাহ, আলামিন সুমন, তাজুল ইসলাম, মইনুদ্দিন প্রমুখ। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন মাজহারুল ইসলাম জনি, দেলোয়ার হোসেন, জিনাত রেহেনা রিনা, খন্দকার সাইফুর রহমান, ভিপি আলমগীর, সাহাবুদ্দিন, আফরোজা আক্তার, সাহীদা আখতার, শেখ তারেক, বাঁধন প্রমুখ। উল্লেখ্য, বেশ ক’মাস আগে স্টেট বিএনপির কার্যকরী কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর অবশিষ্ট পদগুলো এখোন পর্যন্ত শুন্য থাকায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সে তাগিদেই বিস্তারিত আলোচনা করা হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে।

    কর্মীসভায় নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির আলোকে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠকের রেজাল্টের ওপর প্রবাসে আন্দোলন-কর্মসূচি নির্ভর করছে। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সঠিক রূপরেখা ঘোষণা করতে হবে ড. ইউনূসকে। অন্যথায় তারা আবারো জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজ এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে বিক্ষোভের কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও কোন কোন নেতা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

    কর্মীসভায় নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি বলেছেন, আমরা সোচ্চার থাকবো ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত।
    সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গত ১৬ বছরের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্যে। সামনের দিনগুলোতেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে অবাধ একটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার অধিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত।

  • ইতালিতে বাংলাদেশিসহ ২৫ লাখ প্রবাসীর জন্য দুঃসংবাদ

    ইতালিতে বাংলাদেশিসহ ২৫ লাখ প্রবাসীর জন্য দুঃসংবাদ

    ইতালিতে নাগরিকত্ব আইনসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত গণভোটটি ভোটার উপস্থিতির ঘাটতির কারণে বাতিল হয়ে গেছে। এতে করে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ প্রায় ২৫ লাখ অভিবাসীর নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

    ৯ জুন (সোমবার) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    দুই দিনব্যাপী এই গণভোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশিদের নাগরিকত্বের আবেদনের সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছরে আনা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবনা।

    তবে ইতালির নির্বাচনী আইনে বলা হয়েছে, কোনো গণভোট বৈধ বলে গণ্য হতে হলে মোট ভোটারের অন্তত ৫০ শতাংশের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কিন্তু এবারের গণভোটে অংশ নিয়েছেন মাত্র ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার, ফলে তা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রস্তাবগুলো পাস হলে দেশটিতে অবস্থানরত বহু বাংলাদেশিসহ বিদেশি অভিবাসীরা নাগরিকত্ব পেতে আরও সহজ সুবিধা পেতেন। তাই এই ফলাফলকে ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে দেখছেন অভিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

    ইতালির কট্টর ডানপন্থি সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দল, এই সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছিল। বাংলাদেশি প্রবাসীরা মনে করছেন, ডানপন্থি দলগুলোর বিদেশি-বিরোধী প্রচারণাই গণভোটে কম ভোটার উপস্থিতির মূল কারণ।

    এদিকে ইতালির বামপন্থি ও মধ্যপন্থি দলগুলো, নাগরিক সমাজ এবং একটি প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গণভোটের আয়োজন করেছিল। তারা আশা করেছিলেন, প্রস্তাবটি পাস হলে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ইতালির আইনও আরও মানবিক ও সমতাভিত্তিক হবে।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯টি গণভোটের মধ্যে ৮টিতে প্রয়োজনীয় ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছিল। তবে এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আয়োজিত ৩৪টি গণভোটের মধ্যে ৩০টিই বাতিল হয়েছে ভোটার উপস্থিতির অভাবে।

    এই পরিসংখ্যানও দেখায় যে, গণভোট সংস্কারে ইতালির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রবাসী অভিবাসীরা তাই হতাশ হলেও, ভবিষ্যতে আরও সচেতন অংশগ্রহণ এবং সংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আবারও নাগরিক অধিকার আদায়ের আশা করছেন।

  • কনস্যুলার ফি কমানোর দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির স্মারকলিপি

    কনস্যুলার ফি কমানোর দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির স্মারকলিপি

    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহৎ সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি, ইনক’ কনস্যুলার সেবার ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

    সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট সার্ভিসের বিভিন্ন সেবার ফি কোন কোন ক্ষেত্রে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা সাধারণ প্রবাসীদের জন্য অন্যায় ও অযৌক্তিক আর্থিক চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসীবান্ধব সরকারের নীতির পরিপন্থী এবং প্রবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    গত ৫ জুন বুধবার বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ কনস্যুলেট, নিউইয়র্ক-এর ভাইস কনসালের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ভুঁইয়া রুমি, কার্যনির্বাহী সদস্য জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং আবুল কাশেম।

    স্মারকলিপিতে সোসাইটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, “যেখানে প্রবাসীরা দুই হাত ভরে দেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স পাঠিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত প্রবাসীদের প্রতি অবহেলার সামিল।”

    বাংলাদেশ সোসাইটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে প্রবাসীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি সহনশীল ও মানবিক ফি কাঠামো নির্ধারণ করা হোক।”

    বাংলাদেশ সোসাইটি আশা প্রকাশ করে, সরকারের যথাযথ দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

  • কয়েকশত প্রবাসীর কাছে নোটিশ অবিলম্বে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজিরার জন্যে

    কয়েকশত প্রবাসীর কাছে নোটিশ অবিলম্বে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজিরার জন্যে

    ৪৫ বছর আগের একটি অপরাধে গ্রেফতারের পর পরবর্তীতে কোর্টে হাজিরার শর্তে মুক্তি পাওয়া এক প্রবাসীর কাছে সম্প্রতি ক্রিমিনাল কোর্ট থেকে নোটিশ এসেছে। অবিলম্বে তাকে হাজির হবার নির্দেশ রয়েছে ঐ চিঠিতে। ১৯৯৬ সালে পাতানো বিয়ের মাধ্যমে স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্টের আবেদন নাকচ হওয়া আরেক প্রবাসীর কাছেও নোটিশ এসেছে নিকটস্থ কোর্টে হাজিরার জন্যে। ২০ বছর আগে একটি স্টোরের সেলসম্যানের কাজ করার সময় অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরির কাছে বিয়ার বিক্রি এবং ঐ কিশোরির সংবেদনশীল স্থানে হাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন জ্যাকসন হাইটস এলাকার এক প্রবাসী। আদালতে সোপর্দ করার পর মাননীয় আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছিলেন পরবর্তীতে হাজিরার শর্তে। তিনি কখনোই আর আদালতে যাননি। গত সপ্তাহে নোটিশ পেয়েছেন আদালতে হাজিরার জন্যে। কারণ, ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তিন দফা রায় হয়েছে এবং সে অনুযায়ী গ্রেফতারী পরোয়ানা ঝুলছে অর্থাৎ তিনি ফেরার। এরা তিনজনই নানা প্রক্রিয়ায় ওয়ার্কপারমিটধারী অর্থাৎ এক ধরনের অবৈধ অভিবাসী-যাদেরকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের কয়েক শত প্রবাসীর কাছে ইমিগ্রেশন কোর্ট অথবা ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী অথবা ক্রিমিনাল কোর্টের চিঠি আসছে অবিলম্বে হাজিরার জন্যে। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী অভিযানে বাংলাদেশীরাও সন্ত্রস্ত। অনেকে সেলফোনের সিম ফেলে দিয়েছেন। ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। ক্রেডিক/ডেবিট কার্ড গার্বেজ করেছেন। নতুন ঠিকানায় একেবারেই সাদাসিধে জীবন-যাপনের পথ বেছে নিয়েছেন। এমন ভীতিকর তথ্য জানা গেছে নিউইয়র্ক অঞ্চলের ইমিগ্রেশন এটর্নী, ল’ ফার্মে কর্মরত প্রবাসী এবং কম্যুনিটি নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে। দিন যত যাচ্ছে ততই এহেন ভীতিকর সংবাদও বেড়ে চলছে। উল্লেখ্য, প্রায় দিনই ইমিগ্রেশনের এজেন্ট (আইস) এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা হানা দিচ্ছে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারের জন্যে। বাসা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পর এখোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির-গীর্জাতেও হানা দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। ফলে পরিচিত অনেক প্রবাসী এখোন আর জনসমক্ষে আসছেন না। অথবা চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে। ইতিপূর্বে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অফার অনুযায়ী নগদ এক হাজার ডলারের পকেট খরচসহ সরকারী টিকিটে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাবার কথা এখোন পর্যন্ত কম্যুনিটি থেকে জানা যায়নি। অর্থাৎ সকলেই চেষ্টা করছেন ট্রাম্পের অভিযান এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রয়ে যাবার। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষাধিক বাংলাদেশী রয়েছেন-যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি হয়েছে অনেক আগেই। এতদিন যারা জাল ওয়ার্ক পারমিট কিংবা গ্রীণকার্ড বানিয়ে দিনাতিপাত করেছেন-তারা এখোন ডাবল অপরাধে অভিযুক্ত হবেন গ্রেফতারের পরই-এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন ইমিগ্রেশন এটর্নীরা। এছাড়া, কম্যুনিটিতে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত এবং ফেডারেল আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত কোন কোন অবৈধ অভিবাসী কম্যুনিটির জন্যে চরম এই দু:সময়েও সহজ-সরল প্রবাসীদের সহযোগিতার ফাঁদ পেতে নবউদ্যমে প্রতারনায় লিপ্ত বলে শোনা যাচ্ছে। এই চক্রের নেটওয়ার্ক লসএঞ্জেলেস-ফ্লোরিডা-মিশিগান-টেক্সাস-ওয়াশিংটন মেট্র হয়ে পেনসিলভেনিয়া-নিউজার্সি পেরিয়ে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিস্তৃত।

    ইমিগ্রেশন বিভাগ অথবা ক্রিমিনাল কোর্ট থেকে নোটিশ প্রাপ্ত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশন বিষয়ক এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেছেন, ডিপোর্টেশনের নির্দেশ থাকলে কিংবা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবার নির্দেশকে যারা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন-তাদের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হাজিরা দেয়া। উভয় ক্ষেত্রেই নিজের এটর্নী সাথে রাখতে পারেন। আর যদি এটর্নী না থাকে তাহলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এটর্নী সাথে নিতে হবে। কারণ, ইতিমধ্যেই অনেকে ফেডারেল কোর্ট অথবা ইমিগ্রেশন কোর্ট কিংবা ক্রিমিনাল কোর্টে পূর্ব নির্দ্ধারিত তারিখে হাজিরা দিতে গিয়ে আইস কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছেন। তাই যারা ফেরার হিসেবে চিহ্নিত তাদেরকে যথেষ্ঠ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে প্রাপ্ত নোটিশের সাড়া দিতে। এটর্নী মঈন উল্লেখ করেছেন যে, সবার আগে প্রাপ্ত নোটিশের সত্যতা যাচাই করতে হবে। কারণ, ইদানিং প্রতারকরাও বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে অবৈধভাবে বসবাসরতদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিতে।

  • মেহেদি রাঙানো উৎসবে সামিল হন তরুণী-মা-খালারা

    মেহেদি রাঙানো উৎসবে সামিল হন তরুণী-মা-খালারা

    চাঁদরাতে ঝলসে উঠলেন বাংলাদেশীসহ মুসলিম আমেরিকানরা। চমৎকার আবহাওয়ার সুফল হিসেবে মুসলিম তরুনী ও তাদের মা-খালারা ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্যে ৫ মে বৃহস্প্রতিবার বিকেল থেকেই নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ওজোনপার্ক, পার্কচেস্টার, ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, নিউকার্ক, ফুলটন এলাকায় ভীড় করেন।

    অলি-গলিতে টেবিল-টোল অথবা টেবিল-চেয়ার বসিয়ে হাত-পায়ে মেহেদি রাঙানোর উৎসবে মেতে উঠেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে তা অব্যাহত ছিল মধ্যরাত অবধি। ঈদুল আযহার আমেজ এভাবেই নিউইয়র্কের গন্ডি পেড়িয়ে নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, মিনেসোটা, ওহাইয়ো, বস্টন, কানেকটিকাট, টেক্সাসে বিস্তৃত হয়। মেহেদি রাঙানোর মধ্যেই সীমিত ছিলেন না অনেকে। একইসাথে ঈদ উপলক্ষে স্বর্ণালংকার, লেটেস্ট ডিজাইনের পোশাক, ইমিটেশনের সামগ্রিও ক্রয় করতে দেখা যায়।

     

    চাঁদরাতের আমেজে ডাইভার্সিটি প্লাজায় টুপি-ইমিটেশন সামগ্রির দোকান। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

    চাঁদরাতের এ আমেজ অন্যসব এলাকা ছাপিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়ানদের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে। নারী-পুরুষের এ উৎসবের নিরাপত্তায় নিউইয়র্কের পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। ফলে দুস্টুমি করার কোন ফুরসতই পায়নি মাস্তানেরা। জ্যাকসন হাইটসে মেহেদী রাঙাতে দু’হাত ও দু’পায়ের জন্যে সর্বোচ্চ রেট ছিল ৪০ ডলার। শুধু এক হাতের জন্যে মূল্য ছিল ১৫ ডলার করে। ফলে দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কেউ কেউ হাজার ডলার উপার্জনে সক্ষম হন।

    জ্যামাইকায় পারসন্স বুলেভার্ডে কলাপাতা রেস্টুরেন্টের সন্নিকটে মেহেদি রাঙানোর পসরা । ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ডটকম।

    উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর থেকেই ঈদের আগের দিন বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি চাঁদরাতের আসর বসছে এবং স্কুল-কলেজগামী তরুণীদের জন্যে এই মেহেদি রাঙানোকে বিশেষ উপার্জনের একটি অবলম্বন মনে করা হচ্ছে। জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্ট্রিট, ৩৭ এভিনিউ এবং ৭৪ স্ট্রিট ছাড়াও ডাইভার্সিটি প্লাজায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, নীলক্ষেত, মগবাজার, রামপুরা, বসুন্ধরা সিটির মতো রাস্তার দু’পাশে কাপড়, চুড়ি, ভ্যানেটি ব্যাগ, কসম্যাটিক্স ইত্যাদিও দোকান বসেছিল। ধর্মীয় অনুভ’তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগের মত এবারও পুলিশ-প্রশাসন বেআইনী এসব কর্ম থেকে কাউকেই বিরত করেনি।

    চাঁদরাতের গন্ডি পেরোনোর পরই বাংলাদেশ স্ট্রীটে শুরু হয় ধুম-ধারাক্কা গানের আসর। ঈদের আমেজে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা।

  • যুুক্তরাষ্ট্রে নিরানন্দ ঈদ শুক্রবার

    যুুক্তরাষ্ট্রে নিরানন্দ ঈদ শুক্রবার

    ৬ জুন শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পবিত্র ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ঈদে আনন্দ নেই বললেই চলে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী নানা পদক্ষেপে সমগ্র কম্যুনিটি নিপতিত হয়েছে অতংকে। তারইমধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত দেশসহ আফ্রিকার ১৯ দেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা সন্ত্রস্ত কম্যুনিটিকে বিষাদে আক্রান্ত করেছে। বাংলাদেশীরাও স্বস্তিতে ঈদ উদযাপনে সক্ষম হচ্ছেন না। কারণ, বাংলাদেশে অনেকের স্বজনই কথিত বিপ্লবের পর থেকে একাত্তরের বর্বরতায় অক্রান্ত। অনেকের বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটের পর গুড়িয়ে দেয়া অথবা আগুনে পুড়ে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেকে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আর যারা পালায়নি তাদের হয় গ্রেফতার নয়তো মেরে ফেলা হয়েছে। এখনো প্রতিদিনই পুলিশ-প্রশাসনের সামনে আলবদর-রাজাকারের ন্যায় হামলার ঘটনা ঘটছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ-কৃষক লীগ-মহিলা লীগর নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর। হিন্দুরাও রয়েছেন টার্গেটে। কম্যুনিটি সূত্রে বলা হয়েছে, এবার ঈদ উদযাপনে বাংলাদেশে যাননি অন্তত: ৫০ হাজার প্রবাসী। কুরবানীর টাকাও পাঠাননি অনেকে। রেমিট্যান্স কোম্পানীসমূহ আরো জানিয়েছে যে, গত বছরের কুরবানীর ঈদের চেয়ে এবার দেশে টাকা পাঠানোর হার ৫০% কমেছে।

    এছাড়াও আনন্দহীন ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে।

    নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন মেট্র, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্্স, মিশিগান, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, আরিজোনা প্রভৃতি স্থান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রবাসীরা দলবেধে কুরবানীর আয়োজন করেছেন। গরু-খাশী-ভেড়া-উট ইত্যাদি পশু কুরবানী করা হবে। এসব এলাকার মসজিদের ভেতরে এবং বেশ কিছু মসজিদেওর ব্যবস্থাপনায় খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।