Category: প্রবাস

  • ক্যালিফোর্নিয়াতেও রোজা ও কোরবানির ঈদের দিন ছুটি

    গ্যাভিন নিউসম

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটেও সরকারি ছুটির তালিকায় যোগ হয়েছে মুসলিমদের পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। স্টেট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের সই করা নতুন আইনের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ইসলাম ধর্মের এই দুটি প্রধান উৎসব আনুষ্ঠানিভাবে স্বীকৃতি পেল।

    এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় স্টেট হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে এ ধরনের স্বীকৃতি দিল। সেখানকার মুসলিমরা এখন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য সরকারি ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।

    ওয়াশিংটন গত বছরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্টেট হিসেবে দুটি ঈদকেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবার ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭ সই করে একই পথে হাঁটলেন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, নিউইয়র্ক স্টেটেও দুই ঈদের দিনকে ছুটি ঘোষণার দাবি রয়েছে। এখন পর্যন্ত তা আইনে পরিণত হবার পদক্ষেপ কেউই নেয়নি।

    নতুন আইনের আওতায় সরকারি কর্মী এবং স্কুলের কর্মীরা তাদের নিজেদের জমানো ছুটি ব্যবহার করে ঈদের দিন ছুটি কাটাতে পারবেন।

    প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল এবং কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের দিন তাদের প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারবে।

    নতুন আইন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের কাছে ঈদুল-ফিতর এবং ঈদুল-আজহার সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে সম্মান জানাতেই দুই ঈদের দিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সমন্বয়ে গত মার্চ মাসে ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের বিল উত্থাপন করেছিলেন সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি।

    বিলের উদ্দেশ্য ছিল, মুসলিমরা যাতে স্কুল বা কর্মক্ষেত্রে কোনও ঝামেলা বা দ্বন্দ্বের মুখোমুখি না হয়ে সহজেই ঈদ উদযাপন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

    হ্যানি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস। তাদের ঐতিহ্য স্বীকৃতি ও সম্মান পাওয়া উচিত। ঈদের ছুটির এই স্বীকৃতি ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর গুরুত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

    এখন থেকে তারা পড়াশোনা বা কাজের চাপ ছাড়াই পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এই নিয়মের ফলে স্কুল এবং সরকারি কার্যালয়ে সবাই যেন সহজে ঈদ উদযাপন করতে পারে তার একটি ব্যবস্থা হল।

    ‘ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স’-এর চেয়ারম্যান জেসন পাগুইও-এর মতে, নতুন আইনটি দুটি ঈদ উৎসবের সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এই উৎসব পালনকারীদের ছুটি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা আরও ভালোভাবে দিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করেছে।

  • প্রকাশের ৬ মাস আগেই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন

     

    লেখক মোস্তফা সারোয়ার।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    প্রকাশের আনুষ্ঠানিক তারিখের অর্ধ বছরের বেশি সময় আগে বিশ্বব্যাপী প্রি-অর্ডার বিক্রিতে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে এক বিরল রেকর্ড গড়েছেন লেখক ও কবি মোস্তফা সারওয়ার। তার ইংরেজি কাব্যগ্র সানফ্লাওয়ার ওউন্ডস (Sunflower Wounds) সালের ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার কথা থাকলেও, চলতি বছরের আগস্টের শেষভাগ থেকেই বিশ্বের প্রভাবশালী সব পরিবেশক ও বই বিক্রেতা পোর্টালে বইটি প্রি-অর্ডারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

    কোনো লেখকের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের এত আগে বিশ্বব্যাপী প্রধান প্রধান বুক ডিস্ট্রিবিউটর এবং প্ল্যাটফর্মে প্রি-অর্ডার তালিকাভুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক প্রকাশনা জগতে অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।

    ৫ মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত প্রি-অর্ডার

    গত ১৫ আগস্ট জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি প্রেসের ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম এইচএফএস বুকস (HFS Books)-এ প্রথম কাব্যগ্রন্থটির প্রি-অর্ডার প্রি-লিস্টিং দেখা যায়। এরপরই উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের অন্তত ১৫টিরও বেশি দেশে বইটির বিক্রি ও তালিকাভুক্তি শুরু হয়।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, লিথুয়ানিয়া, স্পেন, মেক্সিকো, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সব অনলাইন বুকস্টোর ও রিটেইলার পোর্টালে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক পরাশক্তি প্রকাশনা ও বিক্রেতাদের তালিকাভুক্ত বিশ্বখ্যাত পরিবেশক ও ই-কমার্স জায়ান্টদের তালিকায় বইটির অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে এর গুরুত্বের সাক্ষ্য দেয়:

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা: অ্যামাজন (Amazon), বার্নস অ্যান্ড নোবল (Barnes & Noble), ওয়ালমার্ট (Walmart), বুকশপ (Bookshop.org), থ্রিফটবুকস (ThriftBooks) এবং ইন্ডিগো (Indigo)|

    ইউরোপীয় অঞ্চল:জার্মানির শীর্ষস্থানীয় বুকস্টোর চেইনহুগেনদুবেল (Hugendubel), লেম্যানস (Lehmanns)  ও বুক৭ (Buch7);  সুইজারল্যান্ডের ওরেল ফুসলি (Orell Füssli)  ও এক্স লিব্রিস (Ex Libris); ডেনমার্কের সাক্সো (Saxo)  এবং লিথুয়ানিয়ার নোইগোস(Knygos)|

    এশিয়া ও লাতিন আমেরিকা:দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েস২৪ (Yes24),  তাইওয়ানের বুকস ডট কম (Books.com.tw)  এবং মেক্সিকো ও ব্রাজিলের অ্যামাজন নেটওয়ার্ক।

    সাড়া সর্বত্র

    সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি না থাকলে একজন কবির একক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের এত মাস আগে এতগুলো মহাদেশে প্রধান প্রধান বই ডিস্ট্রিবিউটরদের ক্যাটালগে জায়গা করে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। সানফ্লাওয়ার ওউন্ডস-এর এই সর্বজনীন উপস্থিতি ও পূর্বপ্রস্তুতিমূলক বিক্রি বিশ্ব সাহিত্য বাজারে কাব্যগ্রন্থটির সম্ভাব্য সাফল্য ও ইতিবাচক গ্রহণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    ইতোমধ্যেই গুগল বুকস, বুকলাইফ (BookLife)  সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বই পর্যালোচনার প্ল্যাটফর্মে বইটি তালিকাভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বইটি কাব্যপ্রেমীদের মাঝে বিশেষ কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

  • ফ্লোরিডায় শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা, দোয়া-মাহফিল

    শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটেন নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস ২৪ডটকম।

    ফ্লোরিডা প্রতিনিধি

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা সভা ছাড়াও  দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার লেক ওয়ার্থের ক্র্যাজি মারিয়ো রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু আহমেদ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উদ্দীন।

    প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. ফজলুর রহমান ( সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, দক্ষিণ শাখা)। তিনি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।

    বক্তব্যে এম. ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে এবং তাঁকে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি খাদ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

    শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনায় মোনাজাতে নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস ২৪ডটকম।

    আরও বক্তব্য রাখেন ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সালমা রহমান মিনু, ইমতিয়াজ হাসান, নাফিজ আহমেদ, শেখ বাবুল, এম. রহমান জহির, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইকরামুল ইসলাম ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, মোজাম্মেল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ ছদরুল, মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডলি আহমেদ, লিনা হক, রাবেয়া বেগম প্রমুখ।

    বক্তারা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন, তাঁর নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
    সমাপনী বক্তব্যে ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মুজিব উদ্দীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী, অতিথি, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

  • শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনে নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সমাবেশ

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    ‘শেখ হাসিনার জন্য-বাংলাদেশ ধন্য’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই-আমরা আছি লক্ষ ভাই’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত অবস্থায় ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জননেত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনের কেক কাটেন নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। সকলেই ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলার রত্ন শেখ হাসিনাকে ঢাকায় স্বাগত জানানোর সংকল্পও ব্যক্ত করেন জন্মদিনের আমেজে। এ সময় ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন, ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জাফরউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আফসার মোহাম্মদ ও আবু তাহের এম রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিম খান আকাশ এবং আরিফুল ইসলাম আরিফ, ফাউন্ডেশনের কম্যুনিকেশন্স ডাইরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, নেতা নজরুল ইসলাম বাবুল, মোবাশ্বের হোসেন, আব্দুল জলিল, এম এ কাদির, কম্যুনিটি লিডার আবুল হাসেম, সিরাজুল মাওলা, আবুল হাসান মহিউদ্দিন, মোশারফ হোসেন আব্দুল হামিদ, আবুল কাশেম, ইদ্রিস আলম, ইয়াসিন আরাফাত বাপ্পি, আহসান উল্লাহ সাকি প্রমুখ।

    বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটেন নেতৃবৃন্দ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    বিশেষ সম্মানীত অতিথির মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন, নজরুল ইসলাম বাবু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ডেমক্র্যাটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ, আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ডা. মাসুদুল হাসান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী,  সিতাকুন্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান বাকের ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট ড. প্রদীপ কর, আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, মাহাবুবুর রহমান টুকু, জালালউদ্দিন জলিল, সুব্রত তালুকদার, ইফজাল চৌধুরী, সাখাওয়াত আলী, ফুয়াদ হোসাইন, ডেমক্র্যাট মোর্শেদ আলম, সালেহা আলম, লেখক-সাংবাদিক নঈম নিজাম, সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, সুলতানা রহমান প্রমুখ।

  • জাতিসংঘে খালেদা জিয়ার জীবনী গ্রন্থ সংরক্ষণের সংবাদে অভিভূত তারেক রহমান

    জাতিসংঘের লাইব্রেরিয়ানের দেয়া সার্টিফিকেটের কপি তারেক রহমানকে প্রদান করেন গোলাম ফারুক শাহীন। ছবি-পিএমও।

    বিশেষ সংবাদদাতা

    ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বরে প্রকাশিত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লার লেখা ৭০০ পৃষ্ঠার ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ (Khaleda Zia : Her Life, Her Story )নামক জীবনী গ্রন্থটি ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ইউএন ড্যাগ হ্যামারসজল্ট লাইব্রেরীতে প্রদান করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন। ডিপার্টমেন্ট অব গ্লোবাল কম্যুনিকেশন্স’র লাইব্রেরিয়ান জেনিন পিকার্টড বইটি রিসিভ করে একটি প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেছন । সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রকাশনাটি (গ্রন্থটি) লাইব্রেরীর সংগ্রহশালার জন্যে খুবই মূল্যবান সংযোজন হবে। তা ২৫ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে নিউইয়র্কে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট হস্তান্তর করেন গোলাম ফারুক শাহীন। মায়ের জীবনী-সম্বলিত গ্রন্থটি জাতিসংঘের লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত হবার তথ্য জেনে বিশেষভাবে অভিভূত হয়ে নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির এই নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান। শাহীন এ সময় তারেক রহমানকে আরো অবহিত করেন যে, মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কংগ্রেসম্যানসহ মার্কিন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তাকেও গ্রন্থের কপি দিয়েছেন। করোনাকালিন দু:সময়ে নিউইয়র্কে বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি চেয়ারপারসনের তরফ থেকে অসহায় প্রবাসীদের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রিও বিতরণের তথ্য তারেক রহমানকে এ সময় অবহিত করেছেন গোলাম ফারুক শাহীন।

    জাতিসংঘের লাইব্রেরিয়ানের দেয়া সার্টিফিকেটের কপি। ছবি-পিএমও।

    এ সময় সেখানে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির ছাড়াও ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান, গিয়াস আহমেদ এবং মিজানুর রহমান মিল্টন ভূইয়া। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রিতিনিধি দলের নেতা হিসেবে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হোটেলে অবস্থান করেন এবং সে সময় দলীয় নেতা-কর্মীগণের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন।

  • রংপুরে চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের নেপথ্যে কি ডিআইজি মাবুদ?

    দীপক কুমার আচার্য

    রংপুরের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাদের কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং পুত্র প্রীতম চক্রবর্তীর এই নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরোদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুতে এই নৃশংসতাকে নিছক ডাকাতি বা সাধারণ শত্রুতা বলে মনে করা হলেও, সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    অভিযোগের তীর খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার দিকে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদ্য পদোন্নতি পাওয়া রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (পুলিশ কমিশনার) আবদুল মাবুদের লালসা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টাই মূলত এই চার খুনের নেপথ্য কারণ।

    পুলিশ হেডকোয়ার্টর সূত্রগুলো বলছে, একটি সাধারণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে কীভাবে একটি পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হলো, আর এর পেছনে রক্ষক কীভাবে ভক্ষকের রূপ নিল—তা নিয়ে দেশজুড়ে এখন তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে হিন্দু কমিউনিটিতে এখন চাপা আতঙ্ক চলছে এবং সবাই বলাবলি করছে পুলিশ যেখানে সব শ্রেণী মানুষের নিরাপত্তা দেবে সেখানে যদি পুলিশ নিজেই হিন্দু নিধনে অংশ নেয় তাহলে হিন্দুরা যাবে কোথায়?

    ঘটনার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। এই হিন্দু নারী সম্প্রতি তার একটি জমির দখল নিয়ে তীব্র বিরোধ ও হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তিনি জমির দখল বুঝে পাচ্ছিলেন না। নিরুপায় হয়ে ওই নারী তার বান্ধবী প্রীতিলতা এবং তার স্বামী গণপতি চক্রবর্তীর শরণাপন্ন হন।

    গণপতি চক্রবর্তী ওই নারীকে আইনি সহায়তার জন্য স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলন কুমার চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে যান। কিন্তু জমির বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এবং প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় ওসি মিলন কুমার বিষয়টি নিজের হাতে না রেখে রংপুরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদের কাছে হস্তান্তর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এখান থেকেই ঘটনার মোড় সম্পূর্ণ ভিন্নদিকে ঘুরে যায়।

    পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জমি উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়ার বদলে ওই অসহায় নারীর সাথে এক ধরনের অনৈতিক রফাদফায় জড়ান। গত তিন মাসের মধ্যে মাবুদ ওই নারীর সাথে জোরপূর্বক সখ্যতা গড়ে তোলেন। জানা যায়,  এই সময়ের মধ্যে তিনি অন্তত চারবার ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করেন।

    পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয় আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ে আবদুল মাবুদ ওই নারীকে চরমভাবে হয়রানি করেন। তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয় এবং অন্তত দুবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন বিকৃত ও ভয়ংকর আচরণে ওই নারী মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন।

     

    নিরুপায় ও আতঙ্কিত হয়ে ওই নারী তার ওপর চলা এই ভয়ংকর নিপীড়নের কথা তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে জানিয়ে দেন। প্রীতিলতা স্বাভাবিকভাবেই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং বিষয়টি ওসি মিলন কুমার চক্রবর্তী সহ আরও কয়েকজনের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

    নিজের এমন জঘন্য কেলেঙ্কারির কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কমিশনার আবদুল মাবুদ। তার মতো একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার সম্মান ও ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এই কেলেঙ্কারি নিয়ে আর একটি শব্দও উচ্চারণ করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

    এর কিছুদিন পরেই ঘটে যায় সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই নিষ্পাপ সন্তানকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ধরন ও সময়কাল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, কমিশনার মাবুদের কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতেই পুরো পরিবারটিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বেঁচে থাকা প্রীতিলতার সেই বান্ধবী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে রংপুরের অন্য এক অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

    আবদুল মাবুদের বিরুদ্ধে এমন নৈতিক স্খলন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। তার অতীত ঘাটলে বেরিয়ে আসে আরও চমকপ্রদ তথ্য। ২০১২সালে তিনি যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

    তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান এবং পরবর্তীতে এসপি মনিরুজ্জামান পিপিএম (বার)-এর সময়ে তিনি দুবার হাতেনাতে ধরা পড়েন। একবার রাতের অন্ধকারে ওই নারীর বাড়িতে এলাকাবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আনে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টারে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করা হয়। তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে হেড কোয়ার্টারে  সংযুক্ত করা হয়।

    বিগত বছরগুলোতে নিজের অপকর্মের কারণে ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়া মাবুদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সম্পূর্ণ নতুন রূপে আবির্ভূত হন। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে নিজেকে বিগত সরকারের ‘রাজনৈতিক রোষানলের শিকার’হিসেবে দাবি করতে শুরু করেন।

    তিনি প্রচার করেন যে, ২০০১ সালে বিসিএস ২০তম ব্যাচে (বিএনপি-জামায়াত আমলে) চাকরিতে যোগদান করা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই বিগত সরকার তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত রেখেছে। ৫ আগস্টের কথিত জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি সাধারণ ছাত্র-জনতার পক্ষে কাজ করেছেন বলেও ফেসবুকে নানা স্ট্যাটাস ও ভিডিও আপলোড করে নিজেকে ‘বিপ্লবী’প্রমাণের চেষ্টা করেন।

    কিন্তু বিশ্বস্তসূত্র ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র বলছে ভিন্নকথা। মাবুদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ রাজনীতি ছিল না, বরং ছিল তার নৈতিক স্খলন এবং জেএমবি বা ‘বাংলাভাই’ইস্যুর সাথে তার সন্দেহভাজন সম্পৃক্ততা। নোয়াখালীর সেনবাগের সন্তান মাবুদের বিরুদ্ধে সে সময় জঙ্গিবাদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার গুরুতর অভিযোগ ছিল, যা নিয়ে বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। অথচ, ৫ আগস্টের পর পুরনো সব কলঙ্কিত ফাইল ধামাচাপা দিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে লবিং শুরু করেন। পুলিশের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি দ্রুত পদোন্নতি আদায় করে নেন। প্রথমে এসপি, তারপর অতিরিক্ত ডিআইজি এবং সর্বশেষ রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে তিনি পদোন্নতি পান।

    গত ১২ এপ্রিল আবদুল মাবুদ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে, ১২আগস্ট তাকে ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়। রহস্যজনক ভাবে, তিনি এই বদলি আদেশ পাওয়ার পরও তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে রংপুরে অবস্থান করে তিনি প্রীতিলতার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং এই হত্যাকাণ্ডের নীল-নকশা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    রংপুরের এই চার খুনের সাথে পুলিশের এমন একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে পড়ায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারে এখন রীতিমতো তোলপাড় চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হেড কোয়ার্টার আবদুল মাবুদের অতীতের সব ফাইল নতুন করে তলব করেছে। ২০১২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের রিপোর্টগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

     

    একইসাথে মাবুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের নতুন নতুন তথ্যও সামনে আসতে শুরু করেছে। এখন সচেতন মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—বর্তমান সরকারও কি এমন একজন দাগী, দুর্নীতিবাজ ও খুনের অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পার পেয়ে যেতে দেবে? নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে রংপুরের এই নিরীহ চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবে?

     

    পুরোদেশ এখন তাকিয়ে আছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। চারখুনের এই নারকীয় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের সবচেয়ে বড়দাবি। প্রকৃত অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল প্রীতিলতা ও তার পরিবারের আত্মারা শান্তি পাবে। আত্মগোপনে থাকা ওই নারীও হয়তো তখন নির্ভয়ে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

    (এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম নিউজ সার্ভিস)

  • ‘বিশ্বাসে ঐক্য-সংস্কৃতিতে বৈচিত্র’ স্লোগানে নিউইয়র্কে মুসলিম ডে প্যারেডে

     

     

    নিউইয়র্কে মুসলিম ডে প্যারেডে বিশিষ্টজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রোববার নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে মুসলিম ডে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের হাত ধরে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইমাম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৃষ্টিভেজা ম্যাডিসন অ্যাভিনিউতে জড়ো হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও শান্তির ঝান্ডা সমুন্নত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটে এবারের প্যারেডের প্রতিপাদ্য ছিল Ôবিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ, সংস্কৃতিতে  বৈচিত্রময়।Õ

    আয়োজকদের প্রচারপত্রে Ôএক উম্মাহ, এক জাতি, গর্বিত আমেরিকান এবং সবার প্রতি ভালোবাসা, কারও প্রতি ঘৃণা নয়Õ-এই আহ্বানও তুলে ধরা হয়। নানাভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ সেই বার্তার প্রতিফলন ঘটায়।

    প্যারেডে কমিউনিটি ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি যোগ দেন এনওয়াইপিডির মুসলিম অফিসার, এফডিএনওয়াই সদস্য, ইসলামিক সোসাইটির প্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

    প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাঁদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি স্মরণীয় কমিউনিটি সমাবেশে পরিণত করে। প্যারেডের আহ্বায়ক Ôকাউন্সিল অব পিপলস অর্গানাইজেশনÕর  প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাজভি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

    কুইন্সের ইলহাম একাডেমি তাদের শিক্ষার্থী ও স্কুল পরিবার নিয়ে প্যারেডে অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটি ছিল নিজেদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ। অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও শিশুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

    প্যারেডের পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তাহির মুস্তাফা কুকিগি, রফিক মোহামেদ, ইব্রাহিম আহমেদ, আইনুল হক, জিলফা বকশ, এডপাওয়েল, সাকিবেহ মুস্তাফা, সুলেইমানে কোনাতে, বাজাহ রুহি, কেনান তাসকেন্ট, আহমাদ আলী, হাফিদাটরেস, মনিলুৎফি, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোহাম্মদ রাজভি ছিলেন সরব।

  • বাংলাদেশে নাজুক পরিস্থিতির অবসানে একযোগে কাজের আহবান

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    নিউইয়র্কে ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির র‌্যাঙ্কিং মেম্বার কংগ্রেসম্যান (ডেমক্র্যাট) গ্রেগরি মিক্স বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর আলোকপাতকালে বললেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে-সেই সম্ভাবনা অথবা প্রত্যাশাকে পূরণ করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এরপরই আমাকে এই কমিটিতে আবারো চেয়ারম্যান হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হবে এবং তারপর আমি বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সচক্ষে সামগ্রিক পরিস্থিতি অবলোকন করে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিতে পারবো।

    মতবিনিময় সমাবেশে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    এ সময় কংগ্রেসম্যান উল্লেখ করেন, গত বছর ২৩ ডিসেম্বর আমিসহ ৫ কংগ্রেসম্যান যুক্ত স্বাক্ষরের একটি চিঠি পাঠিয়েছিলাম তদানিন্তন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবরে। সে চিঠিতে বাংলাদেশের সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ-নিরপেক্ষ সর্বজনগ্রাহ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরীর তাগিদ দিয়েছিলাম। এবং এর মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র যে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে তা দৃশ্যমান করার কথাও বলেছিলাম। উল্লেখ করেছিলাম আমাদের উদ্বেগের কথা যে, যদি সরকার রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে এবং আবার ক্রটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু করে তাহলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করি না। কংগ্রেসম্যান মিক্স বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী, আইনের শাসন পুরোপুরি কার্যকর, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউ-কে হোয়াইট হাউজসহ এয়ারফোর্স ওয়ানে নিষিদ্ধ করার প্রতি ইঙ্গিত করে ক্ষোভের সাথে কংগ্রেসম্যান মিক্স বলেন, এই আমেরিকাতেও মিডিয়ার গলাটিপে ধরার মত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ভিন্নমতকে বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি সিটিজেনশিপ কেড়ে নিয়ে কিংবা গ্রীণকার্ড বাতিল করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা স্তব্দ করার মত পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে-যা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতার সাথে যায় না। এহেন পরিস্থিতির অবসানে আসছে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগেসের উভয়কক্ষে ডেমক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে বাংলাদেশী আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেখানেই অন্যায়-অবিচার, দমন-পীড়ন চলছে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। গ্রেগরী মিক্স বলেন, আমি চাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। ফরেন এ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের প্যাডে একটি চিঠি পেলে বাংলাদেশের সরকার অবশ্যই তার ক্বদর দিতে কুন্ঠাবোধ করবে না। আমি কথা দিচ্ছি, চেয়ারম্যান হিসেবে আবারো বাংলাদেশ সফরে যাবো।

    কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স-কে উত্তরীয় পরিয়ে দেন কাদের মিয়া। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই মতবিনিময় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ।

    কথা বলছেন ড. এ কে এ মোমেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকপাত করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেন এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন। তারা অভিযোগ করেন যে, কোটা আন্দোলনের আড়ালে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের কথিত আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ‘বৈষম্য-বিরোধী সমাজ গঠন’র অঙ্গিকারে মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অবাক বিস্ময়ে সকলে অবলোকন করছেন ভিন্নমত পোষণকারিরা কি ধরনের নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলার ভিকটিম হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা হত্যা, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও বর্বরোচিত হামলার শিকার হচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেন, এভাবে গোটা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়রাণ্যে পরিণত করা হয়েছিল ইউনূসের আমলে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

    মতবিনিময় সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদা ইয়াসমিন। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    তারা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা, গণমাধ্যম কর্মীর মধ্যে যারা বর্তমান সরকারের পছন্দের নিউজ করেন না, তারাই মামলা-হামলা এবং বরখাস্তের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের স্বৈরাচারি আচরণে গোটা জনগোষ্ঠি আজ অতীষ্ঠ। এহেন অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যে অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিও উপস্থাপন করা হয় কংগ্রেসের এই সিনিয়র সদস্য সমীপে। এছাড়া, কথিত হত্যা মামলায় আটক সাংবাদিকসহ সহ রাজবন্দির মুক্তির লক্ষ্যে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

    বিশিষ্টজনদের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস ২৪ ডটকম।

    শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই কংগ্রেসম্যানকে বিপুল করতালির মধ্যে ‘উত্তরীয় পরিয়ে’ দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া।

    সমাবেশ মঞ্চে আরো ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাশেম, সমাজ-সংগঠক এনামুল হক শামীম, আমিনুল ইসলাম আমিন এবং নজরুল ইসলাম বাবু।

    এই মতবিনিময় সমাবেশের কো-হোস্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতি এবং হক মেডিক্যাল অফিস।

    বিশিষ্টজনদের একাংশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিগণের মধ্যে আরো ছিলেন লেখক-কলামিস্ট-সম্পাদক নঈম নিজাম, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও আলিম খান আকাশ, সাংবাদিক সুলতানা রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, জাগো প্রহরীর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ড. মাহাব্বুর রহমান টুকু, শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের আহবায়ক সিরাজুল মাওলা, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সন্দ্বীপ পৌরসভা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাফরউল্লাহ, সন্দ্বীপ এডুকেশন এ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সভাপতি মোশারফ হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ এবং কোষাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ সাকী, কম্যুনিটি লিডার মোবাশ্বের হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদির মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ী সরাফ সরকার,

    বিশিষ্টজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    সমাজ-সংগঠক সাখাওয়াত আলী, ব্যবসায়ী ও সমাজ-সংগঠক ইফজাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, বাউরিয়া জনকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আবুল কাশেম, একাত্তর জেনোসাইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ কর, কম্যুনিটি লিডার আব্দুল জলিল, আফসার মোহাম্মদ, আবু তাহের এম রহমান, ইয়াসিন আরাফত বাপ্পি, রাজনীতিক বাকের ভ’ইয়া, ডেমক্র্যাট মোর্শেদ আলম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ইমদাদ চৌধুরী প্রমুখ। এদের পরিচয় করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি কামাল হোসেন মিঠু।

    কংগ্রেসম্যানের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সমন্বয় করেছেন নাভার সভাপতি দীপা নাথ এবং লিন্ডা র‌্যাম্পারটেব।

    বিশিষ্টজনেরা। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪ ডটকম।

    সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেশের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, প্রিয় মাতৃভূমিকে অপশাসনের কবল থেকে মুক্ত করতে আজকের চেতনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মুখে এগুতে হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার অসমাপ্ত কাজ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পন্নের জন্যে।

  • টাইমস স্কয়ারে দুর্গোৎসব ১০ ও ১১ অক্টোবর

    নিজস্ব প্রতিনিধি
    দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে  মহালয়া ও দুর্গোৎসব। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর দু দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকবে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ, শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ এবং দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা।

    এ উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন আয়োজকরা। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর প্রেসিডেন্ট অশোক রক্ষিত, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ হিন্দু কমিউনিটির নেতা অধ্যাপক নবেন্দু দও, সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার, বেদান্ত সোসাইটির প্রেসিডেন্ট রিনা সাহা, আড্ডা একাডেমির প্রধান পরিচালক আলপনা গুহ, আয়োজক কমিটির কর্মকর্তা অনুপম দও, রোহান রাওয়াত ও সোমা মুখার্জি।

    এছাড়া সংগীত সাধনা একাডেমির প্রধান পরিচালক মালবিকা চ্যাটার্জি, নৃত্যাঞ্জলি একাডেমির প্রধান পরিচালক চন্দ্রা ব্যানার্জী এবং পূজার পুরোহিত প্রবাস চক্রবর্তীও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

    মহালয়ার দিনে নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হবে। গীতাপাঠ পরিচালনা করবেন সুতিপা চৌধুরী। এরপর মালবিকা চ্যাটার্জির পরিচালনায় সংগীত সাধনা একাডেমি পরিবেশন করবে উদ্বোধনী সংগীতানুষ্ঠান।

    উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হবে নৃত্য পরিবেশনা। চন্দ্রা ব্যানার্জীর পরিচালনায় নৃত্যাঞ্জলির ৬০ জনেরও বেশি শিল্পী অংশ নেবেন এ পর্বে। পাশাপাশি বাফা ও আড্ডার শিল্পীরাও নৃত্য পরিবেশন করবেন।

    প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে আরও থাকবে বাংলাদেশ ও নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুবের পরিবেশনা। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত শিল্পী মেঘলা দাশ গুপ্তও কনসার্টে অংশ নেবেন।

    দ্বিতীয় দিন, ১১ অক্টোবর রবিবার সকাল ১০টায় শুরু হবে দুর্গাপূজা। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে অঞ্জলি। এদিন নৃত্যাঞ্জলির শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে বিশেষ ধুনুচি নাচ।এছাড়া  পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত শিল্পী দিয়াসিনী রায়ের পরিবেশনার পাশাপাশি জোজো মুখার্জি ও তাঁর ব্যান্ডের কনসার্টও অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিরুপমা সাহা জানান, অতিথি শিল্পী হিসেবে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    এ সময় হিন্দু কমিউনিটির নেতা নবেন্দু দও বলেন, নব্বই দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি হিন্দুদের দুর্গাপূজা শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশি হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের আয়োজিত পূজায় অংশ নিতেন। কিন্তু টাইমস স্কয়ারে দুর্গোৎসব শুরু হওয়ার পর এটি এখন সকল বাঙালির মিলন ও আনন্দের মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

  • গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বপ্নসারথি শেখ হাসিনা

    শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে নিউইয়র্কে শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ’র সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন। নবান্ন পার্টি সেন্টারে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি ডা. মাসুদুল হাসান। ছবি-বাংলা গেজেট।

    ফরিদা ইয়াসমিন 

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ নিহত সকলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করেছি। ধন্যবাদ সভাপতি। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এমন আয়োজন করার জন্য।

    শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের এক কঠিনতম সময়ে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে অমানিশা নেমে আসে। সেই অমানিশায় আলোকবর্তিকা হয়ে আসেন তিনি। হঠাৎ করে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন—বিষয়টি তেমন নয়। শেখ হাসিনা একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মেছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, একটি দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বারবার কারারুদ্ধ হতে। গোপালগঞ্জ আদালতে তিনি দাদার সঙ্গে বাবাকে দেখতে যান। সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই শেখ কামাল। কামাল জন্মের পর বাবাকে ঠিকভাবে দেখেননি। শেখ হাসিনা বাবাকে দেখে ছুটে গিয়ে ‘বাবা, বাবা’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন পাশে থাকা ছোট কামাল বলছিল, ‘হাসু আপা, তোমার বাবাকে বাবা বলতে দেবে?’ অশ্রুসজল নয়নে ভাইয়ের দিকে তাকিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ইতিহাস আপন মহিমায় চলে। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনীতির নীরব সাক্ষী তিনি। নিজেও অংশ নিয়েছিলেন ছাত্ররাজনীতিতে। ছিলেন ইডেন কলেজের ভিপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রী শেখ হাসিনা ৬৯-এর গণআন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছিলেন। শেখ হাসিনা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা কিংবা উত্তরাধিকার নন। তার জীবন, সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়। এর বাঁকে বাঁকে রয়েছে নানা ট্র‍্যাজেডি নানা উত্থান পতনের কাহিনী। এ কাহিনী গল্পকেও হার মানায় । প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি একই সঙ্গে পেয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ সুযোগ, নির্বাচনী সাফল্য, উন্নয়নের নানা স্বীকৃতি এবং তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা ও সমালোচনা।

    শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। রাজনৈতিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। কতিপয় সেনা কর্মকর্তার হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা তখন দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনা তাঁর ব্যক্তিজীবন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের গতিপথ আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে ।

     নির্বাসন থেকে নেতৃত্বে 

    ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়। ১৯৮১ সালই তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণ ও দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর জন‍্য খুব সহজ ছিল না। দেশে ফিরে তাঁর সামনে ছিল একদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন, অন্যদিকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের কঠিন বাস্তবতা। তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল সামরিক শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সেইসঙ্গে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানো । ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া চষে বেড়িয়েছেন । “আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব “ এই স্লোগান তিনি চালু করেছিলেন । ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্র করে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেয়া হয়। শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন॥দমে যাননি শেখ হাসিনা । ১৯৯৬ সালে বিএনপির ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তোলেন । শুরু হয় নতুন সংগ্রাম । মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন শেখ হাসিনা । ৩০ মার্চ খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ১২ জুন নির্বাচনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হয় ।

    প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী

    ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই । দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম । দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায় ।শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। তাঁকে সেই সময় অভিবাদন জানাতে বাংলাদেশে আসেন বিশ্বনেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাত ও সুলেমান ডেমিরেল। তাঁর প্রথম সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি একটি মাইলফলক ঘটনা। একটি বিদ্রোহী জনগোষ্ঠী নিজেদের স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম করে আসছিল । এই চুক্তির ফলে অস্ত্র ত‍্যাগ করে তারা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ফিরে আসে। পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারায়। এরপর বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আবারও রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাঁর ওপর গ্রেনেড হামলা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হন। শুধু ২১ আগস্ট নয়—বারবার হামলার লক্ষ্য হন তিনি । আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ২০১৯ সালের একটি নথিতে বলা হয়, ২১ আগস্টের আগে শেখ হাসিনার ওপর আরও ১৮টি হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর গাড়ি বহরে, ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে,চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে, সাতক্ষীরার কলাপাড়ায়, এমন কি নিজ জন্মস্থান কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয় তাঁর চলার পথে। কিন্তু কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি । তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁর কাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন । ফলে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা।

    ২০০৯ থেকে ২০২৪

    ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট বড় বিজয় অর্জন করলে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি টানা ক্ষমতায় থাকেন। ফলে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী । শেখ হাসিনা তাঁর সময়কালে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, যোগাযোগ অবকাঠামো, ডিজিটাল বাংলাদেশ, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ,পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে অবস্থান করে। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেন।পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়; বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক । ৪৫০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ সোয়া লাখ ভূমিহীন গৃহহীন মানুষকে ঘর প্রদান, প্রতিটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া, দারিদ্র্য নির্মূল, করোনা সংকট মোকাবেলায় নানামুখী পদক্ষেপ বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছিল বাংলাদেশ । কোভিড ১৯ মোকাবেলায় প্রশংসিত বিশ্বের তিনজন রাষ্ট্রপ্রধানের একজ শেখ হাসিনা । মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ছিল ৯৯,৯৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৭,৯৭,০০০ কোটি টাকা। শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি দিক হলো—তিনি শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করেননি; তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা।

    শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে শান্তি, গণতন্ত্র, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু, শিক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস ও উন্নয়নে অবদানের জন্য বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের একটি সরকারি সংবাদভিত্তিক তালিকায় তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সংখ্যা ৩৭টি । নারীর ক্ষমতায়নের অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে UN Women-এর Planet 50-50 Champion – 2016 অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নীতিগত নেতৃত্বের জন্য তাঁকে Champions of the Earth – 2015 স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি United Nations Environment Programme-এর সর্বোচ্চ পরিবেশগত সম্মাননাগুলোর একটি। শিশুমৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে UN MDG Award – 2010 Millennium Development Goalsঅর্জন ইত্যাদি।

    শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে ২০২০ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে দ্বিতীয়বার সুপারিশ করে। ২০২৬ সালে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নযাত্রা ২০২৪ সালে থামিয়ে দেওয়া হলো। মেটিকুলাস ডিজাইনে একটি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়া হয়। এই থামিয়ে দেয়ার আশংকা বরাবরই ছিল। কারণ স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বরাবরই নানা ষড়যন্ত্র করেছে। এদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে বারবার । তবে সব ষড়যন্ত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি সব নস্যাৎ করে দিয়েছে।

     

    ১/১১ এর সময় ফখরুদ্দীন মইনুদ্দিন সরকার শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় বাধা দিয়েছিলেন। তিনি তখন লন্ডনে ছিলেন । সেই সরকারের বাধা উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন। তাঁকে এবং তার সফরসঙ্গীদের সরকার গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হবে জেনেই সমস্ত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা । ৮১ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন তখনও অনেকে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে তার দেশে আসা ঠিক হবে না। কিন্তু দলের সাধারণ কর্মী, এদেশের জনগণ অপেক্ষায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন‍্যার ফিরে আসার। তাইতো সেদিন ছিল বিমান বন্দরে মানুষের বাধভাঙ্গা জোয়ার। সেদিন ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল । সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের ঢল নেমেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে এক নজর দেখার জন্য।

    দেশ আজ ক্রান্তিলগ্নে । মানুষের নিরাপত্তা নেই । প্রতিদিন খুন গুমের ঘটনা ঘটছে। নির্বিচারে মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে । কারাগারে বিনা বিচারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ দিনে কারাগারে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে । ষড়যন্ত্র চক্রান্তের কবলে পড়ে শেখ হাসিনা আজ দেশের বাইরে। শেখ হাসিনা দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত‍্যয় ব‍্যাক্ত করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা‍। দেশের মানুষের এই ক্রান্তিকালে তিনি দূরে থাকতে পারেন না। আজ তাঁর পাশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় আছে বঙ্গবন্ধু কন্যা ফিরবেন। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। এই ফেরাটা সহজ নয়। ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও নানা ধরনের রাজনৈতিক বেড়াজাল ডিঙিয়ে তাঁকে ফিরতে হবে। দলীয় কোন্দল, গ্রুপিং—অনেক কিছুই আছে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সবকিছু ভুলে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের অগ্নিপরীক্ষা । সেই পরীক্ষা পাশ করতে ঐক‍্যের কোন বিকল্প নেই। আজ তাঁর জন্মদিনে তাই শুধু জন্মদিনের শুভেচ্ছা নয়—তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।

    বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করি।

    জয় বাংলা । জয় বঙ্গবন্ধু ।

    শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা ॥(এটি উপস্থাপন করা হয় ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি সেন্টারে শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনের সমাবেশে)।

  • মার্কিন স্বপ্ন পূরণে আরো সম্পৃক্ততার সংকল্পে যুক্তরাষ্ট্রে ইউএসডিএন’র যাত্রা শুরু

    অতিথিগণের সাথে নবগঠিত ‘ইউএসডিএন’র শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    ‘নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং জননীত বিষয়ক সমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশী তথা এশিয়ান-আমেরিকান সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্য ‘ ২৬ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করলো ‘ইউনাইটেড স্টেট ডেমক্র্যাটিক নেটওয়ার্ক’ তথা ইউএসডিএন। নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে মূলধারায় আরো জোরালোভাবে সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই এবং এমন একটি তাগিদ অনুভূত হয় ২০০৮ সালে বস্টনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে তদানিন্তন সিনেটর বারাক ওবামার ভাষণ শোনার পর। নবগঠিত সংস্থাটির কো-ফাউন্ডার ও প্রেসিডেন্ট রাদওয়ান চৌধুরী এ তথ্য উপস্থাপনের সময় আরো উল্লেখ করেন, সে সময় আমি ছিলাম স্টুডেন্ট এবং ডেমক্র্যাটিক  পার্টির তরুন অংশের একজন সমর্থক হিসেবে ঐ সম্মেলন থেকে আমি ওবামার বক্তব্যে আরো অনেকের মতো অভিভূত হই এবং অভিবাসী সমাজের সার্বিক কল্যাণে মূলধারায় উদ্বুদ্ধ হই। যদিও বাংলাদেশের মত একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা বহুজাতিক এই দেশে বহুবছর যাবত বসবাস করলেও দেশীয় রাজনৈতিক ভাবধারাকেই আকড়ে রয়েছি। আর এমন পরিস্থিতি শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের মধ্যেই সীমিত নেই, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের অভিবাসীরাই সে ধরনের মনমানসিকতা ধারণ করছেন। এখনো আমরা তেমন মাসিকতায় লিপ্ত রয়েছি।

    ‘ইউএসডিএন’র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন সাবিন হিন্টন। ছবি-বাংলা গেজেট।

    ম্যারিল্যান্ড স্টেটের মন্টগোমারি কাউন্টির বাসিন্দা রাদওয়ান উল্লেখ করেন, এটা হচ্ছে ভাগ্য গড়ার দেশ। তাই সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে ঐক্যবদ্ধ থেকে মার্কিন রাজনীতিতে মিশে যাবার জন্যে। সে সংকল্পেই আমরা কিছু মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এই সংগঠনের ব্যানারে। রাদওয়ান উল্লেখ করেন, আমরা নেতৃত্ব বিকাশ এবং নাগরিক অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করছি। আমাদের এই উদ্যোগ বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করা, স্থানীয় কন্ঠস্বরকে তুলে ধরা এবং জনসম্পৃক্ততার সকল স্তরে প্রতিনিধিত্ব প্রসারিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যবসা-বিনিয়োগ-নীতি নির্ধারণীতে আন্তর্জাতিক পরামর্শ সংস্থা ‘হিন্টন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার্স’ এর প্রতিষ্ঠাতা সাবিন হিন্টন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে ২০২২ সাল নাগাদ আড়াই বছর পলিটিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যাওয়া এই ঝানু কূটনীতিক  সাবিন এম হিন্টন বলেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশে যাবার আগে আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশে কাজ করেছি। সর্বত্র নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ দেখতে হয়েছে। ভোটের নামে প্রহসনের ঘটনাও ঘটতে দেখেছি। যা কখনোই কোন রাষ্ট্রের জন্যে ভালো হয়নি। সাবিনা হিন্টন ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনার তাসমিত আফিয়াত আর্নির সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হলে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। হিন্টন এ তথ্য উল্লেখ করেন আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের মানুষকে খুব ভালবাসি। বাংলা বলতে পারি, তবে তা খুব দুর্বল। হিন্টন নবগঠিত এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সাধ্যমত সহযোগিতা দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, এই সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন আর্নি। আর্নিকে নিয়ে হিন্টন ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দা হলেও নিউইয়র্ক স্টেটের সিরাক্যুজে একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন এবং শীর্ঘই নিউইয়র্ক সিটিতেও বসতি গড়বেন বলে উল্লেখ করেছেন আর্নি। কারণ, এই সিটির মেয়র পদে লড়তে চান আর্নি।

    এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপনকালে কো-ফাউন্ডার এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ গালিব রহমান বলেন, মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে আরো বেশী করে সম্পৃক্ত হওয়া, কম্যুনিটির সামগ্রিক কল্যাণের পথ সুগম করতে দেন-দরবার, প্রতিভাসম্পন্নদের সুসংগঠিত করে বাংলাদেশী তথা এশিয়ান আমেরিকানদের সামনে এগিয়ে চলার পথ-প্রদর্শক হবার অভিপ্রায়ে এই ইউএসডিএন সরব থাকবে।

    উদ্বোধনী পর্বে আরো দাবি করা হয় যে, এটি একটি নির্দলীয় সামাজিক সংগঠন-যা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বাংলাদেশী আমেরিকানসহ এশিয়ান আমেরিকানদের নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বকে উৎসাহিত করতে নিবেদিত থাকবে। সামাজিক অংশিদারিত্ব এবং শিক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এটি আরো শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কম্যুনিটি গড়তে কাজ করবে।

    ‘ইউএসডিএন’র সমাবেশে গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথে শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ‘গ্লোবাল বাংলাদেশী এলায়েন্স’র প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান ড. মোহাম্মদ সালেহ। এ সময় সংস্থাটির পরিচালক মো. সোহেল হোসেন, তাসমিত আফিয়াত আর্নি, নাফিজা সাঈদা, রাফাত রহমানও  সেখানে ছিলেন। সুধীজনের মধ্যে ছিলেন নবগঠিত ‘গ্লোবাল বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্স’র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও কাজী এম আহমেদ, এ্যানভারণমেন্টাল প্রটেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড কন্সালট্যান্টস’র সিইও মো. সোলায়মান আকতার, বিশিষ্ট রিয়েল এ্যাস্টেট ব্যবসায়ী জাকির এইচ চৌধুরী প্রমুখ।

  • শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবসে সৎসংঘ-ইউএসএর মহাসমাবেশ

     

    মাতৃসম্মেলনে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বন্দনায় মায়েরা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    অজিৎ ভৌমিক

    বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরক্তের সরব উপস্থিতি এবং পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ওঁম শক্তি মন্দিরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব দিবস তথা তালনবমী তিথি উদযাপিত হয়েছে।

    লিপিকা তালুকদার ও টুম্পা দাসগুপ্তার যৌথ সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এ উৎসবে মানবতার কল্যাণে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জীবন-আদর্শ ধারণের সংকল্প ব্যক্ত করা হয়। দিনভর বৃষ্টি সত্বেও মা-বাবার সাথে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতিও ছিল ব্যাপক।

    এতে উপস্থিত মায়েরা বিশেষ এক পর্বে (মাতৃসম্মেলন) ঠাকুরের জীবনকে বহুজাতিক এ সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন। গান আর কথামালার এই পর্বের সঞ্চালনা করেছেন দেবপ্রিয়া দেবনাথ। অংশগ্রহনকারি মা’দের মধ্যে ছিলেন রাত্রি সাহা, হাসিরাণী চাকী, রাধারাণী দত্ত, লিপিকা তালুকদার, শর্মিলী পাল, পূরবী মিত্র, রত্না রানী দে, টুম্পা দাশগুপ্তা,  সীমা বর্মণ, ঝর্ণা বর্মন, শীলা বর্মণ, নমিতা ঘোষ, উর্মিতা দাস এবং মুনমুন ঘোষ।

    সত্যানুসরণ থেকে পাঠ করেছে প্রতিক মোদক, অভিজিৎ সিংহ, অমিত ঘোষ।

    ভোর সাড়ে ৬টায় প্রভাত আরতি এবং উষাকীর্তণের পর শংখধ্বণি, উলুধ্বণি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ফুল ও তুলসীপাতা অর্পণের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ১৩৯ বার বন্দে পুরুষোত্তম ধ্বনির মাধ্যমে পুরুষোত্তম শ্রীশ্রী ঠাকুরের পূন্য আবির্ভাব লগ্নের ঘো্ষণা দেয়া হয়। এরপর বাল্যভোগ ও পূজা, প্রাত:কালিন সমবেত প্রার্থনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা ইত্যাদি অনিুষ্ঠিত হয়। টিউলিপ তালুকদারের নৃত্য সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    সদ্গ্রন্থাদি থেকে পাঠ করেন জয়শ্রি রায়। প্রার্থনা সমাবেশে নেতৃত্ব দেন ঝুলন চৌধুরী ও বিজয় কৃষ্ণ ভৌমিক।

    শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবসের অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের পরিবেশনা। ছবি-বাংলা গেজেট।

    এই মহতি কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন হোস্ট সংগঠন ‘শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসংঘ, ইউএসএ ইনকের সভাপতি ঝুলন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সুভাষ তালুকদার, এই কর্মসূচির আহবায়ক শুভাষ দত্ত এবং সদস্য-সচিব শুভাশীষ দত্ত-সহ বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দ। বিশেষভাবে তৎপর ছিলেন প্রদীপ ঘোষ, সুব্রত তালুকদার, দেবাশীষ ধর পিন্টু, ইন্দ্রজিত সিংহ গোপাল, সুব্রত বিশ্বাস, নারায়ন শংকর চৌধুরী, বিজয় কৃষ্ণ ভৌমিক, সুভাষ পাল, বিশ্বনাথ মিত্র এবং প্রচার ও প্রকাশনায় অজিৎ ভৌমিকসহ অনেকে। পুরো আয়োজনে পুরোহিত্য করেছেন স্বপন ব্যানার্জি। অভ্যর্র্থনা ও আপ্যায়নে ছিলেন সুধন্য চন্দ্র সেন, উত্তম চৌধুরী প্রমুখ।

    প্রতিবছরের  ন্যায় এবারও ‘পুরুষোত্তম’ নামক একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে দিবাকর রায় এবং মনতোষ দে’র সম্পাদনায়।

    দিনভর আগে পূজারি ও শুভার্থীগণের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে ছিলেন অমিত ঘোষ, সাক্ষর দে রায়, দিবালোক রায়, অভিজিৎ সিংহ, দিয়ারি রায়, অম্বিকা চাকী প্রমুখ।

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্যে মন্দিরের বাইরের রাস্তায় পূর্বনির্দ্ধারিত র‌্যালি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।

  • অবশেষে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেলেন  বিএনপির নেতা-কর্মীরা

    নিজস্ব প্রতিনিধি

    ধাক্কা-ধাক্কি-বাদানুবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের সুযোগ পাননি বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী। অথচ তারা ৫ দিন আগে বিভিন্ন স্টেট থেকে নিউইয়র্কে এসে হোটেল-মোটেলে অবস্থান নিয়েছিলেন। জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত সমাবেশে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশ ছাড়াও গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে আওয়ামী লীগ প্রতিহত করার কর্মসূচিতেও তারা সরব ছিলেন। দলীয় চেয়ারম্যানের আশে-পাশে থাকা কতিপয় ব্যক্তির নির্দয় আচরণের শিকার নেতা-কর্মীরা সোস্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমেও নিজেদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকে এজন্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন। কারণ, পর্যায়ক্রমে ভেতরে ঢুকে তারেক রহমানের সাথে করমর্দন শেষে কয়েক সেকেন্ডের জন্যে কুশলাদিক বিনিময়ের অভিপ্রায়ে অন্তত: ২২০ জন হোটেলের করিডোর থেকে লাইনে ছিলেন। শ’ খানেকের মত সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এ সময় তারেক রহমানের পাশে ছিলেন আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান, মিজানুর রহমান ভূইয়া মিল্টন, ফয়সল চৌধুরী, নাহিদুল হক। এক পর্যায়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর তারেক রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এসএসএফ’র অনুমতিক্রমে একে একে ভেতরে ঢুকে সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করেন। বাইরে থেকে জানানো হয় যে, তুমুল বাক-বিতন্ডা চলছে কার আগে কে ঢুকবে-সে প্রতিযোগিতায়। অথচ এসএসএফ বিতরণকৃত পাস ছাড়া কারো ঢোকার অনুমতি ছিল না। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, বিগত ১৭ বছরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন এবং বিভিন্ন স্টেট কমিটির সুপার ফাইভ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, নিউইয়র্ক মহানগরের সুপার ফাইভ ইত্যাদি মিলে ৩০০ জনের একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি এসএসএফকে হস্তান্তর করা হয় ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে। ফলে ২৫ সেপ্টেম্বর জুমআর নামাজের পর সেগুলো বিতরণে করা সম্ভব হয়নি পুরোপুরিভাবে। এছাড়া, কথিত নাগরিক সম্বর্ধনা বাতিল হওয়ায় টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট হোটেলের একটি মিলনায়তনে নেতা-কর্মীগণের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। সেটিও এসএসএফ’র অনুমতিলাভে সক্ষম হয়নি নানা অজুহাতে।

    হোটেল লবিতে নেতা-কর্মীগণের সাথে কুশলাদি-পর্বে মূলধারার রাজনীতিক-ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল। ছবি-সংগ্রহ।

    আর এমন একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থার অসহায় ভিকটিম হয়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা। তারাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করতে না পেরে। যদিও সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেএফকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে হোটেল ত্যাগের সময় লবিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    উদ্ভূত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ এবং আব্দুল লতিফ সম্রাট পৃথক পৃথকভাবে এ সংবাদদাতাকে জানান, জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে খুবই ব্যস্ত থাকায় চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীগণের সাথে প্রত্যাশা অনুযায়ী সময় দিতে পারেননি। তারপরও তার আন্তরিকতায় ক্রুটি ছিল না। কারণ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীগণের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তার অজানা নেই।

    অপরদিকে, তৃণমূলের নেতা-কর্মীগণের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র নেতা এ সংবাদদাতার কাছে অভিযোগ করেছেন, দলীয় নেতা-কর্মীগণের সাথে চেয়ারম্যানের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং নাগরিক সম্বর্ধণার দায়িত্বটি সমন্বয় করার কথা কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের। যতটা অব্যবস্থাপনা তৈরী হয়েছিল তার জন্যে তিনিই দায়ী। আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২৮ মাস আগে নিউইয়র্ক স্টেট, নিউইয়র্ক মহানগরসহ ১৩ স্টেটে বিএনপির কমিটি করা হয়। আর এটি হয়েছে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদকসহ ৫ সদস্যবিশিষ্ট। সে সময় এগুলোকে ‘সুপার ফাইভ’ হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং  জানানো হয় যে, খুব শীঘ্রই এই ৫ জনে পূর্নাঙ্গ কমিটির অবশিষ্ট পদগুলো পূরণ করে হাই কমান্ডে পাঠাবেন অনুমোদনের জন্যে। কিন্তু ২৮ মাসেও সেই অনুমোদন না আসায় সর্বত্র একধরনের হতাশা বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এমন অনুযোগ বেশ কয়েকজন উপস্থাপনও করেছেন কুশলাদিক বিনিময়ের সুযোগপ্রাপ্তরা। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই সাংগঠনিক অব্যবস্থাপনা দূর করার-এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ১৪ বছর আগে। সেই কমিটিরও অনুমোদন আসেনি আজ অবধি। আরো উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসে ম্যানহাটানের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করেন তারেক রহমান। সেই হোটেলের লবিতেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চার সদস্যকে পাশে নিয়ে নেতা-কর্মীগণের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন তারেক রহমান।

  • চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে মানববন্ধন

     

    অজিৎ ভৌমিক

    বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারির মুক্তি দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে প্রবাসীরা মানববন্ধন করেছেন। এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট ফ্রিডম অব চিন্ময় প্রভূ’, ‘উই ওয়ান্ট রাইটস নট ফেভার’, ‘মাইনোরিটিজ নীড জাস্টিস ইন বাংলাদেশ’,‘জাস্টিস ক্যান নট হেভ এ রিলিজিয়ন’, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ন্যায় বিচার প্রয়োজন’, জাস্টিস ফর মাইনোরিটিজ’  ইত্যাদি লেখা প্লেকার্ড বহন করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ড. দীলিপ নাথ, সুবল দেবনাথ, শক্তি  ডি গুপ্ত,, শ্যামল চক্রবতী, বিদ্যুৎ সরকার, ধ্রুব চক্রবর্তী, সিবু চৌধুরী প্রমুখ।  উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উপস্থাপনের নিন্দা ও প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাসদ এবং সমমানা সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ করা হয়।

    জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মামলায় ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারটি মামলা হয়।

    চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণদাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।

  • জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

    সংবাদদাতা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় ভাষণ দেন। এখানে তা উপস্থাপন করা হলো।

    ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

    মাননীয় সভাপতি,

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আমরা আপনাকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। একইসঙ্গে আমি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবক-কেও তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানে সকল শহীদ এবং আহতদের প্রতিও আমি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই।

    ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।

    এই বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

    মাননীয় সভাপতি,

    জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।

    গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা কিছুই ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানব সৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের ফলে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

    আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

    বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ব মানবতা এবং বিশ্ব শান্তির প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন আমি আজ আবারো পুনর্ব্যক্ত করছি। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

    মাননীয় সভাপতি,

    চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য-‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল। ‘পিসবিল্ডিং কমিশনে’র ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

    প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে।

    অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ, উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে।

    মাননীয় সভাপতি,

    বাংলাদেশকে দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।

    এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে।

    পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

    মাননীয় সভাপতি,

    জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং, ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কপ-৩১-এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করছে।

    বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কর্মসূচি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যাবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। দেশকে বন্যা-খরার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে।

    বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ‘সুন্দরবনে’ মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সরকার ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে।

    মাননীয় সভাপতি,

    দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে। ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ ৩-আর কৌশল অনুসরণ করছে।

    বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি  এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তাঁর উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।

    মাননীয় সভাপতি,

    দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য সরকার নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।

    শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয় সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।

    প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে।

    প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও  সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

    মাননীয় সভাপতি,

    চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

    সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে এবং একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন  এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপি বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

    প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ এবং পোশাক অর্থাৎ স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেয়া হচ্ছে। সরকার আশা করে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীর হার এবং স্কুলে শিক্ষার মান বাড়বে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

    মাননীয় সভাপতি

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-  টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ  সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

    আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে।  একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

    বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায় এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

    মাননীয় সভাপতি,

    বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।

    বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

    কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে,  বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

    মাননীয় সভাপতি,

    রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই যে রাষ্ট্রে দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।

    মাননীয় সভাপতি,

    গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যাবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশবান্ধব একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলছে।

    বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।

    আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে, সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সকল নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

    মাননীয় সভাপতি আপনাকে ধন্যবাদ,
    আল্লাহ হাফেজ
    বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’