Blog

  • বিজিবি-বিএসএফের যৌথ সিদ্ধান্ত: সীমান্তে ১৫০ গজে কৃষক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ

    বিজিবি-বিএসএফের যৌথ সিদ্ধান্ত: সীমান্তে ১৫০ গজে কৃষক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ

    বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় কৃষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    বুধবার রাজশাহী ও মালদা সীমান্তে সোনামসজিদ বিওপির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজিবির রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. ইমরান ইবনে এ রউফ এবং বিএসএফের মালদা সেক্টরের ডিআইজি অরুণ কুমার গৌতম বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

    বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বৈঠকের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানান। তিনি বলেন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কৃষক ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করবে না বলে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

    এছাড়া, সীমান্তের যেকোনো সমস্যায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান, মিডিয়া মাধ্যমে গুজব রোধ এবং স্থানীয় জনগণকে অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালান থেকে বিরত রাখারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    Facebook Comments Box
  • ঢাকাগামী বিমানে বোমা হামলার হুমকি, পাকিস্তানি নম্বর থেকে বার্তা

    ঢাকাগামী বিমানে বোমা হামলার হুমকি, পাকিস্তানি নম্বর থেকে বার্তা

    পাকিস্তানি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকির বার্তা পাওয়া গেছে।

    বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ডিউটি অফিসার এএসপি আব্দুল হান্নানের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ওই হুমকির বার্তা পৌঁছায়। এতে বলা হয়, রোম থেকে ঢাকা আসা ফ্লাইটে ৩৪ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে, যা শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিস্ফোরিত হবে। বার্তাটি সতর্কতার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে এবং এটি হুমকি নয়, এমন দাবি করা হয়।

    এদিকে, বার্তা পাওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং বিমানটি রোম থেকে ঢাকায় আসার পথে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানের ২৫০ যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি কার্যক্রমও শুরু করা হয়। তবে তল্লাশির পর বিমানে বা যাত্রীদের ব্যাগে কোনো বিস্ফোরক বা বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়নি।

    Facebook Comments Box
  • জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ২২ স্টেট ও ২ সিটির মামলা

    জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ২২ স্টেট ও ২ সিটির মামলা

    ক্ষমতা গ্রহণের পরই শতাধিক নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের সচেতন মহলে আলোড়ন সৃষ্টিকারি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার ২২ স্টেট এবং দুটি সিটির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়েরকৃত মামলায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নির্দেশ প্রদানের এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেই বলে দাবি করা হয়েছে এবং সেই আদেশকে বাতিলের আহবান জানানো হয়েছে। কারণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশতম সংশোধনীর মাধ্যমে চালু হয়েছে। ম্যাসেচুসেটস স্টেটের বস্টনে মামলা দায়েরকারী এটর্নী জেনারেলরা হচ্ছেন নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ম্যাসেচুসেট্্স, ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড, মিশিগান, কলরাডো, দেলওয়ারে, নেভাদা, হাওয়াই, ম্যারিল্যান্ড, মেইন, মিনেসোটা, নিউ মেক্সিকো, ভারমন্ট, উইসকনসিন এবং নর্থ ক্যারলিনা স্টেটের। এর বাইরে রয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক নিউ হ্যামশায়ার স্টেট কোর্টে এবং আরেকটি মামলা হয়েছে সিভিল রাইটস এটর্নীগণের পক্ষ থেকে। সানফ্রান্সিসকো এবং ওয়াশিংটন ডিসির কোর্টেও আলাদা মামলা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এই স্টেট ও সিটিসমূহের গভর্ণর ও মেয়রের সকলেই ডেমক্র্যাটিক পার্টির। অর্থাৎ ডেমক্র্যাটরা জোট বেঁধেছেন ট্রাম্পের সংবিধান বিরোধী (তাদের ভাষায়) পদক্ষেপ রুখে দিতে। উল্লেখ্য, অবৈধ অভিবাসীর গর্ভে অথবা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে জন্মগ্রহণকারি সন্তানেরা যাতে নাগরিকত্ব না পায় সেই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আরো উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও এমন একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। দায়েরকৃত মামলাসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের চতুর্দশতম সংশোধনী অনুযায়ী এ দেশে জন্মগ্রহণকারিরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হয়।

    এই আদেশ প্রসঙ্গে খ্যাতনামা মানবাধিকার সংগঠক ও অভিবাসন বিষয়ক এটর্নী অশোক কর্মকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার লিগ্যাল টিমের সকলেই জানেন যে সাংবিধানিক কোন সিদ্ধান্তকে সংশোধন ব্যতিত নির্বাহী আদেশ দ্বারা বাতিল করা যায় না। এটা কেবলমাত্র সংবিধানকে সংশোধনের মাধ্যমেই সম্ভব। এটা আমরা যেমন জানি, তেমনি তাঁর আইনজীবীরাও জানেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন হলো যে, তবুও কেন এমন আদেশ জারি করলেন? আমার ধারণা, এই আদেশের বিরুদ্ধে যে মামলা হবে তা তিনি জানেন এবং মামলা হলে তা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট, এরপর সার্কিট কোর্টে যাবে। সেখান থেকে আল্টিমেটলি সুপ্রিম কোর্টেও যাবে। সুপ্রিম কোর্টে গেলে মাননীয় বিচারপতিগণ হয়তো কন্সটিটিউশনাল প্রভিশনটাকে ব্যাখ্যার নামে হয়তো উল্টায়ে দিতে পারেন। এমন একটা ধারণা থেকেই তারা (ট্রাম্প টিম) হয়তো করেছেন যে, এটা সুপ্রিম কোর্টে নিতে পারলে সুপ্রিম কোর্ট উইল ইন্টারপ্রেট দিস কন্সটিটিউশনাল প্রভিশন ইন অ্য ওয়ে দ্যাট, বাথ রাইট ডাজ নট মীন এদেশে জন্মগ্রহণ করলেই সিটিজেনশিপ পাবে যাদের মা-বাবার লিগ্যাল স্ট্যাটাস আছে। ইল্লিগ্যাল কোন জায়গা থেকে জন্ম নেয়া কিছুই লিগ্যাল হতে পারে না। খারাপ কোন কিছু দিয়ে কখনো ভালো কিছু হয় না। পয়জনাস ট্রি হিসেবে যাকে আমরা ট্রিট করে থাকি। এদেশে যার নিজেরই কোন আইনগত অধিকার নেই, তার মাধ্যমে যে সন্তান হবে, সে কীভাবে সিটিজেনশিপ পাবে? যদিও বিদ্যমান সংশোধনীতে লেখা আছে যে, এদেশে জন্মগ্রহণ করলেই সিটিজেন হবে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট হয়তো ব্যাখ্যা প্রদানের সময় উল্লেখ করতে পারেন যে, মা-বাবারই বৈধতা নেই, তার সন্তানেরা কীভাবে সিটিজেনশিপ পাবে। এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, এমন ব্যাখ্যা/ইন্টারপ্রিটেশনের আশায় ট্রাম্প হয়তো এ আদেশ জারি করেছেন। ইট উইল বি অ্য বিগ ফাইট। ইমিডিয়েটলি মনে হতে পারে যে, ট্রাম্প এটা করেছেন বোকার মত, কিন্তু আমার কাছে তা মনে হয় না । ইস্যুটিকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে কন্সটিটিউশনকে ইন্টারপ্রিটেশনের মাধ্যমে তাদের এ আদেশকে জায়েজ করতে চাচ্ছেন।

    নিউইয়র্কে আরেক জনপ্রিয় ইমিগ্রেশন এটর্নী জান্নাতুল রুমা বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ সংবাদদাতাকে বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক। এমন চরম একটি সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়া যায়না। কারণ, জন্মগ্রহণকারি শিশুটি তো কোন দোষ করেনি। সিটিজেনশিপ প্রাপ্তির বিদ্যমান অধিকার খর্ব করা হলে শিশুটি কোন দেশের নাগরিক বলে গণ্য হবে? তারা তো রাষ্ট্রহীন শিশু হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং নাগরিক হিসেবে সারাটি জীবন প্রশ্নবোধক চিহ্নে আবর্তিত হতে থাকবে। অভিবাসীদের রক্ত-ঘামে গড়ে উঠা আমেরিকা এতটা নির্দয় হতে পারে না। আশা করছি মাননীয় আদালত তার সুচিন্তিত এবং ন্যায়-নিষ্ঠ রায় দেবেন।

    ইউএস সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশী এটর্নী ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ মঈন চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবিধান পরিপন্থি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচিন নয়। ট্রাম্প তার রিপাবলিকান শাসিত কংগেসের মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নিলে সকলেরই জন্যেই তা শুভ হতো। এটর্নী মঈন বলেন, প্রেসিডেন্ট অবশ্যই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তবে তিনি কিং নন। সংবিধানকে নিজের মত করে ব্যবহারের অধিকার তার নেই।

    ওয়াশিংটনের এটর্নী জেনারেল নিক ব্রাউন বলেছেন, ট্রাম্পের এমন আদেশ কার্যকরী হলে বার্ষিক গড়ে দেড় লাখের অধিক শিশুর সিটিজেনশিপ প্রাপ্তির পথ বন্ধ হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, ওরেগণ, আরিজোনা এবং ইলিনয় স্টেটের সাথে ওয়াশিংটন স্টেটের এই এটর্নী ট্রাম্পের ঐ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেছেন।

    ইয়েল ল’ স্কুলের অধ্যাপক অখিল রীড অমর এ প্রসঙ্গে বলেন, ট্রাম্পের আদেশটি এতটাই প্রতিহিংসা পরায়ন যে, সদ্য বিদায়ী কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারতেন না। কারণ, তিনি যখোন জন্মেছেন তখোন তার মা ছিলেন বিদেশী ছাত্রী। সেদিকে খেয়াল রেখেই কী ট্রাম্পের অনুগতরা এমন একটি খসড়া তৈরী করেছেন?
    এই নির্বাহী আদেশ ২০ তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিন পর কার্যকর হবার কথা। এরইমধ্যে মামলা হওয়ায় আদেশটির কার্যকারিতা এখোন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। শতাধিক বছর আগে অর্থাৎ ১৮৯৮ সালে (অং কিম আর্ক বনাম ইউএস)’র মামলার রায়ে এবং সংবিধানে চতুর্দশতম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারিদের সিটিজেনশিপ প্রদানের বিধি চালু হয়েছে। শুধুমাত্র ক’টনীতিক মর্যাদায় বসবাসকারীর গর্ভে জন্মালে আপনা-আপনি সিটিজেনশিপ না পাবার কথা রয়েছে। এবং দখলদার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কিন ভ’খন্ডে জন্ম নেয়া শিশুরাও আপনা-আপনি সিটিজেনশিপ পায় না।

    Facebook Comments Box
  • স্কুল এবং চার্চেও গ্রেফতার অভিযানের নির্দেশ, সন্ত্রস্ত জনপদের অভিবাসীরা

    স্কুল এবং চার্চেও গ্রেফতার অভিযানের নির্দেশ, সন্ত্রস্ত জনপদের অভিবাসীরা

    অবৈধ অভিবাসীরা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধর-পাকড় বিধি কার্যকরী করার ঘোষণার পরই। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) অথবা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্টকে স্কুল ও চার্চে ঢুকে অবৈধদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বহু বছর ধরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা চার্চে (মসজিদ-মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে) অভিবাসন গ্রেফতারের অভিযান নিষিদ্ধ ছিল।

    মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষিত রীতি অনুযায়ী এখোন এমন স্পর্শকাতর এলাকাতেও গ্রেফতার অভিযান পরিচালনার অনুমতি পেল আইস’র এজেন্টরা। এরফলে লসএঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, ডেট্রয়েট, বস্টনের মত অভিবাসন অধ্যুষিত সিটিসমূহের পাবলিক স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একইভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও নামাজ-পূজা-প্রার্থনায় লোক সমাগম কমবে।

    ট্রাম্পের এমন নির্দেশ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কস্থ ইমিগ্র্যান্ট-স্টুডেন্টদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিয়ে কর্মরত সংগঠক নাভিদ হাসান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, বিষয়টি সত্যিই খুব ভীতির সঞ্চার করেছে। সর্বত্র সন্ত্রস্ত অবস্থা তৈরী হয়েছে। কারণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর ধর্ম-কর্ম করার জায়গাগুলো নিরাপদ ছিল এতদিন। বিশেষ করে অভিবাসনের মর্যাদাহীনরা এসব প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ভাবতেন। এখোন হাসপাতাল-ক্লিনিকে যেতেও ভয় পাবেন অনেকে। নাভিদ হাসান বলেন, প্রায় সকলেই কোন না কোনভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে রয়েছেন। সন্তানেরা তাহলে নিশ্চিত মনে শিক্ষার পরিবেশ থেকে কী বঞ্চিত হবে? অভিবাসনের মযাদাহীনদের সন্তানেরা কী অকালেই ঝরে পড়বে? এই কী স্বপ্নের আমেরিকা?

    নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী ক্ষমতা গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারের ঢালাও অভিযান শুরু করেছেন।

    Facebook Comments Box
  • দক্ষিণের সীমান্তে জরুরি অবস্থা: পলিটিক্যাল এসাইলামে জটিলতা আবেদনের পর থাকতে হবে মেক্সিকোতে

    দক্ষিণের সীমান্তে জরুরি অবস্থা: পলিটিক্যাল এসাইলামে জটিলতা আবেদনের পর থাকতে হবে মেক্সিকোতে

    যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন বর্ডারে (ক্যালিফোর্নিয়া, আরিজোনা, টেক্সাস এবং নিউ মেক্সিকো স্টেট সংলগ্ন মেক্সিকো) ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির পর গোটা আমেরিকায় এক ধরনের অস্থিরতা তৈরী হয়েছে। সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশসমূহ থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষের বেআইনী প্রবেশ-প্রবণতা রোধকল্পে বিশেষ এই ঘোষণা প্রদানের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, আমেরিকার সার্বভৌমত্ব আক্রমণের মুখে। আমাদের দক্ষিণ সীমান্ত সশস্ত্র ছিনতাইকারি, খুনী, অপরাধী চক্র, পরিচিত সন্ত্রাসী, মানব পাচারকারী, চোরাকারবারী, বিদেশী প্রতিপক্ষের অনুগত যুব-সমাজ এবং আমেরিকা সহ আমেরিকানদের ক্ষতি করে এমন অবৈধ মাদকদ্রব্য দ্বারা আচ্ছন্ন। এই আগ্রাসন গত ৪ বছরে আমাদের দেশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। এমন অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নারী ও শিশু সহ অনেক নিরীহ আমেরিকান ভয়ঙ্কর আক্রমণের শিকার এবং ধর্ষিতা হয়েছে। কাউকে কাউকে হত্যা করাও হয়েছে। বিদেশী অপরাধী গ্যাং এবং ঘাতক হিসেবে চিহ্নিতরা বেশ কিছু সিটির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। আমাদের সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের আক্রমণ করছে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে আমেরিকানদের আতঙ্কিত করছে। দুর্বৃত্তরা আমাদের দক্ষিণ সীমান্তের ঠিক দক্ষিণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলগুলি নিয়ন্ত্রণ করে, কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে যে, মেক্সিকো থেকে কে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবে এবং আর কে পারবে না৷ দক্ষিণ সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ মাদকদ্রব্যের কারণে কয়েক হাজার আমেরিকান মাদকের অতিরিক্ত মাত্রায় মর্মান্তিকভাবে মারা গেছে।

    আমেরিকান জনগণের উপর এই আক্রমণ এবং আমেরিকার সার্বভৌম সীমান্তের অখন্ডতা আমাদের জাতির জন্য একটি গুরুতর হুমকিতে পরিণত করেছে। এমন বিপদ এবং আসন্ন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরী অবস্থায় দক্ষিণ সীমান্তের সম্পূর্ণ অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ পেতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে সহায়তা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সমস্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই জরুরী অবস্থা জারির পরই টেক্সাসের ব্রাউনসভিল শহরের গেটওয়ে আন্তর্জাতিক সেতুটি আকস্মিকভাবে বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পোশাক পরিহিত কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) অফিসারদের একটি দলকে সুশৃঙ্খলভাবে মার্চ করতে করতে অস্থায়ীভাবে সেতুটি বন্ধ করতে দেখা যায়। তা দেখে অভিবাসীরা অবাক এবং ক্ষুব্ধ হন। উল্লেখ্য, সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন সম্পর্কিত ব্যাপক নির্বাহী আদেশ জারি করার পর ১৮ জন অফিসার হেলমেট এবং ফেস শিল্ড পরিহিত অবস্থায় ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা উপেক্ষা করে সীমান্তে উপস্থিত হন। তারা আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দক্ষিণে সরিয়ে দেয়ার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেন। ব্রাউনসভিলের ১৯ বছর বয়েসী জাইলি ক্যাড্রিয়েল জানান, তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রীর জন্য গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। সিবিপি অফিসাররা তাকে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। ক্যাড্রিয়েল বলেন, ‘আমি এখানে গাড়ি পার্ক করে আমার স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তারা আমার জানালায় নক করল না বা ভদ্রভাবে কিছু বলল না। তারা শুধু চিৎকার করতে লাগল, ‘এখান থেকে চলে যাও! এখান থেকে চলে যাও! যাও! যাও!’ আমি একজন মার্কিন নাগরিক, কিন্তু এমন ব্যবহার কখনো দেখিনি। এটা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে।’

    ক্যাড্রিয়েল আরও বলেন, প্রত্যেকের সাথেই, মেক্সিকান কাগজপত্র থাকুক বা না থাকুক। তারা আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করে, তা খুবই অশোভন। টেক্সাস একসময় মেক্সিকোর অংশ ছিল তাই অন্তত আমাদের প্রাপ্য সম্মানটা দিন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের অংশ হিসেবে ‘মাইগ্র্যান্ট প্রোটেকশন প্রোটোকলস’ বা ‘রিমেইন ইন মেক্সিকো’ নীতি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের অভিবাসন কার্যক্রম চলাকালীন মেক্সিকোতে থাকতে বাধ্য করা হয়। অনেক অভিবাসী এই সময়কালে সীমান্ত সেতুগুলোর কাছে অস্থায়ী ক্যাম্পে বা বিপজ্জনক মেক্সিকান সীমান্ত শহরগুলোর আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হন। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত শহরের রাস্তা দিয়ে অফিসারদের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পোশাকে মার্চ করাটা এখানে বিরল দৃশ্য এবং ক্যাড্রিয়েলসহ অনেকে আশঙ্কা করছেন যে, এটি সীমান্ত অঞ্চলে একটি ভয়ানক বার্তা প্রেরণ করছে। এই কঠোর পদক্ষেপে অনেক অভিবাসী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের নিরাপত্তা এবং সম্মানের বিষয়ে শঙ্কিত।

    এদিকে, মঙ্গলবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বেনজামিন হাফম্যান ঘোষণা করেন যে, সংস্থাটি মাইগ্র্যান্ট প্রোটেকশন প্রোটোকলস (এমপিপি) পুনরায় চালু করেছে যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। হাফম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে এবং ২০১৯ সালের এমপিপি নীতির পুনরায় প্রয়োগের জন্য মাঠের বাস্তবতা এখন অনুকূল। মঙ্গলবার মেক্সিকোর মাতামোরোস এবং রেইনোসার স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অভিবাসনপ্রার্থীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যারা আগে জানতেন না এখন তারা জানার চেষ্টা করছেন যে সীমান্তে তাদের আর কতদিন থাকতে হবে। ট্রাম্পের নতুন এক আদেশ এই বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। আদেশে সিবিপি ওয়ান অ্যাপ বাতিল করা হয়েছে।

    ২০২৩ সাল থেকে এই অ্যাপটি অভিবাসীদের মার্কিন সীমান্ত পোর্টগুলোতে আশ্রয়ের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করতে সাহায্য করেছিল, যার মধ্যে গেটওয়ে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজও ছিল। সাইডওয়াক স্কুলের কো-ডিরেক্টর ফেলিসিয়া রেঞ্জেল-স্যাম্পোনারো বলেন, ‘মানুষ শুধু হতবাক হয়ে আছে। তারা এই তথ্য বুঝতে এবং গ্রহণ করতে চেষ্টা করছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা কিছু অভিবাসী এখনও ব্রিজে গিয়েছিলেন। আশা করেছিলেন যে তারা ঢুকতে পারবেন। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগই আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরে আসেন।

    ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ও বিশেষ ঘোষণায় অভিবাসী হতে ইচ্ছুকরা যেমন হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, একইভাবে জো বাইডেন আমলে নিয়োজিত সহস্রাধিক ফেডারেল কর্মকর্তাকেও ২০ তারিখ থেকেই বরখাস্ত করা হয়েছে। সে সব শুন্য পদে ট্রাম্প-ভক্তদের নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ প্রথম মেয়াদে আমলারা যেভাবে ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপে বাধ সেধেছিলেন, এবার তেমন পরিস্থিতির আশংকা রাখতে চান না।

     

    Facebook Comments Box
  • বাংলাদেশের সুশাসন, উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে রিজভী

    বাংলাদেশের সুশাসন, উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে রিজভী

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গত ১৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে যে অবদান রেখেছেন তা কখনোই ভুলার নয়। একইধারায় সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশের সুশাসন, উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    মঙ্গলবার ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে, ওয়াশিংটন ডিসিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউজের সামনে আপনাদের কর্মসূচিতে আমরাও উজ্জীবিত হয়েছি এবং স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়েছে।

    প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন (ভিপি) এ সময় রিজভীকে অবহিত করেন যে, তারা জুলাই-আগস্টে লাগাতার কর্মসূচি পালন করেছেন নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে। এসব কর্মসূচিতে অন্য সকল স্টেটের বিএনপি এবং যুবদল-ছাত্রদলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরাও সরব ছিলেন।

    এ সাক্ষাতের সময় আরো ছিলেন স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদ এবং সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ূন কবীর। চরম দু:সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন পরিচালনা করার জন্যে রুহুল কবির রিজভীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নেতৃবৃন্দ। ঢাকা থেকে টেলিফোনে এ সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান।

    Facebook Comments Box
  • ভাঙ্গনের ছোবল থেকে রক্ষা পেল নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

    ভাঙ্গনের ছোবল থেকে রক্ষা পেল নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

    বিভক্তির কবল থেকে রক্ষা পেল নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। বাংলাদেশের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মেলা কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষুদ্রতম একটি অংশ বিরোধ তৈরীর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা বিগত বছরসমূহের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীগণের চেষ্টায় নস্যাৎ হয়েছে এবং ৩৩ বছরের পুরনো এই মেলার আয়োজক সংস্থা ‘মুক্তধারা ফাউন্ডেশন’র বর্তমান কমিটির তত্বাবধানেই এ বছরের ৩৪তম বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    ২০ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় মেলা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুননবীর সার্বিক তত্বাবধানে এবং আহবায়ক রোকেয়া হায়দারের নেতৃত্বে আসছে মে মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত চারদিনের এই মেলা যথারীতি জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নিউইয়র্কস্থ মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সিইও বিশ্বজিত সাহা মঙ্গলবার রাতে এ সংবাদদাতাকে আরো জানান. মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের (২০২৫-২০২৬) কার্যকরী পরিষদের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন ডা: জিয়াউদ্দিন আহমেদ। আসন্ন মেলার পর তিনি তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিশ্বজিৎ সাহা আরো জানান, ২০ জানুয়ারির ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন বর্তমান চেয়ারপার্সন ড. নুরুননবী। এ সভায় আরো সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে, হোস্ট কমিটিতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত চেয়ারপারসন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বইমেলার আহ্বায়ক রোকেয়া হায়দার ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. আবদুন নূর ও গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারপারসন নিনি ওয়াহেদ ও সউদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিইও বিশ্বজিত সাহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাহিম রেজা নূর, কোষাধ্যক্ষ সাবিনা হাই উর্বি, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ আকাশ, প্রচার সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন, কার্যকরী সদস্য ডা: ফাতেমা আহমেদ, ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন, নসরত শাহ আজাদ ও তানভীর রাব্বানী।

    উল্লেখ্য, গত ৩৩ বছর ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সর্ববৃহৎ বাংলা বইমেলার আয়োজন করে আসছে নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশন। অন্যান্য বারের মতো এ বইমেলাও সকল অভিবাসী বাঙালির অংশগ্রহণে সার্থক হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আয়োজক কমিটি।

    ++++++++++==

    Facebook Comments Box
  • সুইজারল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    সুইজারল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) চার দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে তিনি জুরিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারিক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।

    প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার প্রধান উপদেষ্টার সুইজারল্যান্ড পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেন।

    এর আগে সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১টায় ডব্লিউইএফের সম্মেলনে যোগ দিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সযোগে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টার সফরের আগে প্রেস উইং আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, চারদিনের সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা চারটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা অংশগ্রহণ করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টাব, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা।

    এছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিষয়ে পৃথক ডায়লগের আয়োজন থাকবে। এ ডায়লগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী নেতাদের কনফিডেন্স বাড়াতে এ সফর সহায়ক হবে মনে করছে সরকার।

    Facebook Comments Box
  • বীরদর্পে ফেরা ট্রাম্পের জমানায় যুক্তরাষ্ট্র, কী ঘটতে যাচ্ছে গোটাবিশ্বে?

    বীরদর্পে ফেরা ট্রাম্পের জমানায় যুক্তরাষ্ট্র, কী ঘটতে যাচ্ছে গোটাবিশ্বে?

    কথায় কথায় অনিশ্চয়তা তৈরি করা তার অনেক দিনের অভ্যাস; তবে সবাই যা ভাবতে পারেননি সেই অনিশ্চয়তা জয় করেই ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাস গড়েছেন। হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে বললেন, যুক্তরাষ্ট্রকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরিয়ে নিতেই সৃষ্টিকর্তা তাকে বাঁচিয়েছেন।

    হার মানা যেন তার স্বভাবে নেই, যে কারণে ২০২০ সালের ভোটে হেরেও পরাজয় মানতে অস্বীকার করেছিলেন। তবে সেখান থেকে বীরের বেশে ফিরে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার নিলেন তিনি; দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা হলেন।

    সোমবার বেলা ১২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প। বিশ্বের সবার নজর তখন ওয়াশিংটনে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে। পাদপ্রদীপের আলোর পুরোটা জুড়েই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ হতে যাওয়া ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে নামা ডনাল্ড ট্রাম্প।তার এই যাত্রার মধ্য দিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই নয়, আরেক ‘ট্রাম্প যুগে’ প্রবেশ করল গোটা বিশ্বও। অথচ গল্পটা ভিন্নও হতে পারত। কেননা বছরের পর বছর নানা বিতর্ক জন্ম দিয়ে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। অভিশংসিত হয়েছেন, একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন, দোষীও সাব্যস্ত হয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আততায়ীর বুলেট এড়িয়ে, আমেরিকার ইতিহাসে সবাইকে তাক লাগিয়ে বীরদর্পেই হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন হয়েছে ট্রাম্পের।

    ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেস ভবনে ‘ক্যাপিটল রোটুন্ডায়’ ‘প্রত্যাবর্তনের’ নজরকাড়া অভিষেকে ট্রাম্প বক্তব্য শুরু করেন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসসহ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে। এর আগে দুটো বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন ট্রাম্প। এর একটি তার মায়ের দেওয়া। অন্যটি আব্রাহাম লিংকনের, যেটিতে শপথ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আগের কয়েকজন প্রেসিডেন্টও। ১৮৬১ সালে আব্রাহামও এ বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নিয়েছিলেন। দেড়শ বছরের সেই পুরোনো বাইবেল ছুঁয়ে ট্রাম্প দৃঢ়কণ্ঠে শপথ বাক্য উচ্চারণ করেন। এরপর আরও জোরালো কণ্ঠে বললেন, “ঠিক এ মুহূর্ত থেকে শুরু হল যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ। আজ থেকে আমাদের দেশ সমৃদ্ধ এবং সম্মানিত হবে। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বাগ্রে রাখব।”

    যুক্তরাষ্ট্র যেন শ্রেষ্ঠত্বের আসন ফিরে পায়, সে জন্যই সৃষ্টিকর্তা তাকে আততায়ীর হাতে থেকে বাঁচিয়েছিলেন মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিনিদের ব্যবহার করে অন্য দেশ সমৃদ্ধ হবে, সেটা আর ঘটতে দেবো না।

    স্বভাবসুলভভাবেই, আমরিকার পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদেরকে হুমকি দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট।

    নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র আবার নিজেদেরকে বর্ধনশীল একটি জাতি হিসেবেই গণ্য করবে এমন আশা জাগিয়ে ট্রাম্প ‘আমেরিকার সম্পদ এবং ভূখন্ড বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছেন ভাষণে।

    অভিষেকের ভাষণে তিনি বিশ্বের জন্যও দিয়েছেন কড়া বার্তা। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ঐক্য বজায় রাখায় ভূমিকা নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের কথাও তিনি সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। তার ভাষণটি ছিল বিশ্বকে দেওয়া আরেক কঠোর এবং চ্যালেঞ্জিং বক্তব্য। আর তাতে ছিল আমেরিকার শক্তি ও সম্ভাবনার ফুলঝুরি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘নতুন যুগে’ বিশ্ব কেবল তার প্রথম মেয়াদের (২০১৭-২০২১) পুনরাবৃত্তিই দেখবে না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি নিপীড়নমূলক, বর্ণবাদী ও আত্মগরিমাপূর্ণ চরিত্র সামনে আসারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    কেমন হতে পারেন এবারের ট্রাম্প?
    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এখনই অনেকটা তার প্রথম মেয়াদের মতই অনিশ্চয়তায় ভরা ও টালমাটাল মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার সঙ্গে আছে রিপাবলিকানদের মধ্যকার নানা কোন্দালও। নির্বাচনে জয়ের পর থেকে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রাম্প আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের কর্তৃত্ব ফলিয়ে এসেছেন।

    তার শপথ গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে এসেছে ততই আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের ওলট-পালট ঘটারই আলামত মিলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প তার নতুন প্রশাসনে যেসব ব্যক্তিদের নিয়োগ করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞতা যাচাই না করেই ট্রাম্প কেবল তার অনুগতদের নিয়োগ দিয়েছেন, যা নিয়ে হতবাক হয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্পের বেশ কিছু মিত্রও।

    ট্রাম্পের কম যোগ্যতাসম্পন্ন এই অনুগতদের নতুন প্রশাসন সবলভাবে কতদূর যেতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তার ওপর নতুন এই প্রশাসনে আছেন ইলন মাস্কের মত শীর্ষ ধনী। রাজনীতিতে ট্রাম্পকে ছাপিয়ে ইতোমধ্যেই যার প্রভাব অনেকটাই প্রকাশ্যে এসেছে।

    ট্রাম্প শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক অর্থে, পবিত্র বাইবেলে হাত রাখা হয়ে গেছে ধনকুবের ইলন মাস্কেরও। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ সম্পর্ক নজিরবিহীন। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কট্টর ডানপন্থি রাজনীতি এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রভাব রাখাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সঙ্গে মিল আছে মাস্কের। তবে যথেষ্ট মিল থাকলেও বিরাট প্রভাবশালী এ দুই মানুষের ভার হোয়াইট হাউজ বইতে পারবে কি না সেটি প্রশ্ন। মাস্ককে নিয়ে ট্রাম্প বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাতে জড়াতে পারেন তেমন আশঙ্কা আছে। ট্রাম্প একজন কট্টর পুঁজিবাদী ব্যবসায়ী; রাজনীতি কিংবা কূটনীতির চেয়েও তার ব্যাবসায়িক স্বার্থকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

    ফলে ট্রাম্প দেশের স্বার্থকে নিজ স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দিতে অপারগ হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া ট্রাম্প শপথ গ্রহণের পরই ‘ডিপ স্টেট’ ভেঙে দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আগেই পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন।

    ট্রাম্পের এবারের শাসনামলে কী কী ঘটতে পারে?
    দেশটির ফেডারেল সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে তিনি প্রস্তুত। প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে ফেডারেল সরকারের প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী কর্মীর চাকরির সুরক্ষা বাতিল করেছেন তিনি। এতে এসব পদে স্থায়ী কর্মীর পরিবর্তনে ট্রাম্পের নিজের পছন্দের ও অনুগত লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কয়েক হাজার রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও করেছে। এর উদ্দেশ্য হল, সরকারের বিভিন্ন স্তরে অত্যন্ত অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত করা, যা সাম্প্রতিক যে কোনও প্রেসিডেন্টের তুলনায় অনেক বেশি। ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ তিন কূটনীতিকের পদত্যাগ চেয়ে ভবিষ্যতে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    কারণ ট্রাম্পের মিত্ররা মনে করেন, প্রথম মেয়াদে বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসহযোগী আমলাদের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন প্রায় এক ডজন শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগপ্রাপ্তদের।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরুর ঘোষণা দেন নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প তৈরি করা এই রাজনীতিক। ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর নীলনকশা ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ বা ‘প্রজেক্ট টু থাউজ্যান্ড টোয়েন্টিফাইভ’ এর আওতায় ফেডারেল সিভিল সার্ভিসের গোটা কাঠামোই এবার হুমকিতে থাকবে। এই নীলনকশা ধরে ট্রাম্প এবং কংগ্রেস ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (ডিওই) এবং ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনস্ট্রেশনকে (এনওএএ) বাদ দিয়ে দেবেন।

    পাশাপাশি বেসরকারিকরণ করবেন ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অ্যাডমিনসট্রেশন (টিএসএ), দ্য ন্যাশনাল ফ্লাড ইনস্যুরেন্স প্রোগ্রাম। ট্রাম্প-বিরোধীদের কথায়, এ প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ভয়ঙ্কর বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে বিপুলসংখ্যক উদারপন্থি কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করে ডানপন্থিদের জায়গা করে দেওয়া হতে পারে।

    এ প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রে পূর্বসূরি জো বাইডেনের গৃহীত নীতিও ভেঙে দেবেন। বাইডেনের আমলে রাষ্ট্রের অধঃপতন এবং মারাত্মক বিপর্যয় হয়েছে বলে প্রজেক্ট ২০২৫ এর ‘ম্যান্ডেট ফর লিডারশিপ’ অংশে তুলে ধরেছেন ট্রাম্পের আগের আমলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব পালন করা ক্রিস্টোফার মিলার।

    আর ট্রাম্প এবার যে কেবল হোয়াইট হাউজে ফিরছেন তাই নয়, তার দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে হারানো আধিপত্য ফিরে পেয়েছে। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও তাদেরই জয়জয়কার হয়েছে।

    সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার মানে, যেকোনও নীতি বাস্তবায়ন, আইন পাস ও বিচারপতি নিয়োগের কাজ সহজ হবে ট্রাম্পের জন্য। ফলে ট্রাম্প যেকোনও কাজ করতে খুব কমই বাধা পাবেন। সেকারণে নিজের সিদ্ধান্তগুলো সহজেই বাস্তবায়ন করে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট হয়ে উঠতে পারেন তিনি।

    সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন সৃষ্টিকারী বিষয় হয়ে উঠতে পারে ট্রাম্পের সাংবিধানিক ধারা ঢেলে সাজানোর পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে কেন্দ্রীভূত করাসহ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোকে অনেকাংশে ক্ষুন্ন করতে পারেন। বড় বড় টেক কোম্পানিগুলোকে দিতে পারেন সহ-শাসনের ক্ষমতা (কো-গভার্নিং পাওয়ার)।

    বিচারবিভাগ, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমগুলোর স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারেন এবং তাদেরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই গোপন এক কূটনৈতিক নথি থেকে এমন আভাস পাওয়া গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান রাষ্ট্রদূত এ নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারণায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করার বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। শপথ গ্রহণের পরই সে নির্দেশ জারি করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, ‘কেউ মার্কিন ভূমিতে জন্ম নেয়, তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখেন।’ ট্রাম্প এ আইন পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, প্রথম দিনই তিনি এ অধিকার বাতিল করবেন। এবং তা পূরণও করলেন।

    ট্রাম্পের আরও একটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি ছিল, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় অভিযুক্তদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা। এটিও তিনি তার প্রথম দিনেই করলেন। যারা দন্ডিত হয়নি, তারাও খালাস পাবেন এই নির্বাহী আদেশের জোরে।

    ট্রাম্প ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অধিকারও সীমিত করতে চান। ট্রান্সজেন্ডারদের নারীদের খেলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করাসহ তাদের ওপর বাইডেনের আরোপিত সব নীতি বাতিল করার কথা তিনি বলে এসেছেন। লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ট্রান্সজেন্ডারদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে বাইডেন সরকারের উদ্যোগ ‘জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার’ বন্ধ করার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। তার এ ঘোষণা এরই মধ্যে এলজিবিটিকিউ প্লাস সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চার করেছে।

    ট্রাম্প কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে এবং বিচার বিভাগে পছন্দের বিচারপতি নিয়োগের মধ্য দিয়ে গর্ভপাতের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারেন। এই সবকিছুর প্রেক্ষাপটে বলা যায়, ট্রাম্পের ফিরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিশাল এক পরিবর্তনের সূচনা, যা কেবল দেশে নয় বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় কেবল তার নিজের রাজনৈতিক দক্ষতাই নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে গভীর বিভক্তির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’ নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ফিরে আসা এবং দেশি বিষয়গুলো সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।

    ট্রাম্পের আগেরবারের শাসনামলে যে বিভেদ ও উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল, এবার তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা আছে, যার প্রভাব পড়তে পারে ঘরে-বাইরে সবখানে।

    বিশ্বচালকের আসনে কেমন হতে পারেন ট্রাম্প? ২০২৪ সালে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পরই বিশ্বে অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
    অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন থেকে শুরু করে সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ, প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকোসহ চীনের পণ্য রপ্তানিতে নতুন করে উচ্চ হারে শুল্কারোপের হুমকি, জলবায়ু নীতি বাতিলের পরিকল্পনা এবং কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল জোর করে নিতে চাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের মন্তব্যই এ উদ্বেগ বা চিন্তার কারণ হয়েছে। এবং শপথ গ্রহণের পর প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি সেই অঙ্গিার শতভাগ পূরণের কথা বলেছেন।

    ফলে তার দ্বিতীয় মেয়াদ বিশ্বের জন্য কেমন হতে চলেছে তা এরই মধ্যে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বৈদেশিক নীতির দিক থেকে ট্রাম্প এবার বিদ্যমান নানা নীতি, যেগুলো এরই মধ্যে ধ্বংসাত্মক এবং ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোরই আরও বিস্তার ঘটাতে পারেন। এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ প্রথমবারের চেয়ে যে কেবল জটিল হবে তাই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, তাও তিনি ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

    তার ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’ নীতির পুনরুত্থান বিশ্বব্যাপী একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তার এই নীতিতে বৈশ্বিক জোট এবং সহযোগিতার গন্ডি সীমিত হয়ে পড়তে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও তা প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির যেকোনও পরিবর্তন বিশ্ববাজারে বিশাল প্রভাব ফেলে।

    ভোটপ্রচারে ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতিতে জোর দিয়ে ট্রাম্প আগামী দিনে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবতীয় পণ্য নিজের দেশে তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। শুনতে লাভজনক বলে মনে হলেও এতে দু’টি সমস্যা আছে- এক: আমদানি করা যাবতীয় পণ্য তৈরির পরিকাঠামো নির্মাণ এবং দুই: শ্রম আইনের কড়াকড়ি।

    উদাহরণ হিসেবে মাস্কের ব্যাটারিচালিত গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা টেসলার কথা বলা যায়। এর মূল কারখানা চীন থেকে রাতারাতি যুক্তরাষ্ট্রে সরানো সম্ভব নয়। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইন অনুযায়ী গাড়ি নির্মাণকারী শ্রমিকদের অনেক বেশি মজুরি দিতে হবে টেসলাকে। ফলে এতদিন কম দামে যে গাড়ি মাস্কের সংস্থা তৈরি করতে পারছিল, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি মানতে গিয়ে প্রথমেই তা ধাক্কা খাবে।

    ট্রাম্প প্রথাগত সব কিছুকে অগ্রাহ্য করতে সিদ্ধহস্ত। যে কোনওভাবে অর্থবিত্ত কিংবা অর্থনৈতিকভাবে শক্তি-সামর্থ্য অর্জনই তার কাছে সবচেয়ে বড় রাজনীতি বা কূটনীতি। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি কিংবা সামরিক ও বেসামরিক সব ক্ষেত্রেই ট্রাম্প অগ্রাধিকার দেন অর্থনীতিকে। সেক্ষেত্রেও বিশ্বব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করে তিনি নির্দ্বিধায় অপকৌশলের আশ্রয় নেন।

    তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিতভাবে করারোপ কিংবা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ দিয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করতে এবারও ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এরই মধ্যে চীনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ, এমনকি ভারত ও অন্যদের ওপর উচ্চহারে করারোপ কিংবা বিধি-নিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে ক্রমেই এখন অস্থির হয়ে উঠতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারব্যবস্থা।

    ট্রাম্পের এবারের শাসনকালে বিশ্ববাণিজ্যের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নবগঠিত ব্রিকস জোটের সদস্যরা এরই মধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। ডলারের দাপট রুখতে নতুন মুদ্রা আনার পরিকল্পনা করেছে ব্রিকসভুক্ত ভারত, রাশিয়া, চীন ও ব্রাজিলের মত দেশগুলো। এই চেষ্টা প্রতিহত করতে দেশগুলোর পণ্যে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানোর হুমকিও ট্রাম্প দিয়ে রেখেছেন।

    পরাশক্তিগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে বাধ্য। কারণ চীনের অপ্রতিরোধ্য উত্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মাথা তুলে দাঁড়ানোকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদরা অশনিসংকেত বলেই মনে করেন। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য রিপাবলিকানদের তুলনায় ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

    রিপাবলিকান দলীয় হলেও ট্রাম্প মূলত যুদ্ধবাজ নন। তিনি শক্তিশালী অর্থনীতিকেই যুক্তরাষ্ট্রের চালিকাশক্তি বলে মনে করেন, যুদ্ধ কিংবা সংঘাতকে নয়। ট্রাম্প দেশের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে অন্যদের দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিতেই বেশি আগ্রহী।

    তিনি তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এবার কানাডা, মেক্সিকোর পণ্যে শুল্কারোপ এমনকি ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য করতে ড্যানিশ পণ্যের ওপরও অত্যন্ত চড়া শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছেন। যদিও প্রয়োজনে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

    আর চীনের সঙ্গে প্রথম মেয়াদেই শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। এবার তিনি চীনের বিরুদ্ধে আরও কড়া নীতি নেওয়ার কথাই বলেছেন। তাছাড়া ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, চীনকে রুখে দেওয়ারও পরিকল্পনা এবার আছে ট্রাম্পের। তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপিন্স ও জাপানের মত মিত্রদের ওপর চীনের খবরদারি ঠোকানোর মধ্য দিয়ে সে চেষ্টা চলতে পারে।

    অপরদিকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল। সে ব্যবধান অতি দ্রুত ঘুচাতে তৎপর ট্রাম্প। এর পাশাপাশি ‘এইচওয়ানবি’ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতের লাখ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

    কারণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রাম্প ভিসার সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিতে পারেন। তাছাড়া রাশিয়াসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ থেকে সামরিক যুদ্ধ সরঞ্জাম কিংবা ভারি অস্ত্রশস্ত্র কেনার কারণে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারেন।

    ট্রাম্প গতবছর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে দিন দিন উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ ট্রাম্প এবার ক্ষমতায় বসেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে বের করে দেওয়ার অভিযান শুরু করবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন। এই অভিযানে যারা বেকায়দায় পড়তে পারেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।

    ট্রাম্পের এবারের আমলে অপরাধে জড়িত অভিবাসী থেকে শুরু করে সেইসব অবৈধ অভিবাসী- যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং কাজ করে আসছেন; এমনকি কোনও অপরাধের ইতিহাস নেই, তাদেরও গ্রেপ্তার এবং বিতাড়িত হওয়ার আশংকা বেশি। অভিবাসনের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকঘণ্টা আগের ভাষণেই বলেছেন। সুতরাং গোটা বিশ্বজুড়েই এবার ট্রাম্পের এই অভিবাসন এবং ভিসা নীতির ভুক্তভোগী হবে বহু মানুষ।

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালাও এবার বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ২০২৪ সালে ট্রাম্প জীবাশ্ম জ্বালানিতে দ্রুত ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের যে কথা বলা হচ্ছে তা অতিরঞ্জিত, এটি ‘আমাদের সমস্যা নয়’। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ুু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এবার আবারও তা করার নির্দেশ জারি করেছেন শপথ গ্রহণের পরই। শুধু তাই নয়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ জারি করেছেন।

    অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পের ফের আগমন নতুন মেরুকরণের সূচনা করতে পারে। তিনি পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। বিশেষত ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে, যা ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিরক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। অপরদিকে ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়ে ইউরোপের দেশগুলো বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ ট্রাম্প এই যুদ্ধ থামানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ আছে। কারণ ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ‘ঘনিষ্ঠ’। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান নেটোর ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে। আর যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্প যদি চান ইউক্রেইন আত্মসমর্পণ করুক, তাহলে গোটা ইউরোপ বিপদে পড়বে।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কমাতে চান ট্রাম্প। ইরান, সৌদি আরব এবং অন্যান্য আরব দেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কমলে সেখানে স্থানীয় শক্তিগুলো প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হবে। তবে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অভিযান ও আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় পাকাপোক্ত হওয়ার আগেই ইসরায়েল ও গাজার যুদ্ধবিরতি হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঘোষণা এসেছে। এ সাফল্যের পেছনে ট্রাম্প টীমের হস্তক্ষেপও ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের রয়েছে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। তিনি ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থনও দেন, যা তার আগের প্রশাসনেই দেখা গেছে। সেদিক থেকে এবারও উদ্বেগ আছে। ট্রাম্প ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখতে পারেন। তার এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে জটিল করতে পারে এবং এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নস্যাৎ হতে পারে বলে আশঙ্কা আছে।

    সর্বোপরি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফেরা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কসহ দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্প কিভাবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করেন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কেমন নীতি নেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

    Facebook Comments Box
  • ট্রাম্পের দীর্ঘায়ু কামনায় টাইমস স্কোয়ারে প্রবাসীদের আনন্দ-সমাবেশ

    ট্রাম্পের দীর্ঘায়ু কামনায় টাইমস স্কোয়ারে প্রবাসীদের আনন্দ-সমাবেশ

    ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি সোমবার শপথ গ্রহণের পর প্রদত্ত বক্তব্যে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ফিরিয়ে নিতেই সৃষ্টিকর্তা তাঁকে বাঁচিয়েছেন। সেই বক্তব্যের অনুরনন হিসেবে একইদিন অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ারে ‘অবতার ট্রাম্প’ ব্যানার হাতে আনন্দ-সমাবেশ করেন প্রবাসী বাঙালিরা। কণকণে শীত সত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীর এ সমাবেশ ভিনদেশী পথচারিদের কৌতুহলী দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়। ট্রাম্পের সমর্থক প্রবাসীদের এ সমাবেশ-র‌্যালি থেকে মূলত: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। ট্রাম্পের বিশাল একটি প্রতিকৃতিতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে র‌্যালির আভিজাত্যকে আরো বিকশিত করা হয়েছিল। আয়োজকদের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার নির্মল পাল এ সময় বলেন, আমেরিকাকে দৃর্বৃত্তদের কবল থেকে রক্ষাকল্পে ট্রাম্পের জন্ম হয়েছে। সে কারণেই ট্রাম্প আবারো প্রেসিডেন্ট হলেন। আমরা তাকে মানবতার ত্রাণকর্তা বিবেচনা করি বলেই আজকের এই কর্মসূচিতে ‘অবতার ট্রাম্প’ ব্যানার ব্যবহার করছি এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি ট্রাম্প যেমন দীর্ঘজীবী হউন।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে নিউইয়র্কে টাইমস স্কোয়ারে প্রবাসীদের আনন্দ-সমাবেশ। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট আশরাফুল হাসান বুলবুলের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, কম্যুনিটি লিডার শরাফ সরকার, টুটুল চৌধুরী, দিনেশ মজুমদার, ফুয়াদ আহমেদ, ভজন সরকার, উত্তম সাহা, ইসমাইল খান আনসারী, আল আমিন বাবু প্রমুখ। বক্তারা গত চার বছরে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে দু:স্বপ্ন হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিশ্ব শান্তি বিনষ্টের জন্যে বাইডেনকে দায়ী বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের দুর্বল নেতৃত্ব আমেরিকার সমস্যা আর সংকটকে তীব্র করেছে বলে মন্তব্য করেন কোন কোন বক্তা।

    শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প আবারো অধিষ্ঠিত হওয়ায় আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বর্ণযুগ’ শুরু হলো বলে আমরাও মনে করছি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে দর্শক-গ্যালারিতে অন্যান্যের মাঝে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন (সর্ববামে)। ছবি-এনওয়াইভয়েস২৪।

    ঢোলের তালে ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগানও উঠেছিল কিছুক্ষণ। কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে পবিত্র কোরআন, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক থেকে পাঠের পর ডনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির (দক্ষিন) উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত

    নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির (দক্ষিন) উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত

    নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ)র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এর ৮৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জ‍্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জ‍্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারের খতীব মাওলানা মোহাম্মদ সাদিক। এ সময় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন নাসিরের প্রয়াত বাবা হাজী নুরল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনাও করা হয়।

    দোয়া মাহফিল এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি (দক্ষিন)’র সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন মৃধা, নিউইয়র্ক মহানগর (উত্তর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার জাহিদ, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রইচ উদ্দিন, নিউইয়র্ক মহানগর (দক্ষিণ)’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এমলাক হোসেন ফয়সাল, রুহুল আমিন নাসির, খলকুর রহমান, জিয়াউল হক মিশন, নাসির উদ্দিন, শাহাদাৎ হোসেন রাজু, মোঃ রিপন মিয়া, কামাল উদ্দিন দিপু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সাইদুর খান ডিউক, সেচ্ছাসেবক দলের সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, মহানগর দক্ষিণের নেতা গোলাম এন হায়দার মুকুট, আজিজুল বারী তিতাস, কামাল হোসেন হাওলাদার, শরীফ চোধুরী পাপ্পু, ফারদিন রনি, মোঃ আব্বাস উদ্দিন, মোঃ মহসিন, জামাল হোসেন চৌধুরী এবং বিলুপ্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোষাধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন ভূইয়া।

    এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন রুবেল গাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রাকিব হোসেন, সেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহাম্মদ রাসেদ, মোঃ তফাজ্জল হোসেন, বিএনপি নেতা মজিবর রহমান স্বপন, মোঃ আক্তার হোসেন, মোঃ মনিরুজ্জামান, রবিন্স চোধুরী, মিজানুর রহমান, রমিজ উদ্দিন, মোঃ মান্নু প্রমুখ।

    Facebook Comments Box
  • ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অভিষেক ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান সম্পন্ন

    ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অভিষেক ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান সম্পন্ন

    ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটির অভিষেক এবং যুক্তরাজ্যের গুণী, মেধাবী তরুণ সাংবাদিকদের সৃজনশীল কাজের সম্মাননাস্বরুপ ‘ইউকেবিআরইউ অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের একটি হলে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সুধীজনদের উপস্থিতিতে এই সরব অনুষ্ঠানে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির বিদায়ী সেক্রেটারী, ডিবিসি নিউজের লন্ডন প্রতিনিধি জুবায়ের আহমদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট, সত্যবাণীর রিপোর্টার, ইউকে বাংলা গার্ডিয়ান ম্যাগাজিনের স্পেশাল এসাইনমেন্ট এডিটর আনসার আহমদ উল্লাহর শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যদিয়ে ২০২৫ সালের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে অভিষিক্ত করেন তিনি।

    পরে নতুন কমিটির সভাপতি জগন্নাথপুর টাইমস ডটকো ডট ইউকের সম্পাদক অধ্যাপক সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী ইকরা টিভির উপস্থাপক মিজানুর রহমান মীরুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য গুণী, মেধাবী, ৫জন সাংবাদিকের মাঝে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিন যাবত সাংবাদিকতার মাধ্যমে অনন্য অবদান রাখার জন্য প্রিন্ট মিডিয়ায় জনমতের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এটিএন বাংলা ইউকের সিনিয়র প্রযোজক ও উপস্থাপক উর্মি মাযহার, মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় আইটিভি নিউজের বুলেটিন রিপোর্টার মাহাথির পাশাকে ইউকেবিআরইউ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। যুক্তরাজ্যে ইউটিউব অনলাইন চ্যানেলে অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য ইউকেবিআরইউ বেস্ট ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন রানার টিভির আ স ম মাছুম। ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের মধ্য থেকে সারাবছর সেরা অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য ইউকেবিআরইউ ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার অব দ্য ইয়ার- ২০২৪’ পেলেন ইউকে বাংলা গার্ডিয়ান ম্যাগাজিনের নির্বাহী সম্পাদক মির্জা আবুল কাসেম। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের জীবনকর্ম পাঠ করেন ফয়েজুর রহমান ফয়েজ, ড. আজিজুল আম্বিয়া, এ রহমান অলি, সাহেদা রহমান ও মুহাম্মদ সুয়েজ।

    অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে ক্রেস্ট তুলে দেন লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিলের চেয়ার রহিমা রহমান, লন্ডনের বার্কিং এ্যান্ড ডেগেনহাম কাউন্সিলের মেয়র মঈন কাদরী। লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ফর কালচার এ্যান্ড রিক্রিয়েশন কাউন্সিলর কামরুল হোসেইন ও কাউন্সিলর অজান্তা দেব রায়।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, দেওয়ান গৌউছ সুলতান, নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, সৈয়দ আনাস পাশা, মাসুক ইবনে আনিস, কামাল মেহেদী, সাঈম চৌধুরী, সালেহ আহমদ, আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, রেজাউল করিম মৃধা, আলাউর রহমান খান শাহিন ও আমিনা আলী।

    কবিতা আবৃত্তি করেন মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, এডভোকেট বেলাল আহমদ বকুল, ইমদাদুন খান ও ফাহমিদা খাতুন।

    সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট গীতিকার জাহাঙ্গীর রানা, তাহির আলী, এ রহমান অলি, এডভোকেট বেলাল আহমদ বকুল, শেখ মোফাজ্জল হোসেন ও মুন্না মিয়া। শুরুতে সমবেত কণ্ঠ জাতীঁয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

    Facebook Comments Box
  • নির্মূল কমিটির সমাবেশে শাহরিয়ার কবীর, সামছুদ্দীন মানিক ও শমী কায়সারের মুক্তি দাবি

    নির্মূল কমিটির সমাবেশে শাহরিয়ার কবীর, সামছুদ্দীন মানিক ও শমী কায়সারের মুক্তি দাবি

    লন্ডনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে ১৯ জানুয়ারী সংগঠনের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সভায় বক্তারা বলেন, যে যুদ্ধ আজ থেকে ৩৩ বছর আগে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে, সেটি আমরা সম্পূর্ণ করতে পারি নাই। সেই যুদ্ধটা আজ ব্যাপকভাবে আবার ফিরে এসেছে, শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়, এবার পুরো মুক্তিযুদ্ধই আক্রান্ত হয়েছে। যে কোন দেশেই নানা ভাবে সরকারের পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য, স্বাধীনতার স্মারক কখনো আক্রান্ত হয়না।

    বক্তারা উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির উন্মুক্ত আস্ফালন শুরু হয়েছে দেশজুড়ে । দেশ , সংবিধান, জাতির পিতা থেকে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা সবাই আজ আক্রান্ত। নতুন স্বাধীনতার নামে আজ স্বাধীনতার অস্থিত্বই বিপন্ন। তাই দলমত নির্বিশেষে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে, ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।

    সভায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবীরের নামে মিথ্যা হত্যা মামলার নিন্দা জানানো হয়। শাহরিয়ার কবীরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষ থেকে জাতিকে বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করেন বক্তারা। অনতিবিলম্বে শাহরিয়ার কবীর, সাবেক বিচারপতি সামছুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও শহীদ সন্তান শমী কায়সারের মুক্তির দাবী জানান সকলে।

    যুক্তরাজ্য কমিটির সভাপতি সৈয়দ এনাম ইসলামের সভপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রাজ এর পরিচালনায় এ সভায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান , কেন্দ্রীয় কমিটর সহকারী সম্পাদক তাপস কান্তি বল, আনসার আহমেদ উল্লাহ, যুক্তরাজ্য কমিটির সহ সভাপতি নিলুফা হাসান, যুক্তরাজ্য নির্মুল কমিটির প্রতিষ্ঠিতা সদস্য স্বাধীন খসরু , নাজনীন সুলতানা শিখা, ড. রায়হান রশীদ, সত্যব্রত দাশ স্বপন, সাংবাদিক আনাস পাশা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উর্মী মাজহার, ড: শাহনেওয়াজ, যুক্তরাজ্য কমিটির সহ সভাপতি জামাল আহমেদ খান, সাংবাদিক আ স ম মাসুম, জাসদ নেতা মুজিবুল হক মনি, ড. আনিসুর রহমান আনিস, নজরুল ইসলাম অকিব, যুক্তরাজ্য কমিটির সহ সভাপতি নাজমা হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলাল, সাংবাদিক ঈশা খান রাসেদ , নাগিফ সালভাহ , জেসমিন চৌধুরী প্রমুখ।

    Facebook Comments Box
  • নিউইয়র্কে কুমিল্লাবাসীর ভালবাসায় সিক্ত ডা. শেখ ফরহাদ

    নিউইয়র্কে কুমিল্লাবাসীর ভালবাসায় সিক্ত ডা. শেখ ফরহাদ

    কুমিল্লার কৃতি সন্তান ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদকে নিউইয়র্কস্থ কুমিল্লাবাসী সম্বর্ধনা দিলেন। ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এলাকার বরেণ্য ব্যক্তিকে সম্বর্ধনা প্রদানের এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি।

    কম্যুনিটি লিডার মামুন হোসেন বিপ্লব ও ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কম্যুনিটি লিডার আনোয়ারুল ইসলাম, সালাউদ্দিন সরকার ,রুহুল কুদ্দুস খোকন, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর মনির হোসেন খান, আল আমিন সুমন, মোঃ অরুন, কামরুল ইসলাম, দেওয়ান আব্দুস্‌ সাত্তার, মোঃ ফয়সাল।
    অভ্যর্থনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জামিল হোসেন খান, সেলিম আহমদ, জুনায়েদ মিয়াজী, রাজন হাসান, জাকির হোসেন, হাবিব উল্লাহ, বিল্লাল হাজারী, সাইদুল ইসলাম রিংকু, ইঞ্জিনিয়ার মেহেদি হাসান, আমির হোসেন , মামুন হোসেন প্রমুখ।

    Facebook Comments Box
  • প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তুলবেন ট্রাম্প

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তুলবেন ট্রাম্প

    ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন সোমবার (২০ জানুয়ারি)। এর ঠিক আগ মুহূর্তে ‘ঐতিহাসিক গতিতে ও শক্তি’ নিয়ে একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    এদিকে, রিপাবলিকান এই নেতা তার একক ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপকভাবে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বহিষ্কার, পরিবেশবিষয়ক বিধিনিষেধ কমানো ও বৈচিত্র্য কর্মসূচি বাতিল।

    আশা করা হচ্ছে, শপথ নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প ২০০ টিরও বেশি নির্বাহী পদক্ষেপে স্বাক্ষর করবেন। এর মধ্যে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নির্বাহী আদেশ ছাড়াও প্রোক্লেমেশন এবং অন্য প্রেসিডেনসিয়াল নির্দেশাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ট্রাম্প তার সমর্থকদের জানিয়েছেন, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর জন্য নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন। এছাড়া তিনি ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি নামে একটি নতুন দপ্তর গঠন করবেন। সেই সঙ্গে ১৯৬৩ সালে ৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত রেকর্ড প্রকাশ ও সামরিক বাহিনীকে আয়রন ডোম মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

    এছাড়া ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি সামরিক বাহিনী থেকে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতিমালা অপসারণ করবেন।

    সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধ করবেন ও শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ আবারও রাজ্যগুলোর হাতে ফিরিয়ে দেবেন।

    অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। যদিও তিনি লক্ষাধিক অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ ও কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাগুলো নিয়ে তার সমর্থকরা উৎসাহিত হলেও সমালোচকরা এগুলোকে চ্যালেঞ্জিং ও বিতর্কিত বলে উল্লেখ করেন। তবে এটা স্পষ্টভাবেই বলা যায়, প্রথম দিন থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছেন।

    Facebook Comments Box