Blog

  • অবৈধ অভিবাসী বহনকারী মার্কিন বিমান অবতরণ করতে না দেয়ায় কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা, পণ্য আমদানিতে ২৫% কর ধার্য

    অবৈধ অভিবাসী বহনকারী মার্কিন বিমান অবতরণ করতে না দেয়ায় কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা, পণ্য আমদানিতে ২৫% কর ধার্য

    কলরাডো স্টেটের ডেনভারে একটি নাইট ক্লাবে রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে আইসিস (ইসলামিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক)’র ৫০ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরা ভেনেজুয়েলার কারাগার থেকে পালিয়ে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাস্ট্রে এসেছিল বলে গ্রেফতার অভিযানের পর আইসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। এদিন বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে আইসের এজেন্টরা এক হাজারের মত অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে বলে ফেডারেল কর্মকর্তারা রোববার সন্ধ্যায় জানান। এভাবেই বৃহস্প্রতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ১৪ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছে আইস। উল্লেখ্য, দৈনিক ৪/৫ শত জন নয়, কমপক্ষে ১২০০ থেকে ১৫০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। অভিবাসী ধর-পাকড়ের দায়িত্ব পালনকারি আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ২৫টি ফিল্ড অফিসের প্রত্যেকটিকে দৈনিক কমপক্ষে ৭৫ জন অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার করতে হবে হোয়াইট হাউজের ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণের জন্যে। যদিও ট্রাম্পের সীমান্ত সুরক্ষা সম্পর্কিত মুখ্য কর্মকর্তা টম হোম্যান এবিসি টিভিতে রোববার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, আমরা শুধুমাত্র অবৈধদের মধ্যে গুরুতর অপরাধী এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেফতারে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এমনি অবস্থায় হোয়াইট হাউজের কোটা পালন করতে হলে গুরুতর অপরাধী ছাড়াও গ্রেফতার হবে অনেক অবৈধ অভিবাসী। টম হোম্যান বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা রয়েছে এমন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতারের জন্যে আমরা স্টেট এবং স্থানীয় প্রশাসনেরও সহযোগিতা চেয়েছি। ফেডারেল পুলিশ তো আছেই এ অভিযানে।

    উল্লেখ্য, শনিবার পর্যন্ত ৫দিনে মাত্র ১৪০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতারের সংবাদে উষ্মা প্রকাশ করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে এক কোটি ১৭ লাখের অধিক অবৈধ অভিবাসী রয়েছে আমেরিকায়। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধীর সংখ্যা কোনভাবেই ৫ লাখের বেশী হবে না। তবে গত সপ্তাহেই ডেমক্র্যাটদের সমর্থনে কংগ্রেসে পাশ হওয়া একটি বিল অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে যারা ট্রাফিক ভায়োলেশনের জন্যে জরিমানা দিয়েছেন কিংবা সাবওয়েতে টিকিট ছাড়া প্রবেশকালে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিলেন অথবা স্টোরে ছোট-খাটো চুরির জন্যে ধরা পড়েছিলেন-এমন মামুলি অপরাধে লিপ্তদেরকেও গ্রেফতার ও বহিষ্কারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আর এটাই হচ্ছে সমগ্র কম্যুনিটিতে আতংকের মূল কারণ। ট্রাম্পের এমন মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে জানুয়ারির ২ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস/ইপসোস জরিপে অংশগ্রহণকারি ভোটারের ৫৫% অবৈধদের অবিলম্বে বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। ৮৮% বলেছেন যে, অবৈধদের মধ্যে যারা অপরাধের জন্যে দন্ডিত/চিহ্নিত তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেয়া উচিত হবে না। জরিপে অংশগ্রহণকারি ডেমক্র্যাট এবং রিপাবলিকানের সিংহভাগই মনে করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ভেঙ্গে পড়েছে। এটি ঢেলে সাজানোর বহু পুরনো দাবিটি পূরণের সময় এখোন।

    গ্রেফতার এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থ-সম্পদের প্রয়োজন হচ্ছে এবং এটাই ট্রাম্পের আন্তরিক আগ্রহেও ভাটা ফেলতে পারে বলে অভিজ্ঞজনেরা মন্তব্য করেছেন। টম হোম্যান উল্লেখ করেছিলেন যে, গ্রেফতার ও বহিষ্কারের জন্যে প্রাথমিকভাবে ৮৬ বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে। এবং এ অর্থের অনুমোদন চেয়েছেন কংগ্রেসের কাছে। অভিযান শুরুর পর টম হোম্যানের সম্বিত ফিরেছে। কারণ, আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী ধর-পাকড়ের ব্যাপক অভিযান চালাতে অর্থাৎ ১০ লাখ অবৈধকে বহিষ্কার বাবদ বার্ষিক অন্তত: ৮৮ বিলিয়ন ডলার করে লাগবে। এজন্যে ১০ বছরের খরচ লাগবে ৯৬৭.৯ বিলিয়ন ডলারের মত। আর এ অর্থ লাগবে ডিটেনশন সেন্টারের সম্প্রসারণ এবং কোর্ট সিস্টেমকে আরো গতিশীল করার জন্যে। বর্তমানে সারা আমেরিকায় ডিটেনশন সেন্টারে বেডের সংখ্যা মাত্র ৪১ হাজার। একটিও খালি নেই। এদিকে খেয়াল রেখেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনাবাহিনী তলব করেছেন, গ্রেফতারের পরই সামরিক বিমানে নিজ নিজ দেশে অবৈধ অভিবাসীকে পাঠিয়ে দিতে। এ প্রক্রিয়ায় মেক্সিকো কর্তৃক আপত্তির পর কলম্বিয়াতেও বিমান নামাতে পারেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী। কলম্বিয়ার এ আচরণে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে স্যাঙ্কশন আরোপ করেছেন। কলম্বিয়ার বগোটায় অবস্থিত মার্কিন কন্স্যুলেট থেকে ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম বন্ধ করা করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসী বহনকারি বিমানটিকে যারা নামতে দেয়নি, সেই সব অফিসার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের বিরুদ্ধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে রোববার থেকেই। এবং নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে না চাওয়া পর্যন্ত কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মনোভাব অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোবিয়ো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। নিজেদের নাগরিককে গ্রহণে সম্মতি দিয়েও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেট্রো বিমানটিকে নামতে না দিয়ে অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন।’ ‘আমেরিকা কখনোই তার জাতীয় নিরাপত্তার সাথে আপস করেনা’-মন্তব্য রোবিয়োর। এর ফলে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কলম্বিয়ার সাথে সম্পর্কে এমন উত্তেজনায় অনেকেই হতবাক। এর জের কোথায় ঠেকবে তা নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন।

    ট্রাম্পের এই অভিযানের ভিকটিম হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ধস নামার আশংকা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জের পড়বে বাজারে। মাংসের দাম দুই-তিনগুণ বাড়তে পারে। কারণ, এসব কারখানায় কর্মরতদের সিংহভাগই অবৈধ অভিবাসী। কৃষি শ্রমিকের মধ্যেও অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বেশী। এই অভিযান অব্যাহত থাকলে কৃষি সেক্টরে উৎপাদন হ্রাস পাবে ৬০ বিলিয়ন ডলারের মত। আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা শী বলেছেন, যদি ঢালাও গ্রেফতার ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে তাহলে অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমরা ট্রাম্প এবং কংগ্রেসের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে, যার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষিত হবে এবং ইমিগ্রেশনের ভঙ্গুর অবস্থাকেও ঢেলে সাজানো সম্ভব হবে। বলতে দ্বিধা নেই যে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়, তাই এই অহংকারকে দলিত-মথিত করতে চাই না।
    কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞার পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন অভিবাসী বহনকারি বিমান অবতরণ করতে না দেয়ার খেসারত হিসেবে এখোন থেকে কলম্বিয়া থেকে যত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আসবে তার ওপর ২৫%ম হারে ট্যাক্স ধার্য করা হলো। এটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত কোন দেশের বিরুদ্ধে করারোপ করার প্রথম ঘটনা-যা অন্য বন্ধু রাষ্ট্রকেও ভাবিয়ে তোলেছে।

     

    Facebook Comments Box
  • ৫০-এও যেন কিশোরী! সুস্মিতা সেনের জৌলুস ধরে রাখার রহস্য কী

    ৫০-এও যেন কিশোরী! সুস্মিতা সেনের জৌলুস ধরে রাখার রহস্য কী

    ১৯৯৪-এ মিস ইউনিভার্স খেতাব জয়ের সময় যেমন ছিলেন, এখনো প্রায় একই রকম দেখায় তাকে। বয়স ৪৯ হলেও বলিউড অভিনেত্রী এবং সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেনকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। টানটান ত্বক ও টোনড ফিগারের রহস্য কী? কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন? এক সাক্ষাৎকারে এই গোপন রহস্য খোলাসা করেছেন তিনি।

    সুস্মিতা জানান, তার ফিটনেসের পেছনে বিশেষ একটি পানীয়ের ভূমিকা রয়েছে, যা তাকে সারাদিন চনমনে রাখে। কীভাবে দিন শুরু করেন এবং দিনব্যাপী কীভাবে নিজেকে সক্রিয় রাখেন, তা বিস্তারিতভাবে শেয়ার করেন তিনি।

    টুইক ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা তার সকালের রুটিন নিয়ে বলেন, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জল ও লেবুর রস দিয়ে তার দিন শুরু হয়। সাধারণত তিনি সকালে হালকা গান শুনতে পছন্দ করেন এবং ধীরে ধীরে শরীরচর্চায় মন দেন। বেশি শব্দ বা চিৎকার তার পছন্দ নয়। একই গান লুপে শোনাকে তিনি ‘মুভিং মেডিটেশন’ বলে অভিহিত করেন।

    সুস্মিতা আরও বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি ফোনে হাত না দিতে, তবে সবসময় সেটা সম্ভব হয় না।’

    এছাড়াও কঠোর পরিশ্রম ও ব্যায়াম ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তিনি জানিয়েছেন, এক সময় প্রতিদিন এক ঘণ্টা ওয়ার্ম-আপ, দু’ঘণ্টা এক্সারসাইজ এবং ৩০ মিনিট কুল-ডাউনের রুটিন মেনে চলতেন। তবে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রুটিনে পরিবর্তন আনতে হয়। বর্তমানে তিনি সকালে হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম এবং স্ট্রেচিংয়ের ওপর বেশি জোর দেন।

    তাহলে কি ব্যায়ামকে বিদায় জানিয়েছেন সুস্মিতা? তার কথায়, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিনি আবার আগের রুটিনে ফিরে যেতে পারবেন।

    সুস্মিতা তার ঝকঝকে ত্বকের রহস্য নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ত্বক পরিচর্যার নিয়ম খুবই সহজ। মেকআপ আমি সাধারণত করি না, শুধু কাজের জন্য করতে হয়। ক্লিনজিং মিল্ক, টোনার, ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করি। সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অবশ্যই জরুরি, যদিও আমি সেরাম ব্যবহার করি না।’

    এই অভ্যাসগুলো তাকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও ভালো রাখতে সহায়ক। সুস্মিতা সেন তার জীবনযাত্রা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হয়েছেন এবং এখনও হয়ে চলেছেন।

    Facebook Comments Box
  • অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা: ২ বছরেও খোঁজ মেলেনি দুই যুবকের

    অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা: ২ বছরেও খোঁজ মেলেনি দুই যুবকের

    সুন্দর ভবিষ্যৎ ও উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছেন স্বপ্নবাজ তরুণরা। অনেকেই মনে করেন ইউরোপের কোনো দেশে পৌঁছে গেলেই বদলে যাবে ভাগ্যের চাকা। তাইতো পছন্দের শীর্ষে থাকা ইউরোপের পথেই পাড়ি জমাচ্ছেন তরুণরা। তবে বৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা অনেকটা সোনার হরিণ পাওয়ার মতোই। নানা জটিলতা ও বৈধভাবে কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই অবৈধ পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক তরুণ। আর দালালের খপ্পড়ে পড়ে এ পথে পাড়ি দিয়ে কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও অনেকেরই হচ্ছে সর্বনাশ।

    অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বা বিভিন্ন দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সীমানা পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের সময় প্রায়ই জীবন হারাচ্ছেন স্বপ্নবাজ তরুণরা। অনেকেই নিখোঁজও হচ্ছেন। তাদেরই দু’জন মাসুদ রানা (২২) ও পাবেল আমদে (২৫)। অবৈধপথে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে ২ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন তারা। একই গ্রামের মাসুদ ও পাবেল ইরান-তুরস্ক হয়ে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।

    নিখোঁজরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের চুনু মিয়ার ছেলে পাবেল আহমেদ ও একই গ্রামের দলাই মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা।

    নিখোঁঁজ মাসুদের স্বজনরা জানান, পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে তারা কয়েকজন অভিবাসন প্রত্যাশী ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে দুবাই থেকে জাহাজে ইরান পৌঁছান। ইরানে কয়েকদিন অবস্থানের পর ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি পাহাড়ি পথ বেয়ে ইরান থেকে তুরস্কে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এক সাথে ১০ জন বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশি মোট ২৪ জন নাগরিক ছিলেন তাদের দলে। উঁচু-নিচু পাহাড়, মরুভূমি আর বরফে ঢাকা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম তরার সময় তারা নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মাসুদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

    অপর নিখোঁজ পাবেলের স্বজনরা জানান, পাবেলসহ ৩৫ জন যুবক ইরান থেকে তুরস্কের পথে যাত্রা শুরু করে। তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম করার সময় দালাল চক্রের সদস্যরা রাতের অন্ধকারে পাহাড়-পর্বত মরুভূমি আর বরফে ঢাকা দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে তুরস্কে প্রবেশকালে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালায়। এ সময় ৮ জন যুবক একদিকে লুকিয়ে পড়ে এবং অন্যদিকে ২৭ জন যুবকের সঙ্গে পাবেল দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর থেকে পাবেল নিখোঁজ হয়। পাবেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    নিখোঁজ পাবেলের মামা সাইফুর রহমান তালুকদার জানান, ‘পাবেল দেশের বাইরে যাওয়ার কিছুদিন আগে তার ছোট ভাই শাহ ফাহিম ও তার মা নাজমা তালুকদার মারা যান। নিজের পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে ইউরোপ যাওয়ার চিন্তা করে পাবেল। ৪ ভাই বোনের মধ্যে পাবেল সবার বড়।’

    তিনি কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পাবেলের মা মারা যাওয়ার পর আমাদের কাছেই সে বড় হয়েছে, মা হারা পাবেলকে অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছি। ইরান অবস্থানকালে ও তুরস্ক যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে ভাগিনার কথা হয়েছে। সে দোয়া চেয়ে বলেছিল, মামা আমি পৌঁছে ফোন দিব, কিন্তু আর তাকে ফোনে পাইনি। তার সঙ্গে থাকা সঙ্গীদের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের দেখে অভিযান চালালে যে যার মতো দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর থেকে পাবেলের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

    নিখোঁজের ২ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি পাবেল ও মাসুদের। আজও তাদের অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা।

    মৃত্যু ঝুঁকির পথ বেয়ে ইরান-তুরস্ক সীমান্ত পাড়ি দেয়া আল-আমিন আহমেদ নামে অভিবাসী জানান, ‘ইরান হতে তুরস্ক সীমান্ত অতিক্রম করা অনেকটা মরণ ফাঁদের মতো। সীমান্তপথ পাড়ি দেওয়া অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ, অনেক উঁচু-নিচু পাহাড় অতিক্রম করতে হয়, পাশাপাশি মরুভূমি আর বরফে ঢাকা দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়। রাতের অন্ধকারে কোনো ধরনের আলো ছাড়াই দালাল চক্রের সদস্যদের পিছনে-পিছনে যেতে হয়। কখনো দীর্ঘপথ মরুভূমি, আবার কোনো কোনো সময় উঁচু-নিচু পাহাড় কিংবা বরফে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ পথ। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়। আর সীমান্তে আটক হলে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

    অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বর্তমানে বৈধ পথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব বিপদজ্জনক পথে বিদেশে পাড়ি না জমানোর অনুরোধ।

    Facebook Comments Box
  • দেশের দুর্দিনে ও দেশের প্রয়োজনে জাগ্রত দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়

    দেশের দুর্দিনে ও দেশের প্রয়োজনে জাগ্রত দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়

    জুলাই-আগ্রস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র অনুধাবনের পরই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত একদল মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘একাত্তরের প্রহরী’ নামক একটি সংগঠন। ইতিমধ্যেই তারা ইস্যুভিত্তিক কয়েকটি অনুষ্ঠানও করেছেন। প্রবাসের প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় উজ্জীবিতদের এই মোর্চা সম্পর্কে মহলবিশেষের অপপ্রচারণা শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা ‘একাত্তরের প্রহরী’র গঠন ও উদ্দেশ্য-আদর্শ সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এখানে তা সবিস্তারে উপস্থাপন করা হলো।

    একাত্তরের প্রহরী, একদল স্বপ্রণোদিত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিদের এক মুক্ত মঞ্চ। এখানে সমাবিষ্ট সবাই একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধ, বাহাত্তরের সংবিধান, এবং সর্বোপরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অবিচল ও গভীর আস্থা স্থাপনকারী।

    আমরা অকুণ্ঠচিত্তে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। নতশিরে কৃতজ্ঞতা জানাই মুক্তিযুদ্ধে আত্মবলিদানকারী তিরিশ লক্ষ শহীদ এবং তিন লক্ষ ধর্ষিতা মা-বোনের প্রতি। আমরা গর্বিত সেসব মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে, যারা একাত্তরের প্রহরী হিসেবে আজও জাতিকে নির্মোহ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
    আমাদের অস্তিত্বে মিশে আছে জয় বাংলা স্লোগান, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত – আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এবং সবুজ জমিনে সূর্যের মতো তেজোদ্দীপ্ত রক্তগোলক খচিত জাতীয় পতাকা। এগুলো আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা, সামনে এগিয়ে চলার শক্তি।

    একাত্তরের প্রহরীর সাংগঠনিক কাঠামো অত্যন্ত সরল। আমাদের কারো কোনো ব্যক্তিস্বার্থ নেই, কোনো একক নেতৃত্বও নেই। দেশের দুর্দিনে ও দেশের প্রয়োজনে জাগ্রত দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়। এই দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবোধ আমাদেরকে একাত্তরের অতন্দ্র, সদা জাগ্রত, সদা প্রস্তুত প্রহরীতে পরিণত করেছে।

    বিশেষ রাজনৈতিক দল, আদর্শ, কিংবা জোটের সাথে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাদের আদর্শ, আনুগত্য ও কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাংলাদেশকেন্দ্রীক। কোনো ধর্মবিশ্বাসের প্রতি আমাদের আনুকূল্য বা বিরোধ নেই। একাত্তরের প্রহরী বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় উদ্বুদ্ধ অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা এক বৃহত্তর দেশপ্রেমিক জনতা। প্রকাশ্য উচ্চারণে ঘোষণা দিয়ে একাত্তরে অর্জিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ অক্ষুন্ন রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।

    সম্প্রতি একদল বিপথগামী, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধহীন সেনা কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় একাত্তরে পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর ও তাদের আন্তর্জাতিক মিত্র জঙ্গীবাদীরা বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষদের তথাকথিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করে ধোঁকা দিয়ে বেআইনি, অরাজনৈতিক, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমূলক পন্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে একদল সাম্প্রদায়িক, স্বার্থপর, মেরুদন্ডহীন, নীতিবোধহীন, অবৈধ সুবিধা-প্রত্যাশী, জনগণ-প্রত্যাখ্যাত পরজীবী রাজনীতিবিদ, যাদের প্রতিনিধিত্ব করছে দরীদ্র মানুষের রক্তচোষা অমানবিক সুদ ব্যবসায়ী, আদালত কর্তৃক একাধিক মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ড: ইউনুস। তারা নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বাংলাদেশের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ সকল নাগরিক ও মানবিক অধিকার; জনমত, সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যম; স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় সংবিধান ও জাতীয় সম্পদ; বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জয়বাংলা স্লোগান; শিক্ষাঙ্গন, শিক্ষা উপকরণ ও পাঠ্যক্রম; অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক চেতনা; আইন, বিচার ও প্রশাসন; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, পীর আউলিয়ার মাজার, শহীদদের কবরস্থান ও স্মৃতিসৌধ; জল, সমতল, দ্বীপ, পার্বত্যভূমি ও পার্বত্য জনগোষ্ঠী- সবকিছুকে আক্রমণ করেছে।

    বাংলাদেশের এই অগণতান্ত্রিক সরকার ইতোমধ্যে নিজেদের অকার্যকর প্রমাণ করেছে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে। সরকারি বাহিনীর দ্বারা ও তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষদের গণ-গ্রেফতার ও হয়রানি করছে। ড: ইউনুসসহ সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের দন্ড প্রত্যহার করেছে, দাগী আসামীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করেছে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জনজীবনকে মারাত্মক দুর্বিসহ করে তোলেছে।

    আমরা বিশ্বাস করি, যারা একাত্তরের প্রেক্ষাপটকে অস্বীকার করেছে, যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং সাম্প্রতিককালে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত হতে দেখেও কোনো প্রতিবাদ করেনি, তারা এই বাংলার সন্তান নয়। তাদের বাংলাদেশে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। একাত্তরের প্রহরীর সাথেও তাদের কোনো সামাজিক সম্পর্ক থাকতে পারেনা।
    বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনাকে ধ্বংস করতে উদ্যত এই উশৃঙ্খল, হিংস্র, প্রগতি-বিরোধী অপশক্তিকে যে কোনো মূল্যে অপসারণ করে জনগণের অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটে গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার লক্ষ্যে সকল পদক্ষেপে একাত্তরের প্রহরী সর্বাত্মক সমর্থন দেবে।

    আমরা জানি, আমাদের এক সময়ের সহযাত্রী অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী ও নেতৃবৃন্দ, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মচারি, এবং বিগত সরকারের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ন অনেক মানুষ, ইউনুস সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে তাদের ভুল বুঝতে পেরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসীদের মূলধারায় প্রত্যাবর্তন করেছেন। দুঃখজনকভাবে এদের আরেকটি অংশ এখনও অনড় ও অপরিবর্তিতভাবে নিজেদেরকে অপরাধসম নিরপেক্ষ অবস্থানে ধরে রেখেছেন। একথা স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকারকে সমর্থনকারী, এবং অপরাধসম নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনকারীরা একযোগে একাত্তরে পরাজিত ঘাতক-দালাল-রাজাকার ও পাকিস্তানিদের পক্ষে, প্রকারান্তরে একাত্তরে স্বাধীন হওয়া মুক্ত-স্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষেই কাজ করছেন। এদের সবার প্রতি আমাদের স্পষ্ট এবং হৃদয়খোলা আহ্বান- আপনারা অবিলম্বে এই ভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনারা জেনে রাখুন, পাকিস্তানের বিশ্বস্ত মিত্র বর্তমান বাংলাদেশ সরকারকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সহায়তা করার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে একাত্তরের পরাজিত ঘাতক-দালালদের হাতে তুলে দেওয়া। তাই একাত্তরের প্রহরীর পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন, সকল রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ, ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাস কিংবা নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে একজোট হয়ে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল আদর্শ বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে অবিচল থেকে একাত্তরের প্রহরী হয়ে বাংলাদেশের কল্যাণে সর্বোচ্চ ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি। মনে রাখবেন, দেশপ্রেমের এই আহ্বানকে যারা প্রত্যাখ্যান করবে, তারা বিশ্বাসঘাতক বেঈমান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিরা সচেতন কিংবা অবচেতনভাবে উপরে বর্ণিত একাত্তরের প্রহরীর আদর্শ, লক্ষ্য এবং কর্মসূচির প্রতি আস্থাশীল। আমাদের প্রত্যাশা, একাত্তরের প্রহরী নিউ ইয়র্কে স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে যে যাত্রা শুরু করেছে, বাংলাদেশে ও পৃথিবীর অন্যত্র সবাই সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন নামে ও কাঠামোতে অনুরূপভাবে ঐক্যবদ্ধ হবেন, এবং অচিরেই সেসব প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ একই ধারায় মিলিত হবেন। এই মিলিত ধারাই বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অবিকৃতভাবে অক্ষুন্ন রাখতে, দেশ থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম হবে।
    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-পক্ষের সংগঠন ‘একাত্তরের প্রহরী’র এই যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারিরা হলেন ড: নুরুন নবী (মুক্তিযোদ্ধা), বেলাল বেগ (সমাজ চিন্তক), ড: জিনাত নবী (মুক্তিযোদ্ধা), তাজুল ইমাম (মুক্তিযোদ্ধা), ডঃ হাসান মামুন (অধ্যাপক), ডঃ নাহিদ বানু (বিজ্ঞানী), ডঃ দিলিপ নাথ (লেখক ও মূলধারার রাজনীতিবিদ), রাফায়েত চৌধুরী (সংগঠক), ড: দেলোয়ার আরিফ (অধ্যাপক), ড: নীরু কামরুন নাহার (অধ্যাপক), ফকির ইলিয়াস (কবি), লুৎফুন নাহার লতা (লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব), মিথুন আহমেদ (সাংস্কৃতিক সংগঠক), মিনহাজ আহমেদ (লেখক এবং সংগঠক), ফাহিম রেজা নুর (লেখক ও কলামিস্ট), সেলিমা আশরাফ ইসলাম (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব), এ্যানি ফেরদৌস (সাংস্কৃতিক সংগঠক), ডঃ বিলকিস রহমান দোলা (আবৃত্তিকার), জি, এইচ আরজু (সংগঠক, বাচিক শিল্পী), দস্তগীর জাহাঙ্গীর (গণমাধ্যমকর্মী ও লেখক), সিসিলিয়া মোরাল (সাংস্কৃতিক কর্মী), সাবিনা নীরু (বাচিক শিল্পী), তাহরিনা পারভীন প্রীতি (বাচিক শিল্পী),এডভোকেট আসলাম আহমেদ খান, গোপাল স্যানাল (এ্যাকটিভিস্ট), গোপন সাহা (বাচিক শিল্পী), আবু সাঈদ রতন (লেখক, সংগঠক), ফারহানা ইলিয়াস তুলি (কবি), স্বাধীন মজুমদার (বাচিক শিল্পী), খালেদ সরফুদ্দিন (লেখক, সংগঠক), মনজুর কাদের ( ছড়াকার), রওশন আরা নীপা (সংগঠক, চলচ্চিত্র নির্মাতা), মিল্টন আহমেদ (নাট্যশিল্পী, সংগঠক), মিশুক সেলিম (লেখক, সংগঠক), আনোয়ার সেলিম (কবি, নাট্যশিল্পী), পারভিন সুলতানা (আবৃত্তিকার), স্মৃতি ভদ্র (লেখক), জয়তূর্য চৌধুরী (এ্যাকটিভিস্ট), ঝর্ণা চৌধুরী (এ্যাকটিভিস্ট), স্বীকৃতি বড়ুয়া (সংগঠক), পঙ্কজ তালুকদার (সংগঠক)।

    Facebook Comments Box
  • ট্রাম্পের ইসরায়েল প্রীতি সামনে আসছে, ইসরায়েল পাচ্ছে ২০০০ পাউন্ড বোমা

    ট্রাম্পের ইসরায়েল প্রীতি সামনে আসছে, ইসরায়েল পাচ্ছে ২০০০ পাউন্ড বোমা

    সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলকে ২০০০ পাউন্ড বোমা দেয়ার বিষয়টি আটকে রাখলেও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। শনিবার ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি এমন পদক্ষেপ নেবেন, এটি ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আকাশযান এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সেগুলোকে ছেড়ে দিয়েছি। আমরা সেগুলোকে আজই ছেড়েছি। তারা সেগুলো পেয়ে যাবে। তারা এগুলোর জন্য অর্থ দিয়েছে আর দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছে।” গাজা যুদ্ধ চলাকালে বাইডেন এ সরবরাহ আটকে রেখেছিলেন। বেসামরিক জনগণের ওপর এসব বোমার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি, বিশেষ করে গাজার রাফা শহরে। শক্তিশালী এ বোমাগুলো সরবরাহের অনুমতি কেন দিলেন, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “কারণ তারা সেগুলো কিনেছে।”এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এ বলেন, “অনেক জিনিসের ক্রয়াদেশ দিয়ে ইসরায়েল সেগুলোর মূল্য পরিশোধ করেছে, কিন্তু বাইডেন সেগুলো পাঠাননি, এখন সেগুলো তাদের পথে আছে!”

    ট্রাম্প ও বাইডেন, উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের প্রবল সমর্থক। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের কথা বলে গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার কারণে সৃষ্ট মানবিক সঙ্কট নিয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ওয়াশিংটনের সমালোচনা করলেও বাইডেন প্রশাসন তাতে বিচলিত হয়নি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রতিবাদকারীরা দাবি জানালেও তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। গাজায় ১৫ মাস ধরে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলেও ওয়াশিংটন বলছে, তারা ইরান সমর্থিত গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিদের মতো ‘জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো’ থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করার জন্য সাহায্য করছে।

     

     

    Facebook Comments Box
  • যত গর্জে তত বর্ষে না: ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী অভিযানে রেস্টুরেন্ট-গ্রোসারি-নিউজ স্ট্যান্ডে অচলাবস্থা

    যত গর্জে তত বর্ষে না: ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী অভিযানে রেস্টুরেন্ট-গ্রোসারি-নিউজ স্ট্যান্ডে অচলাবস্থা

    প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শেষ অর্থ বছরে ( ২০২৩ সালের ১অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) দৈনিক গড়ে ৩১০ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে আরো ৪০৯জনকে গ্রেফতার করে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঢাক-ঢোল পেটানোর পর গত দুদিনে (২৫ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত) মাত্র ৫০০ জনকে গ্রেফতার এবং ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে ৩৭৩ জনকে। সরকারী সূত্রে প্রাপ্ত এ তথ্য অনুযায়ী ডেমক্র্যাট আমলেও অপরাধে লিপ্ত অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার অভিযান থেমে থাকেনি। যদিও গত নির্বাচনের আগে সকল প্রচারাভিযানেই ডনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকানরা হরদম জো বাইডেন ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, ডেমক্র্যাটরা অপরাধী অভিবাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। আর এমন অভিযোগের কারণেই গত নির্বাচনে ট্রাম্পের পাল্লা ভারি হয় এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর জনগণের সে প্রত্যাশার পরিপূরক হিসেবেই ষাড়াশি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নির্দেশের টার্গেট হচ্ছে সারা আমেরিকায় কাগজপত্রহীন এক কোটি ১৭ লাখ অভিবাসী। নিউইয়র্ক, লসএঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো, ফিলাডেলফিয়া, বস্টন, ডেনভার, আটলান্টা, সিয়াটল, মায়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগোসহ বিভিন্ন সিটিতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টরা মাঠে নেমেছেন। গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ার পরই সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে গোটা কম্যুনিটি। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি স্টোর এবং নিউজ স্ট্যান্ড-সহ খুচরা অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংকট দেখা দিয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংগঠন এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে কঠোর পরিশ্রমী মানুষের পেটে লাথি মারার মত পরিস্থিতি তৈরীর জন্যে। একইসাথে তারা অভিযোগ করেছেন যে, নিজ দেশে নিরাপত্তার অভাবে কিংবা সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় আমেরিকায় পাড়ি জমিয়ে নতুন সংকটে নিপতিত হয়েছেন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই নির্দেশ পালনে বিচার বিভাগীয় কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা অপারগতা প্রকাশ করলে ভয়ংকর পরিণতির হুমকি দেয়া হয়েছে বিচার বিভাগীয় এক গোপন সার্কলারে। নিউইয়র্কের এটর্নী জেনারেল লেটিশা জেমস এহেন সার্কূলার প্রসঙ্গে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কোনই এখতিয়ার নেই্ স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি প্রশাসনকে অভিবাস-বিরোধী অভিযানে সহায়তায় বাধ্য করার।

    নিউইয়র্কে আগে থেকেই ৫ লাখের অধিক অবৈধ অভিবাসী ছিলেন। গত চার বছরে সে সংখ্যায় যোগ হয়েছে আড়াই লাখ। এসব অভিবাসীর অনেকেই রেস্টুরেন্ট, নিউজ স্ট্যান্ড অথবা গ্রোসারি স্টোরে কাজ করছে। ট্রাম্পের অভিযান শুরু হওয়ায় সকলেই গা ঢাকা দিয়েছে। এরফলে রেস্টুরেন্টসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। কারণ, সিটিজেনদের নিয়োগ করলে ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা হিসেবে বেতন (১৬.৫০ ডলার করে) দিতে হবে। অবৈধদের তার অর্ধেকেরও কম দিয়েই চালিয়ে নেয়া যায়। একইভাবে লসএঞ্জেলেস সিটিতেও সাড়ে ৯ লাখের মত অবৈধ অভিবাসী আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

    পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মারিয়া সালাজার অভিবাসী তাড়ানোর ঢালাও অভিযান বন্ধের জন্যে কংগ্রেসে বিল পাশের দাবি জানিয়েছেন। শুধু গুরুতর অপরাধে দন্ডিতরা ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন নির্দেশনার কথাও তিনি বলেছেন। এ আহবানে হোয়াইট হাউজে একটি ই-মেইলও পাঠিয়েছেন বলে শনিবার রাতে জানা গেছে।

    আরিজোনার কংগ্রেসওম্যান (ডেমক্র্যাট)ইয়াসামিন আনসারি গভীর উদ্বেগের সাথে বলেছেন যে, ট্রাম্পের এই নির্দেশ জারির পর চিহ্নিত একটি দুর্বৃত্ত চক্র অভিবাসী-সমাজে ফোন করছে এবং গ্রেফতার-অভিযান থেকে রক্ষার অঙ্গিকার করে নগদ ফি চাচ্ছে। আইনগত সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে এহেন প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে এবং ইয়াসামিন আনসারির নির্বাচনী এলাকার অনেক মানুষ ইতিমধ্যেই ভিকটিম হয়েছেন। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী আরিজোনা স্টেটের মোট জনসংখ্যার ১৩.১% হলেন অভিবাসী। এর ৮.৬% কাগজপত্রহীন। এই স্টেটের সিনেটর লিলা অ্যলস্টন (ডেমক্র্যাট) বলেছেন যে, ট্রাম্পের আদেশের পর গোটা কম্যুনিটিতে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক অস্থিরতায় গ্রাস করেছে দিনাতিপাতের আহার জোটানোর অনিশ্চয়তা।

    প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, স্কুল, মসজিদ-মন্দির-গীর্জা, এমনকি হাসপাতালেই অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরফলে কাগজপত্রহীনরা স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন পরিচিত স্থান ত্যাগ করে। কারণ, কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া ঠিকানাতেই হানা দেয়া হচ্ছে।

    অবস্থার ভয়াবহতা বিবেচনা করে কংগ্রেসওম্যান আনসারি ইতিমধ্যেই সহকর্মীগণের সাথে পরামর্শ করেছেন যে, প্রথম মেয়াদের মত এবারও “ট্রাম্প মুসলিন ব্যান” আদেশ জারি করতে পারেন। তাই আগে থেকেই কংগ্রেসকে সরব রাখতে হবে। উল্লেখ্য, আগের টার্মে ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে যাওয়া একটি সামরিক বিমানকে মেক্সিকো অবতরণের অনুমতি দেয়নি। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বিমান দুটি ফ্লাইটে প্রায় দেড়শ অবৈধ অভিবাসীকে গুয়াতেমালায় নামিয়ে আসে; কিন্তু অবতরণের অনুমতি না মেলায় সি-১৭ পরিবহন বিমান মেক্সিকোতে নামানোর পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দুই কর্মকর্তা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে অবতরণের অনুমতি না দেওয়ার এ খবর প্রথম দেয় এনবিসি নিউজ। শুক্রবার পরের দিকে মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ‘খুবই চমৎকার সম্পর্ক’ বিদ্যমান এবং অভিবাসনের মতো বিষয়গুলোতে তারা একে অপরকে সহায়তা করে যাচ্ছে। “যখন প্রত্যাবাসনের বিষয় আসে, আমরা সবসময় আমাদের ভূখন্ডে আগত মেক্সিকানদের অবাধে হাতে গ্রহণ করবো,” বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কোন বক্তব্য/ব্যাখ্যা দেয়নি শনিবার পর্যন্ত। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, তারা ‘রিমেইন ইন মেক্সিকো’ নামে পরিচিত অবৈধ অভিবাসীদের মেক্সিকোতে রাখার কর্মসূচিটি ফের চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে মেক্সিকোর নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদেরও আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি আসার আগ পর্যন্ত মেক্সিকোতে অপেক্ষায় থাকতে হতো। ফের এমন কর্মসূচির আগে আশ্রয়প্রার্থীদের যারা নেবে সেই গ্রহণকারী দেশের অনুমতি লাগবে, মেক্সিকো এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অনুমতি দেয়নি-বুধবার এমনটাই বলেছিলেন মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম। মেক্সিকোতে বিমান নামানোর অনুমতি না মেলার ঘটনায় মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পেন্টাগনের সাড়া মেলেনি।

    Facebook Comments Box
  • আমেরিকার জাতীয় নেতৃত্ব পেতে ডিএনসি ভাইস চেয়ার পদে লড়ছেন সিনেটর শেখ রহমান

    আমেরিকার জাতীয় নেতৃত্ব পেতে ডিএনসি ভাইস চেয়ার পদে লড়ছেন সিনেটর শেখ রহমান

    ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির (ডিএনসি) ভাইস চেয়ারম্যান (Civic Engagement and Voter Participation ) পদে প্রথম মুসলমান প্রার্থী বাংলাদেশী-আমেরিকান সিনেটর (জর্জিয়া) শেখ রহমান ২৪ জানুয়ারি সাউথ ক্যারলিনায় অনুষ্ঠিত পার্টির সর্বোচ্চ নীতি-নির্দ্ধারণী ফোরামে বলেছেন, এখোন সময় হচ্ছে নেতৃত্বে আমার মত লোকের আসার। ট্রাম্পের মত লোকেরা বারবার আসছেন এবং চলেও যাচ্ছেন। কিন্তু আমার মত বাদামি রংয়ের মানুষেরা, মুসলমানেরা কখনোই এদেশ-সমাজ থেকে চলে যাবো না। বিভিন্ন অঞ্চল ও স্টেটের নেতৃবৃন্দের তুমুল করতালির মধ্যে সিনেটর শেখ রহমান আরো বলেন, গত নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির বিপর্যয়ের মূল কারণগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। শুধু হোয়াইট হাউজ আর ক্যাপিটল হীলেই নয়, স্টেট, সিটি ও কাউন্টি প্রশাসনেও ডেমক্র্যাটিক পার্টির বিজয়ের পথ সুগম করতে আমাদের কাজ করতে হবে। আমি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হলে আগামী ৯০দিনের মধ্যে বিজয় নির্দ্ধারণী ৭টি স্টেটে গিয়ে আপামর মানুষের সাথে মতবিনিময় করবো। সামনের দু’বছরের মধ্যে সকল টেরিটরিসহ ৫০টি স্টেট ভ্রমণ করবো এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রতি আমেরিকানদের আস্থার ভিত পুনপ্রতিষ্ঠায় কাজ করবো। এটাই সময়ের দাবি। শেখ রহমান আরো উল্লেখ করেছেন, ভোটারের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ সুগম করতেও সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্বকারিরা নীতি-নির্দ্ধারণে অংশগ্রহণের অবাধ সুযোগ পেতে হবে। বিশেষ কোন বর্ণ আর জাতি-গোষ্ঠির আধিক্য পরিহার করতে পারলেই নাজুক অবস্থা থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টিকে উদ্ধার করা সহজ হবে। কিশোরগঞ্জের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের সন্তান শেখ রহমান ২০১৮ সাল থেকে ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে জর্জিয়া স্টেট সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এটা হচ্ছে তার চতুর্থ টার্মের দায়িত্ব। ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের অভিপ্রায়ে উচ্চ শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন এবং সেন্ট্রাল পাইডমন্ট কম্যুনিটি কলেজে ভর্তি হন। ১৯৯৫ সালে তিনি জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর কর্মজীবনে পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি বসবাসকারি এলাকার বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণের মানুষের সাথে সম্পর্ক নিবিড় করতে সক্ষম হন। সেই পথ বেয়েই আফ্রিকান-আমেরিকান ও শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান অধ্যুষিত এলাকা থেকে বারবার বিজয়ী হচ্ছেন। স্পষ্টভাষী শেখ রহমানের স্ত্রী আফরোজ এবং এক পুত্র আঞ্জার ও এক কন্যা রাওদাকে নিয়ে নির্বাচনী এলাকাতেই স্থায়ীভাবে বাস করছেন। ডিএনসি নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আশাবাদি।

    চেয়ার প্রার্থী বেন উইকলার।

    উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে কমলা হ্যারিসের পরাজয়ের পাশাপাশি সিনেট এবং হাউজেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুইয়েছে ডেমক্র্যাটরা। অনেক স্টেটের আসনও হারিয়েছে। এহেন অবস্থায় ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বে উদ্যমী-কর্মঠ-মেধাবি এবং ধর্ম-বর্ণ-অঞ্চল নির্বিশেষে সকল আমেরিকানের আস্থা রয়েছে-এমন ব্যক্তিগণের প্রয়োজনীয়তা অনুভ’ত হচ্ছে। সে তাগিদ সম্ভাব্য সকল প্রার্থীর মধ্য থেকেই উচ্চারিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩দিনের এই জাতীয় সম্মেলন হবে ম্যারিল্যান্ড স্টেটে ন্যাশনাল হার্বারে। পার্টির চেয়ারম্যান, ট্রেজারার, ভাইস চেয়ারসহ বিভিন্ন পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১ ফেব্রুয়ারি। আরো উল্লেখ্য, প্রথম বাংলাদেশী এবং প্রথম মুসলমান প্রার্থী হলেও সিনেটর শেখ রহমানকে ইতিমধ্যেই ৬ টেরিটরি-সহ অধিকাংশ স্টেটের ডেলিগেটরা সাপোর্ট দিয়েছেন। এরফলে তার নির্বাচনের পথ অনেকটা সুগম হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাইস চেয়ার পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন কংগ্রেসওম্যান (ওহাইয়ো ) জয়েস বীটি, কংগ্রেসওম্যান নিকেমা উইলিয়ামস (জর্জিয়া), বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ার সাবেক স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান (নিউইয়র্ক) মাইকেল ব্ল্যাক প্রমুখ।

    ভাইস চেয়ার প্রার্থী শেখ রহমান।

    সময়ের প্রয়োজনে চার বছর মেয়াদি (২০২৫-২০২৯) ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সরগরম শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও। সচেতন ভোটারেরও অধীর আগ্রহে নয়া নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। তেমন একটি আকাঙ্খার পরিপূরক কমিটির চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৮ জন। এর অন্যতম হচ্ছেন ম্যারিল্যান্ড স্টেটের সাবেক গভর্ণর এবং সোস্যাল সিকিউরিটি এডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার মার্টিন ও’ম্যালি, উইসকনসিন স্টেট ডেমক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান বেন উইকলার, বিদায়ী কমিটির ভাইস চেয়ার কেন মার্টিন, ইউএস সিনেট প্রার্থী (ম্যারিল্যান্ড) রবার্ট হোটন, এটর্নী ও রাজনৈতিক বিশ্লেক (ম্যাসেচুসেট্্স) জ্যাসন পোল, বাইডেন ও ওবামা প্রশাসনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী ন্যাট স্নাইডার, ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার টিমে দায়িত্বপালনকারি সংগঠক ও লেখক ম্যারিয়েন উইলিয়ামসন এবং টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির এডজাঙ্কট প্রফেসর কুইনটেসা হ্যাথাওয়ে। ট্রেজারার পদে লড়ছেন অলাভজনক একটি সংস্থার সিইও এবং নর্থ ক্যারলিনা ডেমক্র্যাটিক পার্টির ওরেঞ্জ কাউন্টি শাখার সাবেক চেয়ারপার্সন ম্যাট হাজেজ এবং বিদায়ী কমিটির ট্রেজার ভার্জিনিয়া ম্যাকগ্রেগর। সেক্রেটারি পদেও সরাসরি লড়াই হচ্ছে দু’প্রার্থীর। এরা হলেন নিউজার্সি শ্রম দফতরের সাবেক ডেপুটি কমিশনার ম্যারিলিন ডেভিস এবং বিদায়ী কমিটির সেক্রেটারি জ্যাসন র‌্যা। ন্যাশনাল ফাইন্যান্স চেয়ার পদে পুনরায় লড়ছেন বিদায়ী কমিটির চেয়ার ক্রিস কর্গ এবং ডেপুটি চেয়ার ক্রিস্টফার লওই।

    Facebook Comments Box
  • চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালতে হাজির না থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত আজ রোববার এই আদেশ দেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত।

    একই মামলায় পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
    আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় আজ অভিযোগ গঠন বিষয় শুনানির দিন ঠিক ছিল। পরীমনির পক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সময় চেয়ে তিনি আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন নাকচ করে পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আদালতে হাজির না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    এর আগে গত বছরের ১৮ এপ্রিল নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেন ঢাকার সিজেএম আদালত। একই সঙ্গে পরীমনিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন।

    মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি তাঁকে ডাক দেন। পরে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি হত্যাচেষ্টার জন্য একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তাঁর মাথায় ও বুকে লাগে।
    মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের এপ্রিলে পরীমনি ও ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে সিজেএম আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই।

    পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুনায়েদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসিরকে মারধর করার অভিযোগের সত্যতা তদন্তে পায় পিবিআই। অপর দিকে পরীমনির ছোড়া মদের গ্লাসে নাসিরের আঘাত লাগার ঘটনার সত্যতাও পেয়েছে পিবিআই।

    এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে পরীমনি ব্যবসায়ী নাসিরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেছিলেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠন করেন। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

    অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ। এ মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

    Facebook Comments Box
  • ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ: অন‍্যান‍্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও সহায়তা স্থগিত

    ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ: অন‍্যান‍্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও সহায়তা স্থগিত

    সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সহযোগিতা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড)। এই সংস্থার মাধ্যমে মার্কিন সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) এক চিঠিতে মার্কিন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা জানানো হয়। চিঠিতে সই করেন ইউএসএইডের অধিগ্রহণ ও সহায়তা তত্ত্বাবধায়ক চুক্তি কর্মকর্তা ব্রায়ান অ্যারন।

    বাস্তবায়নকারী একাধিক সংস্থার সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। বাস্তবায়নকারী দেশীয় সংস্থাগুলোর দাবি, আগামী তিন মাস মার্কিন কোনও সহায়তা পাওয়া যাবে না।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং নতুন সাহায্য অনুমোদন বন্ধ রেখেছে। দেশটির ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথিতে এই তথ্য জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও বিদেশি দূতাবাসগুলোতে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এরপরই সহযোগিতা বন্ধের বিষয় প্রকাশ্যে আসে।

    ফাঁস হওয়া এই নথি অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের জন্য সব মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব বৈদেশিক সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলো বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা খতিয়েও দেখা হচ্ছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

    ইউএসএইডের চিঠিতে বলা হয়, ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ বাস্তবায়নকারী সব অংশীদারদের চুক্তি, কার্য আদেশ, অনুদান, সমবায় চুক্তি বা অন্যান্য অধিগ্রহণ বা সহায়তা স্মারকের অধীনে সম্পাদিত যেকোনও কাজ অবিলম্বে বন্ধ অথবা স্থগিত করার জন্য একটি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে এই চিঠি। চিঠিতে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া লিখিত কোনও নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। চিঠিতে রেফারেন্স হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এই সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত একটি গাইডলাইন পাঠানোর কথাও বলা হয়।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গণতন্ত্র ও শাসন, মৌলিক শিক্ষা এবং পরিবেশগত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশে ইউএসএআইডি কর্মসূচি এশিয়ার বৃহত্তম। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএসএআইডি বাংলাদেশে বড় ধরনের মানবিক সহায়তা তদারকি করে। তবে এই আদেশের প্রভাব জরুরি খাদ্য সহায়তার ওপর নাও পড়তে পারে বলে জানা গেছে।

    Facebook Comments Box
  • সৌদি সফরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী

    সৌদি সফরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আজ শনিবার সৌদি আরবের সরকারি সফর শুরু করেছেন।

    সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, মেলোনি জেদ্দায় পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আব্দুল আজিজ।

    সৌদি আরব এবং ইতালি এই মাসের শুরুতে জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার পর মেলোনির এই সফর।

    এই চুক্তিতে সৌদিতে তৈরি সবুজ হাইড্রোজেন ইউরোপে সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান ১৪ জানুয়ারী ইতালির জ্বালানি ও পরিবেশমন্ত্রী গিলবার্তো পিচেত্তো ফ্রাটিননের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য সাক্ষাৎ করেন।

    Facebook Comments Box
  • আবারও কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর পরিকল্পনা কেন?

    আবারও কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থী কমানোর পরিকল্পনা কেন?

    টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কানাডা। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবার ওপর চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

    শুক্রবার কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলতি বছরে ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য স্টাডি পারমিট ইস্যু করা হবে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।

    গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আগমনে দেশটিতে তীব্র আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে কানাডা সরকার ২০২৪ সাল থেকেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কানাডায় সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী স্টাডি পারমিট পেয়েছিলেন। এর ফলে দেশটিতে সক্রিয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছে যায়। ২০১২ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার।

    ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে কানাডা পড়াশোনার জন্য শীর্ষ পছন্দের দেশ। তবে অতিরিক্ত অভিবাসনের কারণে সৃষ্ট আবাসন ও পরিষেবা সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

    বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করতে কানাডা সরকার নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে স্টাডি পারমিটের জন্য আবেদনকারীদের কানাডার কোনও একটি প্রাদেশিক বা টেরিটোরিয়াল প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। মাস্টার্স ও পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সম্প্রতি অভিবাসনের হার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও আগামী মার্চে তিনি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, তার নেওয়া নীতিমালার প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে নতুন অভিবাসীদের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

    কানাডার সুখ্যাতি থাকা সত্ত্বেও আবাসন ব্যয় এবং পরিষেবার ওপর চাপ বাড়ার ফলে দেশটির সরকার অভিবাসন নীতিতে কঠোর হচ্ছে।

    জানা গেছে, ২০২৩ সালে কানাডার সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ অভিবাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে এবং কানাডার পরিষেবাগুলোকে আরও দক্ষ করে তুলবে।

    Facebook Comments Box
  • ‘রোড শো করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায় না’

    ‘রোড শো করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায় না’

    আর্থিক খাত বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেছেন, ‘বিদেশে রোড শো করে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায় না। বিগত সরকারের সময় রোড শো’র নামে আমলা ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশির্বাদপুষ্টরা বিদেশে আনন্দ ভ্রমণ করেছে। এসব শো’র নামে অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন তাদের দায়িত্বের বাইরে যেয়ে এসব রোড শো করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হলে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব দিতে হবে। একই সাথে ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণ, আমলাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার জরুরি।’

    শনিবার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে আর্থিক খাত বিশ্লেষক মামুন রশীদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

    তিনি বলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপের কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে যে অসন্তোষ চলছে প্রয়োজনে উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সম্পদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ অধিগ্রহণ করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে যারা ঋণ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। আওয়ামী লীগ শাসন আমলে অসৎ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হলেও সৌদি আরবের আরামকো, কোরিয়ার সামসাং ও আমাজন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেনি। ডলার সংকটের কারণে ইত্তেহাদ ও ফেসবুক তাদের বিনিয়োগ সংকোচন করেছে।’

    সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার, অধিক শুল্ক দুনীর্তি, অর্থ-পাচার, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি, জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগে লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারছে না। বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে তাদের মুনাফা, লভ্যাংশ ও পুঁজি ফেরত নিতে পদে পদে হয়রানি, ঘুষ ও দুনীর্তির শিকার হয়। ফলে তারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জিডিপির মিথ্যা পরিসংখ্যান, উন্নয়নের মিথ্যা গল্প, সুশাসনে ঘাটতি থাকলে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট বাধাগ্রস্ত হয়। বিদেশিরা তখন দেশের বিনিয়োগ কাঠামোকে বিশ্বাস করতে চায় না। ফলে তারা বিনিয়োগ নিরাপত্তা না পেয়ে বাংলাদেশে না এসে মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বিনিয়োগ করছে। যা আমাদের জন্য খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। কিছুদিন আগে অর্থনৈতিক সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কাছে কয়েকজন শিল্পপতি চোখের পানি ফেলে বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে আমরা চাঁদা দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছি। চাঁদাবাজদের হাত থেকে আমাদের বাঁচান।’

    বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান নিম্নের ১০ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেন ১. বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশ্বাসযোগ্যতা, নীতি ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগের মুনাফা ও মুলধন ফেরৎ নিতে কোনো শঙ্কা না থাকে। ২. আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। ৩. শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, উন্নত অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকতে হবে ৪. যেসব শিল্প বৃহৎ পুঁজি আকর্ষণ করে সেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ব্র্যান্ডিং জোরদার করা ৫. বিনিয়োগ নিরাপত্তা, সহজে লাইসেন্স পাওয়া, বিনিয়োগ সেবা নিশ্চিত করাসহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা ৬. শিক্ষার মান বাড়িয়ে শ্রমবাজারের চাহিদার আলোকে দক্ষ শ্রমিক ও উপযুক্ত ব্যবস্থাপক তৈরি করা ৭. দুর্নীতি বন্ধের পাশাপশি ট্যাক্স, শুল্ক ছাড় আকর্ষনীয় করা ৮. অতীতে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিনিয়োগ নিয়ে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে সেই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে অর্থনীতির স্বার্থে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বিনিয়োগের সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা ৯. বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের কারণে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে থাকেন। এ অবস্থা উত্তরণে বেজা, বিডা এবং বেপজা এ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে সমন্বিত বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ করা ১০. বাণিজ্য কূটনীতিতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাণিজ্য মন্ত্রলালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদান করা।

    ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান বাধা’ শীর্ষক ছায়া সংসদে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সমান নম্বর পেয়ে যৌথভাবে বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস. এম. মোর্শেদ, বাবু কামরুজ্জামান, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক আবুল কাশেম। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

    Facebook Comments Box
  • বাংলা একাডেমি পুরস্কারের ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত

    বাংলা একাডেমি পুরস্কারের ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত

    বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    আজ শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

    পোস্টে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা লেখেন, ‌‘বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এটাও বলা প্রয়োজন, যে আজব নীতিমালা এ ধরনের উদ্ভট এবং কোটারি পুরস্কারের সুযোগ করে দেয় সেগুলা দ্রুত রিভিউ করা আমাদের প্রথম কাজ। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন সব নীতিতে চলবে- এই সব কিছুই দেখতে হবে। একাডেমির আমূল সংস্কারের দিকে আমরা যাব এখন। দেশের সংস্কার হবে, বাংলা একাডেমির সংস্কার কেন নয়?’

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়।

    বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য কবিতায় মাসুদ খান, কথাসাহিত্যে সেলিম মোরশেদ, নাটক ও নাট্যসাহিত্যে শুভাশিস সিনহা, প্রবন্ধ বা গদ্যে সলিমুল্লাহ খান, শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজ, অনুবাদে জি এইচ হাবীব, গবেষণায় মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া, বিজ্ঞানে রেজাউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হাননান ও ফোকলোরে সৈয়দ জামিল আহমেদের নাম উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

    Facebook Comments Box
  • সুস্মিতা সেনের জৌলুস ধরে রাখার রহস্য কী

    সুস্মিতা সেনের জৌলুস ধরে রাখার রহস্য কী

    ১৯৯৪-এ মিস ইউনিভার্স খেতাব জয়ের সময় যেমন ছিলেন, এখনো প্রায় একই রকম দেখায় তাকে। বয়স ৪৯ হলেও বলিউড অভিনেত্রী এবং সাবেক বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেনকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। টানটান ত্বক ও টোনড ফিগারের রহস্য কী? কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন? এক সাক্ষাৎকারে এই গোপন রহস্য খোলাসা করেছেন তিনি।

    সুস্মিতা জানান, তার ফিটনেসের পেছনে বিশেষ একটি পানীয়ের ভূমিকা রয়েছে, যা তাকে সারাদিন চনমনে রাখে। কীভাবে দিন শুরু করেন এবং দিনব্যাপী কীভাবে নিজেকে সক্রিয় রাখেন, তা বিস্তারিতভাবে শেয়ার করেন তিনি।

    টুইক ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা তার সকালের রুটিন নিয়ে বলেন, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জল ও লেবুর রস দিয়ে তার দিন শুরু হয়। সাধারণত তিনি সকালে হালকা গান শুনতে পছন্দ করেন এবং ধীরে ধীরে শরীরচর্চায় মন দেন। বেশি শব্দ বা চিৎকার তার পছন্দ নয়। একই গান লুপে শোনাকে তিনি ‘মুভিং মেডিটেশন’ বলে অভিহিত করেন।

    সুস্মিতা আরও বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি ফোনে হাত না দিতে, তবে সবসময় সেটা সম্ভব হয় না।’

    এছাড়াও কঠোর পরিশ্রম ও ব্যায়াম ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তিনি জানিয়েছেন, এক সময় প্রতিদিন এক ঘণ্টা ওয়ার্ম-আপ, দু’ঘণ্টা এক্সারসাইজ এবং ৩০ মিনিট কুল-ডাউনের রুটিন মেনে চলতেন। তবে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রুটিনে পরিবর্তন আনতে হয়। বর্তমানে তিনি সকালে হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম এবং স্ট্রেচিংয়ের ওপর বেশি জোর দেন।

    তাহলে কি ব্যায়ামকে বিদায় জানিয়েছেন সুস্মিতা? তার কথায়, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিনি আবার আগের রুটিনে ফিরে যেতে পারবেন।

    সুস্মিতা তার ঝকঝকে ত্বকের রহস্য নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ত্বক পরিচর্যার নিয়ম খুবই সহজ। মেকআপ আমি সাধারণত করি না, শুধু কাজের জন্য করতে হয়। ক্লিনজিং মিল্ক, টোনার, ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করি। সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অবশ্যই জরুরি, যদিও আমি সেরাম ব্যবহার করি না।’

    এই অভ্যাসগুলো তাকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও ভালো রাখতে সহায়ক। সুস্মিতা সেন তার জীবনযাত্রা ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে বহু মানুষের অনুপ্রেরণা হয়েছেন এবং এখনও হয়ে চলেছেন।

    Facebook Comments Box
  • Mexico refuses to accept US deportation flight as Trump’s immigration overhaul gets into full swing

    Mexico refuses to accept US deportation flight as Trump’s immigration overhaul gets into full swing

    Mexico refused to allow a plane carrying illegal migrants to land in the country on Thursday after President Trump dramatically beefed up security at the border and ordered mass raids and deportations since reclaiming the White House, according to military officials.

    The deportation flight was blocked from leaving the US after two Air Force C-17 flights, each carrying about 80 deportees to Guatemala, successfully took off Thursday night, NBC reported citing two defense officials and a third person familiar with the situation.

    It was not immediately clear why Mexico blocked the plane, but tensions have flared between Trump and Mexican President Claudia Sheinbaum since he threatened to slap 25% tariffs on Mexican goods in response to migrants illegally crossing the border.

    A White House official told the outlet via text message that “the flights thing was an administrative issue and was quickly rectified.”

    The flight rejection appeared to be confusion over the Department of Defense flight manifest, according to Fox News’ Bill Melugin, who cited a senior State Department official.

    “Per the official, Mexico was full steam ahead to accept the deportations – and would have if there hadn’t been a misunderstanding regarding the paperwork,” he tweeted.

    About 2,000 illegal migrants were deported to the country Thursday, with the nation detaining around 5,000 within its own borders, Melugin added.

    As of Friday night, US Immigration and Customs Enforcement has made 593 arrests, with 449 detainers lodged, the agency posted on X.

    Trump on Monday declared a national emergency at the US-Mexico border and restricted refugees and asylum, saying he wants to halt all illegal entry and border crime, designating cartels and organized migrant gangs as foreign terrorist organizations.

    Federal officials swept into sanctuary cities, including Boston, Denver, Philadelphia and Atlanta, on Trump’s first full day in office on Tuesday, nabbing about 308 illegal migrant criminals from more than a dozen nations.

    The Trump administration has dramatically loosened restrictions on how ICE can conduct deportation raids – removing bans on operating in courthouses, churches and other places that illegal migrants had previously been shielded from immigration authorities.

    The 47th president has also deployed 1,500 active-duty troops to the US-Mexico border, with many given orders to fly helicopters to help Border Patrol agents and assist with constructing barriers, Acting Defense Secretary Robert Salesses said Wednesday.

    The use of military aircraft to carry out deportation flights is part of the Pentagon’s plan to fulfill Trump’s emergency declaration – marking the first time military planes have been used to transport deportees since President Dwight Eisenhower was in office, Reuters reported, citing an unnamed US official.

    “Thanks to President Trump, yesterday Mexico accepted a record four deportation flights in one day! This comes in addition to unrestricted returns at the land border, the deportation of non-Mexicans and reinstatement of Remain-in-Mexico. Mexico has also mobilized 30,000 National Guard,” White House press secretary Karoline Leavitt told The Post.

    ICE did not immediately respond to a request for comment.

    Facebook Comments Box