Blog

  • বিশ্বকাপে এশিয়ার জয়যাত্রা, এখনো অজেয় ৬ দল

    বিশ্বকাপে এশিয়ার জয়যাত্রা, এখনো অজেয় ৬ দল

    চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চমক। শক্তিশালী দলগুলোর জন্য জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে, আর অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত দলগুলো একের পর এক অঘটনের জন্ম দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ১৬ ম্যাচ শেষে সবচেয়ে আলোচনায় এশিয়ার দলগুলো।

    এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) থেকে অংশ নিয়েছে ৯টি দল। ইতোমধ্যে মাঠে নামা ছয় দলের কেউই হারেনি। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের ম্যাচ জিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে। অন্যদিকে ইরান, কাতার ও সৌদি আরব ড্র করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। জর্ডান, উজবেকিস্তান ও ইরাক এখনো তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেনি।

    এশিয়ার এই সাফল্যের বিপরীতে হতাশাজনক শুরু করেছে আমেরিকা অঞ্চলের কয়েকটি দল। উত্তর আমেরিকার সহ-আয়োজক মেক্সিকো জয় পেলেও ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ড্র করেছে। প্যারাগুয়ে ও ইকুয়েডর আবার প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে।

    এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় জয় এসেছে জার্মানির কাছ থেকে। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ইউরোপের দলটি। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিয়ে মূল্যবান এক ড্র আদায় করেছে আফ্রিকার দলটি।

    বিপাকে পড়েছিল ব্রাজিলও। মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। একই অবস্থা উরুগুয়েরও। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪১ মিনিটে গোল খেয়ে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকার পর শেষ দিকে সমতায় ফেরে তারা।

    এবার নজর বিশ্বকাপের দুই বড় ফেবারিট ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার দিকে। আজ রাত একটায় সেনেগালের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। আর আগামীকাল সকাল সাতটায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

    প্রশ্ন এখন একটাই—এশিয়ার অপরাজিত যাত্রা কত দূর গড়ায়, আর ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা কি নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে শুরু করতে পারে?

    Facebook Comments Box
  • বাবা হওয়ার সুখবর, কিন্তু মাঠে ফেরা নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

    বাবা হওয়ার সুখবর, কিন্তু মাঠে ফেরা নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

    একদিকে পরিবারে নতুন অতিথি আসার সুখবর, অন্যদিকে চোটের কারণে মাঠে ফেরার অনিশ্চয়তা—দুই ভিন্ন অনুভূতির মধ্য দিয়েই দিন কাটছে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের।

    সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বান্ধবীর প্রকাশ করা এক ভিডিওতে জানা যায়, পঞ্চমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের এই আনন্দঘন মুহূর্তের দিনেই অবশ্য ফুটবল মাঠ থেকে এলো হতাশার খবর।

    চোট কাটিয়ে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফেরার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি নেইমারের। সতীর্থরা যখন অনুশীলনে ব্যস্ত, তখন তিনি ছিলেন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে। ফলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও তাঁর মাঠে ফেরার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

    গত ১৭ মে ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়ে পেশিতে চোট পান নেইমার। শুরুতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, চোটটি গুরুতর নয় এবং পেশিতে সামান্য ফোলাভাব রয়েছে। পরে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর চোট গ্রেড-২ পর্যায়ের এবং সুস্থ হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।

    সে হিসাব অনুযায়ী জুনের মাঝামাঝি সময়েই অনুশীলনে ফেরার কথা ছিল এই ফরোয়ার্ডের। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো পুরোপুরি ফিট নন।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পরবর্তী দুই ম্যাচেও মাঠে নামতে পারবেন না নেইমার। ২০ জুন হাইতি এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর দাবি, অন্তত হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর খেলা হচ্ছে না বললেই চলে।

    তবে ব্রাজিল দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। দলটির মেডিক্যাল বিভাগ চোট পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। তাই তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামানোর বদলে তাঁকে নকআউট পর্বের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের ফল প্রত্যাশিত না হলেও নেইমারকে নিয়ে সেই কৌশলে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। চিকিৎসক দল চাইছে, তিনি শতভাগ সুস্থ হয়েই মাঠে ফিরুন।

    তবে নেইমারের ক্যারিয়ারে চোট নতুন কোনো ঘটনা নয়। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা গত কয়েক বছরে একাধিকবার দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। তাই সমর্থকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার কবে দেখা যাবে নেইমারের জাদু?

    Facebook Comments Box
  • দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে ফেরাতে শুরু আইনি-কূটনৈতিক তৎপরতা

    দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে ফেরাতে শুরু আইনি-কূটনৈতিক তৎপরতা

    দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

    সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম এবং সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

    মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে এবং প্রতিটি মামলার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার চলছে উল্লেখ করে বলেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রধান কৌঁসুলির দাবি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ চট্টগ্রামের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের মতো আলোচিত ঘটনাগুলোতেও বেনজীর আহমেদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মামলায় তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি ইতোমধ্যে এনসিবির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে।

    ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর তার বিপুল সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    এদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার জাতীয় সংসদে জানান, ওই রেড নোটিসের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, রেড নোটিস কার্যকর করার ক্ষেত্রে এনসিবি ও ইন্টারপোলের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার ভাষ্য, ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

    বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংযুক্ত করে ইউএই সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠিয়েছে। দেশটির আদালতের অনুমোদন মিললে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরিয়ে আনার পর বিচারাধীন মামলাগুলোতে বেনজীর আহমেদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। পাশাপাশি তদন্তাধীন মামলাগুলোতে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অভিযোগগুলোর বিচার কঠোরভাবে সম্পন্ন করা হবে।

    Facebook Comments Box
  • মেসিদের প্রথম ম্যাচে কী চমক রাখছেন স্কালোনি?

    মেসিদের প্রথম ম্যাচে কী চমক রাখছেন স্কালোনি?

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন কৌশলগত প্রস্তুতির ব্যস্ততা তুঙ্গে। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামবে লিওনেল মেসির দল। তবে ম্যাচের আগমুহূর্তেও কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজের পরিকল্পনা গোপন রেখেছেন। ফলে দল কোন ফরমেশনে খেলবে এবং কারা থাকবেন শুরুর একাদশে—তা নিয়ে সমর্থকদের কৌতূহল বাড়ছেই।

    আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওআইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, অনুশীলনে একাধিক ছক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন স্কালোনি। কখনো চার ডিফেন্ডারের ব্যাকলাইন, আবার কখনো তিন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ও দুই আক্রমণাত্মক উইং-ব্যাকের সমন্বয়ে দল সাজাতে দেখা গেছে তাঁকে।

    সর্বশেষ অনুশীলনের একটি পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলেছে। রক্ষণভাগে ছিলেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পরে কিছু পরিবর্তন এনে রোমেরোর জায়গায় ফাকুন্দো মেদিনাকে খেলানো হয়।

    প্রতিপক্ষের শক্তি ও খেলার ধরন বিবেচনায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৪-৪-২ ছকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে কারা খেলবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। রোমেরো, ওতামেন্দি ও লিসান্দ্রো—এই তিনজনের মধ্যে দুজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে। আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনজনকেই একসঙ্গে খেলিয়ে লিসান্দ্রোকে লেফটব্যাকে সরিয়ে দেওয়ার বিকল্পও খোলা রাখছেন স্কালোনি।

    অন্যদিকে অনুশীলনে ৩-৫-২ ফরমেশনও ব্যবহার করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। এই ছকে ডানদিকে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং বাঁদিকে নিকোলাস গঞ্জালেসকে আক্রমণাত্মক উইং-ব্যাক হিসেবে দেখা গেছে। রক্ষণে রাইট স্টপারে রোমেরো, মাঝখানে ওতামেন্দি এবং লেফট স্টপারে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে গড়া হয়েছে তিনজনের ব্যাকলাইন।

    তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ফরমেশনে খেলার সম্ভাবনা আপাতত কম। প্রতিযোগিতার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩-৫-২ ছক ব্যবহার করতে পারেন স্কালোনি।

    রক্ষণে অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো দি পলকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

    আক্রমণে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে এগিয়ে আছেন লাউতারো মার্তিনেজ। চোটের কারণে সাম্প্রতিক দুটি প্রীতি ম্যাচে না খেলা হুলিয়ান আলভারেজ এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। ফলে প্রথম ম্যাচে লাউতারোর সম্ভাবনাই বেশি।

    একাদশের আরেকটি জায়গা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে জুলিয়ানো সিমিওনে ও থিয়াগো আলমাদার মধ্যে। গত এক বছরে জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার কারণে আলমাদা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্কালোনিই।

    বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম লড়াইয়ের আগে তাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় রহস্য এখন তাদের ফরমেশন। ৪-৪-২ নাকি ৩-৫-২—কোন ছকে দলকে সাজাবেন স্কালোনি, সেই উত্তর মিলবে ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে।

    Facebook Comments Box
  • রুমিনের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সব দোষ রাজনীতিবিদদের নয়

    রুমিনের সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সব দোষ রাজনীতিবিদদের নয়

    #

    দুর্নীতি শুধু রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরেই এর বিস্তার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রাজনীতিবিদদের স্বাক্ষর থাকায় শেষ পর্যন্ত দায় তাঁদের ওপরই বর্তায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে দুদকের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবি সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, “দুর্নীতি সব জায়গায় হয়। ঘুরেফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদের হয়। কিন্তু যতগুলো ফাইল স্বাক্ষর হয়, শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদকেই সই করতে হয়। এজন্য সব দায় তাঁর ঘাড়ে এসে পড়ে।”

    দুদকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দুদক গঠনের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুদককে শক্তিশালী করতে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা সংসদে অনুমোদন পায়নি। ফলে আগের আইনই বহাল রয়েছে। সেই আইনের বিধান অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হবে।

    সার্চ কমিটি গঠনে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির মনোনীত প্রতিনিধি নিয়োগে দেরি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। তবে এখন সেই জট কেটে গেছে এবং দ্রুত কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

    এদিকে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও দুদক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। নতুন সরকারও দুদককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রুমিন ফারহানা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দুদককে শক্তিশালী করতে সংশোধনী এনেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগকে আইনে পরিণত করেনি। এতে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”

    অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দুদকের প্রকৃত স্বাধীনতা নেই। নিয়োগ ও কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে তিনি কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    সংসদের আলোচনায় দুদকের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা এবং দুর্নীতি দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা যায়। তবে সরকার পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইন ও নতুন কমিশনের মাধ্যমে দুদককে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    Facebook Comments Box
  • ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা: তদন্তে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা: তদন্তে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বৃহত্তর নাশকতা, উসকানি ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে।
    সোমবার অগ্নিসংযোগের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২২ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নির্মাণশ্রমিক রোমান লাভরিনোভিচকে গ্রেপ্তার করা হয় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে তদন্তকারীদের মতে, তিনি ছিলেন মূলত একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার ‘হাতিয়ার’।
    তদন্তে জানা গেছে, ‘ইএল’ নামে পরিচিত এক রহস্যময় ব্যক্তি লাভরিনোভিচকে নির্দেশনা দিতেন। হামলার পর পাঠানো এক বার্তায় ওই ব্যক্তি লিখেছিলেন, “তুমি ব্রিটেনের একজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়েছ। আমি টাকা পাঠাব, তোমাকে শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।”
    বিবিসির অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ‘ইএল’ শুধু হামলার নির্দেশই দেননি, বরং আরও হামলার বিনিময়ে রুশ নাগরিকত্বের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করতেন।
    তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ইএল’-এর প্রকৃত নাম ইয়েভগেনি লিউকশিন। ২৩ বছর বয়সী এই রুশ কূটনীতিক মস্কোর উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি একজন জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তার ছেলে এবং তথ্যযুদ্ধ ও প্রভাব বিস্তারের কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
    ব্রিটিশ নিরাপত্তা মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে রাশিয়া-সমর্থিত নাশকতা ও প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগের সঙ্গে এই ঘটনার মিল রয়েছে। স্টারমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
    যদিও রাশিয়া অতীতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে, তবে নতুন এই তদন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

    Facebook Comments Box
  • ‘সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি ইরানের জন্য ‘সম্মানজনক’ চুক্তি, বললেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    ‘সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি ইরানের জন্য ‘সম্মানজনক’ চুক্তি, বললেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নতুন কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তিকে দেশের জন্য একটি ‘সম্মানজনক দলিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তিটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
    রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি এবং আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
    ফার্স নিউজের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ৯০ শতাংশ সদস্য চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান জানান, সমঝোতার বিস্তারিত বিষয়গুলো ‘উপযুক্ত সময়ে’ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন ও প্রকাশ করা হবে।
    চুক্তির বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তেহরানের এই ইতিবাচক অবস্থানকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
    সাম্প্রতিক সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে হওয়া এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ইরানের জন্যই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    Facebook Comments Box
  • হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল নয়, ‘মুক্ত নৌপথ’ চায় যুক্তরাষ্ট্র: ভ্যান্স

    হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল নয়, ‘মুক্ত নৌপথ’ চায় যুক্তরাষ্ট্র: ভ্যান্স

    হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ভবিষ্যতে ইরানকে কোনো টোল দিতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার হওয়া একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তির পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা হলো, দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালি টোলমুক্ত অবস্থায় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”
    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি ও টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করেছিল তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
    তবে ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, টোলমুক্ত প্রবেশাধিকার আপাতত সাময়িকও হতে পারে। তিনি জানান, বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক দিনে ইরানের সঙ্গে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে।
    ভ্যান্স বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা আমরা প্রযুক্তিগত ও কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করব। সামনে এগোনোর জন্য এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি বিষয় রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করব।”
    বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই নৌপথে টোল আরোপ বা চলাচলে কোনো ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
    সাম্প্রতিক সমঝোতার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও, চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু জটিল ইস্যুতে আলোচনা বাকি রয়েছে।

    Facebook Comments Box
  • কুকুরেয়ার ট্রান্সফারের পেছনে কি ফুটবল, নাকি রিয়ালের আত্মসম্মান?

    কুকুরেয়ার ট্রান্সফারের পেছনে কি ফুটবল, নাকি রিয়ালের আত্মসম্মান?

    স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করলেন, তখন রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সেটি ছিল এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্পেনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়। ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবের জন্য এটি ছিল শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং মর্যাদারও প্রশ্ন।
    আর ঠিক সেই কারণেই কি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্পেন মাঠে নামার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্ক কুকুরেয়াকে দলে ভেড়াল রিয়াল মাদ্রিদ?
    দলবদলের বাজারে সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন চলে, আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসে, এরপর হয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। কিন্তু কুকুরেয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। কোনো বড় ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই হঠাৎ করেই চেলসি থেকে স্প্যানিশ এই লেফট ব্যাককে দলে টানার খবর জানান দলবদল বিশেষজ্ঞ ফাবরিজিও রোমানো। জানা গেছে, এই ট্রান্সফারে রিয়ালের খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো।
    তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে বাস্তব ফুটবলীয় কারণও।
    বর্তমান স্কোয়াডে বাঁ প্রান্ত নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না নতুন কোচ জোসে মরিনহো। ফারল্যান্ড মেন্ডি প্রায়ই চোটে ভোগেন, ফ্রান গার্সিয়া এখনো প্রত্যাশার ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি, আর আলভেরো কারেরাসকে ঘিরে ড্রেসিংরুমে নানা অসন্তোষের খবর রয়েছে। ফলে অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত এবং বড় ম্যাচে খেলার অভ্যাস আছে—এমন একজন লেফট ব্যাকের প্রয়োজন ছিল রিয়ালের।
    সেই জায়গায় কুকুরেয়া ছিলেন আদর্শ সমাধান। প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটন ও চেলসির হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা এবং একাধিক পজিশনে খেলার সামর্থ্য—সব মিলিয়ে তিনি মরিনহোর চাহিদার সঙ্গে মানানসই।
    কিন্তু গল্পের আরেকটি দিকও আছে।
    রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাব নিজেদের শুধু একটি ফুটবল দল হিসেবে দেখে না; তারা নিজেদের স্পেনের ফুটবল ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতিনিধিও মনে করে। সেই ক্লাবের একজন খেলোয়াড়ও যদি জাতীয় দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না থাকে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিব্রতকর। ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের কাছে বিষয়টি যে সুখকর ছিল না, তা অনুমান করাই যায়।
    কুকুরেয়াকে দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে সেই অস্বস্তি অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তত একজন রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় আছেন, যদিও কয়েক দিন আগেও তিনি ছিলেন চেলসির সদস্য।
    অন্যদিকে চেলসির অবস্থানও এই ট্রান্সফারকে সহজ করে দিয়েছে। নতুন কোচ জাবি আলোনসো দলকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। তরুণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিকল্পের দিকে ঝুঁকে থাকায় কুকুরেয়া ধীরে ধীরে তাঁর পরিকল্পনার বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। ফলে সুযোগটি কাজে লাগাতে দেরি করেনি রিয়াল।
    সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্নের উত্তর হয়তো সাদা-কালো নয়। কুকুরেয়ার ট্রান্সফারের পেছনে যেমন রয়েছে রিয়ালের ফুটবলীয় প্রয়োজন, তেমনি রয়েছে ক্লাবটির মর্যাদা ও প্রতীকি উপস্থিতি ধরে রাখার ইচ্ছাও। তাই বলা যায়, কুকুরেয়াকে কেনার সিদ্ধান্তে ফুটবল এবং আত্মসম্মান—দুটোই সমানভাবে কাজ করেছে।

    Facebook Comments Box
  • ৮০তম জন্মদিনে চুক্তির ঘোষণা দিতে চান ট্রাম্প

    ৮০তম জন্মদিনে চুক্তির ঘোষণা দিতে চান ট্রাম্প

    নিজের ৮০তম জন্মদিনে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্যের ঘোষণা দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
    তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের নেতৃত্ব হয়তো ট্রাম্পকে তাঁর জন্মদিনে এমন রাজনৈতিক সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে দিতে চাইবে না। তারপরও আলোচনার অগ্রগতি দেখে মনে হচ্ছে, দুই দেশ মূল বিষয়গুলোতে প্রায় একমত হয়ে গেছে।
    যদিও সম্ভাব্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ফলে আলোচনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
    একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, যা দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।
    এ ছাড়া তেহরান নিজেদের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের ভেতরেই পাতলা বা কম সমৃদ্ধ করার বিষয়েও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ পারমাণবিক ইস্যুতে অগ্রগতির বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
    তবে সবকিছু ইতিবাচক দিকে এগোলেও একটি বড় বাধা এখনও রয়ে গেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রশ্ন ভবিষ্যৎ আলোচনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
    তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত, চূড়ান্ত চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    Facebook Comments Box
  • ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বাতিল, নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক

    ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বাতিল, নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে, ব্যাংকটির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে এবং জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, একই আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধান আরও জোরদার হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা ব্যবস্থা, তারল্য পরিস্থিতি এবং গ্রাহকসেবা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    Facebook Comments Box
  • ইন্টারপোলের রেড নোটিশে দুবাইয়ে আটক বেনজীর, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তারিত তথ্য

    ইন্টারপোলের রেড নোটিশে দুবাইয়ে আটক বেনজীর, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তারিত তথ্য

    দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেফতার হয়েছেন। রবিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
    সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে তিনি দেশটির পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে।
    তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথি, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
    সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোলের কাছে আবেদন পাঠানো হয়। পরে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং তার ভিত্তিতে ইউএই কর্তৃপক্ষকে তাকে গ্রেফতারের অনুরোধ জানানো হয়।
    বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
    গ্রেফতারের ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
    জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
    অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলোতে পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
    উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    Facebook Comments Box
  • জিসান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ঘিরে উত্তেজনা সংসদে

    জিসান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি ঘিরে উত্তেজনা সংসদে

    ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠা জিসান মিয়া প্রধান আসলে বিয়ে এড়াতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তবে এ বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল।
    সংসদের বৈঠকের শুরুতে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে কথা বলেন। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের অনুমতি নিয়ে জিসান মিয়া প্রধানের ঘটনা নিয়ে পৃথক একটি বিবৃতি উপস্থাপন করেন।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ কারণে তদন্তে পাওয়া তথ্য সংসদের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেছেন।
    বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগে এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং ওষুধ সংগ্রহ করে দেন বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
    তিনি আরও বলেন, পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান বিয়েতে সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগের রাতে আত্মগোপনে চলে যান।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে সংসদে এমন বক্তব্য দেওয়া নজিরবিহীন এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।
    তাহের প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে জিসান কোথায় রয়েছেন এবং কেন তার সঙ্গে কিংবা অভিযোগে উল্লেখিত নারীর সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনাকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট বর্ণনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
    এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা। তাঁর বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
    পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো বিষয় থাকলে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
    জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং তা নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    Facebook Comments Box
  • উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “কথা একটাই—আমাদের কাজ হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। উন্নয়ন ও জনকল্যাণের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
    শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা শাখা এ জনসভার আয়োজন করে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরে যেতে হবে না।
    তিনি আরও বলেন, “আজ নতুন করে বলতে চাই—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।” সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
    এর আগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণ দেন। সভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
    একদিনের সফরে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান আকাশপথে কক্সবাজারে পৌঁছান। সফরের শুরুতে তিনি পিএমখালী ইউনিয়নে পাতিলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং স্থানীয় সুধী সমাবেশে অংশ নেন।
    পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এছাড়া পেকুয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন।
    সফরের অংশ হিসেবে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। চকরিয়ার জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের একটি হোটেলে সুধী সমাবেশে যোগ দেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাতেই আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

    Facebook Comments Box
  • ‘কোটি টাকার প্রস্তাবেও নতি স্বীকার করিনি, আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করেছি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ‘কোটি টাকার প্রস্তাবেও নতি স্বীকার করিনি, আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল করেছি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেছেন, অনিয়মের অভিযোগে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে তিনি নতি স্বীকার করেননি।
    শনিবার (১৩ জুন) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে। আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় কোনো লোভে পড়িনি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আপনি যা করবেন আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে। তাই আমি তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।”
    তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ জামায়াতের নেতারাও আদ্-দ্বীনের পক্ষে কথা বলছেন।”
    সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বাস্থ্য খাতসহ কোনো ক্ষেত্রেই অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তাঁর দাবি, অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, তবে বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে।
    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চীনের সহযোগিতায় দেশে তিন হাজার শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালে নারী ও শিশুদের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
    এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে নতুন একটি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন। রোগীর অবস্থা জটিল হলে তবেই তাকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
    অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

    Facebook Comments Box